আতিথেয়তা
© হিমাংশু পাল, ১৯৯০ কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেকনলজি
আমার একটা বিচিত্র ‘শখ’ ছিলো। একান্নবর্তী পরিবারে জন্ম আর বেড়ে ওঠার সুবাদে সেই ‘শখ’ বলুন বা প্রবৃত্তিই বলুন, সে মাধবীলতার ডালপালা মেলে সহজ স্বাভাবিক ভাবে বিস্তার করে। যৌথ পরিবারের দশ ভাই ও চৌদ্দজন বোনের মধ্যমণি ছিলাম আমি। আর দুই পিসি ও চার মাসিও আমাকে একটু বেশিই ভালোবাসতো। সময় সুযোগ হলেই তাদের বাড়ি গিয়ে দেখা করে আসতাম। তাদেরও খুব ভালো লাগতো, কত যত্ন করতো, ভালো ভালো খাওয়াতো। যৌথ পরিবারের আত্মীয় পরিজনদের বাড়ি যাওয়া-আসা লেগেই থাকত। খুড়তুতো-জ্যাঠতুতো ভাই-বোনদের মামাবাড়ি মাসিবাড়িও বাদ পড়ত না।
প্রত্যেক পরিবারের একটা নিজস্বতা আছে। আছে সামাজিক অবস্থান, পরম্পরা, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ছোটবেলা থেকেই বহু পরিবার ও তাদের সদস্যদের সংস্পর্শে এসে আমার অন্তর্দৃষ্টি ও অভিজ্ঞতায় অতি সহজেই তাদের ব্যাক্তিত্বর একটা আন্দাজ তৈরি করে নিতাম। তবে ছোটবেলায় আমি ছিলাম যেন সুখের পায়রা। যে বাড়িতে দুঃখ-কষ্ট আছে, সতর্কতার সঙ্গে তাদের এড়িয়ে চলতে আমি ছিলাম অত্যন্ত চতুর ও পারদর্শী। আর যেখানে একটু খাতির যত্ন পেতাম সেখানে একাধিকবার যেতাম। এমন কি দু-চারদিন বেশি থেকেও ফিরে আসতে মন চাইতো না। পরিবারের বা পারিবারিক বন্ধু ছাড়াও অনেক বাড়িতে যেতাম, খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও। আজ এই নিয়ে লিখতে বসে কত ঘটনার কথা মনে পড়ছে। ছোটবেলার ও ছাত্রজীবনের বন্ধুদের কথা, তাঁদের মা, বাবা, ভাই বোন, দাদা দিদিদের কথা। এমনকি চাকুরি জীবনের সহকর্মীদের কথাও লিখতে ইচ্ছে করছে।
ছোটবেলায় আতিথেয়তা কথাটার অর্থ বুঝতাম না। সামান্য বড় হরে বুঝলাম এর অর্থ বাড়িতে কেউ এলে তাঁকে সন্মানের সাথে খাতির যত্ন করা। এরপর আরও বৃহত্তর অর্থে বুঝলাম বিয়েবাড়ি, বা পুজায়, বা স্কুল কলেজের অনুষ্ঠান, ইত্যাদি ক্ষেত্রেও এটি প্রযোয্য। আরও পরে বুঝলাম অফিসেও এটি প্রযোজ্য, সে রিসেপশনে বসা মেয়েটি অফিসে কেউ এলে যেমন গুড মর্নিং বলে স্বাগত জানায়, তেমনি চাকরিতেও যদি সদ্য গ্র্যাজুয়েট কেউ জয়েন করে, সেখানেও প্রথম আতিথেয়তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমি GEC ALSTHOM এ আমার মধুর অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু করছি। ১৯৯০ সালে শিবপুর থেকে পাশ করে আমি GEC-তে ম্যানেজমেন্ট ট্রেনি হয়ে জয়েন করি, সর্বভারতীয় স্তরে আরও প্রায় সত্তর-আশি জন গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। আমার পোস্টিং হলো ম্যাগনেট হাউসে, কর্পোরেট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টে, ৬ নম্বর চিত্তরঞ্জন এভিনিউ, কলকাতা। খুবই ছোট ডিপার্টমেন্ট, বিই কলেজের আমরা কয়েকজন – ষষ্ঠী হালদার, ১৯৮৬ ই টি সি, শর্মিষ্ঠা নাথ ১৯৮৭ কম্পিউটার সাইন্স। চারজন যাদবপুর, আর রাজাদা REC Warraagle। আমরা চার জন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার একসঙ্গে জয়েন করি। নীতা ও নীতিন যাদবপুর কম্পিউটার সায়েন্স, আমি ও ইফতিকার আলি শিবপুর কম্পিউটার সায়েন্স। সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের প্রধান বা ম্যানেজার ছিলেন অনিন্দ্য চৌধুরী ছিলেন। উনিও বি ই কলেজের প্রাক্তনী।
নীতার বাড়ি নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের পথ। একবার পুজোর ছুটিতে আমরা স্কুলের ছয় বন্ধু মিলে দার্জিলিং ভ্রমণের পরিকল্পনা করি। GEC র গেস্ট হাউসে কয়েকদিন ছুটি কাটিয়ে ফেরার সময় জলপাইগুড়ি স্টেশনে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর হটাৎ করেই খেয়াল হয় যে একবার নীতার বাড়ি ঘুরে এলে কেমন হয়? নীতাও ওইসময় পুজোর ছুটিতে বাড়ি এসেছিল। যাই ভাবা, স্টেশন থেকে রিক্সা নিয়ে নীতার মা বাবার সঙ্গে দেখা করে আসি। বিনা নিমন্ত্রণে।
আমাদের একই প্রজেক্টের বি ই কলেজের দিদি, শর্মিষ্ঠা নাথ রোজ বাড়ি থেকে মায়ের রান্না করা সুস্বাদু খাবার নিয়ে আসতেন। মাঝে মধ্যে আমরাও ওই খাবারে ভাগ বসাতাম। কোন এক ছুটির বিকেলে সল্ট লেকে আমরা শর্মিষ্ঠাদির বাড়ি হানা দিই। আর মাসিমার তৈরি চা জলখাবার খেয়ে ফিরে আসি। ওইদিন আর ডিনার করতে হয় নি। শর্মিষ্ঠাদির শখ ছিলো গান শোনা , ভালো গানও করতে পারেন। আসার সময় “আরাধনা” নামে একটা ভক্তি গীতির ক্যাসেট আমাকে উপহার দিয়েছিলেন। যতদিন আমার টেপ রেকডারের অস্তিত্ব ছিলো ওই ক্যাসেট বার বার চালিয়েছি আর শর্মিষ্ঠাদির বাড়ির কথা স্মরণ করেছি।
GEC-তে চার বছরের চাকুরিতে সহকর্মীদের থেকে বেশ কয়েকবার উৎসব অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রন পেয়েছি। বালিগঞ্জে রাজা’দার নতুন ফ্লাটে গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠানে (হাউস ওয়ার্মিং পার্টি) অফিস থেকে বেশ কয়েকজন গিয়েছিলাম। পুজো ও খাওয়া দাওয়া সেরে আবার অফিসে ফিরে আসি। তার কয়েকমাস পরেই রাজদার বিয়ের রিসেপশনে ভুরিভোজ। অফিস সহকর্মীরা কুমকুমের বিয়ের নিমন্ত্রনে ব্যান্ডেল গিয়েছিলাম। সদ্য বিবাহিতাকে খুব সুন্দর সাজিয়েছিল, পাশে কোট-টাই পরা স্মার্ট বর রবি কুমারকেও বেশ মানিয়েছিল। এক রবিবার দুপুরে মুখার্জী’দার বাড়ি রিষড়ায় গিয়েছিলাম। বৌদি বহু পদ রান্না করে খাইয়েছিলেন। যতদূর মনে পরে আমরা সবাই তখন অবিবাহিত। ষষ্ঠী দা, নীতিন, ইফতি, কিরণ ও প্রীতি, সবাই। আর কেউ ছিলো বলে ঠিক মনে পড়ছে না। মধ্যান্য ভোজনের পর মুখার্জিদা টেপ রেকর্ড প্লেয়ারে একটা ক্যাসেট চালিয়েছিলেন। বেশ মনে আছে রবিঠাকুরের বিখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক ছোটগল্প ‘রবিবার’। অভিজিৎ রায় বর্মনের কথা। সদ্য একটা নতুন মোটর সাইকেল কিনে চালানো শিখেছে। নীতার বিয়ের নিমন্ত্রণে যেতে হবে। বার বার বলেছে দুপুরের খাওয়াটাও যেন ওখানেই করি। সল্ট লেকে যেতে হবে, ঠিকানা একটা দিয়েছে কিন্তু ঠিক কিভাবে যেতে হবে স্বচ্ছ ধারণা ছিলো না। মিস্টার রায় বর্মন অভয় দিলেন, কোন চিন্তা করিস না, এখন ভালোই চালাচ্ছি। তুই ধর্মতলার মোড়ে অপেক্ষা করিস, তুলে নেব। ঈশ্বরের নাম নিয়ে রায় বর্মনের হাতে জীবন সঁপে দিয়ে পিছনের সিটে বসে পড়েছিলাম। নিমন্ত্রণ ছাড়াও পরিস্থিতি বুঝে যেতে হয়েছে। বারাকপুরে মিস্টার বাসুর বাড়ি। কোন এক শারীরিক কারণে উনি কয়েকদিন ধরে অফিসে আসতে পারেননি। আমাদের ডিপার্টমেন্টের স্যার মিস্টার অনিন্দ্য চৌধুরী আমাকে পাঠিয়েছিলেন মিস্টার বাসুর সংবাদ আনতে। এক মেঘলা দিনে বাসুদার বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়েছিলাম। সেইদিন উনি আমার ম্যানেজার নয়, অত্যন্ত স্নেহ প্রবণ দাদা। কত কথা হয়েছিলো। বৌদিও চা জলখাবার নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন। ওনার শরীর কেমন আছে, অফিস জয়েন করতে কত দিন সময় লাগবে, সব কিছু জেনে ফিরে এসে মিস্টার চৌধুরীকে সব জানিয়ে ছিলাম।
GEC কোম্পানির এক্সটেন্ডেড ফ্যামিলি তারাতলা ও ফার্নেস ফ্যাক্টরির সহ কর্মীদের অনেক বাড়িতে যেতে হয়েছিলো। সেসব গল্প সুযোগ পেলে অন্য আরেকদিন লিখব।
আতিথেয়তা – পর্ব ২
সেই সময় GEC ইনহাউস সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের, ওরাকল ডাটাবেস ও টুল ব্যাবহার করে বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রজেক্ট ছিলো। GEC ইন্ডিয়ার সব ফ্যাক্টরি কমপিউটারাইজড করতে হবে। ১৮৯১ – ১৯৯২ সালে আমাদের ফার্স্ট ফেজ ডেভেলপমেন্ট কমপ্লিট হয়, তারপর কলকাতার তারাতলার মোটর, সুইচ গিয়ার ও ফার্নেস ইউনিটে ইমপ্লিমেন্টের কাজ শুরু হয়।
পশ্চিমবঙ্গে তখন কম্পিউটারের বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলন তুঙ্গে। হেড অফিসের লোক দেখলেই ইউনিয়নের নেতারা তাড়া করে আসে। হুমকি দেয়। সেই পরিবেশে নিজেকে বেশ কেউকেটা মনে হয়েছিল। ম্যানেজমেন্টের সহযোগিতায় রাতের অন্ধকারে কয়েকজন সিনিয়র ম্যানেজারদের পার্সোনাল কেবিনে কয়েকটা কম্পিউটার ইনস্টল করা হয়। তখন আমার অফিসের ঠিকানা মোটর ডিভিশনের সিনিয়র অফিসার মিস্টার নিয়োগীর কেবিনে।
১৯৯২ থেকে ১৯৯৪ আমার জীবনের এক রঙিন অধ্যায়, পেশাগত জীবনে যেমন ব্যক্তিগত জীবনেও। আমি তখন GEC তারাতলা ইউনিটের বিশেষ অতিথি। সকাল আটটায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাত্রি দশটা সাড়ে দশটায় কোম্পানির গাড়িতে বাড়ি ফিরতাম। প্রাতরাশ থেকে শুরু করে লাঞ্চ, বিকেলের স্ন্যাকস এমনকি কোন কোন দিন রাতের খাবার খেয়েও বাড়ি ফিরতাম। ফ্যাক্টরি ম্যানেজমেন্ট ক্যান্টিনে খুব ভালো খাবার পাওয়া যেত, আর কোন টাকা লাগত না। চা, কফির সঙ্গে ব্রিটানিয়া কোম্পানির হরেক রকম সুস্বাদু বিস্কুট। বিকেলে ঝালমুড়ি, ভেলপুরী। একটু দেরি হয়ে গেলে খিদিরপুরের মাটন বিরিয়ানি ও সঙ্গে চিকেন চাপ। জামাই খাতির। আসলে সেই সময় চিফ অ্যাকাউনটেন্ট মিস্টার সুদীপ ব্যানার্জি আমাকে দিয়ে একটা নতুন একাউন্টিং সফটওয়্যার বানিয়েছিলেন। রিকোয়ারমেন্ট এনালাইসিস থেকে শুরু করে ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট ও ইমপ্লিমেন্টেশন সবই করা হয়েছিল ফ্যাক্টরিতে বসেই। একই সঙ্গে কর্পোরেট অফিসের তৈরি করা ফ্যাক্টরি ম্যানেজমেন্টের সফটওয়্যারও ওই একই সময়ে ইমপ্লিমেন্ট করা চলতে থাকে। বাগ ফিক্সিং ও ডাটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাজও করতে থাকি। স্বভাবতই ওই দু-বছর খুবই ব্যস্ততায় কাটে।
ওই দু-বছর ফ্যাক্টরির অনেক সিনিয়র ম্যানেজারদের সাথে কাজ করতে হয়েছে। অনেক সহকর্মীর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। কিছু বিশেষ বিশেষ ঘটনার কথা মনে পড়ছে। যেমন মিস্টার সিকদার যিনি Payroll দেখতেন, মাসের শেষে প্রসেসিং হত। এই Payroll বেশ জটিল সিস্টেম। কিছু ভুল ভ্রান্তি ধরা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করতে হত। একবার অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় বাড়ি ফিরতে পারিনি, মিস্টার সিকদার ওনার হরিদেবপুরের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরদিন সকালে ওনার সঙ্গেই ফ্যাক্টরিতে হাজিরা দিই। আরেকবার ম্যানেজমেন্ট একাউন্টিং ঠিকমত মিলছিল না। রাত হয়ে যাওয়ায় একাউন্ট অফিসার মিস্টার তপেশ মুখার্জির (অভিনেতা, নাট্য পরিচালক এবং থিয়েটার ব্যক্তিত্ব জ্ঞানেশ মুখার্জীর পুত্র) ভবানীপুরের বাড়িতে রাত্রিবাস করতে হয়েছে। কোম্পানির মূখ্য ক্যাশিয়ার মিস্টার বিবেক চ্যাটার্জি আমাকে খুব সম্মান ও স্নেহ করতেন। Petty Cash রিপোর্টে কোন গন্ডগোল ধরা পড়লেই প্রিন্টআউট নিয়ে নিজে আসতেন আমার কাছে। একবার ছুটির দিনেও ফ্যাক্টরি যেতে হয়েছিল। ক্যান্টিন বন্ধ, তাই বিবেকবাবু আমাকে মধ্যাহ্ন ভোজের আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন ওনার বাড়িতে। মিসেস চ্যাটার্জির হাতে রান্নার অপূর্ব স্বাদের কথা আজও মনে আছে। সাত্ত্বিক রান্না। আর কোন এক বিশেষ দিনে অনেক রাত্রি হওয়ায় চিফ অ্যাকাউনটেন্ট মিস্টার সুদীপ ব্যানার্জি কিছুতেই আমাকে একলা ছাড়তে রাজি হন নি। ওনার বেলেঘাটার বাড়িতেই রাত্রিবাস করেছিলাম।
মিস্টার ভাস্কর সেন তখন তারাতলা ফ্যাক্টরির এক্সেকিউটিভ ডিরেক্টর। ইউনিটের হেড। ওনার মত ব্যাক্তিত্ব খুব কমই দেখেছি। উনি যখন ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করতেন তখন সবাই ভয়ে যেন তটস্থ। একদিন আমি কম্পিউটারের সামনে বসে কিছু সফটওয়্যারের বাগ ( ডিফেক্ট) ফিক্স করছি, খেয়াল ছিলোনা যে আমার পিছনে এসে দাঁড়িয়েছেন। আমার ম্যানেজার ও সহকর্মীরা তখন উঠে দাঁড়িয়ে ওনাকে সম্মান দিচ্ছেন, কথা বার্তা বলছেন, আর আমি তখনও সফটওয়্যারের ভিতরে ঢুকে তন্ময় হয়ে লজিক বোঝার চেষ্টা করছি। হঠাৎ পিছনে ফিরে দেখি মিস্টার ভাস্কর সেন। খুবই অপ্রস্তুত ও কিছুটা ভয় পেয়েও গিয়েছিলাম। উনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে অভয় দিয়ে বলেছিলেন দাঁড়ানোর দরকার নেই। মন দিয়ে কাজ করে যাও আর কোনদিন কোন কিছুর প্রয়োজন হলে আমাকে জানাতে দ্বিধা করবে না। তারপর ভয় অনেকটাই কেটে গেছে। ওনার কেবিনেও অনেকবার গেছি। প্রত্যেকবারই আমাকে স্পেশাল চা, কফি এমনকি ওনার পার্সোনাল রেফ্রিজারেটর থেকে কোল্ড ড্রিংক্সও অফার করেছেন। এরকম সম্মান পেশাগত জীবনে কোনদিন পেয়েছি বলে মনে পড়ছে না। আমেরিকা আসার আগেও ওনার সাথে দেখা করে এসেছি। এমনকি এখন থেকে বেশ কয়েকবার ফোনেও যোগাযোগ হয়েছে।
আমি আমার লেখা শুরু করেছিলাম পারিবারিক আতিথেয়তা দিয়ে। শেষ করলাম যে চাকুরিক্ষেত্রেও আমি সৌভাগ্যবান, GEC অফিসে বিভিন্ন সময়ে সমবয়সী ও অসমবয়সী সকলের থেকেই ব্যাক্তিগত ও পেশাগত আতিথেয়তার অভিজ্ঞতার সুযোগ পেয়েছিলাম।
**********






Add comment