সাহিত্যিকা

আমার ঠাকুর দেখা

আমার ঠাকুর দেখা
© গৌতম মুখোপাধ্যায়, ১৯৮১ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং

দুর্গাপুজার সেই চার-পাঁচটি দিন ঠাকুর দেখা (এখনের প্রচলিত ভাষায় প্যান্ডাল হপিং) এবং দুর্গাপূজা যেন এক চিরকালীন সম্পর্কে আবদ্ধ। আমার ছোটবেলার সেই ঠাকুর দেখার গল্পই এখন বলব।

ষাটের দশকে আমার পুরো ছোটবেলাটাই কেটেছে মধ্য কলকাতার বউবাজার অঞ্চলে। আমার ইস্কুলবেলাও ওখানেই। সেই অলি-গলি, রাবারের বলে গলি ফুটবল, পাড়ার বড়দের বিরুদ্ধে ছোটদের টেনিস বলের ক্রিকেট ম্যাচ, রক কালচার, ধুলো-ধোঁয়া-ট্রাম-বাস, কর্পোরেশনের রাস্তা ধোওয়া, দু চাকার সাইকেলের পিছনে টিনের ট্রাঙ্কে কেক বা শোনপাপড়ি, এইসবের সাক্ষী হয়েই আমি শৈশব থেকে কৈশোরে উত্তীর্ন হয়েছি।

আর ছিল দুর্গাপূজো। রবীন্দ্রনাথের কবিতায়:
আশ্বিনের মাঝামাঝি উঠিল বাজনা বাজি,
পূজার সময় এল কাছে।
মধু বিধু দুই ভাই ছুটাছুটি করে তাই,
আনন্দে দু-হাত তুলি নাচে।

সত্যিই তাই, আনন্দে যেন দু’হাত তুলেই নাচতে ইচ্ছে করতো। একেই স্কুল একমাসের জন্য ছুটি। তার উপর দুর্গাপুজা মানেই নতুন জামা কাপড়, পাড়ার বহুদিনের দর্জির কাছে ছুটে গিয়ে মাপ দিয়ে আসা। আর কয়েক বছর পরপর বাটার নতুন জুতো। ঢাকের বাজনা কানে এলেই ঘরে আর মন বসে থাকতে চাইতো না।

ষাট বা সত্তরের দশকে দুর্গাপূজোর মুখ্য প্রচারে ছিল মধ্য ও উত্তর কলকাতার পূজাগুলি। দক্ষিণ কলকাতার পূজা তখনও ততটা জাতে উঠতে পারেনি। বারোয়ারি বা সর্বজনীন পূজাগুলির পাশাপাশি পুরনো বনেদি রাজবাড়ী, বা সাবেকি, অভিজাত, সম্ভ্রান্ত, ধনীগৃহের দুর্গাপূজোগুলি সব মিলেমিশে পুজার কটি দিনের জন্য সুন্দর আবহ এনে দিত। এখনের মতন এতো জাঁকজমকের কর্পোরেট পূজা ছিল না। খুঁটিপূজা ছিল না, মহালয়ারও আগেই প্রতিমা উদ্বোধনের চল ছিল না, বিসর্জনের কার্নিভাল ছিল না। আনন্দ ও চোখের তৃপ্তি ছিল অনন্য ও অন্যরকম। ছিল নামী মডার্ন বা সিটি ডেকরেটরের প্যান্ডেল, তার ছাদ থেকে ঝোলানো সুবিশাল ঝাড় লন্ঠনের প্রতিযোগিতা, মৃৎশিল্পী রমেশ পাল, রাখাল পাল, গোরাচাঁদ পাল ও অন্য বহু কুমারটুলির মৃৎশিল্পীদের তৈরি অপরূপ সুন্দর দুর্গাপ্রতিমা। কলেজ স্কোয়ারের জলে ভাসা টিউবলাইট, ভোরবেলায় চোঙ মাইকে (বক্স তখনও আসেনি) হেমন্ত-মান্না-শ্যামল-সন্ধ্যা-লতা-আশা-মানবেন্দ্র-ধনঞ্জয়-সতীনাথ-প্রতিমা-উৎপলা-বনশ্রী প্রমুখ দিকপাল শিল্পীদের পূজা সংখ্যার গান, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌতুক নক্সা, সুনীল গাঙ্গুলীর অর্কেস্ট্রা। আর পেতাম দেব সাহিত্য কুটিরের বেনুবীনা-শুকতারা-শিশুসাথীর পূজা সংখ্যা। (লুকিয়ে পড়তাম বড়দের নবকল্লোল)। সে আমলে কলকাতা ফুটবল লীগ ও আই এফ এ শীল্ড ফুটবল টুর্নামেন্ট গুলো সব পূজোর আগেই শেষ হয়ে যেত। সেসব খেলায় মোহন-ইস্টে র সাফল্য-ব্যর্থতাও পূজার আলোচনার তালিকায় ঢুকে যেত।

সকালে ঘুম ভাঙ্গে ঢাকের আওয়াজে। সন্ধায় ঢাকের তালে ধুনুচি নাচ। নবমীর সন্ধ্যায় মাতৃপ্রতিমার জলভরা চোখ। আর দশমীতে বরণ, সিঁদুরদান, চিন্ময়ী মায়ের বিদায়। বিসর্জনের মিছিলে হ্যারিসন রোডের রঙ্গীন জমকালো পোষাকের মেহবুব ব্যান্ড বা জানবাজারের তাসা, নিদেনপক্ষে ঢাক- ঢোল- সানাই। পাড়ার কিছু ফুটো মাস্তানের সিদ্ধি খেয়ে তাসার সাথে উন্মাদ নৃত্য। বিসর্জনের ঘাটে পাড়ায় পাড়ায় মারামারি লাগলে সর্বোচ্চ সোডার বোতল ছোঁড়াছুঁড়ি। তখন ভাসানের ঘাটে বোমা-পিস্তল জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি। পুলিশকে তখনও সবাই ভয় পেত। ছোটবেলা থেকে এসবই দেখেছি।
শুধু, পুষ্পাঞ্জলি কেন যে শুধু অষ্টমীতে হবে, সে আজও বুঝিনি।

পূজার কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হতো লিস্ট তৈরি। কবে? কোন এলাকায়? কোন ঠাকুর? নিজের পাড়া ইসলামিয়া হাসপাতালের উল্টো দিকের গলি গিরিবাবু লেনে ৪৭ পল্লীর দাদারা মাঝরাতেই কুমোরটুলি থেকে ঠাকুর এনে প্যান্ডেলে বসিয়ে দিতেন। ঠাকুরের মুখ একটুকরো কাপড় দিয়ে ঢাকা। সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় মুখের আচ্ছাদন খোলা ও অস্ত্রশস্ত্র লাগানো হতো। কিন্তু আমরা উঁকি দিয়ে পাড়ার ঠাকুর পঞ্চমীর ভোরেই দেখে নিতাম। আমার কাছে প্রধান আকর্ষন ছিল অসুর ও তার “বডির মার্সেল”। বাজী রেখে বলতে পারি রমেশ পালের মতো অসুর কেউ বানাতে পারতো না। তবে নতমস্তকে স্বীকার করছি ইদানিং কালের জ্যান্ত অসুরদের তুলনায় তারা নেহাতই শিশু ছিল।

তিনটি সর্বজনীন পূজার খ্যাতি ছিল সর্বাধিক – পার্ক সার্কাস – কলেজ স্কোয়ার আর ফায়ার ব্রিগেড। তিনটি পূজারই মুখ্য আকর্ষণ ছিল রমেশ পালের প্রতিমা। রমেশ পাল একডালিয়া এভারগ্রিন, খিদিরপুর যুবক সংঘের প্রতিমাও গড়তেন। ফায়ার ব্রিগেডের পূজা দেখতে পথে দর্শনার্থীর ঢল নামত। দমকল বাহিনী নিজেদের পূজা সামলে এবং ব্যস্ততার কারনে নিজেদের পরিষেবা দিতে যাতে অক্ষম না হয়, সেই কারণেই এই পূজা বন্ধ হয়ে যায়। মাত্র তিন-চার বছর পূজা উদযাপন করে সম্ভবতঃ ১৯৬৩ সালে শেষবারের মতো পূজা করে। আগুন কমলা রঙা শাড়ি পরা সেই প্রতিমা এখনও যেন চোখে ভাসে। সেই মূর্তির যেমন তেজ তেমনই অপূর্ব শৈল্পিক কারুকার্যে পরিপূর্ণ। মনে আছে জনতার দাবীতে (কলকাতার দেওয়ালে পোস্টার পড়েছিল) একবার দমকল বাহিনীর পূজায় দুর্গা প্রতিমার মুখ অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের মতো করে তৈরি করেছিলেন রমেশ পাল। সেই একবারই মাত্র এই ঠাকুর দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল। পরবর্তীকালে এই পূজারই কয়েকজন উদ্যোক্তা পাশেই মহম্মদ আলি পার্কের পূজা শুরু করেন। তাই মাত্র কয়েক বছরের জন্য হলেও ষাটের দশকের ফায়ার ব্রিগেডের সেই পূজা কলকাতার শারদোৎসবের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়েই ইতিহাসের পাতায় নিজের স্থান অর্জন করে নিয়েছিল।

একদম শৈশবে আমাকে ঠাকুর দেখানোর দায়িত্বে ছিলেন আমার বাবা ও পাড়াতুতো এক দিদিমা। আমার মা সাংসারিক কাজে ভয়ানক ব্যস্ত থাকতেন। পূজার দিনগুলিতেও তাঁর ছুটি মিলত না। মার কাছে পাড়ার ঠাকুরই ছিল একমাত্র ঠাকুর দেখা।

বাবা প্রতিবছর নিয়ম করে যে উল্লেখযোগ্য মন্ডপগুলিতে নিয়ে যেতেন, তার মধ্যে ছিল মধ্য ও উত্তর কলকাতার কলেজ স্কোয়ার, মহম্মদ আলি পার্কের পেছনে হিন্দু হোস্টেলের সামনে সানকিভাঙার “অকাল বোধন”, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার (বা লেবুতলা পার্ক), সিমলা ব্যায়াম সমিতি, বিবেকানন্দ স্পোর্টিং, বিডন স্ট্রিট, বাগবাজার। আর দক্ষিণে যেতাম গড়িয়াহাট এলাকার একডালিয়া এভারগ্রিন (যেটি সাধারণ লোকেরা সুব্রত মুখার্জি’র পূজা বলে), সিংহী পার্ক ও বালিগঞ্জ কালচারালের পূজা। কালিঘাট অঞ্চলের সঙ্ঘশ্রী, সঙ্ঘমিত্রা ও সমাজসেবী সঙ্ঘ। মুদিয়ালীর পূজাও খুব জাঁকজমকপূর্ণ হতো।

মোটামুটি ছোট বড় সব পূজাতেই মণ্ডপের বাইরে কিছু লোক পসরা নিয়ে বসতো। ফুচকা, ঘুঘনির পাশাপাশি বেলুন, প্লাস্টিকের খেলনা, ছোটখাটো আতসবাজি, ইত্যাদি। বড় পূজাগুলিতে গৃহস্থের জিনিষ যেমন বাসন বা গৃহশোভার বস্তু ইত্যাদি, কৃষ্ণনগরের পুতুল, বই, বড় খাবারের স্টল, ইত্যাদি। সবথেকে বড় মেলা হতো পার্কা সার্কাস ময়দানে।

বাবার সাথে শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজো দেখতে গিয়ে এর ইতিহাস জেনেছিলাম। এই পূজা শুরু হয়েছিল ১৭৫৭ সালে, পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের জয় উদযাপন উপলক্ষ্যে। এই পুজোর প্রবর্তক নবকৃষ্ণ দেব পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজদের পক্ষ নিয়েছিলেন। এই পুজোয় রবার্ট ক্লাইভ এবং বহু ব্রিটিশ কর্তাব্যক্তিরা অতিথি হয়ে আসতেন। পুজোতে কবির লড়াই, টপ্পা গান, বাইজি নাচের আয়োজন থাকত। ঊনবিংশ শতাব্দীর অবিভক্ত বাংলার রক্ষণশীল সমাজের মধ্যমণি রাধাকান্ত দেবের কীর্তি কাহিনীর কথাও বাবা বলেছিলেন। বাবার থেকেই প্রথম শুনেছিলাম এই রাধাকান্ত দেবেরই নেতৃত্বে রক্ষণশীলদের কাছে পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের হেনস্থার ঘটনা।

১৯২৬ সালে স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ির কাছে সিমলা অঞ্চলে, বিপ্লবী অতীন্দ্রনাথ বসুর নেতৃত্বে সিমলা ব্যায়াম সমিতির মাঠে সর্বসাধারণের জন্যে দুর্গা পুজো শুরু হয়। সেই সময় বিপ্লবীদের আখড়া হিসেবে ইংরেজ শাসকরা সিমলা ব্যায়াম সমিতির ওপর নজর রাখত। একটা সময় পর্যন্ত দুর্গাপুজো সাধারণতঃ উচ্চশ্রেনীর ধনবান মানুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। সিমলা ব্যায়াম সমিতির হাত ধরেই কলকাতায় সর্বজনীন দুর্গাপুজোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গতঃ ১৯৩২ সালে ব্রিটিশরা সিমলা ব্যায়াম সমিতি ক্লাবকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে পূজাও বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৩৪ সালে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ফের পুজো শুরু হয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু একবার সিমলা ব্যায়াম সমিতির পূজার সভাপতি হয়েছিলেন।

৮০’র দশকে সর্বজনীন পূজায় প্রতিযোগিতার শুরু হয়, প্রধানত প্রতিমা ও মণ্ডপ নিয়ে। ১৯৮৫ সাল থেকে এশিয়ান পেইন্টস কর্তৃপক্ষ কলকাতার দুর্গাপূজা কমিটিগুলিকে পুরস্কৃত করার প্রথা চালু করেন – এশিয়ান পেইন্টস শারদ সম্মান। এরপর আরও অনেক বাণিজ্যিক সংস্থা “শারদ সম্মান” বা দুর্গাপূজা পুরস্কার চালু করে। ৯০ এর দশক থেকে বাংলা টিভিতে পূজার চারদিনে, বলা যায় টিভি কম্পানিগুলিও প্যান্ডেল হপিং শুরু করে। শুধু কলকাতা-শিলিগুড়ি-আসানসোল নয়, সারা ভারতের তো বটেই, বিদেশের পুজাগুলিও এই চারদিন টিভি-তে ভালো কভারেজ পেতে শুরু করে। তারপর আসে থীম পূজা। প্রতি বছর শিল্পীরা নতুন নতুন ভাবনাচিন্তা দিয়ে প্রতিমা ও মন্ডপের ডিজাইন শুরু করেন। সাবেকি একচালা ডাকের সাজ ধীরে ধীরে কমে আসে।

বাংলার পূজায় বেলুর মঠের দুর্গাপূজার উল্লেখ করতেই হয়।
১৯০১ সালের আশ্বিন মাসে স্বামী বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে এই পূজার প্রবর্তন করেন। তখন থেকেই প্রতি বছর বেলুড় মঠে দুর্গাপূজা পালিত হয়, ব্যাতিক্রম ১৯০১ সালের প্রথম উদযাপনের পর কয়েকটি বছর প্রতিমাপূজা করা হয়নি। বরানগর রামকৃষ্ণ মঠে শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্যরা প্রতিমা ছাড়াই ছোট পরিসরে দুর্গাপূজা করতেন। স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দই বেলুড় মঠে প্রতিমাসহ প্রথম দুর্গাপূজা শুরু করেন। স্বামীজী শ্রীমা সারদাদেবীর অনুমোদন সাপেক্ষে পূজার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। স্বামী প্রেমানন্দ শ্রীমা সারদাদেবীর কাছে গেলে উনি সানন্দে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন। ষষ্ঠীর দিনে তিনি অন্যান্য মহিলা ভক্তদের সঙ্গে এসে নিকটবর্তী নীলাম্বর বাবুর বাগানবাড়িতে অবস্থান করলেন। শ্রীমা সারদা দেবী সেদিন জাগরণ অনুষ্ঠানে এবং পরবর্তী তিন দিনই পূজায় উপস্থিত ছিলেন। যেহেতু সন্ন্যাসীরা এই ধরনের আনুষ্ঠানিক পূজা করতে পারেন না, তাই স্বামীজির নির্দেশে পূজাটি শ্রীমার নামে করা হয়। এবং এটি একটি প্রথায় পরিণত হয় যা আজও বিদ্যমান। ১৮৯৪ সালে আমেরিকা থেকে স্বামী শিবানন্দকে লেখা চিঠিতে স্বামীজি শ্রীমাতার দেবত্ব সম্পর্কে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস নিম্নোক্তভাবে প্রকাশ করেছিলেন: “ভাই, আমি দেখাব কীভাবে জীবন্ত দুর্গার পূজা করতে হয়, এবং কেবল তখনই আমি আমার নামের সার্থকতা পাব। আমি তখনই স্বস্তি পাব যখন তুমি এক খণ্ড জমি কিনে সেখানে জীবন্ত দুর্গা, অর্থাৎ শ্রীমাতাকে (অর্থাৎ শ্রী সারদা দেবীকে) প্রতিষ্ঠা করবে।”

সাধারণত, হিন্দু সন্ন্যাসীরা এই ধরনের আনুষ্ঠানিক পূজা-অর্চনা করেন না। তাহলে স্বামীজী কেন এই নতুন প্রথা শুরু করলেন? একটি কারণ ছিল স্বামীজি ও তাঁর সন্ন্যাসী ভাইদের নতুন জীবনধারার জন্য স্থানীয় সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি অর্জন করা। কলকাতার হিন্দু সমাজ স্বামীজির পাশ্চাত্যে গমন এবং বেলুড় মঠের বেশ কিছু অপ্রচলিত জীবনধারা, যার মধ্যে ছিল জাতিভেদ প্রথার প্রতি অবজ্ঞা এবং পাশ্চাত্য মানুষদের সাথে মেলামেশা, পুরোপুরি মেনে নিতে পারেনি। বস্তুত, দুর্গাপূজা উদযাপন এই প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্কে অনেক ভুল বোঝাবুঝি ও সংশয় দূর করতে সাহায্য করেছিল।

আরেকটি কারণ ছিল এই যে, স্বামীজী মাতৃত্বের দিব্যতা এবং নারীত্বের পবিত্রতার প্রতি শ্রদ্ধাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চেয়েছিলেন। স্বামীজী দেখেছিলেন যে, পাশ্চাত্যের মানুষের অগ্রগতির অন্যতম প্রধান কারণ ছিল সেখানে নারীদের মর্যাদার উন্নতি, এবং ভারতের পশ্চাৎপদতার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এই দেশে নারীদের প্রতি অবহেলা। দেবী জননীর আরাধনা, বিশেষ করে কুমারী পূজা, নারীদের সম্ভাব্য দিব্যতা সম্পর্কে সচেতনতা এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ মনোভাব সৃষ্টি করবে।

তৃতীয় কারণটি ছিল অলৌকিক। ১৯০১ সালের দুর্গাপূজার কয়েকদিন আগে স্বামীজী বেলুড় মঠে দুর্গাপূজার একটি দিব্যদর্শন লাভ করেন। প্রায় সেই সময়েই স্বামী ব্রহ্মানন্দজী দিব্যদর্শনে মা দুর্গাকে দক্ষিণেশ্বর থেকে গঙ্গা পেরিয়ে বেলুড় মঠে আসতে দেখেন। পূজা শুরু হতে মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও স্বামীজী রাজা মহারাজকে অবিলম্বে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নিতে বলেন। কিন্তু মূল সমস্যা ছিল পূজার জন্য একটি মাটির মূর্তি। কামারটুলিতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় যে একটি দোকানে দুর্গার একটিমাত্র মূর্তি আছে। যিনি এটির অর্ডার দিয়েছিলেন, তিনি আসেননি, তাই কারিগর সেটি সন্ন্যাসীদের কাছে বিক্রি করতে রাজি হন।

বেলুড় মঠের প্রথম দুর্গাপূজাটি পুরাতন মন্দিরের উত্তরে খোলা মাঠে একটি বড় মন্ডপে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯০১ সালের ১৮ই অক্টোবর, ষষ্ঠী তিথিতে আবাহনের পূজারী ছিলেন ব্রহ্মচারী কৃষ্ণলাল এবং তন্ত্রধারক ছিলেন শশী মহারাজের পিতা ঈশ্বরচন্দ্র চক্রবর্তী। বেল গাছের নিচে বসে (যে গাছটি এখন তাঁর মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে) স্বামীজী দেবী মাকে স্বাগত জানিয়ে আগমনী গান গেয়েছিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণের গৃহস্থ শিষ্যদের এবং গোঁড়া ব্রাহ্মণদের বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বহু মানুষ তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন। নবমীর রাতে স্বামীজী দেবী মায়ের গান গেয়েছিলেন, যেগুলির মধ্যে কয়েকটি শ্রীরামকৃষ্ণদেবও গাইতেন।

শ্রীমা ১৯১২ ও ১৯১৬ সালে এবং সম্ভবত আরও কয়েক বছরে বেলুড় মঠের দুর্গাপূজায় যোগদান করেছিলেন।

********

অতীত বরাবরই মধুর। কিন্তু আমি কখনোই মনে করিনা যে সেসময়ে যা হতো তা সবই ভালো ছিল এবং এখনকার সবই খারাপ। এখনকার পূজার জাঁকজমক, টেকনোলজির ব্যবহার, সমাজচেতনতা আমাদের প্রগতিশীল মনোভাবকেই প্রকাশ করে। এখানে ধর্মীয় মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। ধর্ম যার যার, উৎসব কিন্তু সবার। এটা যদি আমরা বাস্তবে বিশ্বাস করি তাহলেই শারদোৎসবের সার্থকতা প্রকাশ পাবে।

** সম্পাদকীয় সংযোজন
তথ্যসূত্র: এই সময় পত্রিকা ও উইকিপিডিয়া।

বাংলার প্রথম দুর্গাপুজা
প্রাপ্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির দাবি অনুসারে, বাংলার প্রথম দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয় ১৬০৬ সাধারণাব্দে, নদিয়ার জমিদার ভবানন্দ মজুমদারের ভদ্রাসনে। এরপরেই কলকাতা বা কলকাতার আশেপাশের নথিভুক্ত প্রাচীনতম দুর্গাপূজাটি ১৬১০ সালে বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের আটচালা বাড়িতে শুরু হয়েছিল। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুদানরূপে আটটি পরগণার করমুক্ত জায়গীরপ্রাপ্তির পর, রায় লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় মজুমদার চৌধুরী (সাবর্ণ রায়চৌধুরী) এবং তাঁর স্ত্রী ভগবতী দেবী ১৬১০ সালে বড়িশা অঞ্চলে এই পূজা শুরু করেন, যেটি কলকাতার প্রাচীনতম পারিবারিক বা বনেদি বাড়ির দুর্গোৎসব হিসেবে স্বীকৃত।। এটি কলকাতা শহরের পত্তনেরও আগে, কারণ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা জব চার্নক ১৬৯০ সালের ২৪ আগস্ট সুতানুটি গ্রামে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেছিলেন। ভাগীরথী বা হুগলি নদীর তীরে সুতানুটি, কলকাতা ও গোবিন্দপুর – এই তিনটি গ্রাম নিয়ে কলকাতা শহরের ভিত্তি স্থাপন হয়।

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের দেবী দুর্গার সঙ্গে একই চালচিত্রে লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের পূজার যে প্রচলন হিন্দুসমাজে রয়েছে, তার সূত্রপাত ঘটেছিল এই পূজার মাধ্যমে। বিদ্যাপতির ‘দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী’-তে বর্ণিত রীতিনীতি অনুযায়ী এই পূজা সম্পন্ন হয়। কাঠের থাম আর হোগলাপাতার ছাউনি দিয়ে তৈরি প্রাথমিক মণ্ডপ থেকে আজকের আটচালা বাড়ি; অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে বদলেছে কাঠামো, কিন্তু রয়ে গিয়েছে বহু পুরনো আচার।

উপরে বর্নিত এই ছবিটি ২০২১ সালে আটচালা বাড়িতে অনুষ্ঠিত দুর্গাপুজার ছবি। সময়ের সাথে পরিবারের পরিধি বাড়ার কারণে বর্তমানে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের পক্ষ থেকে মোট ৮টি স্থানে এই দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৬টি হয় বড়িশাতেই (আটচালা বাড়ি, বড়ো বাড়ি, মেজো বাড়ি, বেনাকি বাড়ি, কালিকিংকর ভবন এবং মাঝের বাড়ি)। বাকি দুটি পূজা হয় বিরতি ও নিম্তায়।

আর কলকাতার দ্বিতীয় প্রাচীনতম দুর্গাপূজাটি হয় শোভাবাজার রাজবাড়ির পূজা। পলাশির যুদ্ধের পর কলকাতা ইংরেজদের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র হওয়ায় আশপাশের জেলাগুলিতেও তার প্রভাব পড়ে। ১৭৫৭ সালে রাজা নবকৃষ্ণ দেব শোভাবাজার রাজবাড়িতে পারিবারিক দুর্গাপূজা শুরু করেন। এরপরেই কলকাতার ধনী ও বাবু সম্প্রদায়ের জন্য এই পূজা মর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠে। পূজায় শাস্ত্রাচার গৌণ বিষয় হয়ে যায়। যে পূজায় যত বেশি সংখ্যক আমন্ত্রিত ইংরেজ অতিথি উপস্থিত হবেন, সেই পূজার মর্যাদা ততটাই বেশি। দেবীপ্রতিমার সম্মুখেই মুসলমান বাইজিদের নাচের আসর হতো। ইংরেজরা এসে নাচগান করতেন, তাদের জন্য উইলসন হোটেল থেকে গোরু ও শূকরের মাংস আনানো হত এবং মদ্যপানের আসরও বসত। রানি রাসমণি এই প্রথার বিরুদ্ধে গিয়ে শুদ্ধাচারে তাঁর জানবাজারের বাড়িতে দুর্গাপূজা শুরু করলেন। তিনি ইংরেজ অতিথিদের চিত্তবিনোদনের বদলে দেশীয় প্রজাদের বিনোদনের জন্য পূজা উপলক্ষে যাত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করলেন। ১৮৬১ সালে তার মৃত্যুর পর রানির জামাতাগণ নিজ নিজ বাসভবনে রানির প্রদর্শিত পথেই দুর্গাপূজার আয়োজন করতে থাকেন। এভাবেই কলকাতায় আরো অনেক বাড়িতে পারিবারিক দুর্গাপূজা শুরু হয়।

কিন্তু ‘চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়’। সব বাবুদের অবস্থাও সব সময়ে সমান থাকে না। হুগলি জেলার গুপ্তিপাড়া অঞ্চলের এমনই এক গৃহস্বামীর আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ায় তাঁর বাড়ির বিন্ধ্যবাসিনী পূজা বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হল। তখন আঞ্চলিক বারো জন যুবক নিজেরা চাঁদা তুলে পূজাটিকে রক্ষা করেন। বারো জন ‘ইয়ার’ বা বন্ধুর সংঘবদ্ধ প্রয়াসে তাই এটি চিহ্নিত হয় ‘বারোইয়ারি’ বা ‘বারোয়ারি’ পূজা বলে। সময়কাল আনুমানিক ১৭৯০ সাধারণাব্দ।

কলকাতায় প্রথম বারোয়ারি বা সর্বজনীন দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয় ১৯১০ সালে। প্রথম বারোয়ারি পূজার বিবরণস্থান: ভবানীপুর ও কালিমঘাট এলাকার সংলগ্ন বলরাম বসু ঘাট রোড (এবং অন্য মতে সুখিয়া স্ট্রিটের বৃন্দাবন মাতৃমন্দির)। উদ্যোক্তা: ভবানিপুরের ‘সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভা’। এর আগে কলকাতায় দুর্গাপূজা কেবল ধনী জমিদার বা বাবুদের বাড়িতেই সীমাবদ্ধ ছিল। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ এবং সম্মিলিত চাঁদার ভিত্তিতে কলকাতার মাটিতে সেই প্রথম বারোয়ারি পূজার সূচনা হয়। মূল বাংলায় বারোয়ারি পূজার প্রথম উৎপত্তি ১৭৬১ সালে হুগলির গুপ্তিপাড়ায় হলেও, কলকাতায় এর সূচনা বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯১০ সালে ঘটে।

একক উদ্যোগের পূজা রূপান্তরিত হল একাধিক জনের পূজাতে। ধনীর অঙ্গন ছেড়ে পূজা নেমে এল পথে। সেই শুরু, কিন্তু গুপ্তিপাড়ার আদর্শ অনুকরণে মফস্বল-গ্রামাঞ্চলে কিছু সম্মিলিত উদ্যোগের বারোয়ারি পূজার কথা শোনা গেলেও শহর কলকাতায় তার ঢেউ আসতে লেগে যায় আনুমানিক আরও ১২০ বছর।

দুর্গাপূজাকে পারিবারিক গণ্ডির বাইরে নিয়ে আসার রূপকার দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দারা। বিংশ শতকের শুরুতে আদিগঙ্গার তীরবর্তী বলরাম বসু ঘাট রোড অঞ্চলের কতিপয় যুবক ও ব্যবসায়ী একত্রে মিলে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘ভবানীপুর সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভা’ নামের এক ধর্মীয় সংগঠন। প্রথম সভাপতি প্রিয়নাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সম্পাদক সুরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। দুর্গাপূজা ততদিনে উৎসবে স্বীকৃত হলেও তা প্রধানত সীমাবদ্ধ ছিল বিত্তবান পরিবারগুলির মধ্যে। তাই ওই সভার সদস্যেরা একত্রিত হয়ে ১৯১০ সালে আরম্ভ করলেন সম্মিলিত উদ্যোগের দুর্গাপূজা। শহর কলকাতার প্রথম ‘বারোয়ারি পূজা’। বাড়ির পূজা নেমে এলো পথে।

‘বারোয়ারি পূজা’ কথাটির অর্থ হল বারো জন ইয়ারি বা বন্ধুর সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত পূজা-অনুষ্ঠান। ‘সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভা’-র সেই পূজা এখনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন আর প্যান্ডেল বেঁধে পূজা হয় না। বলরাম বসু ঘাটের উপরে জোড়া শিবমন্দিরের পাশেই তৈরি করে নেওয়া হয়েছে পাকা মণ্ডপ।

ভবানীপুরে বারোয়ারি প্রতিষ্ঠার পরের বছর ১৯১১ সালে আরও একটি বারোয়ারি পূজার প্রচলন হয় উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর অঞ্চলে রামধন মিত্র লেনে। অঞ্চলের প্রবীণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা যায়, সেখানকার কতিপয় ব্যক্তি শ্যামপুকুরে এই বারোয়ারি পূজার পত্তন করেন। ‘সাহিত্য’ পত্রিকার সম্পাদক তথা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দৌহিত্র সুরেশচন্দ্র সমাজপতি কিংবা আকাশবাণীর ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ গীতি-আলেখ্য-খ্যাত বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মতো বিশিষ্ট জনেদের নামও জড়িত আছে এই পূজার সঙ্গে। বর্তমানে ‘শ্যামপুকুর আদি সর্বজনীন দুর্গোৎসব’ নামে পরিচিত। প্রায় কাছাকাছি সময়ে রামধন মিত্র লেনের পরেই। উত্তর কলকাতার সিকদারবাগান অঞ্চলে আরও একটা প্রাচীন বারোয়ারি পূজা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯১৩ সাধারণাব্দে। পল্লিবাসী মেয়েদের অন্যত্র পূজা দেখতে যাওয়ার অসুবিধার জন্য টাউন স্কুলের বিপরীত গলিতে অনুষ্ঠিত এই পূজার সূচনা হয়। ১৯১৯ সালে নেবুবাগান অর্থাৎ বর্তমান বাগবাজার সর্বজনীন এবং ১৯২৬ সালে সিমলা ব্যায়াম সমিতির বারোয়ারি দুর্গাপূজা শুরু হয়।

উপরের ছবিটি বাগবাজার সর্বজনীন ২০১৮ সালের।

২০০৮ সালের তথ্য অনুসারে, কলকাতায় দুই হাজারের বেশি বারোয়ারি পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এখন ২০২৫ সালে শুধু কলকাতায় বারোয়ারি পূজার সংখ্যা প্রায় তিন হাজারেরও বেশি।

দুর্গাপুজা ও ইউনেস্কো হেরিটেজ
২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতার দুর্গোৎসব তথা শারদোৎসবের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে উদ্যোগী হয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন (নমিনেশন নম্বর ০০৭০৩) গিয়েছিল জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা – ইউনেস্কার দপ্তরে। সেই আবেদনের মূল্যায়ন করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা প্যারিসে, ১৩ই ডিসেম্বর শুরু হওয়া ষোড়শ অধিবেশনে। ১৫ই ডিসেম্বর ‘হেরিটেজ’ তকমা পায় কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রধান উৎসব।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য এই যে, বিশ্বমানের এই স্বীকৃতি আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আগেই। ২০১৮-১৯ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক শিল্প-ঐতিহাসিক তথা সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সের অধিকর্তা তপতী গুহ-ঠাকুরতাকে কলকাতার দুর্গাপূজাকে নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রকের ডসিয়ার প্রস্তুত করার দায়িত্ব দেয় এবং তিনি ভারত সরকারের পক্ষে সেটি তৈরি করেছিলেন।

*********

 

Sahityika Admin

Add comment