সাহিত্যিকা

ভূমিকম্পের অঙ্ক

ভূমিকম্পের অঙ্ক
বানভট্ট (অক্ষয় দাস), ১৯৮৩ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং

~ভূমিকম্পের অঙ্ক -১~
ট্রেন ধরব বলে থানে স্টেশনে তাড়াহুড়ো করে ওভারব্রিজের সিঁড়ি দিয়ে নামছিলাম। ট্রেন তো ধরতে পারলামই না। সিঁড়ির ধাপে পিছলে বাঁপায়ের পাতা-গোড়ালি বিচ্ছিরিভাবে মচকে গেল। টর্শনাল ফেলিওর!

পায়ের পাতা ফুলে ঢোল-মৃদঙ্গ। আর কি! চলো হাসপাতাল। হাসপাতালে এক্সরে করে জানা গেল হেয়ারলাইন ফ্র‍্যাকচার। ডাক্তার চুল চেরা বিচার করে বলল প্লাস্টার করতে হবে। আর দুজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্লাস্টারিং এর কাজ শুরুও করে দিল। প্লাস্টারিং তখন মাঝপথে। হঠাৎ জোরে গুড়-গুড় শব্দ, আর তারপর জোর ঝাঁকুনি। সাথে সাথে চারিদিক যেন কেঁপে উঠলো। বুঝলাম ভূমিকম্প। ট্রেতে রাখা ছুরি-কাঁচি, আসবাবপত্র সবকিছু ঝনঝন শব্দ করছে। বেডের কিনারে রাখা প্লাস্টার পেস্টের বাটিটা কাঁপতে কাঁপতে মেঝেতে পড়ে গেল। গোলা প্লাস্টার ছড়কুটে গিয়ে মেঝেতে সাদা রঙের এক মহাজাগতিক এক নকশা তৈরি করল।

শুয়ে শুয়ে দেখছি, সিলিং ফ্যান ভয়ঙ্কর ভাবে দুলছে। ততক্ষণে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট দুজন দে চম্পট। হঠাৎ আবিষ্কার করলাম রুমে আমি একা। আশে পাশে কেউ নেই। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে গেল এতকিছু। আমি পা ভেঙে বেডে ল্যাংড়া আমের মতো কার্নিক খেয়ে পড়ে আছি। ন যযৌ ন প্লাস্টারৌ। ঠ্যাং হুক থেকে ঝুলছে। পায়ে জড়ানো অর্ধসমাপ্ত আলুলায়িত ব্যাণ্ডেজ তখনও রীল থেকে কাটা হয়নি।

আবার গুড়-গুড় শব্দ। এবারেরটা আমার পেটের মধ্যে, বেশ চাপ। একদিক পায়ে মোচড় আর ওদিকে পেটে মোচড়। ফ্যালফেলিয়ে সিলিং-এর দিকে তাকিয়ে ভাবছি ঠিক কতটা ফোর্সে পাখাটা দুললে হুক ভেঙে আমার পেটের ওপর এসে পড়বে। আর যদি পড়ে তাহলে পেটের ওপর ঠিক কতটা ইমপ্যাক্ট পড়তে পারে। তার ফলে কোন দিকে কতটা ফোর্স গেলে কী কী হতে পারে…। পাখা পতনের ফোর্সের সাথে পেটের অভ্যন্তরীণ চাপ যোগ করতে হবে, নাকি বিয়োগ করতে হবে। নাহ! বিয়োগ করতে হবে এক্ষুণি। টয়লেট কোন দিকে? আমি কী করে যাব? কে কোথায় আছ? কে আমাকে এভাক্যুয়েট করবে আর আমিই বা কোথায় গিয়ে হড় হড় করে এভাক্যুয়েট করব? কোয়াড্রুপল জেপার্ডি! গা ছম ছম করেছে। আর ভাবা যাচ্ছে না…।

এই ধরণের ভূমিকম্পের অঙ্ক কলেজে করানো হয়নি। সর্বনাশের সাতগুষ্টি একেই বলে! ভূমিকম্প থেমে গেলেও পেটের সাথে মাথাটাও কেমন উস্তুম-পুস্তুম করছিল।

*********

~ভূমিকম্পের অঙ্ক -২
নতুন কোম্পনিতে জয়েন করেছি। অফিস ছিল পার্ক স্ট্রীটে পার্ক হোটেলের পাশে এপিজে হাউসে বারো তলার ওপরে। মন দিয়ে কাজ করছি। আর নতুন কোম্পানিতে আড়ষ্টতা আস্তে আস্তে কাটিয়ে উঠছি।

আমার বস ছিলেন বেশ রসিক লোক। বিশেষ জ্ঞানীও ছিলেন নিজের বিষয়ে। একদিন আমাকে বললেন – “আপনি তো পি, এইচ, ডি করেছেন। আপনার রিসার্চ টপিক নিয়ে একটা লেকচার দিন না। প্রতিবছর কোম্পানির বাইরে থেকে স্পীকার আসে। এবারের অ্যানুয়াল লেকচার আপনিই দিন।” আমিও বেশ উৎসাহের সাথেই সেই প্রস্তাবে রাজী হয়ে গেলাম। তখন দশ-বারো বছর হয়েছে কলেজ থেকে পাশ করেছি। খুবই জুনিয়র বলা যায়। তাই এমন প্রস্তাব পেয়ে বেশ ইয়ে-ইয়ে লাগছিল। আগে রিসার্চ করার সময় ইন্সটিটিউটে আর বিভিন্ন কনফারেন্সে পেপার পড়েছি, কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিতে এমন সুযোগ ছিল প্রথমবার। কিন্তু তখন কি জানতাম নির্দিষ্ট দিনে আমার জন্য কী অপেক্ষা করে আছে। কেউই জানত না। জানা সম্ভবও ছিল না।
যাই হোক, উত্তেজনা, উৎসাহের সাথে কাজ শুরু করে দিলাম।

টপিক ঠিক হল – “Active and Passive Response Control of Structure during Earthquake.” তখন মাইক্রোসফটের পাওয়ার পয়েন্ট ছিল না। ট্র‍্যান্সপারেন্ট স্লাইড আর ওভারহেড প্রোজেক্টর দিয়েই প্রেজেন্টেশন হত। এইসব লেকচার সাধারণত শ্রোতাদের ঘুমপাড়ানি গানের কাজ করে। তাই যতটা সম্ভব জটিল অঙ্ক সব বাদ দিয়ে সহজ সরলভাবেই স্লাইডগুলো তৈরী করলাম।

নির্দিষ্ট দিনে অফিসের কনফারেন্স রুমে শুরু হল লেকচার। আমার নির্দেশ অনুযায়ী স্লাইড চেঞ্জ করার জন্য এক সহকর্মী আমাকে সাহায্য করছিল। প্রেজেন্টেশন তখন শেষের দিকে। আর কয়েকটা স্লাইড বাকি আছে। আমি তখন স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে একটা স্টিক-পয়েন্টার দিয়ে একটা ইক্যুয়েশন নিয়ে কিছু বলছি। স্ক্রীনে ইক্যুয়েশনের পাশে ছিল একটা বিল্ডিং স্ট্রাকচারের ছবি। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম ছবিটা একটু একটু কাঁপতে শুরু করেছে। এরপর জোরে জোরে কাঁপা শুরু হল। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম, আমার সহকারী স্লাইড নিয়ে কোনরকম নাড়াচাড়া করছে কিনা। দেখি প্রজেক্টরটাই কাঁপছে আর খটখট শব্দ করছে। কনফারেন্স টেবিলে রাখা জলভর্তি গ্লাসগুলো গায়ে গায়ে ঠোকাঠুকি হচ্ছে – টুংটাং, ট্যাংট্যাং। গ্লাসের জল থিরথির করে কাঁপছে। ফ্যানগুলো বেশ জোরে দুলছে। আর ওদিকে স্ক্রীনে স্ট্রাকচারের নকল প্রতিচ্ছবি আসল ভূমিকম্পে কাঁপছে। প্রকৃতির কারসাজিতে বক্তৃতাকে প্রাণবন্ত করার জন্য এমন ন্যাচারাল অ্যানিমেশনের ব্যবস্থা কে ভেবেছিল!

ততক্ষণে শ্রোতাদের মধ্যে বেশ শোরগোল – ভূমিকম্প! ভুমিকম্প! সবাই হুড়োহুড়ি করে কনফারেন্স রুম থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির দিকে ছুটছে। আমিও বেরিয়ে এলাম। ভূমিকম্প থেমে গেলেও ভূমিকম্পের সেই অঙ্ক অসম্পূর্ণই রয়ে গেল।

কিছুক্ষণের মধ্যেই শোরগোল থেমে গেলে যে যার টেবিলে ফিরে নিজের নিজের কাজে বসে পড়ল। খানিক বাদে আমার বস চায়ের কাপ হাতে আমার টেবিলে এসে দাঁড়াল। চায়ে চুমুক দিয়ে বলল – “শুনেছিলাম তানসেন দীপক রাগ গাইলে আগুন জ্বলত…মেঘ মল্লারে বৃষ্টি নামত। আর আপনি তো পুরো কাঁপিয়ে দিলেন! ভূমিকম্প নামিয়ে আর্থকোয়েক-এর মতো অনিশ্চিত ঘটনাকে প্রেডিকটিভ করে দিলেন। যুগান্তকারী ব্যাপার ঘটল আজ এই অফিসে।… আপনি ডেঞ্জারাস লোক ভাই! এবার থেকে দেখছি কোথাও আর্থকোয়েক-এর ওপর আপনার কোনো লেকচার থাকলে সেটাকে ভূমিকম্পের পূর্বাভাষ হিসেবে ধরতে হবে।…
ভূমিকম্পের সাধনা চালিয়ে যান। আপনার হবে।”

এরপর বেশ অনেকদিন ভূমিকম্প সম্বন্ধীয় কোনো লেকচার দেওয়ার সাহস করিনি।

********

ভূমিকম্পের অঙ্ক – ৩
একটা ইন্টারভিউ চলছিল। তখন করোনার শাসন চলছে পৃথিবীতে। সবাই বাড়িতে বসে। ভিডিও কলে অনলাইন ইন্টারভিউ নিতে হবে। আমার এক সহকর্মী আর আমি সেই ইন্টারভিউ নিচ্ছিলাম। ক্যান্ডিডেট একটি ছেলে। বেশ সপ্রতিভ। আই, আই, টি, রুরকী থেকে আর্থকোয়েক ইঞ্জিনীয়ারিং-এ এম, টেক। বয়স তিরিশের মধ্যে হবে। একমাথা কোঁচকানো ঝাঁকড়া চুল। চোখে সোনালি গোল ফ্রেমের চশমা। আনমনা টাইপ। বেশ ইন্টারেস্টিং হাব ভাব। ফ্ল্যাটের টেরেসে বসে ইন্টারভিউ দিচ্ছে। আশেপাশে রাখা টবে ফুলের গাছ।

আমার সহকর্মীই প্রাথমিক আলাপচারিতা চালাচ্ছিল। কথাবার্তা ইংরাজিতেই, ছেলেটা খুব কম কথা বলে। নিজের পরিচয়, কর্মকান্ডের বিবরণ মাত্র তিন-চারটে বাক্যেই শেষ করে দিল। তারপর সব প্রশ্নের উত্তরই প্রায় ওয়ান-লাইনার। কখনো কখনো বা কয়েকটা শব্দ। উত্তরগুলো বেশ কাটা কাটা, সঠিক, টু দ্য পয়েন্ট। ছেলেটা যেন নিজের সঙ্গেই কথা বলছে।
এমন ক্যান্ডিডেটের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন। আমার কো-ইন্টারভিউয়ার বেশ অসোয়াস্তিতে পড়েছে বুঝলাম। আমাকে প্রশ্ন করতে বলে সে একরকম ক্ষ্যান্ত দিল।
আমি বললাম – “তোমার এম, টেক, থিসিস সম্বন্ধে একটু বিশদে বলো।” ঠিক তিনটে বাক্যে যা বলল তাতে বুঝলাম সে ভূমিকম্পের কারণ নিয়ে থিসিস লিখেছে।
আমিও হাল ছাড়ব না। কথা বলিয়েই ছাড়ব। পাল্টা প্রশ্ন করলাম – “ভূমিকম্পের কারণ কী?”
সে যা উত্তর দিল সেটার বাংলায় তর্জমা করলে যেটা দাঁডায় সেটা হল – “যখন ভূপৃষ্ঠ কাঁপে।”
ভেবেছিলাম কন্টিনেন্টাল প্লেটের ফল্ট, সেই ফল্ট বরাবর প্লেটের ঠোকাঠুকি – এই লাইনে কিছু বলবে। কিন্তু ছেলাটার প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাত্র তিনটে শব্দের এই উত্তর আমাকে স্তম্ভিত করে দিল।
সেই মুহুর্তে কম্পিউটার স্ক্রীনে আমার নিজের হতচকিত মুখ দেখে সামলে নিলাম। তারপর এল প্রচন্ড হাসির উদ্রেক। কিন্তু হেসে ফেললে অভদ্রতা হয়। তাই ভিডিও আর মাইক বন্ধ করে হাহা করে খানিক হেসে নিলাম। তারপর জল খেয়ে একটু ধাতস্থ হয়ে, হাসি মুছে মিনিট দুয়েক পরে ভিডিও অন করলাম। একসময় এই সাক্ষাৎকার শেষ হল। আমার কো-ইন্টারভিউয়ারের মৃদু আপত্তি থাকলেও, দুজনেই একমত হয়েছিলাম যে এই ক্যান্ডিডেট সম্ভাবনাময়। তাই সফল প্রার্থীদের তালিকায় সে জায়গা করে নিয়েছিল।

“যখন ভূপৃষ্ঠ কাঁপে” – ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে এই আপ্তবাক্যের স্টাইলে বলা শব্দবন্ধ আপাতভাবে মূর্খতাপূর্ণ মনে হলেও, ছেলেটির প্রত্যয় আমাকে ভাবিয়ে তুলল। হতে পারে না ভূমিকম্পের আসল ফান্ডা সে জানে না। কেন সে এমন উত্তর দিল! সেটার গূঢ় সত্যতা বুঝতে আমার কয়েকদিন সময় লেগেছিল। বুঝেছিলাম শুধু প্লেট টেকটনিক মুভমেন্ট হলেই যে ভূমিকম্প হয় এমনটা সত্যি নয়। আরো অনেক অন্য কারণও আছে। ইতিহাসে ঘটে যাওয়া এরকম কয়েকটা ঘটনা এখানে লিখব।

২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন করেছিল রাশিয়া। সেদিন ছিল জার্মানি আর মেক্সিকোর মধ্য প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ। প্রথমার্ধে মেক্সিকো এক গোলে এগিয়ে যায়। ঠিক সেই মুহুর্তেই প্রায় দশ হাজার কিলোমিটার দূরে মেক্সিকো সিটিতে অনুভূত হয় মৃদু ভূকম্পন। ফুটবল ফ্যানেরা বাড়িতে, রেস্তরাঁয়, রাস্তায়, ক্লাবে টিভির সামনে একসাথে উচ্ছাসে লাফিয়ে উঠে মাটিতে পড়ে। মাটিতে এই সম্মিলিত পদাঘাতেই ঘটে যায় এক ভূমিকম্প। ধরা পড়ে সিসমোগ্রাফে এই কৃত্রিম ভূকম্পন। মাত্রা ছিল ২.০ রিখটার।

২০২৩ সালে প্রায় একই ব্যাপার ঘটেছিল রোম শহরে। রোমের বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থল কলোসিয়াম পার্ক। এখানেই আয়োজন হয় বিখ্যাত অ্যামেরিকান র‍্যাপ সিঙ্গার ট্র‍্যাভিস স্কটের কনসার্ট। র‍্যাপের তালে তালে প্রায় ষাট হাজার শ্রোতা-দর্শকদের ছন্দোবদ্ধ নাচানাচিতে মাটি সেদিন কেঁপে উঠেছিল। আশেপাশের লোকজন ভূমিকম্প ভেবে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসে। নয় কিলোমিটার দূরে রাখা সিসমোগ্রাহ যন্ত্রে ১.৩ রিখটার মানের ভূকম্পন ধরা পড়ে। প্রাচীন রোমের এই জায়গায় হত সেই সব চ্যারিয়ট রেস, যা আমরা ‘বেন হার’ মুভিতে দেখেছিলাম। এমন ঘটনা প্রশাসন, সিসমোলজিস্টদের টনক নড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বেশি খেপে যায় প্রত্নতত্ত্ববিদরা।

এবার যে ঘটনার কথা লিখব সেটা ঘটেছিল কলকাতা শহরে। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের মধ্যেই চলছিল হাওড়া ব্রীজ (বর্তমান নাম রবীন্দ্র সেতু) তৈরীর কাজ। একনাগাড়ে চব্বিশ ঘন্টা ধরে নিরলস কাজ চলছিল কলকাতার দিকে সেতুর ক্যাসন ফাউন্ডেশনের। একদিন রাতে কাজ চলার সময় হঠাৎ এক ঝটকায় ক্যাসন দুই ফুট নদীর নরম মাটিতে বসে যায়। সমস্ত কলকাতা জুড়ে অনুভূত হয় তীব্র ভূকম্পন। খিদিরপুরের সিসমোগ্রাফেও রেকর্ড হয়েছিল এই কম্পন। কাছাকাছি গঙ্গার তীরের একটি মন্দির বিধ্বস্ত হয়ে যায়। পরে অবশ্য হাওড়া ব্রীজ নির্মাণ কতৃপক্ষ ওই মন্দির আবার তৈরি করে দেয়।

এছাড়া আরো অনেক রয়েছে কৃত্রিম ভূমিকম্পনের ঘটনা। যেগুলো মনুষ্যসৃষ্ট। মহারাষ্ট্রের কোয়না ড্যাম ও তার আশপাশের এলাকায় ১৯৬৭ সালে হয় তীব্র ৬.৩ রিখটারের ভূমিকম্প। অনেক সিসমোলজিস্টের ধারণা কোয়না বাঁধের নির্মানের আগে ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষায় হয়ত কিছু ত্রুটি রয়ে গিয়েছিল। আবার অনেকের ধারণা বাঁধের জন্য সৃষ্ট জলাধার শিবসাগর লেকের জলের চাপে ভূগর্ভের নীচের পাথরে স্তরে ফাটল ধরছে, যেটা ভূমিকম্পের মূল উৎস।

প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম, যে কারণই হোক ভূমিকম্পের অঙ্ক বেশ কঠিন। গবেষণা চলতে থাকুক। আশা রাখি অদূর ভবিষ্যতে একদিন ভূমিকম্পের সঠিক পূর্বাভাষ দেওয়া সম্ভব হবে।

Sahityika Admin

3 comments

  • এই লেখাতে পুরোনো “বাণভট্ট” কে ২.০ অবতারে অনেক পরিশীলিত রূপে পাওয়া গেল!! 😊
    মনে পড়ে গেল কয়েক বছর আগে টেলর সুইফটের কোনো এক কনসার্টেও নাকি এরকম ভুকম্প হয়েছিল!!

  • অনেকদিন পর বাণভট্টকে খুঁজে পেলাম।
    খুব ভালো লাগলো। দারুণ লিখেছো