সম্পাদকীয়
দুর্গাপূজা এখন আর পূজায় সীমাবদ্ধ নেই, আমরা এখন দুর্গোৎসব পালন করি। পূজার মাসখানেক আগে থেকেই সাজ সাজ রব ওঠে। আজ বাংলা ও বাঙালি সমাজে এটি এখন প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। আশ্বিন মাসে দুর্গাপূজা শারদীয়া দুর্গাপূজা নামে এবং চৈত্র মাসে দুর্গাপূজা বাসন্তী দুর্গাপূজা নামেও পরিচিত। শারদীয়া দুর্গাপূজার জনপ্রিয়তাই বেশি।
আশ্বিন বা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে দুর্গাপূজা করা হয়। মহালয়া বা পিতৃপক্ষের দিন থেকেই মূলত দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক উৎসবের সূচনা হয়, যদিও এ দিনটির তাৎপর্য মূলত ভিন্ন। এই দিনে পিতৃপক্ষের শেষ এবং দেবীপক্ষের শুরু হয়, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষের স্মরণ করি, পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করি। সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিনে প্রয়াত আত্মারা মর্ত্যে আসেন, প্রয়াত আত্মার সমাবেশকে মহালয় বলা হয়। মহালয় থেকে মহালয়া। পিতৃপক্ষেরও শেষদিন এটি। মহালয়াতে যারা নদীতে অঞ্জলি প্রদান করেন পূর্বদের আত্মার শান্তির জন্য, তারা শুধু পূর্বদের নয়, পৃথিবীর সমগ্র শুভ ও শান্তির জন্যও প্রার্থনা ও অঞ্জলি প্রদান করেন। যাঁদের পুত্রকন্যা নেই, বা কেউ নেই আজ তাঁদের জন্যও অঞ্জলি প্রদান করতে হয়।
এ সম্পর্কে মহাভারতে একটি কাহিনী বর্ণীত আছে যে: দাতা কর্ণের মৃত্যুর পর তাঁর আত্মা স্বর্গে গমন করলে, তাকে স্বর্ণ ও রত্ন খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়। কর্ণ ইন্দ্রকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে ইন্দ্র বলেন, কর্ণ সারাজীবন স্বর্ণই দান করেছেন, তিনি পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কোনোদিন খাদ্য প্রদান করেননি। তাই স্বর্গে তাকে স্বর্ণই খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। কর্ণ বলেন, তিনি যেহেতু তার পিতৃগণের সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না, তাই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে পিতৃগণকে স্বর্ণ প্রদান করেননি। এই কারণে কর্ণকে ষোলো দিনের জন্য মর্ত্যে গিয়ে পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই পক্ষই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়।এই কাহিনীর কোনো কোনো পাঠান্তরে, ইন্দ্রের বদলে যমকে দেখা যায়। এইরূপ আমাদের শাস্ত্রে পিতৃপক্ষ ও দেবীপক্ষ নিয়ে অনেক কাহিনীই প্রচলিত আছে।
এই শারদোৎসবের শুভক্ষনে আমরা সাহিত্যিকা পত্রিকার তরফ থেকে আমাদের সকল লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের আমাদের শ্রদ্ধা জানাই।
– সাহিত্যিকা সম্পাদকমন্ডলী
– সরসিজ মজুমদার, ১৯৭১ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং
– অসীম দেব, ১৯৭৭ ইলেকট্রনিক্স ও টেলিকম্যুনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং
– সোহম দাসগুপ্ত, ১৯৭৭ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
– শ্রুতি গোস্বামী, ২০০৪ আর্কিটেকচার
এই পত্রিকাটির অলঙ্করণে অনেক ওয়েবসাইট থেকে আমরা কিছু তথ্য ও ফটো সংগ্রহ করেছি। সাহিত্যিকা পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলী কৃতজ্ঞচিত্তে এই ঋণ স্বীকার করি।

********






Add comment