উপরের প্রতিমাটি ভাসী (নভিমুম্বাই) দুর্গাপ্রতিমা ২০২৫
প্রবাসে বাঙ্গালীর শারদীয়া দুর্গোৎসব
© প্রদীপ ভৌমিক, ১৯৭৪ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
ভূমিকা:
সেই কত দশক আগের কথা। মহালয়ার ঊষাকালে বাবা ঘুম থেকে উঠিয়ে দিয়ে বলতেন, ওঠ ওঠ মহালয়া শুরু হয়ে গেছে , মা আসছেন। মনে হতো বাবা যেন ভাবাবেগে তাড়িত হয়েই কথাগুলো বলছেন। আমাদের বাড়িতে রেডিও ছিল না। পাশের বাড়ির রেডিও থেকে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত কন্ঠে চণ্ডীপাঠ শোনা যেতো। বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পরতাম। অন্ধকার আস্তে আস্তে ফর্সা হয়ে আসছে। আকাশের পূব দিকে লাল আভা। শিউলি গাছের নীচে ফুল ঝরে যেন একটি সাদা কার্পেটের মতো লাগছে। মেয়েরা ফ্রক বা শাড়ির কোঁচড়ে শিশির সিক্ত শিউলি ফুলগুলি কুড়িয়ে জড়ো করতে ব্যস্ত। চারিদিকে এক পবিত্র পরিবেশ। আকাশে বাতাসে উৎসবের ডাক। পাড়ার কয়েকজন পুরুষ মানুষ নিজেদের মধ্যে খুশির আমেজে পূজার কথাবার্তা বলছেন। আজ মা-বাবার শাসন একটু শিথিল। আমরা বন্ধুরা মিলে পাড়া ঘুরে বেরাচ্ছি, দল বেঁধে প্রতিমা শিল্পীদের পাড়ায় যাচ্ছি, যেদিন মা দুর্গার মূর্তির চোখ আঁকা হতো। কোন পাড়ার প্রতিমা সবথেকে সুন্দর বা বড় হয়েছে সেই নিয়ে তর্ক! আমাদের শিশুমনে সে কি উদ্দীপনা, আর পূজা নিয়ে কত কল্পনা! তখন দুর্গাপুজার কতটুকুই বা জানতাম? মহালয়ার সেই স্মৃতি প্রায় ষাট দশকেরও অধিক সময়ের আগের কথা। আমার সত্তোরোর্ধ বৃদ্ধ বয়সেও আজও সেই স্মৃতি হৃদয়ে অমলিন।
বাংলার বাইরে দেখা প্রবাসের দুর্গাপূজা –
আমার স্কুল কলেজের পড়া শেষ করে চাকরী পেলাম মুম্বাই, BARC-এ। ভয়াভহ আবাসন সমস্যার জন্য আমাদের থাকবার জায়গা হলো নভিমুম্বাই। সেই প্রথম প্রবাসী হয়ে নভিমুম্বাইয়ের বেলাপুর অঞ্চলে বসতি স্থাপন করতে এলাম। চারিদিকে পাহাড়ের মাঝখানে সবুজ এক সমতল ভূমি। বর্ষাকালে চারিদিকের পাহাড় যেন সবুজ গালিচা দিয়ে ঢাকা পড়ে যায়। পুনা যাবার মসৃন রাস্তার ধারে বড় আমের বাগান, সমুদ্রের খাড়ি আর অপূর্ব সুন্দর একটি নার্সারি নিয়ে এই অঞ্চল। নার্সারীতে নানা প্রকার গাছ ও পাখির সমাবেশে প্রকৃতির কাছাকাছি এক ইন্দ্রভূমি। এখানে এসে ও জীবনের প্রথম ফ্ল্যাটের মালিক হয়ে আমরা যেন আনন্দে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছি। এই স্বর্গভূমিতেই অনেক নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হলো, বাঙ্গালীদের সঙ্গে তো বটেই। বাঙ্গালী সমবয়সীদের মধ্যে অনেকেই BARC তে চাকরী করে। গর্বের সঙ্গে বলা যেতে পারে অনেকের সঙ্গে আমরাও নভিমুম্বাইয়ের প্রথম প্রজন্ম। শুরু হলো আলাপ আলোচনা, এবাড়ি ওবাড়ি গিয়ে সম্পর্কটা আরো ঘনিষ্ট করা। নানান স্বপ্ন, নানান পরিকল্পনা। প্রথমেই হলো একটা লাইব্রেরী। যারা কলকাতায় ছুটি কাটাতে যেতেন, ফেরার সময় সঙ্গে থাকতো খ্যাতনামা লেখকদের বাংলা বই।
বেলাপুরের জীবনে রঙের সমাবেশ ঘটেছিল নানান উৎসবের মাধ্যমে। হোলির দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হোলি খেলা ও রাত্রিবেলা কারো বাড়ির ছাদে সকলে মিলে মাংস-ভাত খাওয়া, রবিঠাকুরের জন্মদিন পালন, সরস্বতী পূজা শুরু করা, সিডকো নার্সারীতে মোটামুটিভাবে প্রতিবছর ২৫শে ডিসেম্বর বাৎসরিক পিকনিক। সেই সময়ে আমাদের কারোরই গাড়ি ছিল না। মাছ-মাংস-তরকারী বাজার করে একটা ঠেলাগাড়িকে ঠেলতে ঠেলতে সিডকো নার্সারীতে নিয়ে যাওয়া হতো। বাকী সবাই হেঁটে আসতাম। সবাই মিলে রান্না ও পরিবেশনার কাজ করতাম, অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে। সারাদিন সেখানে পিকনিক করে বিকেলে গোধূলিলগ্নে আবার দল বেঁধে হেঁটে বাড়ি ফিরতাম। সেই দিনগুলি ছিল যেন বাঁধন হারা উৎসব। জীবন ছিল সহজ সরল। চাওয়া-পাওয়া ছিল সামর্থের মধ্যে। আস্তে আস্তে বেলাপুরে বাঙ্গালীদের সংখ্যা বাড়তে লাপলো। আর শারদীয়া দুর্পাপূজার পরিকল্পনা শুরু হলো।
সে কি উদ্দীপনা! প্যান্ডেল তৈরি করে দুর্গা প্রতিমা নিয়ে আসা হলো। সাধারন সজ্জার প্যান্ডেলে আটপৌরে মা দুর্গার প্রতিমা। ধর্মীয় নিয়ম-কানুন ও অধিবাসীদের উৎসাহ উদ্দীপনায় শারদীয়া উৎসব এক অন্য মাত্রা পেলো। কলকাতা থেকে পুরোহিত এলেন। পুরুষেরা ভোর রাত্রে অন্ধকার থাকতেই বাসে করে দাদার বাজারে যেতেন পূজার ফুল ও অন্যান্য পূজার সামগ্রী কিনবার জন্য। তারপর মহিলারা সারাদিন উপবাস করে পূজার আয়োজন করতেন। দুপুরের খিচুড়ি ভোগ রান্নার ব্যবস্থাপনায় সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। পূজার তিন দিন ধরে চলতো প্যান্ডেলে দুপুরে খিচুড়ি ভোগ খাওয়া, সঙ্গে তরকারি বা লাবড়া, চাটনি, পাপর ও একটা মিষ্টি বা পায়েস। আর রাত্রিবেলায় বিভিন্ন স্টল থেকে খাবার কিনে রাতের খাওয়া। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকতেন মহিলারা। তাঁরাই চাঁদা ও সাংস্কৃতিক কমিটির ভার নিতেন। সন্ধ্যায় বাচ্চাদের নাটক, আর মহিলাদের গানের অনুষ্ঠান ছিল পাড়ার বিশেষ আকর্ষন। কম বাজেটের পুজোয় বাচ্চাদের নাটকের ড্রেস কয়েকজন মহিলারাই রাত জেগে তৈরি করতেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সবথেকে বেশি আকর্ষণীয় ছিল – উত্তম ও সুচিত্রার সাদা কালো পুরনো সিনেমা। ৮০-র দশকে কলকাতা থেকে এজেন্টরা সিনেমার লিস্ট নিয়ে বিভিন্ন পূজা কমিটিতে ঘুরে বেরাতেন বায়না করবার জন্য। আর পূজা কমিটি ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত চারদিনের সিনেমার লিস্ট তৈরি করতো। মনে আছে, একবার বিমল মিত্রের উপন্যাসের কাহিনী অবলম্বনে তখনকার জনপ্রিয় সিনেমা নিয়ে আসা হয়েছিল “কড়ি দিয়ে কিনলাম”।
একই সময়ে আমাদের দুর্গাপূজার প্যান্ডেলের কাছেই অবাঙ্গালীদের নবরাত্রি উৎসব পালন হতো। বাঘের পিঠে নবদুর্গার প্রতিমায় চারটি হাত। মহালয়ার দিন থেকে বিসর্জনের দিন পর্যন্ত অবাঙ্গালীদের নয় দিনের উৎসব, দেবীর নয়টি রূপ নিয়ে নয়দিন পূজা। সন্ধ্যেবেলা হতো গার্বা বা ডান্ডিয়া নাচ, যেখানে আমাদের ছেলেমেয়েরাও নানান রঙের পোষাক পড়ে হাতে ডান্ডা নিয়ে গানের সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে নাচে অংশ নিত। প্রসঙ্গত কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গে শারদীয়া দুর্গাপূজা ও গুজরাতে নবরাত্রির সময় গার্বা নাচ এখন UNESCO Intangible Cultural Heritage তালিকায় স্থান পেয়েছে।
ডান্ডিয়া ও গার্বা নাচের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। গার্বা গুজরাতের প্রচলিত নাচ যেখানে ভক্তিমূলক গানের সঙ্গে পুরুষ ও মহিলারা নবদুর্গাকে মাঝখানে রেখে একসঙ্গে চক্রাকারে ঘুরে ঘুরে হাতে তালি দিয়ে ও পায়ের ছন্দে ছন্দে নাচ করে। আর ডান্ডিয়াতে সঙ্গী বা সঙ্গিনীরা হাতে ডান্ডা নিয়ে আধুনিক বা সিনেমার গানের সঙ্গে তালে তালে একসঙ্গে নাচে। মুম্বাই তথা মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের বহু অঞ্চলে এই ডান্ডিয়া নাচের আধিক্য দেখা যায়।
বাঙ্গালীদের দুর্গাপূজায় ফিরে আসি। প্রবাসের পূজায় দুপুরে তিনদিন খিচুড়ি ভোগ খাওয়া দুর্গাপূজার একটা প্রথা। ঠাকুর দেখতে আসা দর্শনার্থীদের জন্যও দুপুরে খিচুড়ি ভোগের ব্যবস্থা করা হয়। এর জন্য বাজার করা, তরকারি কাটা ও রান্না করার বড় খাটনি ছিল। তরকারির পরিমান তো কম ছিল না! প্রায় ৫/৬ শো মানুষের খিচুড়ি ভোগ রান্না হতো। ঠেলাওয়ালারা তরকারি প্যান্ডেলে পৌছে দিত। আগেরদিন রাত্রিবেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর স্টেজে বসে সকলে মিলে তরকারি কাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। আমাদের বন্ধুরা মাঝে মাঝে চা পরিবেশন করতো। বাড়িতে চা তৈরি করে ফ্লাস্কে চা নিয়ে আসতো। শুরুর দিকে আমাদের পূজায় ভোগ রান্না ছিল বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। ভোরে উঠেই পূজার প্যান্ডেলে জলের ট্যাঙ্কের ব্যবস্থা করা। বিশাল বড় বড় বাসনপত্রের ব্যবস্থা করা, যেগুলি পাশের শিখ গুরুদুয়ারা থেকে আনা হতো। গুরুদুয়ারার সদস্যরা আমাদের খুব সাহায্য করতেন। প্রথম প্রথম নিজেরাই, পরবর্তিকালে পাচক বা রন্ধন শিল্পীদের ভাড়া করে নিয়ে আসা হতো খিচুড়ি ভোগ রান্না করার জন্য।
মুম্বাইয়ের হিন্দী সিনেমার বিখ্যাত প্রযোজক ও স্টুডিয়োর কর্নধার শশধর মুখার্জীর পরবর্তী প্রজন্মরা পারিবারিক দুর্গাপূজার ঐতিহ্য এখনও বহন করছেন। হোটেল সেন্টুর জুহু (এখন টিউলিপ স্টার নামে পরিচিত); এই পাঁচতারা হোটেলটি পুজোর দিনগুলিতে ভাড়া নেওয়া হয়। অভিনেত্রী রানী মুখার্জী ও কাজল দর্শনার্থীদের ভোগ বিতরন করেন। তাপনিয়ন্ত্রিত মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবীরা সুষ্ঠুভাবেই ভোগ বিতরন করেন। দর্শনার্থীদের জন্য বসে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। আর বরিষ্ঠ নাগরিকদের লাইনে দাঁড়াতে হয়না।

গায়ক অভিজিতের পুজো হয় লোখান্ডওয়ালায় এখানেও ৪ দিন খাওয়া দাওয়া হয়, বিকেলবেলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়; যেখানে বলিউড এর গায়ক গায়িকারা পালা করে আসেন, যেমন শ্রেয়া ঘোষাল, বাবুল সুপ্রিয়, হারিহারণ, আরও অনেকেই। এই পূজার বৈশিষ্ট্য হল ৪০ থেকে ৫০ জন ঢাকিবাদক আসেন সুদূর মেদিনীপুর থেকে।
বলা যেতে পারে প্রথম দিকে মুম্বাইয়ে বাঙ্গালীর আগমন ঘটেছিল তিনটি কারনে – সিনেমা, সোনার কারিগর ও টেক্সটাইল বা অন্য শিল্পের মাধ্যমে। মুম্বাইয়ের কয়েকটা পুরনো পূজার কথা জানা যায়। যেমন বেঙ্গলী ক্লাব দুর্গাপূজা (১৯২২), যা এখন শিবাজী পার্কে হয়। আরেকটি প্রাচীন ও বিখ্যাত দুর্গাপূজার তালিকায় আছে বোম্বে দুর্গা বাড়ি সমিতির ঐতিহ্যবাহী পুজো। ১৯৩০ সালে জাভেরি বাজারের বাঙালি স্বর্ণশিল্পীদের উদ্যোগে শুরু হয়ে এটি এখনও ঐতিহ্য ও নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয়,। এই পূজাকে স্বর্নকার শিল্পী সমিতির দুর্গোৎসবও বলা হয়। রামকৃষ্ণ মিশনের (খার) পুজো শুরু হয় ১৯৩২ সালে। এটি অত্যন্ত শান্ত, ভক্তিময় এবং প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক। আর জুহুতে হয় বিশ্বজিতের পুজো, এই পুজোর দুই কাণ্ডারী বিশ্বজিৎ-জায়া ইরা চট্টোপাধ্যায় ও কন্যা সম্ভবী চট্টোপাধ্যায়। ২০০৪ সালে তিনিই এই পুজো শুরু করেন। বিশ্বজিত বলেন, “আমার পুজোর হাতেখড়ি রানি মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজো দিয়ে। অনেকগুলো বছর শশধর মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজোর আমি ছিলাম সহ-সভাপতি। একবার আমার মেয়ে সম্ভবী খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তখন আমার স্ত্রী ইরা চট্টোপাধ্যায়, মা দুর্গার কাছে মানত করেছিলেন, মেয়েকে সুস্থ করে দিলে পুজো করবেন। সেই আমার নিজের পুজো শুরু”। বিশ্বজিতের দৌলতে এই পুজোয় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিত্রজগতের অনেক বিশিষ্ট শিল্পী-তারকারাও উপস্থিত থাকেন। একবার সপ্তমীতে দুর্গা থিমের উপর নৃত্য পরিবেশন করে পদ্মবিভূষণ বিরজু মহারাজের নাচের দল। অষ্টমীতে মহম্মদ রফি সাহেবের জন্মশতবর্ষে সম্মান জানানো হয় তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে। এদিন বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজোতে পরিবেশিত হয় শুধুই রফি সাহেবের গান। আর লোকে বলে জুহুতে বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পুজোয় ভোগ না খেয়ে কেউ ফিরে যায় না।
এখন মুম্বাই মহানগরীতে প্রায় একশোরও বেশি পূজা হয়। মুম্বাইয়ে লোকাল ট্রেনের তিনটি বিভাগ – Central, Western ও Harbour – এর প্রায় প্রতিটি স্টেশনেই দুর্গাপূজা হয়। একটা পরিসংখান দিলাম – ১৯৮০ সালে নভিমুম্বাইয়ে একটাই দুর্গাপূজা শুরু হয়েছিল। আর এখন ২০২৫ সালে নভিমুম্বাইয়ে দু্র্গাপূজা হয় ২০ টিরও বেশি।
আমরা ১৯৭৬ সালে চাকরী করতে BARC তে যোগদান করি। প্রথম বছর অনুশক্তি নগর ট্রেনিং স্কুল হস্টেলে থাকতে হয়েছিল। মুম্বাইয়ে প্রথমবারের পূজা অনুশক্তিনগরে কাটিয়ে ছিলাম। পূজার উদ্বোধন করতে এসেছিলেন BARC র গ্রুপ ডাইরেকটার ডঃ গাঙ্গুলী। এসেই বললেন – বাঙ্গালীরা নিজেদের সংস্কৃতি ভুল যাচ্ছে। আমার সঙ্গে সবাইকে এই গানটা গাইতে হবে, বলে তিনি শুরু করলেন – “হও ধরমেতে ধীর হও উন্নত শির……..”। আমরা সবাই উঠে দাঁড়িয়ে উনার গানের গলার সঙ্গে সুর বা বেসুর মেলালাম।
নভি মুম্বাইয়ে দুর্গাপূজা শুরু হবার আগে পূজোর দিনগুলিতে আমি অফিস থেকে ফেরার পর বউকে নিয়ে সন্ধ্যেবেলায় শিবাজী পার্কে চলে যেতাম। আর রাতের খাবার ছিল প্যান্ডেলের স্টল থেকে কিনে খাওয়া। প্রধান আকর্ষন ছিল রাত জেগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখা। বড় বড় শিল্পীরা আসতেন – হেমন্ত মুখার্জী, আরতী মুখার্জী, মান্না দে, রবীন্দ্র জৈন, হেমলতা। রবীন্দ্র জৈন তখন বাসু চ্যাটার্জীর ‘চিত চোর’ সিনামার সঙ্গীত পরিচালনা করে বিখ্যাত হয়েছেন। আগে এসে সামনের সিট দখল করে আমরা সারা রাত গান শুনতাম। ভোর রাতে গানের অনুষ্ঠান শেষ হলে আমরা চা খেয়ে ভোরের প্রথম বাসে বাড়ি ফিরতাম।
নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে পূজার জাঁকজমক বাড়তে শুরু করে। বিশ্বায়নের পর বানিজ্যিক সংস্থাগুলির বিজ্ঞাপনের বিনিময়ে বড় বড় বাজেটের পূজাগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া শুরু হলো। শুরু হলো টেলিভিসনের সারেগামাপা শিল্পীদের বা কলকাতার নামী অনামী শিল্পীদের গানের অনুষ্ঠান। বড় বড় পূজাগুলাতে বড় শিল্পীদের নিয়ে গানের অনুষ্ঠান হতে লাগলো – কুমার শানু, সোনু নিগম, শান, শ্রেয়া ঘোষাল, অলকা ইয়াগনিক ……। পূজার জনপ্রিয়তা বাড়াতে ভাসী (নভিমুম্বই) মন্ডপে শাহরুখ খানকেও আমন্ত্রন করে নিয়ে আসতে দেখেছি। দর্শনার্থী ও গাড়ির ভিড়ে পরিবেশ আর সহজ থাকলো না।
এবার প্রবাসের অন্যত্র দুর্গাপূজার কিছু আলোচনা করি-
বিভিন্ন সুত্রে জানা যায় যে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই চল্লিশ হাজারেরও বেশি দুর্গাপূজা হয়। আর আমাদের প্রতিবেশী বাঙ্গালি অধ্যুষিত আসাম-ত্রিপুরা রাজ্যে প্রায় আড়াই-তিন হাজার সর্বজনীন দুর্গাপূজা হয়। দিল্লী ও NCR অঞ্চলে পাঁচশোরও বেশি দুর্গাপূজা হয়। ১৯১১ সালে বৃটিশ সরকার যখন ভারতবর্ষের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লীতে স্থানান্তরিত করে, তখন অনেক বাঙ্গালী চাকরী সূত্রে বাংলা থেকে দিল্লীতে বদলি হন। কিন্তু তার আগেই ১৯১০ সালে দিল্লীতে কাশ্মীরী গেটে কালীবাড়ি স্থাপন ও বারোয়ারি পূজার শুরু হয়। কাশ্মীরী গেট দুর্গাপূজাই (দিল্লি দুর্গাপূজা সমিতি) দিল্লির প্রাচীনতম সর্বজনীন দুর্গাপূজা। আর অন্য কিছু প্রাচীন পূজা:
টিমারপুর ও সিভিল লাইন্স পূজা সমিতি (১৯১৩): রাজধানীর দ্বিতীয় প্রাচীনতম পূজা,
দিল্লি কালী বাড়ি, মন্দির মার্গ (১৯৩১): তৃতীয় প্রাচীনতম;
এবং মিন্টো রোড পূজা সমিতি (১৯৪১): চতুর্থ প্রাচীনতম।
দিল্লীর কাশ্মীরি গেটের সর্বজনীন পূজা ২০০৯ সালে একশো বছর পূর্ন করে। এই পূজার কৌলিন্যই অন্যরকম।
আমরা ২০১৫ সালে দুর্গাপূজার সময় সিঙ্গাপুরে ছিলাম। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতীয় অভিবাসিদের পূজায় আমার বন্ধু ও তাঁর স্ত্রীর সাথে আমরাও (আমি ও আমার স্ত্রী) পূজা দেখতে গেলাম। বেশ জাঁকজমক করেই পূজার ব্যবস্থা দেখলাম। অনেক টাকার বাজেট নিয়ে এই দুর্গাপূজা হয়। প্রতিমা ও বিশাল প্যান্ডেলের সাজসজ্জাও প্রচুর। দুপুরে ভোগ খাওয়া, সন্ধ্যাবেলায় মহিলাদের ফ্যাশন শো ও কলকাতা থেকে আনা শিল্পীদের গানের অনুষ্ঠান। একদিন অন্য আরেকটি পূজা দেখতে গেলাম। সাধারন প্যান্ডেল সাজসজ্জা কম, ডাকের সাজের একচালা প্রতিমা। ভারি সুন্দর প্রতিমার মুখ। প্রতিমা বেশি বড় না হওয়ায় ভাল করে মায়ের মুখ দেখা যায়। প্যান্ডেলে রুনা লাইলার ছবি দেওয়া পোস্টার ও অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ লেখা। বন্ধু জানালো, এটা বাংলাদেশীদের পূজা। ফেরার সময় দেখলাম বেশ কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ আমাদের সঙ্গে আলাপ করতে এলেন। পরিচয় পর্ব শেষ হবার পর তারা আমাদের অনুরোধ করতে লাগলেন ওখানে খেয়ে যেতে। এই অনুরোধ মনগড়া নয়, হৃদয় থেকে উঠে আসা। ইচ্ছে হলো এখানেই খেয়ে যাই। পরক্ষণে মনে হলো বন্ধুর কিছু পরিকল্পনা আছে। আমাদের নিয়ে সেখানে যাবে। আমি আমাদের অপারগের কথা জানালাম। আশ্বস্ত করলাম যে অন্য আরেকদিন আসবো। বিভিন্ন পরিকল্পনার কারনে আমাদের সেখানে আর যাওয়া হয়নি। তবে উনাদের আন্তরিক আমন্ত্রনের কথা ভুলিনি। পরবর্তিকালে বাংলাদেশ ভ্রমনের সময় এই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখে বার বার পড়তে হয়েছে। বাংলাদেশিদের আন্তরিকতা ও আতিথিয়তার তুলনা নেই।
এবার বাংলার প্রতিবেশী ত্রিপুরায় দুর্গাপূজা নিয়ে কিছু বলি।
ত্রিপুরায় আড়াই হাজারেরও বেশি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়, যার প্রায় এক হাজার পূজাই হয় শুধুমাত্র আগরতলায় ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে।
ত্রিপুরার প্রাচীনতম পূজা ৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো যার সূচনা করেছিলেন তৎকালীন মানিক্য রাজপরিবার, তখন রাজধানী ছিল উদয়পুরে। ত্রিপুরার মাণিক্য রাজবংশের প্রতিষ্ঠাকাল বা পঞ্চদশ শতাব্দী থেকেই সম্ভবত দুর্গাপুজোর শুরু। এই রাজবংশে দেবী দুর্গার আরাধনার প্রথম প্রামাণ্য নিদর্শন মেলে মহারাজা রত্ন মাণিক্য (রাজত্বকাল ১৪৬৪-৬৭ খ্রিস্টাব্দ)-র মুদ্রায়। তবে সেই পুজো শারদীয়া ছিল না, ছিল বাসন্তী। অর্থাৎ, পুজো হত বসন্তকালে, রাজবংশের দুর্গা মন্দিরে। বর্তমানে রাজ্যসরকার এই পাঁচ শতাব্দীরও বেশি পুরনো পূজার পৃষ্ঠপোষক, ২০২৫ সালে ৭.৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল। তবে এই পূজাটি আজও রাজপরিবারের তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হয়।

মহারাজা রাধাকিশোর মাণিক্য কর্তৃক নির্মিত (১৮৯৯–১৯০১ সালে) উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের কাছে দুর্গাবাড়ি মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আর ১২৫ বছরের পুরনো এই মন্দিরে ‘মহাষষ্ঠী’ বা ‘বোধন’, অর্থাৎ দেবী দুর্গার প্রতিমার আবাহন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পূজা শুরু হয়। দুর্গাবাড়ি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত জয়ন্ত ভট্টাচার্য (৫৭) জানান, ত্রিপুরায় রাজবংশের শাসন শুরুর কয়েক বছর পর, অর্থাৎ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় আগে রাজারা এই দুর্গাপূজা শুরু করেছিলেন।

উল্লেখ্য যে, দুর্গাবাড়ি মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবীর মূর্তিটি প্রথাগত দশ-হাতের পরিবর্তে দুই-হাতের। রাজ্যের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণারত পান্নালাল রায় বলেন, তৎকালীন মহারানি সুলক্ষণা দেবী (মহারাজা কৃষ্ণ কিশোরের স্ত্রী) দশ-হাতের দেবীমূর্তি দেখে মূর্ছিত হয়ে পড়েছিলেন। সনাতনী নিয়ম অনুযায়ী, দেবতার অন্নভোগের সময় কেউ সামনে থাকবে না। একবার দুর্গাপুজোয় দুর্গাকে দ্বিপ্রাহরিক অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। তখন ত্রিপুরার মহারাজা কৃষ্ণকিশোর মাণিক্যর স্ত্রী তথা মহারানী সুলক্ষণা রাজপুরোহিতের অনুমতি না নিয়েই দেবীর ভোগ দর্শনের জন্য দরজা খুলে ফেলেন। এবং দেখেন যে মা দুর্গা তাঁর দশটি হাতে অন্নগ্রহণ করছেন। এই দৃশ্য দেখে তিনি ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যান। ওই রাতেই মহারাজা কৃষ্ণকিশোর মাণিক্যকে (অন্যমতে, রানি সুলক্ষণাকে) মা দুর্গা স্বপ্ন দেন যে পরের বছর থেকে যেন দুই হাতেই দুর্গামূর্তি পুজো করা হয়। সেইসময় থেকেই মা এখানে দ্বিভুজা। এবং বাকি আটটি হাত পিছনের দিকে লুকানো থাকে।
সময়ের সাথে সাথে এই পূজা উদযাপনের স্থান প্রথমে অমরপুর এবং অবশেষে অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে আগরতলায় স্থানান্তরিত হয়। মহারাজা কৃষ্ণকিশোর মাণিক্য বাহাদুর আগরতলায় দেবীমাতাকে উৎসর্গ করে প্রায় ১৮৩ বছর আগে একটি মন্দির নির্মাণ করেছিলেন।
উজ্জয়ন্ত রাজপ্রাসাদের পাশে এখন যেখানে টাউন হল, সেখানে ছিল তৎকালীন উজির বাড়ি। তার সামনের ফাঁকা জায়গায় রাজ্যের সমস্ত বাড়ির দুর্গা প্রতিমাগুলিকে জড়ো করা হতো। সমবেত ঢাক, কাঁসর সহকারে পরিবেশিত হত ধূপতি নৃত্য। প্রথমে রাজা, তারপর রানি প্রতিটি প্রতিমা দেখে প্রণাম জানাতেন। তারপর সুসজ্জিত হাতি, ঘোড়া, পদাতিক সৈন্যবাহিনীকে সামনে রেখে শুরু শোভাযাত্রা। সবার আগে থাকত প্রভুবাড়ি বা গোঁসাইবাড়ির প্রতিমা। তার পিছনেই রাজবাড়ির প্রতিমা, উজিরবাড়ির প্রতিমা, অন্য সভাসদদের প্রতিমা এবং রাজবংশের বিভিন্ন সদস্যদের বাড়ির প্রতিমাগুলি সারিবদ্ধ ভাবে বাঁশের মাচায় চাপিয়ে কাঁধে নিয়ে দশমীঘাটের দিকে শোভাযাত্রা এগিয়ে যেত।
** ‘ধূপতী নৃত্য অসমীয়া ও মণিপুরী সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত একটি ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য। অসমীয়া সংস্কৃতিতে এটি ধূপ আরতি নৃত্য নামেও পরিচিত।
রাজপরিবারের এই পূজায় পশুবলি (মহিষ, ছাগল, পায়রা) সহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হতো। তবে, এই পশুবলির ওপর হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর তিন বছর আগে সেই প্রথা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় দুর্গাবাড়ির প্রতিমাই সবার আগে থাকে এবং রাজ্য পুলিশ দেবীকে ‘গার্ড অফ অনার’ বা সম্মানসূচক অভিবাদন জানায় এবং তাদের বাদকদল জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে।” ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং রাজপরিবারের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে দুর্গাবাড়ির পূজাই ভক্তদের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।
*******
মুম্বাইয়ে প্রতিমা বিসর্জনের সময় জলে দূষন নিয়ন্ত্রন।
মুম্বাইয়ে উৎসবের মরসুমে ( সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস) কয়েক হাজার গনপতি মূর্তি ও শতখানেক দুর্গাপ্রতিমা জলাশয় বা সমুদ্রে বিসর্জন দেওয়া হয়। এই সময় আদালত ও পলিউশন বোর্ডের কিছু নিয়ম কানুন মানতে হয়। জোয়ারের সময়ে সাবধানতার কারনে সমুদ্রে বিসর্জন বন্ধ থাকে। যে কাঁচামালগুলি দিয়ে মূর্তি বানানো হয় তার অধিকাংশই জৈবপচনশীল (bio-degradable) – যেমন খড়, মাটি, কাঠ ইত্যাদি। অনেক জায়গায় মাটির বদলে প্লাস্টার অফ প্যারিস (POP) ব্যবহার করা হয় যা জলজ প্রানী ও উদ্ভিদের পক্ষে ক্ষতিকর। এছাড়া প্রতিমাকে আরো উজ্জ্বল দেখাবার জন্য বিশেষ ধরনের রঙ ব্যবহার করা হয়। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে এই হেভী মেটাল (যেমন lead বা শীষা) জলের পরিবেশকে ক্ষতি করে, জলজ প্রানী ও গাছের জীবনের ক্ষতি হয়। এছাড়া হেভিমেটাল জমে জমে জলের সাধারন স্রোত বন্ধ করে কাদার স্তর তৈরি করে। মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন জলকে দূষনমুক্ত করবার জন্য কিছু কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন:
১) ৬ ফুট উচ্চতার নীচে প্রতিমা কৃত্রিম উপায়ে তৈরি জল ভর্তি স্টিলের ট্যাঙ্কে বিসর্জন দেওয়া হয়। মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে স্টিলের পাত দিয়ে ওয়েল্ডিং করে ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়। বিসর্জনের পর কর্পোরেশনের কর্মীরা প্রতিমার কাঠামো (খড়, কাঠ, ইত্যাদি) ট্যাংকের বাইরে নিয়ে যায়।
২) ৬ ফুটের উপর উচ্চতার প্রতিমার বিসর্জন হয় সমুদ্রে। জোয়ারের সময়ে সাবধানতার কারনে বিসর্জন বন্ধ থাকে। এছাড়া solar powered navigation buoys সমুদ্রে জলের গভীরতার নিরিখে সীমানা চিহ্নিত করে স্থাপন করা হয়। এই সীমানা অতিক্রম করা নিষেধ। আর প্রতিমার কাঠামো ও প্লাসটার অফ প্যারিস সমুদ্র থেকে বার করে নিয়ে আসার জন্য পেশাদার sea diver ও মেকানিক্যাল ক্রেন ব্যবহার করা হয়।
** solar powered navigation buoys- অর্থাৎ নোঙর করা বা ভাসমান সামুদ্রিক নির্দেশক যেখানে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি রয়েছে এবং দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নৌপথ ও বিপদজনক স্থান শনাক্তকরণের জন্য এলইডি (LED) লাইট, জিপিএস (GPS) ও সেন্সর সচল রাখে।
৩) মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন থেকে প্রতিমা শিল্পীদের জন্য পরিবেশ বান্ধব (eco-friendly) মাটি, বিষাক্ত বা ক্ষতিকর নয় (non-toxic) এমন শীষামুক্ত রাসায়নিক পদার্থ, এবং জলে দ্রবণীয় সবুজ রং (green paints soluable in water) সরবরাহ করা হয়। পূজার ফুল ও পাতা জলাশয় বা সমুদ্রে ফেলার পরিবর্তে বিশাল সাইজের মাটির কলস ব্যবহার হয়। যাকে বলা হয় নির্মাল্য কলস।
পরিসংহার –
মানুষের দিনগত ঘাত-প্রতিঘাতের জীবনে উৎসবের প্রয়োজনীয়তা আছে। উৎসবের কয়েকদিন মানুষ পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব মিলে আনন্দে হৈ চৈ করে কয়েকটা দিন কাটায়। সমস্ত দেশেই উৎসব আছে আনন্দ আছে। আমাদের দেশেই মহারাষ্ট্র প্রদেশে গণেশ পূজা মারাঠীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। ঘরে ঘরে এই উৎসবের প্রচলন আছে। এছাড়া হাজার হাজার সর্বজনীন পূজা হয়। দশ দিনের উৎসব। বৃটিশদের বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলনের সময় সর্বজনীন উৎসবের প্রসার ঘটে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে। বাল গঙ্গাধর তিলকের উৎসাহে মহারাষ্ট্রে পাড়ায় পাড়ায় সর্বজনীন গনপতি উৎসবের প্রসার ঘটে। অফিস-কাছারিতে একদিন কি দুদিন ছুটি থাকে – প্রথম দিন ও শেষে বিসর্জনের দিন। মানুষজন সারাদিন কাজকর্ম অফিস করে সন্ধের পর সেজেগুজে পূজামন্ডপে প্রতিমা দেখতে যায় ও আনন্দে মেতে ওঠে। কাজ ও উৎসব দুটোই সমান গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে উৎসবের আধিক্য বেশি। এই সময় অফিস-কাছারিতে কর্মসংস্কৃতির বিরূপ প্রভাব পড়ে। এই নিয়ে চিন্তাভাবনার সময় এসেছে।
কাজ ও উৎসবের সামঞ্জস্যই মানুষকে সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ববান হতে শেখায়।
১) তথ্য সংগ্রহ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার – উইকিপিডিয়া
‘শুভমস্তূ’ মহিলা পুরোহিতের একটি দল কলকাতায় এক সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে।
*******






Add comment