আমার কবিতা
© রামু দত্ত, ১৯৭৭ ইলেকট্রনিকস ও টেলি কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং
ফুটলো যখন কথা খোকার
পা করে না টলোমলো
রাতে পাশে শুয়ে বলে
‘ঠাকুমা, গল্পো বলো।’
‘সে ছিলো এক রাজপুত্তুর
আজ পরেছে রাজার বেশ
সাথে কোটালপুত্তুর তার
পক্ষীরাজে যায় নতুন দেশ’।
‘বনের পথে আঁধার নামে
ওরা গাছের তলে শুয়ে
হঠাৎ এলো রাক্ষস দল
ওদের পানে ধেয়ে।’
‘তারপর হলো সেকি লড়াই
ঝলসে উঠলো তলোয়ার
পড়লো কাটা সব রাক্ষস
কাঁপে যত জানোয়ার।’
‘সাত সমুদ্দুর তেরো নদী
হলো দুজন পার
দুই রাজকন্যের দেশে গিয়ে
দুয়ে পরালো মুক্তো হার।’
বাবা কয় রূপকথা নয়
শেখো রাইম নাম্বার
তবে কিনা জজ হবে
কিংবা বড়ো ডাক্তার।
খোকার মন উড়ে বেড়ায়
যায় দুর তেপান্তরের মাঠ
ঠাকুমার গল্পো লাগে ভালো
চাইনে বাবার কঠিন পাঠ।।
******
ও মেঘ, তুই চললি কোথা
প্লীজ, একটুখানি দাঁড়া
গরমে যে সব হচ্ছে সেদ্ধ
তোর কিসের এতো তাড়া?
সূয্যির মগজে নেইকো ঘিলু
ব্যাটা মহা বেয়াক্কেলে
ওর তেজে মরছে সবাই
মাথার ঘিলু যাচ্ছে গলে।
হাওয়া আপিসের হাওয়া-মোরগ
জ্ঞান হারালো যেন
পন্ডিতেরা বলছে হুঁ হুঁ, বাবা
এই হলো ‘এল নিনো’।
রাখ সূয্যি আড়াল করে
থাক চাপা মেঘ লেপে
ঝম ঝমা ঝম বৃষ্টি পড়ুক
বাজের শব্দে উঠুক কেঁপে।
বলি একটা কথা চুপিসারে
ভাবি নিজেরে কবি
লিখেছি চিঠি প্রিয়ার তরে
তুই কি নিয়ে যাবি?
সরস্বতীর চাইনে দেখা
শুধু মনে একটি আশ
মেঘদূত যে লিখবো আমি
হবো কবি কালিদাস।
********
আজ ভোর হলো, যেমনটি রোজ হয়
তবে চারদিক আলো করে নয় –
হঠাৎ, একটু অন্য ভাবে।
কদিন ধরেই আকাশে জ্বলে আগুন
বাতাস আছে, শুধু জলবাষ্প ভরা
ধম্মের কলও নড়ে না, বাড়ে অসোয়াস্তি
ছাতার নীচে জামা কাপড় ভেজে ঠিকই
শরীরেরই জলে, বিষ্টিতে ভিজে নয়।
ভোর হতেই আকাশের দখল নিয়েছে
রঙচটা কালো টিশার্টের চ্যাঙরা মেঘ
মাঝে মাঝে দেয় খিল্লির ঝিলিক।
নিরীহ গাছগুলো মাথা নুইয়ে বলে –
‘মহারাণী বৃষ্টির আসতে আজ্ঞা হোক।’
লাগছে বেশ ভালো, চলুক এমনটি।
কর্পোরেশনের কালো ধোঁয়া ছাড়া
গাড়ির মতো জল ঢালে ওদের ইচ্ছে মতো।
তাড়া আছে বলে পাড়া ছাড়িস না, ভাই!






Add comment