সাহিত্যিকা

প্রথম আলো

প্রথম আলো
© বিজিত কুমার রায়, ১৯৭৪ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

শিলংয়ে রবিঠাকুরের স্মৃতি হারিয়ে যাচ্ছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় শহর ভুলতে বসেছে তাঁর স্মৃতিকে। অথচ অবসর পেলেই বিশ্বকবি ছুটে আসতেন এই শহরে। সিলেট হয়ে তিন-তিনবার ছুটে এসেছেন খাসিয়া পাহাড়ের এই শহরে। কিন্তু আজ সবই ভুলতে বসেছে শিলং। ‘শেষের কবিতা’র মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ বহু বাঙালিকে এই শহরটিতে টেনে আনেন। অধুনা বাংলাদেশের সিলেটের পার্শ্ববর্তী শৈলশহরে একসময়ে বহু বাংলাভাষীর বসবাস ছিল। আজ সবই প্রায় অতীত। কিছু বাঙালি থাকলেও বাংলা ভাষার চর্চা নেই বললেই চলে।

কলেজপড়ুয়া মৌমিতা, সুদেষ্ণা বা অলোকরা জানেনই না, তাঁদের এই শহরেই তিনবার এসেছিলেন বিশ্বকবি। ভোটের বাজারেও ব্রাত্য রবীন্দ্রনাথ। কারণ, বাঙালিরাই এখন শিলংয়ের একরকম দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাঙালি ব্যবসায়ী বললেন প্রথম আলো’কে। কারণ, মেঘালয়ে এখন বাঙালিদের জমির কোনো অধিকারই নেই, যদিও তিনজন বাঙালি ভোটপ্রার্থী। তবু সম্পত্তির ওপর এই উপজাতি রাজ্যটিতে কোনো অধিকার দিতে নারাজ রাজ্য সরকার।

রবীন্দ্র গবেষক অধ্যাপক ঊষারঞ্জন ভট্টাচার্য প্রথম আলো’কে জানান, রবীন্দ্রনাথ এই শহরে প্রথমবার এসেছিলেন ১৯১৯ সালের অক্টোবরে। ছিলেন ব্রুকট সাইড রোডের একটি বাড়িতে। সেখানে ২০ থেকে ২২ দিন থেকে চলে যান সিলেট। ১৯২৩ সালে লেডি রাণু মুখার্জির সাথে এসেছিলেন জিতভূমে। সেখানে বসেই শুরু করেছিলেন ‘রক্তকরবী’। আর শেষবার ১৯২৭-এ আসেন বিশ্বকবি শিলংয়ের লাইমখরার আপল্যান্ডসোর একটি বাড়িতে।

জানা গেল, কবির কাটানো বাড়িগুলোর বেশির ভাগই বিক্রি হয়ে গেছে। এমনকি ‘শেষের কবিতা’য় বর্ণিত জিতভূমের সেই রডডেনড্রন গাছওয়ালা বাড়িটির মালিকানাও সম্প্রতি হাতবদল হয়েছে। একমাত্র রবীন্দ্রনাথের প্রথমবার শিলং-দর্শনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি রয়েছে। সেখানেই বসেছে রবিঠাকুরের মূর্তি। বাড়িটি ছিল সেই সময়কার চট্টগ্রাম ডিভিশনের কমিশনার কিরণচন্দ্র দের। বর্তমানে রাজ্য সরকার অবশ্য বাড়িটি সুরক্ষিত রেখেছে।

ঊষারঞ্জন জানান, মেঘালয়ে বাঙালির সংস্কৃতিই প্রায় লুপ্ত হতে চলেছে। বহু প্রাচীন বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনও ধুঁকছে শিলংয়ে। তাই রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বাড়তি উৎসাহ দেখানোর কেউ নেই বলেই তিনি মনে করেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

******

কবিগুরুর প্রিয় মংপু ভ্রমণ
এপ্রিল ২০১৮ তে কালিমপঙ থেকে ফেরার পথে হঠাৎই খেয়াল হলো যে মংপু তো এই রাস্তাতেই। ড্রাইভার ভাইকে কিছু বেশি দেবো বলে তাঁকে ওখানে নিয়ে যেতে রাজি করালাম।

চাকরি জীবনে তিস্তা হাইডেল প্রজেক্ট তৈরি করার সুবাদে এই অঞ্চলটি আমার কিছুটা চেনা ছিল। তিস্তা ৩ নম্বর প্রজেক্ট পেরোলেই রাম্বি বাজার। ওখান থেকেই রাস্তা উঠে গিয়েছে ১৪ কিমি দূরে মংপু যার আসল নাম মংপো তে । মংপু গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত স্থান। ওনার জীবনের শেষ দিকে বেশ কয়েকবার উনি এসেছিলেন লেখিকা মৈত্রেয়ী দেবীর বাড়িতে। ওনার স্বামী এইখানেই সিনকোনা থেকে কুইনীন গবেষণার সাথে যুক্ত ছিলেন।

আমরা গিয়ে দেখি গেট বন্ধ, কারণ সারানো চলছে। গৌরীপুর হাউসটি সারিয়ে হেরিটেজ মিউসিয়াম হিসাবে উদ্বোধন হবে। মুখ্যমন্ত্রী আসবেন, তাই পাহাড়ের মংপুতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্মৃতি বিজড়িত রবীন্দ্র ভবন এখন সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে কাজ চলছে। মাঝখানে পাহাড়ের বন্ধ আর আগুন লাগানোর আন্দোলনের জেরে এই কাজ বন্ধ ছিল। কিন্তু এবারে জেলা প্রশাসন পঁচিশ বৈশাখের আগে কাজ শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে। সেই অনুযায়ী ৫ মে-র মধ্যে কাজ শেষ করে তা প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি এখন জোর কদমে। আগামী পঁচিশে বৈশাখ সেই ঐতিহাসিক ভবন আবার নতুন করে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

মূল ঐতিহাসিক কাঠামো ঠিক রেখে ওই ভবনের মেঝে সুন্দর করে তোলা হচ্ছে। ভিতরে বাইরে রং হচ্ছে। আগে বৃষ্টির সময় ভিতরে জল পড়ত। এখন যাতে তা না হয়, তারও ব্যবস্থা হচ্ছে। হচ্ছে আরো অনেক কাজ। তবে অনেক দিন ধরে ওই ভবনের ভিতরে প্রবেশ পর্যটকদের নিষেধ। ফলে সবাই বাইরে থেকেই ভবনটি দেখে ফিরে আসছেন। আমার কপাল ভালো যিনি আর্কিটেক্ট, মানে ওখানে এই প্রজেক্টের কাজ দেখছিলেন উনি আমারই কলেজের জুনিয়র। তাই বিশেষ অনুরোধে ভেতরে ঢুকতে পারলাম। তবে ছবি তোলা বারণ। আর সব ছবি ইত্যাদি কলকাতা গিয়েছে রেস্টর করতে।

এই ভবনটি বিশ্বকবির বহু স্মৃতি বিজড়িত। ১৯৩৮ সালের ২১ মে কবি প্রথমবার কালিম্পং থেকে মংপু-র সুরেল বাংলোতে আসেন। সেখানে ৫ জুন পর্যন্ত কাটিয়ে তারপর তিনি এই ভবনে এসে ৯ জুন পর্যন্ত থাকেন। তারপর আবার চলে যান কালিম্পং। দ্বিতীয়বার কবি ১৯৩৯ সালের ১৪ মে পুরী থেকে সোজা মংপু আসেন গ্রীষ্ম কাটাতে। সেবারে ১৭ জুন পর্যন্ত থেকে কবি কলকাতায় ফিরে যান। তারপর ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসের ১২ তারিখে তিনি আবার মংপুতে আসেন। দুই মাসের কিছু বেশি সময় পার করে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তিনি কলকাতায় ফিরে যান। আবার ১৯৪০ সালের ২১ এপ্রিল চতুর্থ বারের জন্য মংপু আসেন। সেবারে পঁচিশে বৈশাখে তাঁর জন্মদিন সেখানেই পালিত হয়। সেখান থেকে তিনি কালিম্পং যান। সেই বছরই শরৎকালে আবার মংপু আসবেন বলে জিনিসপত্রও রেখে যান। কিন্তু আর মংপু আসা হয়নি। তিনি সেবারে শরৎকালে কালিম্পং এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে আর মংপু আসতে পারেননি। ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি কালিম্পং-এর গৌরীপুরে অজ্ঞান হয়ে গেলে, তাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়।

কবি প্রতিবার মংপু এসেছিলেন তাঁর একান্ত অনুগামী মৈত্রেয়ী দেবীর আমন্ত্রণে। মৈত্রেয়ী দেবীর পরিচয় তিনি লেখিকা এবং ঔপন্যাসিক। উনার বাবা সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত ছিলেন অধ্যাপক। সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তের সঙ্গেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুসম্পর্ক ছিল। আর তার বাবার সঙ্গে বেশ কয়েকবার মৈত্রেয়েী দেবী বিশ্বকবির কাছে গিয়েছিলেন। মৈত্রেয়ী দেবীর বিয়ে হয়েছিল সিঙ্কোনা প্ল্যান্টেশনের চিফ কেমিস্ট মনমোহন সেনের সঙ্গে। সেই কাজের সুবাদে মৈত্রেয়ী দেবী স্বামীর কোয়ার্টারে থাকতেন। সেই কোয়ার্টারেই কবিকে তিনি বারবার আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে আসেন। কবি সেখানকার শান্ত, সুন্দর পাহাড় দেখে মুগ্ধ হয়ে প্রতিবার এক মাস, দেড় মাস করে থেকে যেতেন। সেই কোয়ার্টারটিই সিঙ্কোনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আজ ঐতিহাসিক রবীন্দ্র ভবন। সেই ভবনে কবির ব্যবহার করা খাট, লেখার ডেস্ক, রঙের প্যালেট, বায়োকেমিক ওষুধের শিশি, বহু ছবি আজও রয়ে গিয়েছে। কবি এই ভবনে বসেই তাঁর ‘জন্মদিন’ কবিতা যেমন লিখেছেন, তেমনই শেষ কথা, বাংলা ভাষার পরিচয়, ছেলেবেলার কথা লিখেছেন। তাছাড়া নবজাতক, সানাই, আকাশ প্রদীপ, মংপু, ক্যামেলিয়া কবিতাগুলো এখানে বসেই লেখা। তিনি এখানে বসে পাহাড়ের ছবি বাদে বেশ কিছু ছবি নিজে হাতে এঁকেছেন। সেসব এখন এই ভবনের সংগ্রহশালায় রাখা আছে। মৈত্রেয়ী দেবিকে লেখা কবির কিছু চিঠিও এখানে আছে।

মৈত্রেয়ী দেবীর বহুপঠিত মঙ্গপুতে রবীন্দ্রনাথ মনে পড়ে গেলো । বইটি আমার খুব প্রিয় বই। মন ভালো করতে এখনও পড়ি। ঘরগুলি মনে মনে মিলিয়ে নিলাম। দারুন অনুভূতি। অবশ্য আমরা দুইজন ওই দেড়েল বুড়োটাকে একটু বেশি ভালবাসি ।

বাইরে থেকে ছবি নিলাম। নতুন রং হয়েছে বাড়ীতে।

কবি কখনও বা সড়ক যোগে রম্ভি পর্যন্ত আসতেন। কখনও টয় ট্রেনে গেলিখোলা পর্যন্ত। তারপর রম্ভি থেকে ৯ কিলোমিটার পথ পালকিতে চড়ে। ৩,৭৫৯ ফুট উচ্চতায় মংপু এখন ছোট পাহাড়ি শহর, কবির সময় যা ছিল পাহাড়ি গণ্ডগ্রাম। সিঙ্কোনা চাষের জন্যই এর প্রথম খ্যাতি ছড়ায়। কালিম্পং থেকে এর দূরত্ব ৩৮ কিলোমিটার, দার্জিলিং থেকে দুরত্ব ৫৭ কিলোমিটার আর শিলিগুড়ি থেকে দুরত্ব ৪৭ কিলোমিটার। এর ১৩ কিলোমিটার নিচে শাল, সেগুন, অর্জুন সহ নানা গাছের সমারোহ। মংপু যাওয়ার পথে রাস্তার ধারে দিনের বেলাতেই যেন বনের ধার থেকে ঝি ঝি পোকার ডাক কানে ভেসে আসে। শিলিগুড়ি থেকে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে রম্ভি থেকে এর দুরত্ব ৯ কিলোমিটার। বিভিন্ন ভাবে অবহেলায় কবির স্মৃতি বিজড়িত এই ভবন নষ্ট হতে বসেছিল। এখন এর গুরুত্ব ও সৌন্দর্য বাড়ানোর প্রয়াস শুরু হয়েছে। মৈত্রেয়ী দেবীর মংপুতে রবীন্দ্রনাথ লেখায় কবির বিষয়ে বিস্তারিত সব বিবরণ আছে।

এই সুযোগে মৈত্রেয়ী দেবীর লেখা মংপুতে রবীন্দ্রনাথ বইয়ের কিছু অংশ তুলে দেওয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। বইটি থেকে……. পরের দিন সকালে রান্নার আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত এমন সময় চিত্রিতা এসে বললে, “এই দেখ ভাই, উনি চিঠি লিখে তিন আনা পয়সা দিয়েছেন টিকিটের জন্যে। আমি কিছুতেই নিতে চাইনি। বললে, “দাও গে তোমার দিদিকে।” কি করা যায় এখন?”
“বেঁধে দে আমার আঁচলে।”
সে বেচারা নেহাৎ অনিচ্ছাসত্ত্বেই দিলে। কিছুক্ষণ পরে উপরে এসে দেখি এক মনে ‘বাংলা ভাষা পরিচয়’ বইটা লিখছেন।
“আজ সকালে উঠেই তিন আনা পয়সা লাভ”,- বলে আঁচলে বাঁধা পয়সা দেখালুম।
“এই যে বেঁধে ফেলেছ? যাক্! তোমার বোন বেচারা ভালমানুষ, বলে না-না, সে কি, আপনি কেন দেবেন টিকিটের পয়সা, আমরা লাগিয়ে দিচ্ছি,- আমি বললুম, দাও গে না তোমার দিদিকে, এসব জিনিসের মূল্য সে বোঝে,-তোমাকে তো আর সংসার করতে হয় না, তিন আনা পয়সার দাম কি করে জানবে? একবার যথাস্থানে নিয়ে যাও দেখবে আত্মসাৎ করতে তিনি বিলম্ব করবেন না-যাক, কি আর হবে? আট আনা পয়সা বৌমা দিয়েছিলেন, তার থেকে তিন আনা খসল। এখন ঐ পাঁচ আনা সম্বল। সাবধানে রাখতে হবে,” বলে কলমের বাক্সটা তুলে নিয়ে তার মধ্যে পাঁচ আনার সন্ধান করতে লাগলেন।
“আপনার একটা কলম কিন্তু আমায় দিতে হবে!”
উনি গম্ভীরভাবে পিছনে ফিরে বনমালীর দিকে চেয়ে বললেন, “ওরে, এ কোথায় এলুম? আর নয়, এবার বাক্স-টাক্স বেঁধে ফেল্” নৈলে আর সঙ্গে কিছু নিয়ে ফিরতে হবে না।”
বনমালী হাসতে হাসতে চলে গেল। ঐ কলমের বাক্সের মধ্যে এক বোঝা কলমের সঙ্গে দু’চার আনা পয়সা যা ওঁর সম্বল, তা বরাবর থাকত-এবং বরাবর উনি সন্দেহ প্রকাশ করতেন যে, সেই পয়সাগুলোর উপর নাকি আমার প্রচন্ড লোভ আছে!
কিছুদিন আগে একবার একটা মজার দুর্ঘটনা ঘটে যায়। বোলপুর থেকে কলকাতা আসছিলেন, সঙ্গীরা ছিলেন অন্য কামরায়। বর্ধমানে, একটা লেমনেড খেয়ে মহা বিপদে পড়ে গেলেন। ট্রেন তখন ছাড়ো-ছাড়ো-, বয়টা ওঁর অবস্থা বুঝে চলে গেল। সেই থেকে সঙ্গে কিছু পয়সা থাকে, যদিও উনি বলতেন, “কাছে পয়সা না থাকাটাই বিশেষ সুবিধের। কোন কিছুর দরকার পড়লে তখন এ-পকেট ও-পকেট দু’একবার হাতড়াতে শুরু করলে, সঙ্গে যিনি থাকেন-বিশেষ করে তোমাদের মত করুণহৃদয়া হলে তো কথাই নেই-বলে ওঠেন, ‘ব্যস্ত হবেন না, ও আমি দিয়ে দিচ্ছি। বলা বাহুল্য, বিন্দুমাত্র ব্যস্ত হইনি, তবু মুখের ভাবটা যথাসাধ্য নিরুপায় এবং করুণ করে বলা যায়, আহা তুমি আবার কেন কষ্ট করে-না, না, সে কি!’ এই রকম করে বেশ ভাল ভাবেই চলে যায়!”

সেইদিন একটা পেলিকান কলম আমায় দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে এক টুকরো কাগজে লিখলেন এই দলিলপত্র-সুরেল, দার্জিলিং
আমি বিখ্যাত ঠাকুরবংশোদ্ভব কবিসার্বভৌম রবীন্দ্রনাথ
শ্রীমতী মৈত্রেয়ী দেবীকে অদ্য পূণ্য জ্যৈষ্ঠমাসের কৃষ্ণা দশমী তিথীতে দিনমানে পূর্বাহ্নে ইংরেজি সাড়ে নয় ঘটিকায় পেলিকান রচিত একটি উৎসলেখনী স্বেচ্ছায় স্বচ্ছন্দচিত্তে দান করিলাম। তিনি ইহা পুত্র-প্রপৌত্রাদিক্রমে ভোগ করিবার অধিকারিণী হইলেন। তিনি যদি ইহার পরিবর্তে তাঁহার কোনো একটি অক্ষুন্ন লেখনী আমাকে দান করেন আমি অসংকোচে তৎক্ষণাৎ তাহা গ্রহণ করিতে পারি ইহা সর্বসমক্ষে স্বীকার করিলাম। কদাচ অন্যথা হইবে না। চন্দ্র সূর্য সাক্ষী।
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৯ই জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৫

-“Fair exchange তুমি যদি আমায় একটা কলম দাও, সেটা নিতে যে আমার একটু আপত্তি নেই সে কথাও স্পষ্ট করে লিখে রাখা ভাল। কিন্তু আমার সাক্ষীদের দেখা পাওয়া তো শক্ত হয়ে উঠল। তোমার মেঘের আড়ালে সূর্যদেব তো অদৃশ্য হয়েই রইলেন।”
“বাঃ আপনার বিচার তো বেশ তো! আপনার চন্দ্র সূর্য, আর আমার মেঘ! বৃষ্টি হলে আপনি এমন ভাবখানা করেন যেন সেটা আমারি দোষ।”
“তা’হলে দোষ দেব কা’কে? হাতের কাছে একটা প্রতিপক্ষ না থাকলে ঝগড়া না করেই যে দিন কাটাতে হবে!”

তথ্যসূত্র অন্তর্জাল ও শ্ৰী বাপি ঘোষ।
ছবি এই মহোদয়ের মুঠোফোনে তোলা।

*******

Sahityika Admin

Add comment