আমাদের প্রাক্তনীদের লেখা বই (যুগান্তর)
© পৃষতী রায়চৌধুরী, ১৯৯৯ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং
প্রাককথন:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সবে শুরু হয়েছে। সেই অস্থির সময়কালে অবিভক্ত ভারতবর্ষের পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর এবং দক্ষিণ প্রান্ত থেকে কয়েকজন তরুণ-তরুণী ভাগ্যের ফেরে এসে উপস্থিত হল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক দ্বীপে। শুধু ভৌগোলিক অবস্থানই নয়, তরুণ-তরুণীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান এবং পারিবারিক পটভূমিকাও একে অপরের থেকে সহস্র যোজন দূরবর্তী। এদের বিদেশযাত্রার কারণও প্রত্যেকের ভিন্ন। এদের মধ্যে কেউ ডাক্তার, কেউ সামরিক অফিসার, কেউ গ্রামের অশিক্ষিত দরিদ্র কিশোর, কেউ মফস্বলের কলেজ-ছুট মেধাবী ছাত্র, আবার কেউ রক্ষণশীল মধ্যবিত্ত পরিবারের পলাতকা গৃহবধূ। এদিকে ছবির মত সুন্দর সেই দ্বীপের ভাগ্যাকাশে তখন সকলের অলক্ষ্যে ঘনিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ দুর্যোগের কালো মেঘ। যার নাম জাপানি অধিগ্রহণ। এই মানুষগুলো কি পারবে তাদের নিজস্ব সুখদুঃখ, হাসিকান্নার নিশ্চিন্ত জগতকে সেই বৃহত্তর বিপর্যয় থেকে নির্বিঘ্নে সরিয়ে রাখতে, নাকি খড়কুটোর মত তারাও ভেসে যাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রবল তরঙ্গোচ্ছ্বাসে?

উপন্যাসের নাম: যুগান্তর
লেখক: পৃষতী রায়চৌধুরী, email: prishati@gmail.com;
প্রকাশক: সৃষ্টিসুখ
মুদ্রিত মূল্য: ৫৯৯ টাকা
অনলাইন লিংক:
https://sristisukh.com/ss_new/product/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a6%a4%e0%a7%80-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81/
পুস্তক পর্যালোচনা
কিছু বই পড়া শেষ হয়, কিন্তু শেষ পৃষ্ঠা উল্টে দেবার পরও চরিত্র গুলো তাদের স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়ে মনের মধ্যে জেগে থাকে। যুগান্তর সেরকমই একটি উপন্যাস যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং INA র পটভূমিতে লেখা একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস শুধু নয়, ইতিহাস এখানে ভালোবাসা, কান্না, আত্মবলিদান, আশা আর হতাশার মোহনা। এটা একটা মানবিক দলিল যেখানে রয়েছে ইতিহাসের চরিত্র আর কল্পনার চরিত্রের যুগল চলন – লেখিকা যা স্বাভাবিক দক্ষতায় কাহিনির সাথে এমনভাবে মিশিয়ে দিয়েছেন, যে কোথাও ইতিহাসের তথ্যের ভারে পাঠক ক্লান্ত হয় না। যুদ্ধ, রাজনীতি, ইতিহাস সবকিছু ছাপিয়ে মানবিক অনুভূতি কে প্রতিষ্ঠা করে, বিজিতের মাথায় বিজয় তিলক এঁকে দেয়।
অসাধারণ সহজাত প্রাঞ্জল ভাষা, যা অযথা ভারী নয়, পুরোটাই যেন স্বগোতোক্তি। আবেগ কোথাও ইতিহাস কে লঘু করে না, শুধু পাঠক সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের নীরব সাক্ষী হয়ে ওঠে। উপস্থাপনার গুণে আমরাও সেই চরিত্রদের ভালোবাসা আর কর্তব্যের সংঘাত, তাদের স্বপ্ন আর ইতিহাসের নির্মমতার চিরন্তন দ্বন্দ্বের অংশীদার হয়ে উঠি।
যুগান্তর একটা যুগের আত্মকথা, একটা প্রজন্মের স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস, আর মানুষের অদম্য বেঁচে থাকার কাব্য। যারা বিশেষ সাহিত্য অনুরাগী নন, তারাও শুধু গবেষণালব্ধ INA র ইতিহাস জানার জন্যেও পড়তে পারবেন। একটাই অনুরোধ পাঠকদের- উপন্যাস টা শুধু পড়বেন না, অনুভব করবেন। এই উপন্যাস আপনাকে কাঁদাবে, ভাবাবে আর এক ফেলে আসা সময়কে আর একবার প্রণতি জানানোর সুযোগ দেবে ।
সোমনাথ ভট্টাচার্য,
বি ই কলেজ, ১৯৯৯, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
********






Add comment