আমার কবিতা
© ইন্দ্রনাথ সিনহা, ১৯৮২ মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং
অবনী বাড়ি নেই।।
দুয়ার আঁটা, ঘুমায় নিকো পাড়া,
ঘরের ভিতর করছে নড়া চড়া।
জিয়ন কাঠির হরেক সুলুক সন্ধি,
হাট বাজারের ব্যপক মন্দামন্দি,
বারান্দাতে শুকোয় জামা শাড়ি,
এখন দুপুর, অবনী নেই বাড়ি।।
দুয়ার আঁটা, জেগেই আছে পাড়া,
ভিতর ঘরে শব জমেছে, নিঃশব্দ প্রহরা।
আধমরাদের মিছিল হবে সাঁঝে,
পাড়া পড়শী মেতেছে সেই কাজে,
নিকম্মাটা মাপছে নিজের নাড়ি,
ভরা দুপুর, অবনী নেই বাড়ি।।
দুয়ার এঁটেই কর্মব্যস্ত পাড়া,
‘ড্রইং রূম’-এ হুলুস্থুল সাড়া।
‘পেজ-থ্রী’তে বানর হিনুমান,
স্বপ্ন দেখায় অলীক জলযান।
ওর নামেতে শমন আছে জারি,
তাই, – এই দুপুরে অবনী নেই বাড়ি।।
ইন্দ্রনাথ
১লা বৈশাখ ১৪১৫, ধানবাদ
********

ওঠরে মেয়ে কাঁদলি তো তুই ঢের
এবার সবাই আগুনটা পাক টের।
ডাক দিয়েছে কামদুনি, পার্ক-স্ট্রীট
শয়তানদের করতে হবে ঢীট।
জয়নগরের ফুটুক মুখে বুলি।
কাটোয়াকেও চল না ডেকে তুলি।
জ্বলুক আগুন, আগুন জ্বালা তুই
উত্তাপে আজ জাগুক সকল ভুঁই।
মেঠো পথ যত, যতেক জমির আল
পুবের আকাশ রাঙিয়ে দিল লাল।
পূরবী নয় রাগ বাজে ভৈরবী
পর রণসাজ বাজা রে দুন্দুভি।
কন্যা আমার, অপরাজিতা তুই
চল সকলে আকাশটাকে ছুঁই।
ইন্দ্রনাথ/ ৮ই জুলাই ২০২৬
********

গৃহিণী কহেন ‘মাথাটা গিয়াছে,
কান তো গিয়াছে আগে।
চক্ষেরও বুঝি মাথা খাইয়াছে’,
কহিছেন তিনি রাগে।
নিয়তই ভ্রম করিতেছি ফলে
কথা শুনি বিষদিগ্ধ।
মানি বিকেলের ছায়া বেড়ে চলে
গোধুলি কিন্তু স্নিগ্ধ।
নিকট স্মৃতিরা বড় এলোমেলো
দূরের ছবিরা স্পষ্ট।
তাহাতে আমার কি বা এসে গেলো?
কেন পাই তাহে কষ্ট?
নিকটের স্মৃতি এসে চলে যাক
ভেসে যাক তারা প্লাবনে।
সুদুরের স্মৃতি মন ভরে থাক
জুড়ে থাক সারা জীবনে।
********






Add comment