আজকালকার চলচ্চিত্রের হাল হকিকৎ
© প্রদীপ ভৌমিক, ১৯৭৪ মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং
আজকের যুগে সিনেমা ও তার বানিজ্য পদ্ধতির সঙ্গে ১৫-২০ বছর আগেকার সিনেমা ব্যবসার ধ্যানধারণার অনেক পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। অবাক হই যখন শুনি একটি ভারতীয় সিনেমা তিন সপ্তাহের মধ্যেই হাজার কোটি বা তারও বেশি টাকার ব্যবসা করছে। শুধুমাত্র হিন্দী ছবি নয়, সর্বভারতীয় মার্কেটে কিছু দক্ষিন ভারতীয় ছবিও এই ধরনের সাফল্য লাভ করছে। অন্যান্য ভাষায় ডাবিং করেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এই ট্রেন্ড আগেও ছিল। হলিউড সিনেমা হিন্দিতে ডাবিং করার প্রথা তিন চার দশক আগেই শুরু হিয়ে গিয়েছে।
এখন সিনেমা ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য, আমরা বলি ট্রেন্ড হচ্ছে কম সময়ে ভালো ব্যবসা করা। অনেক সময় এর পিছনে থাকে উন্নত মানের প্রযুক্তির প্রয়োগ, (application of advanced technological process). এখন সিনেমার প্রিন্ট হয় Digital ফর্মে। আগেকার ছবির মতন Analogue ফর্মে নয়। এই Digital ফর্মে সিনেমার হাজার হাজার প্রিন্ট একই সাথে দেশে বিদেশে সমসংখ্যক সিনেমা হলে একইসাথে মুক্তি পায়। আর ১৫-২০ বছর আগের সিনেমাগুলি Analogue ফর্মে প্রিন্ট হওয়ায় কম সংখ্যক সিনেমা (ছবির প্রিন্টের সংখ্যা হতো মোটামুটি ৫০ -১০০ মধ্যে) প্রথমে মুক্তি পেতো বড় শহরে, তারপর Tier 1, Tier 2 শহরে ও এরপর গ্রামাঞ্চলে। আর Silver Jubilee, Golden Jubilee বা Diamond Jubilee হিট করতে হতো ২৫ সপ্তাহ, ৫০ সপ্তাহ বা ৭৫ সপ্তাহ সিনেমা হলে চলার পর।

গত বছরে অর্থাৎ ২০২৫ সালে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে হিন্দী সিনেমা ধুরন্ধর ব্যবসায়িক দিক থেকে সফলতম চলচ্চিত্র। মাত্র তিন সপ্তাহে এটি এক হাজার কোটির উপর ব্যবসা করেছে। এছাড়াও ইদানিং কালে আরো বেশ কিছু সিনেমা হাজার কোটি বেশি ব্যবসা করেছে। যেমন পাঠান, জওয়ান, দঙ্গল, বাহুবলী (তেলেগু) পুস্পা (তেলেগু) ইত্যাদি।
Analogue প্রিন্টিং এর যুগেও কিছু সিনেমার বানিজ্যিক সাফল্য ছিল ঐতিহাসিক। যেমন মুঘল-এ-আজম (১৯৬০) ও শোলে (১৯৭৫)। আজকের সময়ের বিচারে মূল্যবৃদ্ধি , মুদ্রাস্ফীতি, টিকিট বিক্রির সংখ্যা, টিকিটের দাম, ইত্যাদি বিচার করলে মুঘল-এ-আজম প্রায় ৩,০০০ কোটি ও শোলে প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল। টিকিট বিক্রির হিসাবে মুঘল-এ-আজম প্রায় ১০ -১২ কোটি, আর শোলে প্রায় ১৫-১৮ কোটি টিকিট বিক্রি হয়েছিল। তবে মনে রাখতে হবে যে এই টিকিট বিক্রি হয়েছিল বেশ কিছু বছর ধরে। ‘মুঘল-এ-আজম’ এর রঙ্গীন প্রিন্ট দ্বিতীয়বার সিনেমা হলে মুক্তি পায় ২০০৪ সালে। এর আগে ১৯৮২ সালে মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত ডিস্কো ড্যান্সার নির্মিত হয়েছিল দেড় কোটি টাকার বাজেটে, আর সারা পৃথিবী জুড়ে বানিজ্য করে ১০০ কোটি টাকারও বেশি। এটিই প্রথম ভারতীয় সিনেমা যা ১০০ কোটি টাকার অধিক বানিজ্য করতে সক্ষম হয়েছিল। সাম্প্রতিক কালে ২০১৭ সালে বাহুবলী ২ প্রায় ১০-১২ কোটি ও ২০২৫ সালে ধুরন্ধর প্রায় ৩.৫ কোটি (২ মাসের কম সময়ে ) টিকিট বিক্রি করেছে।
বানিজ্যিকভাবে হলিউড ও ভারতীয় সিনেমার তুলনা করলে কিছু কথ্য পাওয়া যায়। যেমন প্রথম পাঁচটা সফলতম হলিউডের বানিজ্যিক ছবির ব্যবসার তথ্যঃ
১) Avtaar 2009 – $ 2923 million
২) Avengers 2009 – $ 2923 million
৩) Avataar 2019 – $ 2799 million
৪) Titanic 1997 – $ 2264 million
৫) Star Wars 2015 – $ 2071 million

প্রথম পাঁচটি সফলতম ভারতীয় বানিজ্যিক ছবির ব্যবসার তথ্যঃ
১) ২০১৬ সালে দঙ্গল – $ 307 million
২) ২০২২ সালে R R R – $ 168 million
৩) ২০২৫ সালে ধুরন্ধর – $ 163 million
৪) ২০২২ সালে KGF Chaper – $ 158 million
৫) ২০২৪ সালে কল্কি – $ 135 million
হলিউড সিনেমার বাজার ও ব্যবসা ভারতীয় সিনেমার থেকে অনেক বড়। সুতরাং তুলনা করা যুক্তিযুক্ত না হলেও উপরের তথ্য থেকে একটা ধারনা পাওয়া যায়।
বানিজ্যিক সফলতা লাভ করলেও ধুরন্ধর নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এর চিত্রনাট্য পাকিস্থানের কয়েকটি সন্ত্রাসবাদী আক্রমনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যেমন সন্ত্রাসবাদীদের কান্দাহারে ভারতীয় বিমান ছিনতাই, ভারতে পার্লামেন্ট ভবন আক্রমন, মুম্বাই হামলা, ইত্যাদি। উপসাগরীয় দেশগুলি (Gulf Countries) নিষেধাজ্ঞা জারী করে, তাই এই ছবিটি ওদের দেশে মুক্তি পায়নি। কারন হিসেবে বলা হয়েছে যে ভারত-পাকিস্থানের মধ্যে একপেশে ভূ-রাজনীতিকে এই সিনেমায় দেখানো হয়েছে। তবে কিছু সাংবাদিক সমালোচনা করেছেন যে অনেক জায়গায় Fact ও Fiction একাকার হয়ে গেছে। একটা মেরুকরনের চেষ্টা হয়েছে যা দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে কারণ অত্যাধিক হিংস্রতা ও শারীরিক অত্যাচার প্রদর্শন করাও সমাজের পক্ষে ক্ষতিকারক। অন্যদিকে পাকিস্থানে ভারতীয় সিনেমা নিষিদ্ধ হয়েছে ২০১৯ থেকে।
২০২৫ সালে বানিজ্যিক বিচারে কিছু উল্লেখযোগ্য হিন্দী সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। যেমন – Chhava, Saiyaara, Dhadak 2, Sitare Jameen Par, Home Bound, Jolly LLB 3, War 2, Raid 2, Houseful 5, Ikkis, Sikandar, Thamma, The Diplomat, The Bengal Files, ইত্যাদি। Chhava প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। ব্যবসার দিক থেকে ২০২৫ সালে হিন্দী সিনেমার মধ্যে দ্বিতীয়, ধুরন্ধরের পরেই। তবে সমালোচনা হয়েছে ইতিহাস বিকৃতি, হিংসা ও অত্যাধিক শারীরিক নির্যাতন দেখানোর জন্য। বিতর্কের কারণ ছত্রপতি শম্ভাজীকে (ছত্রপতি শিবাজীর বড় ছেলে) মোগলদের হাতে ধরিয়ে দেবার চক্রান্তে শম্ভাজীর বিমাতা ও কয়েকজন সভাসদকে দায়ী দেখানো হয়েছে। ফলে মুক্তির পরই সিনেমা হলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার কথা শোনা গেছে। ঐতিহাসিক ঘটনার উপর নির্মিত সিনেমা তৈরি করতে হলে কাহিনীকার ও পরিচালককে অনেক চ্যালেঞ্জের সন্মুখীন হয়ে এর ভারসাম্য ও ঐতিহাসিক তথ্য সঠিকভাবে বজায় রাখতে হয়।
ইতিহাসে পাই, আমাদের দেশে মধ্যযুগে যুদ্ধ হতো প্রধানত ক্ষমতা, রাজ্য ও অর্থের লোভে। মহাকাব্যে যুদ্ধ হয়েছে নারীকে কেন্দ্র করে। সিনেমাতে ধর্মের সঙ্গে যুদ্ধ জড়ালে সামাজিক ভাবে মেরুকরনের কারনে হিংসা-প্রতিহিংসার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। হিন্দী সিনেমা Bengal Files নির্মিত হয় ১৯৪৬ সালে স্বাধীনতার পূর্বে কলকাতা (Great Calcutta Killing) ও নোয়াখালির দাঙ্গার ইতিহাস নিয়ে। এরও সমালোচনা হয়েছে ইতিহাস বিকৃত ও হিংসার ভারসাম্যহীন চিত্রনাট্য নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা হলে ছবিটি মুক্তি পায়নি। কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্য সরকার বলেছিল সিনেমার উপর কোনরকম নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়নি। সিনেমা হলের মালিকেরা বলেছিল নির্দিষ্ট সময়ের Slot খালি না থাকার জন্য ছবিটা দেখানো যায়নি। অনেকে মনে করেন নেপথ্যের রাজনৈতিক অঙ্গুলিহেলনেই এই সিনেমার মুক্তি হয়নি। তবে অন্যান্য রাজ্যেও সিনেমাটি দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারে নি। চিত্র সমালোচকদের মতে এডিটিং ও চিত্রনাট্যও ছিল দুর্বল। পূর্বে এই একই পরিচালকের সিনেমা Kashmir Files ভাল ব্যবসা করলেও Bengal Files পারেনি।
আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি যে পুরনো দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা নতুন করে খুঁচিয়ে তা আবার রক্তাক্ত করার কি দরকার! রাজনৈতিক মেরুকরন করাই হয়তো উদ্দেশ্য। আর এর মধ্য দিয়েই ভাল ব্যবসা করা। এই প্রেক্ষিতে একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে যায়। বিখ্যাত প্রযোজক ও পরিচালক হিমাংশু রায় ১৯৩০ দশকে জার্মানীতে ওখানকার স্টুডিয়োর সঙ্গে যুগ্মভাবে সিনেমা তৈরি করেছিলেন, যেমন Light of Asia, Siraj, Throw of Dice, ইত্যাদি। সেই সময়ে Nazi রা প্রোপাগান্ডা সিনেমা তৈরি করতে শুরু করলো। এই সিনেমায় লাভ বেশি দেখে স্টুডিয়োর মালিকরা Nazi দের সিনেমার অগ্রাধিকার দিতে শুরু করলে হিমাংশু রায়ের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ হয়। তিনি দেশে ফিরে মুম্বাই শহরের প্রান্তে স্ত্রী দেবিকারানীর সঙ্গে ‘Bombay Talkies’ তৈরি করেন।

তবে কম বাজেটের রোমান্টিক হিন্দী সিনেমা ‘Saiyaara’ প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। ‘Sitare Zameen Par’ গত বছর সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছিল। গতানুগতিক সিনেমার থেকে আলাদা। নায়ক শুধু তার নিজের চাওয়া পাওয়ার কথাই চিন্তা করে। মানসিক প্রতিবন্ধী খেলোয়ারদের প্রশিক্ষন প্রক্রিয়ার কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে পরে বাস্কেটবল কোচের মানসিকতার পরিবর্তন হয়। সে ধীরে ধীরে অন্য মানুষের চাওয়া পাওয়ার কথাও অনুধাবন করতে শুরু করে। এই সিনেমাটির গল্প অনুসরন করা হয়েছে স্প্যানিশ সিনেমা ‘Champion’ থেকে। আমির খান সবসময়ই নতুন ধরনের গল্প নিয়ে সিনেমা করেন। ছবিটি ভালোই ব্যবসায়িক ভাবে সাফল্য পেয়েছে।
আরও একটি সিনেমা অবশ্যই উল্লেখ করতে হয়, নাম Ikkis (একুশ)। এর চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্থানের পশ্চিম সীমান্তের যুদ্ধের প্রেক্ষিতে সত্যঘটনা অবলম্বনে। সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট অরুণ ক্ষেত্রপাল যখন যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন, তখন উনার বয়স ছিল মাত্র একুশ বছর। পরে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘পরমবীরচক্র’ মরণোত্তর সন্মানে উনাকে ভূষিত করা হয়। শহীদ সৈনিকের বাবা ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত মেজর। দেশ বিভাগের পূর্বেকার সামরিক সহকর্মীদের বিশেষ আমন্ত্রনে মিলন উৎসবে যোগ দিতে উনি পাকিস্থানে যান। নিজের জন্মস্থান দেখেন। সেই সঙ্গে ছেলে যেখানে শহীদ হয়েছিল সেখানেও যান। সঙ্গে ছিলেন পাকিস্থানী সেনা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর ও তাঁর মেয়ে। নাটকীয়তা ও আবেগ তৈরি হয় যখন জানা যায় যে এই পাকিস্থানী মেজর নিজেদের বাঁচাতেই ভারতীয় সেনাকে (অরুন ক্ষেত্রপাল) যুদ্ধের সময় হত্যা করেছিল। এই চিত্রনাট্যের উপর নির্মিত সিনেমায় প্রতিবেশি দেশের প্রতি প্রতিহিংসার ভাবনা তৈরি হয় না। দুই দেশের সৈন্যরা যুদ্ধে প্রান দিয়েছেন, নিজ নিজ দেশের মানুষ আপনজন হারিয়েছেন ও মানসিক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছেন। যুদ্ধে জেতার চেয়ে হারানোর ব্যাথাই বেশি অনুভব হয়। প্রতিহিংসার পরিবর্তে এক মানবতা বোধের বন্ধন তৈরি হয়। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের ঘটনা ও ইহুদী নিধনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে Schindler List ও Pianist সিনেমা দেখবার সুযোগ হয়েছিল। বিদ্ধংসী যুদ্ধ, শারীরিক নির্যাতন-হত্যা ও হিংসার পরেও সিনেমা শেষ হবার পর বেদনা ও মানবতার অন্তঃস্রোত মনের মধ্যে বয়ে যায়। এখানেই পরিচালকের কৃতিত্ব।
গত এক বছরে কলকাতা থেকে কিছু বাংলা চলচ্চিত্র সিনেমা হলে মুক্তি পায়। যেমন – আমার বস, দেবী চৌধুরানী, ধুমকেতু, পুতুল নাচের ইতিকথা, রঘু ডাকাত, বিনোদিনী, ডিপ ফ্রিজ, ইত্যাদি। মানিক বন্ধ্যোপাধ্যায়ের কাহিনী অবলম্বনে ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ সিনেমা হলে মুক্তি পায় এই উপন্যাস লেখার নব্বই বছর পর। প্রায় ১৫ বছর লেগেছিল এই সিনেমাটি তৈরি করতে। সেই সময়ের গ্রামের পরিবেশ ও মানুষের চিন্তাভাবনা ও জীবনযাত্রায় যেন এখনের সময়ের সঙ্গে মিল দেখা যায়। শহরে শিক্ষিত ডাক্তারের বিজ্ঞান মনস্কতার সঙ্গে গ্রামের রক্ষনশীলতা ও কুসংস্কারের দ্বন্দের গল্প। আর আছে অবদমিত প্রেম ও ভালবাসা যা সমাজের বন্ধনে পরিনতি পায়না। শিক্ষিত ডাক্তার শহরে ফিরে যেতে চাইলেও গ্রামের জড় সমাজ ও কুসংস্কার ছিন্ন করে মানবিক কারনে যেতে পারেনা। গ্রামেই থেকে যায় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনার আবেগ ও ইচ্ছা নিয়ে।
অন্য বাংলা সিনেমা ‘ধুমকেতু’ ভাল ব্যবসা করেছে, প্রায় ২৮ কোটি টাকা। বাংলা সিনেমার আর্থিক অংক ধরলে এখনও পর্যন্ত ‘আমাজন অভিযান’ সর্বকালের সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে, প্রায় ৫০ কোটি টাকার। প্রশ্ন জাগে দক্ষিন ভারতীয় ছবিগুলো এত টাকার ব্যবসা করে কি ভাবে! মালয়ালাম, কান্নাড়, তামিল বা তেলেগু ভাষীদের সংখ্যা তো বাংলা ভাষীদের তুলনায় কম। অথচ ওদের কিছু সিনেমা কয়েকশো কোটি বা হাজার কোটি টাকার বানিজ্য করে। যেমন KGF Chapter 2 (কান্নাড়) প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা, Lokah Chapter 1 (মালয়ালাম) প্রায় ৩০০ কোটি টাকা, Two (তামিল) প্রায় ৮০০ কোটি টাকা, Pushpa 2 (তেলেগু) প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে।

পশ্চিমবঙ্গে সিনেমা তৈরি করবার পরিকাঠামো (ইনফ্রাস্ট্রাকচার) তুলনামূলক ভাবে অনেক কম – যেমন ভালো স্টুডিও, ডাবিং এর সুযোগ, সিনেমা হল, ইত্যাদি। আর আছে বড় উদ্যোগপতিদের অভাব, যারা বড় বাজেটের সিনেমা তৈরি করবে। পশ্চিমবঙ্গে সিনেমা হলের সংখ্যা এখন প্রায় যেখানে মাত্র ২০০, সেখানে তামিলনাডুতে আছে প্রায় ১৫০০। আরেকটি কারণও আছে, দক্ষিন ভারতীয় সিনেমা তৈরি হয় Mass Appeal র কথা চিন্তা করে। লোকেরা দলে দলে গ্রাম-শহরে সিনেমা দেখতে যায়। সিনেমার নায়করা জনপ্রিয়তার দিক থেকে প্রায় Demi God. পশ্চিমবঙ্গে বাংলা সিনেমায় সেই রকমভাবে Mass Appeal তৈরি হয়না। সিনেমাগুলি বিষেষ করে গ্রামাঞ্চলে সাড়া ফেলতে পারেনা।
গতবছর হিন্দী সিনেমা ‘Homebound’ মনোনয়ন করা হয়েছিল Academy Award (Best Foreign Language) র জন্য। এর আগের বছর ‘La Paata Ladies’ মনোনয়ন পেয়েছিল। আমাদের দেশে প্রথম এই বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল ‘Mother India’ ১৯৫৭ সালে। এরপর ‘Salam Bombay’ ১৯৮৮ সালে। ‘Lagaan’ ২০০২ সালে। তবে এরা কেউই Academy Award পায়নি।
১৯৯২ সালে সত্যজিৎ রায় Lifetime Achievement র জন্য Academy Award পেয়েছিলেন। ‘Gandhi’ ১৯৮২ সালে ৮ টি একাডেমি পুরস্কার পেলেও এর অনেক কলাকুশলী ও Production Team ছিল বিদেশী। ছবির শুটিং হয়েছিল ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায়। এছাড়া ‘Slumdog Millioaire’ ২০০৯ সালে ৮ টি বিভাগে একাডেমি পুরস্কার পায়। এই সিনেমারও Production Team বিদেশী। এর শুটিং হয়েছিল মুম্বাই ও ভারতবর্ষের অন্যান্য জায়গায়। এর গান ও সংগীত পরিচালনার জন্য ভারতের A.R.Rahman একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন।

তথ্য সংগ্রহ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার:
১) উইকিপিডিয়া
২) The Longest Kiss by Kishwar Desai
*********






Add comment