আমার কিছু কবিতা
© রামু দত্ত, ১৯৭৮, ইলেকট্রনিকস ও টেলি কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং

খুব মনে পড়ে তোমার বাড়ি।
সোহাগপুর বাসস্টপে নেমে, ধানক্ষেত ভেঙ্গে,
আলপথ ধরে এগিয়ে পাবো বড়ো দীঘি।
সে দীঘির ধারেই তোমাদের একতলা বাড়ি।
বাড়ির নাম ‘রোদছায়া’ –
ঠিক সবার জীবনের সাথে যায় মিলে।
বাড়ির সদরের পাশেই মাটি থেকে
বেগোনভোলিয়া উঠে গেছে ছাদের কার্নিশে
সারা বছরই ছাদের সেই কিনারা সাজানো রঙবেরঙের ফুলের টবে।
তাই তোমার বাড়ি দেখলেই
আমার বুকের রক্ত উঠতো তরঙ্গ ভরে।
জানো, একদিন মনে মনে গিয়েছিলুম
সোহাগপুর বাসস্টপে নেমে মাত্র দুকিমি পথ
তবু ইচ্ছে করেনি যেতে।
যদি আসে মাঝপথে আকাশ ভাঙ্গা বৃষ্টি
সেই ছাতাটিই তো আজ নেই।
যে ছাতা নিয়ে যেতো আমায়
কাঁকর বিছানো লালপথ, ভিজে আলপথ
বড়োদীঘির পাড়ে কেয়াঝোপের পাশ দিয়ে
আর শেষ হতো ‘রোদছায়া’য়।
একদিন হয়তো ও পথের দিকে পা বাড়াবো
আর অপেক্ষা করবো সেই রঙিন ছাতার।
**********

এই! করিস কি! ও বুলবুলি!
চল তোর সাথে সেলফি তুলি।
কিচিরমিচির কি তুই বলিস?
খাবার নিয়ে বাসায় ফিরিস?
বৌ সামলায় কচিগুলোরে
আর তুই গেলি সেই খাবার জোগাড়ে?
বলি, সে হবে’খন, জুটবে খাবার
কিন্তু কবে তোকে পাই যে আবার?
সেলফি আছে বুড়ো বটের সাথে
দাঁড়িয়ে গাঁয়ের শেষের ঐ যে মেঠো পথে।
যখন সাঁঝের বেলায় সূয্যি ডোবে নদ দামোদরে
আমিও রেডি থাকি ফোন হাতে ধরে।
সে এক মস্ত পাহাড় বরফ চূড়ায়
তুলতে সেলফি কে যে রোখে আমায়!
ফুটপাতে কত যে ভিখারী ঘুমায়
গায়ে নোংরা কাপড় আর ছেঁড়া কাঁথায়
ছোট মেয়ে রাস্তা মোড়ে দাঁড়িয়ে ফুল বেচে
জানিস সবার সাথেই ওর সেলফি আছে।
যদি তোর সাথে তুলি সেলফি আমি
বলে সুজন স্বজন মুই পক্ষীপ্রেমী।
********
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।
অবিরত ঝরে শ্রাবণের ধারা
পথ ডুবে হলো পুকুরের পারা
গাড়ি সব আজ চলিছে সাঁতারি
হবে কি বিকল? বুঝিতে নারি
এহেন দিনে মূর্খ শুধু অফিস কাছারি যায় রে!
বুলবুলি শালিক আসে নেই কেহ
ভেজে কাক একা ভিজে যায় দেহ
কুকুর ঘুমায় খোলা বারান্দায়
দোকানী গদিতে অলসে ঝিমায়
জানালা পাশে বসিয়া তুমি বর্ষা রূপ দেখোরে।
খিচুড়ি খাইবার আজ মনে বড়ো আশ
বখাটে অন্য সকলে গেলে ছাইপাঁশ
চপ মাখায়ে চিবাইও মুড়ি
পড়ুক পাতেতে ইলিশ পাতুরি
কর্তা আজি গিন্নীর কাছে ঘন ঘন চা যাচেরে।
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাইরে।
********






Add comment