সাহিত্যিকা

শিরোনাম – শিশু পাহাড়

শিরোনাম – শিশু পাহাড়
© অপূর্ব চক্রবর্তী, ১৯৭৭ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার

কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেই চোখে পড়ে
বিস্তীর্ণ প্রান্তে শিশু পাহাড় একাই দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে।
আর তার পায়ের তলায় ঘুমিয়ে আছে এক রেললাইন,
নিয়মে অনিয়মে তার আরমোড়া ভাঙ্গে।
মাঝে মাঝে একটা কু ঝিক ঝিক ট্রেন যখন ঐ ঘুমন্ত রেল লাইন ধরে
মাঝারি গতিতে শিশু পাহাড়ের নীরবতাকে সাক্ষী রেখে চলে যায়,
দর্শক হয়ে নিঃশ্চুপ পাহাড় তখন দাঁড়িয়ে থাকে
মাঝে মাঝে শিশু পাহাড়ের গায়ে সবুজেরা দুলে ওঠে।
কোন শিশু হেসে খেলে ওঠে যেন

ট্রেন চলে যায় তার নিজের দিশায়,
পড়ে থাকে রেললাইন যেন শীতঘুমে ঘুমন্ত অজগর এক।
আর ঐ শিশু পাহাড়ের পায়ের তলায়
রাতের আঁধারে রেল লাইন ও শিশু পাহাড়
মিলেমিশে সব যেন একাকার হয়ে যায়।
কাঁচের জানালার বাইরে এক চাপ জমাট অন্ধকার।
আর কিছুই যে রাতের কালোয় চোখে ধরা পরে না আমার।

তারিখ-১৪/০৬/২০২৬

*******

শিরোনাম – নীলকন্ঠ

দুর্গম পাহাড়ি পথ বেয়ে অনেকটা গেলে
যেখানে দিগন্তিকা দিগন্তের লুকোচুরি খেলা চলে।
বাতাসের মাতনের ছোঁয়ায় নীল আকাশের
কোলে যেদিকে চোখ পড়ে সেখানেই,
অনেকটা গেলে নীলকন্ঠ মহাদেবের মন্দির
দর্শন হয় দেবাদিদেবের নীলকন্ঠ রূপে।

মন্দিরে প্রবেশের পথে একটা অতি বৃদ্ধ বটগাছ
গেরুয়া কাপড়ে ঢেকে দাঁড়িয়ে রয়েছে
মানুষের আসার পর চেয়ে যার বয়সের গাছ পাথর নেই
যেন ওই দেবাদিদেব মহাদেবের মতো যার না আছে আদি না অন্ত
নীলকন্ঠ মহাদেব তিনি যে অনন্ত।
ছেয়ে আছে পাহাড়ের গায়ে প্রতিটি পাথরে
দেউলে দেউলে ধূলিকণার সাথে।

তারপর ফিরে আসার পথে পাহাড়ি রাস্তার
একপাশে সবুজ পাহাড় আর এক ধারে গিরিখাদ
মাঝে মাঝে ঝর্ণারা ছুটন্ত কিশোরী হয়ে
কল কল বয়ে চলে যায় কে জানে কোথায়?
তারপর হঠাৎই মাঝপথে ঝড়ের তাণ্ডব
যেন নটরাজ মেতেছেন ধ্বংসের নেশায়।
পাথর বৃষ্টির সাথে শুরু হয় ধুলিঝড়।
চারদিকে নিকষ কালো আঁধারের মাঝে
বিজলী চমকায় বৃষ্টি ধারা নামে
আকাশের বুক চিরে তারপর সব শান্ত হয়।

আমরা এগিয়ে চলি নীলকন্ঠের পথকে
পেছনে রেখে আলোকিত রামঝুলার পথে
যেন আদি অনন্ত থেকে পৃথিবীর পথে
যেখানে আকাশ আর ভগিরথী মেশে।

তারিখ-১৩/০৬/২০২৬

Sahityika Admin

Add comment