লাদাখ – অন্য রকম সুন্দর (তৃতীয় পর্ব)
© বন্দনা মিত্র, ১৯৮৬ মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
লাদাখের পরের আকর্ষণ ছিল প্যাংগং লেক, ও তার সঙ্গে আরো বেশ কয়েকটি লেক। এদের নিয়ে এতো লেখা হয়েছে যে প্যাংগং লেকের সৌন্দর্য বর্ণনায় শব্দ খরচ করে লাভ নেই। আমার সস্তার মোবাইলে তোলা খান কয়েক ছবিই যথেষ্ট। সাধারণ ক্যামেরায় কোনো এডিটিং না করেও যদি এত সুন্দর ছবি ওঠে, তাহলে দৃশ্যগুলো বাস্তবিকই সুন্দর।

হানলে এলাম অনেক আশা নিয়ে। Astrophotography করার মত সাজ সরঞ্জাম আমার কাছে নেই। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা দৃষ্টি যখন দিয়েছেন, দুচোখ ভরে দেখতে তো আর বাধা নেই। সবাই জানেন, যাঁরা Astronomy র ওপর কাজ করেন ও Stargazing যাঁদের শখ, হানলে তাদের স্বর্গরাজ্য। হানলে ভারতের প্রথম ঘোষিত Dark Sky Reserve. মানে এখানে আকাশের অন্ধকার রূপটিকে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। এরজন্য দরকার আলোক দূষণ খুবই কম রাখা এবং তারজন্য কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যেমন রাত নটা, সাড়ে নটার মধ্যে সব বাইরের আলো নিভিয়ে দিতে হয়। এখানে Indian Astronomical Observatory আছে তার অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ নিয়ে। উচ্চতার খাতিরে পৃথিবীর দশম স্থানে আছে এই মানমন্দির।

আমি ঠান্ডা আটকাতে জোব্বা জুব্বি পরে, গলায় বাইনোকুলার ঝুলিয়ে, মোবাইলে Stellarium app অন করে হোটেলের বাইরে মাঠে এলাম। আমাদের হোটেলের নিজস্ব টেলিস্কোপ আছে, একজন দক্ষ গাইড ও আছে যে টেলিস্কোপে আকাশ দেখতে সাহায্য করে। এ বিষয়ে মৌমিতার সতর্ক দৃষ্টির তুলনা নেই।
তখন রাত নটা। আলোর বন্যায় ভেসে যাচ্ছে চারদিক। পুবদিকে রাজপথ – ট্রাক, হেভি ভেহিকেল, ট্যুরিস্টদের গাড়ি মূহুর্মুহু ছুটে যাচ্ছে। হেডলাইটের তীব্র বিম, গাড়ির পেট থেকে বেরোনো কালো ধোঁয়া – সব মিলিয়ে অদৃশ্য হয়ে আছে ওদিকের আকাশ। দক্ষিণ দিকে পাশের হোমস্টের সামনে সারি দিয়ে উজ্জ্বল চোখ ধাঁধানো নীল আলো, কান ফাটিয়ে ডিজে – বেচারা বৃশ্চিক মন্ডল দক্ষিণ আকাশে লেজ তুলে প্রায় অদৃশ্য ঝুঁকে পড়ে দেখছে – এত হট্টগোল, এত সমারোহ কিসের? আকাশ দেখার?
ট্রাফিকের ব্যাপারে কিছু করার নেই। রাস্তা দিয়ে পাশের হোটেলে এসে মালিকের সঙ্গে দেখা করলাম। বাস্তবিক অর্থে করজোরে মিনতি করলাম আলো নেভাতে। বললাম যে কলকাতা থেকে এসেছি আকাশ দেখতে, এত আলোয় কিছুই দেখা যাচ্ছে না। মালিক অত্যন্ত ভদ্রলোক। আমি নিজের হোটেলে ফেরার পথেই দেখলাম সব আলো নিভিয়ে শুধু একটা মৃদু আলো দরজার বাইরে জ্বেলে রাখলেন। দক্ষিণের আকাশ অন্ধকার হয়ে গেল। চকিতে হেসে উঠল বৃশ্চিক, জ্বলজ্বল করে উঠলো জ্যেষ্ঠা। আকাশগঙ্গা বয়ে যাচ্ছে বৃশ্চিকের লেজ থেকে ধনু হয়ে ক্যাসিওপিয়া অবধি। উত্তরে সপ্তর্ষি, প্রায় মাথার ওপর ধ্রুবতারা, ঘুড়ির মত উড়ছে লঘু সপ্তর্ষি। মনে হল উত্তর আকাশে এক আদিম বৃহৎ ঘড়ি, সৃষ্টির সময় মেপে চলছে – মধ্যবিন্দুতে ধ্রুবতারা, একদিকের কাঁটা সপ্তর্ষি অন্যদিকে ক্যাসিওপিয়া। রাত গভীর হলে গাড়ি চলাচল কমে এলেও বন্ধ হল না। পুবে অ্যান্ড্রোমিডা, পেগাসাস, এবং শনিদেব দেখা দিলেন। যখন মাঝে মাঝে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকছে, অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে চরাচর, আকাশে এক বিন্দু ফাঁক নেই, সত্যিই অনন্ত নক্ষত্র বীথি মহাশূন্যের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে গেছে।
পরদিন গেলাম হানলের ১৭ শ শতাব্দীর বৌদ্ধ মঠে। তখন সেই প্রাচীন মঠে একটি মূর্তি নিয়ে বাজনা বাদ্যি বাজিয়ে নাচানাচি করে কোন ধর্মীয় উৎসব চলছিল। তারপর সেই মূর্তিকে আগুনে বিসর্জন দেওয়া হল। অনেকটা আমাদের ন্যাড়াপোড়ার মত। এত কিছু প্রথার নেপথ্যে কোন একটা গল্প ছিল নিশ্চয়, যেমন যেকোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে থাকে, কিন্তু জানা হল না। আরেকটু পড়াশোনা করে আসলে হত !

রাতে আরেকবার প্রাণভরে হানলের আকাশ দেখে নিলাম। ঐ মিশমিশে কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে অসংখ্য নক্ষত্রের ভিড়, যতদিন বাঁচবো চোখ বুঁজলেই দেখতে পাবো।

শেষ গন্তব্য Tso Moriri lake. লাদাখের অপূর্ব সুন্দর হ্রদ। লাদাখের উচ্চতম লেক,(১৫০০০ ফিট) Ramsar wetland site. এখানে রাত কাটিয়ে পরেরদিন লেহ ফেরা।

পথেই পড়ল Hemis Monetary, এক পাহাড়ের ওপর সিন্ধুর পশ্চিম পারে Drukpa বংশের অবদান। একাদশ শতাব্দীতে তিব্বতী গুরু Naropa, প্রতিষ্ঠা করেন বৌদ্ধ ধর্মের একটি শাখা, Kagayu. এই ধর্মের পিঠস্থান Hemis Gompa বৌদ্ধ গুমফা পুনর্নির্মিত হয় ১৬২০ সালে, লাদাখের রাজা Singe Namgyal এর রাজত্বে। প্রাচীন তিব্বতী স্থাপত্য, মূল্যবান রত্ন খচিত বৌদ্ধ স্তূপ, তামা নির্মিত বিশাল বুদ্ধ মূর্তি, গুরু Rimpoche-র এক বিশাল মূর্তি। আর আছে মিউজিয়াম, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান সামগ্রীতে ভরা। একটি গ্যালারিতে ১৭ শতাব্দীর ৮৪ টি মহাসিদ্ধ্ব চিত্র (পেন্টিং) আছে। অনেক প্রাচীন পুঁথি এবং বৌদ্ধ পটচিত্র (Thangkas) সংগ্রহ আছে।

হেমিস মঠে প্রতি বছর প্রভু পদ্মসম্ভবকে (যিনি বুদ্ধের জন্মান্তরের অবতার হিসাবে পূজিত হন) স্মরণ করে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়, জুন মাসের প্রথম দিকে। বুদ্ধের সেই পুনর্জন্ম তিব্বতী ক্যালেন্ডারের Monkey year এর পঞ্চম মাসের দশম দিনে – মানে প্রতি বারো বছর অন্তর আসে। সেই বছরটা আমাদের মহাকুম্ভের মত ধুমধাম করে, ওদের লোকাচার মত, নাচগানে পালিত হয়। এখানে একটা কথা বলি, এই তিব্বতের বিভিন্ন বৌদ্ধ মঠের বুদ্ধের সঙ্গে আমাদের ইতিহাসের গৌতম বুদ্ধকে এক করলে চলবে না কিন্তু। ওদের এই বিভিন্ন বুদ্ধের স্বরূপ বুঝতে হলে তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্ম বিশদভাবে পড়তে হবে। মহাযান বৌদ্ধ ধর্ম অনুসরণ করলেও তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মে তন্ত্র ও হিন্দু ধর্মের ও প্রচুর প্রভাব আছে। আমার অত জ্ঞান ও নেই।
আরেকটা ইন্টারেস্টিং কিন্তু তর্ক সাপেক্ষ তথ্য পেলাম বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে। রাশিয়ান সাংবাদিক Nicholas Notovich (১৮৯৪ ) দাবি করেছিলেন যে হেমিস গোমফার পুঁথির সংগ্রহে তিনি এমন কিছু কাগজ পত্র পেয়েছেন যা থেকে প্রমাণ হয় যীশু খ্রীষ্ট কোন এক সময় এই লাদাখে এসেছিলেন ও ঈশা রূপে পূজিত হয়েছিলেন। কিন্তু এই দাবি সেভাবে কোন ঐতিহাসিক, যারা এই বিষয়ে কাজ করেছেন, মেনে নেন নি। এবং সেই মহার্ঘ ডকুমেন্টটিও প্রকাশ্যে আনা সম্ভব হয় নি। তবে যেকোন ইতিহাস ও পুরাণের ধূসর জমিতে দাঁড়িয়ে আকাশ পাতাল কল্পনা করতে ভালই লাগে, বিশেষ করে প্রমাণ দেওয়ার গুরুদায়িত্ব যদি নিজের কাঁধে না থাকে।
ভেবেছিলাম এই পর্বে শেষ করে দেব লাদাখ ভ্রমণ – কিন্তু কথায় কথা বাড়ে। আরেকটা পর্ব লাগবে লেহ শহরটার বর্ণনা দিতে। জানি এখন এত ধৈর্য ধরে কেউ পড়ে না, আমার লেখাতেও এমন কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য নেই যে পাবলিক খাবে। তবে এই লেখাটা বলতে পারেন আমার নিজের জন্য। বেড়ানোর রেশটা থাকতে থাকতে অক্ষর বন্দী না করলে জলের বৃত্তের মত মিলিয়ে যাবে। লক্ষ্মী চঞ্চলা কিন্তু সরস্বতী আরো নিষ্ঠুর, আরো চঞ্চল।

একটা জায়গার কথা বলা হয় নি, কোন ঐতিহাসিক বা প্রকৃতির প্রশ্রয় পাওয়া স্থান নয়, কিন্তু মনে দাগ কেটে গেছে। নুব্রা ভ্যালি থেকে তুর্তুক যাওয়ার পথে, যেসব তরুণ ভারতীয় সেনা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তাঁদের স্মরণে প্রতীকী এক পাথরের মূর্তি, হাতে তিরঙ্গা, পাশের পাথরে লেখা – বাংলা অনুবাদ করলে হয় -“মৃত্যু পর্যন্ত আমি রক্ত দিয়ে এই মাটি আগলে রেখেছি।” আর সামনে এক স্তম্ভে লেখা – Mom I am lost. কেমন লাগছিল, এই কম বয়সী ছেলেগুলো এই এতদূরে, দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে, শেষ মুহূর্তে কোন চেনা মুখ দেখতে পায় নি, হাহাকার করে উঠেছে – “মা, আমি হারিয়ে গেছি। ” নিভত যদি আলো, যদি হঠাৎ যেত থামি/ আকাশ ভরে উঠত কেঁদে, হারিয়ে গেছি আমি।”

হানলে থেকে সোমোরিরি যাওয়ার পথে পড়েছিল Umlinga Pass, ১৯০২৪ ফুট উঁচুতে, পৃথিবীর উচ্চতম যানযোগ্য পাস। নেমে ছবি তুলে নিলাম একফাঁকে। তবে এখানে বেশিক্ষণ হৈচৈ হুটোপুটি না করাই ভালো, অক্সিজেনের সমস্যা হতে পারে।

লেহ র উনিশ কিলোমিটার দূরে লাদাখের সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ মঠ, Thiksey Monastery. এই মঠ স্থাপিত হয় ১৪৩৩ খৃষ্টাব্দে, স্থপয়িতার নাম Palden Sherab. Hemis Monetary যেমন তিব্বতী বৌদ্ধ ধর্মের Drukpa Kayugu শাখার পিঠস্থান, Thiksey Monastery তেমন তিব্বতী বৌদ্ধ ধর্মের Geluga শাখার কেন্দ্র বিন্দু। এই মঠে মৈত্রেয় বুদ্ধের ৪৯ ফিট তামার মূর্তি আছে। তাছাড়া প্রাচীন সামগ্রী, পুঁথি, পটচিত্র, মূর্তি ইত্যাদির অমূল্য সংগ্রহ দেখা যাবে এখানে। থিকসে মঠে ছবি তুলতে কোন বাধা নেই, অন্য মঠগুলোর মত।
লেহতে তখন ভালই বৃষ্টি পড়ছে, তারসঙ্গে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা হাওয়া। সেই বৃষ্টিতে পিছল পাথরের সিঁড়ি বেয়ে আমরা এলাম Shey Palace এ। সে প্রাসাদ ও মঠ নির্মাণ হয়েছিল দশম শতাব্দীতে, এখন সে নির্মাণ সম্পূর্ণ ধ্বংস স্তুপ। তারপর ১৬৩৩ খৃষ্টাব্দে প্রাসাদ ও মঠ মূল প্রাসাদের নীচে পুনঃনির্মাণ করা হয়। এই মঠে শাক্যমুনি বুদ্ধের এক বিশাল মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে, যেন Shey palace ও Monastery কে সতর্ক পাহারা দিচ্ছেন।
দুপুরে খেতে গিয়ে কলকাতা থেকে আসা একদল বাঙালি বাইক আরোহীর সঙ্গে দেখা হল। লেহ থেকে বাইক নিয়ে তাদের হানলে যাওয়ার প্ল্যান ছিল কিন্তু বৃষ্টিতে আটকে গেছে। দুজন মেয়েও ছিল ঐ দলে। এ অকারণে চঞ্চল ছেলেমেয়েদের দেখে একটু হিংসে হচ্ছিল। মন না ঝরলে কি হবে, দেহ ঝরে গেছে যে!
বৃষ্টি আরো জোরে এল। বৃষ্টির জন্য লেহ প্রাসাদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা বরফের ছুরির মতো হাওয়ায় ক্ষত বিক্ষত হতে হতে হোটেলে ফিরলাম। বাঁধাছাদা করে নিলাম, পরের দিন কলকাতা ফেরার ফ্লাইট। কিন্তু তখনও জানতাম না, লাদাখ থেকে ফিরব বললেই ফেরা যায় না।
পরের দিন সকালে জানা গেল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য পরপর তিনদিনের ফ্লাইট বাতিল। এও জানা গেল যে চিত্রতারকা মাধবনও লেহতে বন্দী, নেট সমস্যার জন্য পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। নেট সমস্যা আমাদেরও। নেট আসা যাওয়া করছে। সিগন্যাল অনিয়মিত। কি করে বাড়ি ফেরার টিকিট বুক করব সেই চিন্তা। পরপর তিন দিন সব ফ্লাইট বাতিল, তৎকালের মত সবাই একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েছে টিকিট কাটতে এবং ওয়েবসাইট হ্যাং করে যাচ্ছে। মৌমিতা না থাকলে এবং সুভাষবাবু সাহায্য না করলে সাতদিনের আগে টিকিট পাওয়াই যেত না। বাড়তি তিনদিন ঐ হোমস্টেতেই মৌমিতা সামান্য একটা চার্জে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিল। আগে জানতাম না, দলাই লামাও এখন লেহতে। আমাদেরই মত আকাশপথ খোলার অপেক্ষায় আছেন। হুঁ হুঁ বাবা, তবে? রাজার ঘরে যে ধন আছে, টুনির ঘরেও সে ধন আছে। নিজেদের বেশ ভিআইপি মনে হচ্ছিল।

এরপর আমাদের আর পায় কে! এই তিনদিনের লেহ বাস যেন ট্যুরের iterenary তেই ছিল। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে লেহ বাজার ও আশপাশের দোকানগুলো চষে ফেলা হল। কাছাকাছির মধ্যে একটা ফেয়ার প্রাইস শপ ছিল, টুকটাক কেনাকাটায় সেই দোকান ফাঁকাই হয়ে গেল। দলের রন্ধন পটিয়সীরা রান্নাঘরে ঢুকে চমৎকার খিচুড়ি, পকোরা, বাঁধাকপির চচ্চড়ি আর অমলেট বানালো। পুরো পিকনিকের মেজাজ। তৃতীয় দিন রোদ দেখা দিতেই মৌমিতা ব্যবস্থা করে আমাদের যাকে বলে সৌজন্য মূলক ভ্রমণ করিয়ে দিল শান্তি স্তুপ, লেহ প্রাসাদ – মানে যেসব জায়গা বৃষ্টির জন্য বাদ পড়েছিল। লেহ প্রাসাদ ১৭ শতকের নির্মাণ, Namgyal dynasty র বসবাসের জন্য। এখন পাহাড়ের খোপে খোপে গুহার মত ছড়ানো এই পাঁচতলা প্রাসাদটি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত এক মিউজিয়া সেকালের রাজাদের কাহিনী ও রাজকীয় জীবনযাত্রার প্রামাণ্য দলিল হিসেবে। তিনদিন পর যেদিন রোদ বেরোল, সেদিন প্রথম ফ্লাইটেই দলাই লামা লেহ ছাড়লেন। আমরা তিনদিন পর আকাশে প্রথম প্লেন উড়তে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম – যাক প্লেন চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাদের সেই স্বস্তি ছিল ক্ষণস্থায়ী। আসলে লেহ র বিমান বন্দর খুব ছোট ও চারদিক উঁচু পাহাড়ে ঢাকা। তাই সামান্য মেঘ জমলেই দৃশ্যমানতার সমস্যা হয়, উড়ন্ত বিমান লেহ বন্দরে নামতে পারে না। সেই কারণে সেদিন বেশির ভাগ বিমান বাতিল হল।
পরের দিন আমাদের প্লেন যাবে কি যাবে না সেই মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন মাথায় নিয়ে বিমানবন্দরে হাজির হলাম। কখন ও কিভাবে অবশেষে কলকাতা ফিরলাম , সে আরেক গল্প। নেল বাইটিং অভিজ্ঞতা।
বুঝলাম, লাদাখের পিরিতী সত্যিই কাঁঠালের আঠা, হাত ছাড়িয়ে চলে আসা খুবই শক্ত।

********






আগের দুটি পর্বের মত এবারের লেখাটিও চমৎকার হয়েছে। ছবিগুলো লেখার ধারাকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে।
বলতে দ্বিধা নেই, ঘরে বসে অনেকটাই লাদাখ দেখতে পাচ্ছি। আর লাদাখ যাওয়ার ইচ্ছে আমার দীর্ঘদিনের। এই লেখাটা অনেকটাই গাইডের কাজ করবে।
লেখিকাকে অনেক ধন্যবাদ।
অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।
Excellent presentation
চমৎকার লেখা। আজকাল অনেকেই লাদাখে বেড়াতে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয় ওখানে ঘুরে আসতে। জানিনা ইচ্ছের সময় হলে শরীর সঙ্গ দেবে কি না ।
বন্দনা মিত্রের লাদাখ,
লেখা ও ফটোগ্রাফির দারুণ যুগলবন্দী। পড়ে যেন সবকিছু নিজের চোখের সামনে দেখা যায়।
খুব ভালো লাগছে।