সাহিত্যিকা

আমার ব্রিজ আর চতুরঙ্গ খেলা

আমার ব্রিজ আর চতুরঙ্গ খেলা
সরসিজ মজুমদার, ১৯৭১ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং
আমার যখন বারো বছর বয়স, তখন আমার ব্রিজ খেলায় “হাতে তাস“ হয়, অনেকটা আনুষ্ঠানিক হাতে খড়ির মতো। পুরোহিত ছিলেন আমার জ্যাঠামশায়।
একটু ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে।
সময়টা ছিল এক রবিবারের বারবেলা। দমদমে, আমাদের মামাবাড়ি ছিলো বাড়ী থেকে মাত্র দেড়  ফার্লং দূরে। অল্টারনেট রবিবারে দুপুরের খাওয়া আমাদের, বা মামাবাড়িতে হতো। পাঁঠার মাংস ছিল মূল আইটেম। তারপর ব্রিজের আসর। বাবা- জ্যাঠা বনাম দূই মামা। বারো বৎসর বয়সে নিতান্তই কৌতুহল বশে সেখানে আমার অনুপ্রবেশ ঘটে, বলাই বাহুল্য-  প্রথমে দর্শকের ভূমিকায়।
দু’এক দিনের মধ্যেই জ্যেঠুর পাশে বসে খেলাটা দেখতে দেখতে নিয়মকানুনগুলো মোটামুটি রপ্ত করে নিলাম। তারপর হলো কি? সেই বারো বছর বয়সেই আমি হয়ে গেলাম বাবার পরামর্শদাতা। এবং সঙ্গে সঙ্গে ফললাভ।  আমরা জিততে লাগলাম। ক’দিন পরে জ্যেঠুর সঙ্গে পার্টনার হয়ে একটা লোকাল টুর্নামেন্টে নাম দিলাম, খেললাম, আর জিতলাম। ব্যস, সেই যে শুরু, তারপর থেকেই জ্যেঠু আর আমি পার্টনার হয়ে খেলা শুরু করি। মা মনে মনে খানিক অখুশি হলেও মুখে কিছু বললো না, কারণ স্কুলের ফাইনাল রেজাল্টে আমার জয়যাত্রা ছিলো অব্যাহত।
জুলাই ১৯৬৬, স্কুলের পাট চুকিয়ে কলেজে ঢুকলাম। সাকিন ডাউনিং, ইস্ট, রুম নাম্বার ৩। ৱ্যাগিং  পর্ব চুকে যাওয়ার পর আমি লেখাপড়া ও সেই সঙ্গে তাসে মন দিলাম। আমার পার্টনার পরেশ সাঁতরা। ডাউনিং এ আমরা সেবছর চ্যাম্পিয়ন হলাম। অকশন ফরম্যাট—রাবার ব্রিজে। এবার ইয়ার টীম তৈরী হলো,  আমি, পরেশ, নাকু (হিমাদ্রি), আর ক্যালকুলাস (দীপঙ্কর)। থার্ড ইয়ার এর সঙ্গে প্রথম খেলা—নক-আউট, কনট্রাক্ট ব্রিজ। এদিকে কন্ট্রাক্ট ব্রিজের ক’ও জানিনা। আমাদের সঙ্গে কিছু রিপিটাররাও ক্লাস করত। একজন উপদেশ দিলো —অমুক প্রফেসারের (সেকেন্ড ইয়ার, নাম মনে নেই, চোখে চশমা ছিল) থেকে তালিম নে। তাই করলাম। উপদেশমতন চোথা বানালাম, মুখস্থ করলাম। নির্দিষ্ট দিনে খেলেও নিলাম। এবং হেরে বিদায় নিলাম।
বিশ্লেষণ করে দেখলাম, মূলতঃ, আন্ডার বিড, ও ওভার বিড এর জন্যই আমাদের হার।
এই আন্ডার বিড বা ওভার বিড নিয়ে আমার পরে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিলো, সেটা আগেই বলতে চাইছি। ব্রিজ খেলায় মনস্তত্বর বিরাট ভূমিকা। সবার আগে দরকার পার্টনারের সাথে বিশ্বাস অর্জন করা। মানে টিম ওয়ার্ক। মনে রাখতে হবে যে দুই পার্টনারের বোঝাপড়ার উপরই খেলায় হারজিত নির্ভর করে। এরপর নিজের সেলফ এসেসমেন্ট, মানে আমার হাতে কি তাস আছে? আর সেই তাসে আমি কতটুকু এগিয়ে যাবো? বা কোথায় গিয়ে থামবো? এককথায় ইংরেজিতে যাকে বলি temptation control. এরপর কমিউনিকেশন, মানে আমার হাতের তাস আমি পার্টনারকে কিভাবে জানাবো, আর পার্টনার তাঁর হাতের তাস আমাকে কিভাবে জানাবে? তারপর প্ল্যানিং। মানে নিজে হ্যান্ড-প্লে করতে হলে প্রথমেই চিন্তা ভাবনা করতে হবে কিভাবে ওপর নীচ করবো, কখন রঙ বার করবো, কখন ট্রাম্প করবো, কখন ফিনান্স করবো? ডিফেন্স করতে হলে কি লীড দেবো? ইংরেজিতে মাইলস্টোন ম্যানেজমেন্ট। একটা কথা শোনা যায়, অফিসে প্রজেক্ট ম্যানেজ করতে হলে যেরকম টিম ওয়ার্ক, কমিউনিকেশন, ওয়ার্ক প্ল্যানিং, মাইলস্টোন, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, temptation control এগুলোর প্রয়োজন, ব্রিজ খেলার প্রতিটি পদক্ষেপে এইগুলি ব্যাবহার হয়।
সুতরাং হস্টেলের খেলায় আন্ডার বিড,  ওভার বিডে হারের কারণ তো বুঝতে পারলাম, কিন্তু প্রতিকার?? ততদিনে ব্রিজ খেলায় আমি মনপ্রাণ সঁপে দিয়েছি, অবশ্যই পড়াশোনাটার খেয়াল রেখে। কিভাবে আরও ভালো ব্রিজ খেলা যায়? কলেজ স্ট্রীটের সেকেন্ড হ্যান্ড বইএর দোকান থেকে কালবারটসনের দুটো বই কিনে আনলাম। এবার হস্টেলে এসে রীতিমত পড়াশোনা শুরু করলাম। সিস্টেম বানালাম। নিজেকে ভাল করে তৈরী করলাম।
ইতিমধ্যে ফার্স্ট ইয়ারের ফাইনাল পরীক্ষা হয়ে গেলো। ভালোই রেজাল্ট হয়েছে। বাড়ী ফিরে দেখি জ্যেঠুও কন্ট্রাক্ট ব্রিজ খেলতে শুরু করেছে।  আবার দু’জনে জুড়ি বেঁধে খেলা শুরু করলাম।
সেকেন্ড ইয়ারের ক্লাস শুরু হলো। সাকিন-১১ নম্বর হোস্টেল। এবার আমার পার্টনার সুনীল পাল। পড়াশুনো চলছে, সাথে ব্রিজ, যে করেই হোক, এইবার ব্রজে ভালো ফল করতে হবে, ও দাদাদের হারাতে হবে। আমাদের চারজনের টিম  ইয়ারের চ্যাম্পিয়ন হলাম। এবার ইন্টার ইয়ারের প্রথম খেলা পড়লো ফোর্থ ইয়ারের সঙ্গে। গতবছর এনারাই থার্ড ইয়ারে ছিলেন। এনাদের তিনজন কলেজ টীমের প্লেয়ার। অনেকটাই লড়াই করেছিলাম, কিন্তু কিছু কিছু বেসিক ভুলের জন্য, আর silly mitakes and temptations বলা যায়, হেরে গেলাম। কিন্তু দাদারা আমার খেলা দেখে আমার নাম, ইয়ার, আর হোস্টেল নম্বর লিখে নিলো। সেই বছরের জন্য কলেজের টুর্নামেন্ট ব্রিজের সেখানেই শেষ, আর কিছুদিন পরে আমরা পরীক্ষা দিয়ে থার্ড ইয়ারে।
আমার বেশির ভাগ খেলাই হতো হস্টেলে। এবার হলো কি, আমাদের দেখাদেখি আরও কিছু ছেলে ব্রিজ খেলতে শুরু করলো। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে, কখনো রাত জেগে, বা শনি রবিবারে বাড়ি না গেলে হস্টেলের কয়েকজনকে ধরে বেঁধে ব্রিজে বসিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। এঁদের বেশিরভাগই ব্রিজের ব্যাবহারিক নিয়মকানুন (ethics) মানে না। চোখের ঈশারায়, হাতের আঙুলের ঈশারায় বিড করে। উদাহরণ, দুই আঙুল তাসের পিছনে রাখলে জেনুইন কল, তিন আঙুল তাসের পিছনে থাকলে ফলস কল। আবার গলার স্বরেও সিগন্যালিং হয়। যেন ব্রিজ নয়, জুয়া চলছে। কিন্তু আমার তো ব্রিজ খেলতে হলে চারজন চাইই চাই। সুতরাং সিরিয়াস প্লেয়ার, আর জুয়াড়ি প্লেয়ার, যখন যে রকম প্লেয়ার হাতের সামনে পাওয়া যায়, সেইভাবেই আমাদের ব্রিজ খেলা চলতে থাকলো। কিন্তু খেলে যে আনন্দটা, বা স্যাটিসফেকশন আমি চাইছি, সেটা পাচ্ছি না।
থার্ড ইয়ারে পড়াকালীন দুটি ঘটনা আমার ব্রিজ খেলায় আমূল পরিবর্তন এনে দিলো। আমার জ্যেঠু চাকরী থেকে অবসর নিয়ে মেয়ের কাছে চলে গেলেন। তবে যাওয়ার আগে জ্যেঠুর সমবয়সী সূর্য্য’দার সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিয়ে গেলেন। সূর্য্য’দা ছিলেন দমদম নাইট ক্লাবের ব্রিজ টিমের ক্যাপ্টেন। সেই সূর্য্য’দা আমাকে পার্টনার করে নিয়ে খেলতে রাজি হলেন। উনি খেলেন রোমান সিস্টেমে। আমাকে বসিয়ে হাতে লেখা চোথা ধরিয়ে দিলেন। সেই চোথা মুখস্ত করে ফেরত দিলাম। এবার আমার শুরু হলো এডভান্সড সিস্টেমে ব্রিজ খেলা। শুরুতে দিনকয়েক অসুবিধে হলেও সিস্টেমটাকে তাড়াতাড়ি রপ্ত করে নিলাম। দাদাও ছাত্রের উপর খুশী।
থার্ড ইয়ারে আমার স্থান হলো স্লেটার হলে। এক একটা বড় হলঘরে আটজন করে থাকি। আর খাওয়া ১১ নম্বর হস্টেলে। আমি রাতে আমার পিসিমার ফ্ল্যাটে শুতে যেতাম। সেটা কাছেই, ডাউনিং হস্টেলের পাশেই। একদিন রাতের খাওয়া সেরে পিসিমার ফ্ল্যাটে শুতে গেছি, দুয়ারে বিপ্লব এসে কড়া নাড়লো। পাকু’দা আমাকে তলব করেছে। পাকু’দা মানে আমারই এগারো নম্বর হস্টেলের পাকু’দা। ভালো নাম দিলীপ দাঁ, কিন্তু এই নামে কেউ চিনবে না। পাকু’দা এখন আর আমাদের মধ্যে নেই, অনেক আগেই আমাদের সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।
এই পাকু’দা চরিত্রটির একটু বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে।
বিগত কয়েকবছর গড়াগড়ি খেয়ে এখন উনি আমাদের ক্লাসের সতীর্থ। উনার মোটামুটি সব আদি ব্যাচমেটরা তখন ফাইন্যাল ইয়ারে। ইনি ক্লাসে যান না। সকাল এগারোটায় ঘুম থেকে উঠে সোজা লাঞ্চ। তারপর নিজে নিজেই ভবিষ্যৎবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেন। বই পড়ে সেলফ স্টাডি করেন, কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে পান না। এই ভবিষ্যৎবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনার শেষে সন্ধ্যা থেকেই তাস নিয়ে বসে পড়েন। লোকজন বলাবলি করে, উনি হস্তরেখা দেখে, আর কুষ্ঠিবিচার করে বেশ দু পয়সা কামাতেন।
সেই পাকু’দা রাতের বেলায় আমার উপর কৃপা করেছেন। গিয়ে দর্শন দিলাম।
– কি হে, তুমি নাকি ভালো ব্রিজ খেলো?
– চেষ্টা করি দাদা।
– বসো। তুমি আমার পার্টনার হবে। ফোনি ক্লাবস জানো?
– আজ্ঞে।
কয়েকটি রাবার হয়ে যাওয়ার পর দাদা মন্তব্য করলেন, “বাব্বা, এযে পাকা হাত। কোথায় খেলো?”
– আজ্ঞে … দমদম নাইট ক্লাবের আমি টিম মেম্বার।
– বেশ বেশ। আমি কলেজ টিমে খেলি। এবার তুমি কলেজ টিমে আমার পার্টনার হয়ে খেলবে, অবশ্য অন্যরা যদি রাজি হয়। একটা ফাইন্যাল সিলেকশন হবে।
বলা বাহুল্য, কলেজ টিমে আমি নিজের জায়গা করে নি।
তখন কলেজ টিমে ভালো প্লেয়ার ছিলো গাবলু (প্রণব লাই), অনিমেষ (পুরো নাম এখন আর মনে নেই), আরও দু’একজন।। তখন আমি আর পাকু’দা পেয়ার’স ইভেন্টে হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। সেটা আমার BFI (ব্রিজ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া) স্বীকৃত দ্বিতীয় কম্পিটিটিভ টুর্নামেন্ট জয়। তখন আমি স্টাফ ক্লাবে গিয়ে (মাস্টারমশাইদের সাথে খেলেছি। আমাদের প্রফেসর অনিল চৌধুরী (আনারকলি স্যার) ভালো খেলতেন। পরে উনার সাথে পার্টনার হয়ে দুর্গাপুর ক্লাবেও বেশ কয়েকবার খেলেছি। কলেজ টুর্নামেন্টে আমরা প্রেসিডেন্সী আর যাদবপুরকে সবসময় হারিয়ে দিয়েছি। আর আইআইটি খড়গপুরের সাথে মোটামুটি ৫০-৫০ রেজাল্ট হতো।
আমাদের সার্ভে ক্যাম্প হয়েছিলো ১৯৬৯ সালে মাইথনের কাছে। ক্যাম্পে আমাদের তিনটে টিম হয়েছিলো। Team-A Only A section. Team –B—only B section, and Team-AB—mixed. আমি ছিলাম মিক্সড টিমে। টিমের ফর্মেশন আমি ও প্রণব লাই (গাবলু); আর সুজিত দাস (ম্যানে) ও সুজিতেন্দ্র (পাকু, ইনি স্বনামধন্য “পাকু’দা” নন)। আমার পার্টনার কাম টিম-মেট হঠাৎই ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে খেলতে শুরু করে, আর সেই প্রায় জেতা ম্যাচ আমরা হেরে গেলাম।
ফোর্থ ইয়ার টা বেশ ঘটনাবহুল। ১১ নম্বরে ছাদের একটি রুমে থাকি। আমি ও ভোলানাথ পার্টনার হয়ে হোস্টেল চ্যাম্পিয়ন হই, বিডিং সিস্টেম ছিলো, ভোলার হাতে ক্লাব থাকলে ডায়মন্ড, ডায়মন্ড থাকলে ক্লাব; এবং হার্ট থাকলে স্পেড, ও স্পেড থাকলে হার্ট বলবে। আর উল্টোদিকে আমি ন্যাচারাল কল করবো। আমাদের হ্যাভক বিডিং হয়েছিলো। কেউ ধরতে পারছে না, আমরা কি সিস্টেমে খেলছি।
১৯৭০ সালে আমাদের ইন্টার ইঞ্জিনিয়ারিং উইন্টার মিট হয়। আমরা তখন ফোর্থ ইয়ারের শেষের দিকে। ফাইন্যালে আমরা দুর্গাপুরের রিজিওনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কাছে হেরে যাই। ওঁদের লোকনাথ খুব ভালো প্লেয়ার ছিলো। এছাড়াও ১৯৭০ উইন্টার মিটে আমি কলেজকে দাবায় প্রতিনিধিত্ব করি। আমরা সেবার দাবায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। সব মিলিয়ে কলেজ রানার্স আপ হয়।
এরপর নকশাল আন্দোলনের নামে আমাদের একটি বছর নানান অনভিপ্রেত গন্ডগোলের মধ্যে দিয়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় ৪ মাস পরে আমরা পাশ করে বেরোই।
পরে চাকরীজীবনে আমি দুর্গাপুর স্টীলে কাজ করার সময় লোকনাথকে (উইন্টার মিটে দুর্গাপুর কলেজের হয়ে খেলেছিলো) পার্টনার করে আমরা দুর্গাপুর স্টীল টিমের হয়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলি, আর ইন্টার স্টীল চ্যাম্পিয়নও হয়েছিলাম। গ্রুপ লীগে সেমিফাইন্যালে উঠি। তারপর ভিলাইকে হারিয়ে ফাইন্যালে। ফাইন্যালে রৌরকেল্লাকে হারিয়ে আমরা চ্যাম্পিয়ন হই। স্বীকৃত টুর্নামেন্টে এটাই আমার ব্রিজে প্রথম বড়ো জয়।
১৯৮১ সালের নভেম্বরে আমি দূর্গাপুর ছেড়ে EIL জয়েন করি। এবং সঙ্গে  সঙ্গে ব্রিজ টীম তৈরী করে EIL এর প্রতিনিধিত্ব করি। এরই সাথে Petroleum Sports Control Board-র অধীনে তেল কোম্পানীগুলোর সঙ্গে  Annual Championship টুর্নামেন্টগুলোতেও খেলতে শুরু করি। এবং  চ্যাম্পিয়ন হতে থাকি। এইসময় National Championship -এ দিল্লি স্টেট্কেও প্রতিনিধিত্ব করবার সুযোগ আসে। প্রসঙ্গত বলি, একাধিকবার আমি দিল্লী স্টেট্ চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। এখানে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্রীজ  খেলোয়ার সুভাষ গুপ্তে ও একাধিকবার National Champion দল “FORMIDDABLE”  এর সঙ্গেও প্রতিযোগীতা হয়েছিল।
২০০৩ এ আমি সামার ন্যাশনালে  সেকেন্ড রানারস আপ  হই। Petroleum Sports Control Board-র আওতায় আমি খেলেছিলাম EIL এর হয়ে। সেমিফাইনালে আমরা রেলওয়ের টীমের কাছে অল্পের জন্য হেরে যাই। সেবছর রেলওয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো। রেলওয়ের টীমে প্রীতীশ খেলছিল। এটাই আমার, তখন পর্যন্ত ব্রীজে সেরা র‍্যাংক। কোয়ার্টার ফাইনালে আমরা কমল’দার টীমকে হারাই।
ভারতের মোটামুটি সকল  বড় বড়  টীম এবং খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধেই আমাকে খেলতে হয়েছে। বিশেষ করে রবিদা (প্রয়াত), কমল’দা, সুভাষ, মানস, প্রীতিশ (প্রয়াত) এবং অনেক International Grand Master দের সঙ্গে অনেকবার দ্বৈরথ সমর হয়েছে। এই মুহুর্তে ব্রিজে ভারত এশিয়ার সবথেকে শক্তিশালী দেশ। ১৯৯৬ সালে আমি দিল্লির প্রতিনিধিত্ব করে একবার পাকিস্তানেও খেলতে যাই। সেবছর ভারত থেকে মোট ছটা  টীম পাকিস্তানে খেলতে গিয়েছিলো, আর তারাই সব পুরস্কার জিতে নেয়। HCL প্রতি বৎসর দিল্লীতে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। এই টুর্নামেন্টের প্রাইজ মানি অনেক। আমিও অংশ নি, এবং কিছু ফললাভও হয়।
প্রতিযোগীতামূলক খেলায় আমার কিছু প্রাপ্তির উল্লেখ করি
• ১৯৬৮, চ্যাম্পিয়ন, 24 Parganas District Pair ইভেন্ট, পার্টনার সূর্য্য রায়। এটি BFI স্বীকৃত টুর্নামেন্টে আমার প্রথম জয়। যদিও এটি ছোট গণ্ডির মধ্যে খেলা, সর্বভারতীয় প্রতিযোগীতায় অতটা গুরুত্ব নেই, তবু আমি ছাত্র হিসেবে (তখন বিই কলেজে থার্ড ইয়ারে পড়ি) সেটাই আমার বড় পাওনা, আমি আজও গর্ববোধ করি। 
• ১৯৬৯, চ্যাম্পিয়ন, Howrah District Pair ইভেন্ট, পার্টনার পাকু’দা (বিই কলেজ)
• ১৯৭২, সেকেন্ড রানার্স, W. B. Cavendish Pair ইভেন্ট (স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপ), পার্টনার সুর্য্য রায়
• ১৯৭৩, চ্যাম্পিয়ন, বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, পার্টনার শঙ্কর মুখার্জী
• ১৯৭৬, চ্যাম্পিয়ন, Inter Steel Team ইভেন্ট (পাঁচটি স্টীল প্ল্যান্ট),পার্টনার লোকনাথ ভট্টাচার্য্য। সর্বভারতীয় BFI স্বীকৃত টুর্নামেন্টে এটাই আমার প্রথম জয়। আগেরগুলি জয়গুলি ডিস্ট্রিক্ট বা স্টেট পর্যায়ের।  
• ১৯৮৭, চ্যাম্পিয়ন, PSPB (Petroleum Sports Control Board) Master Pairs (Oil & Gas PSU Companies), পার্টনার সুব্রত বৈরাগী
• ১৯৯৫, চ্যাম্পিয়ন, Delhi State Championship Team ইভেন্ট (৬ জনের টীম)
• ১৯৯৭, চ্যাম্পিয়ন, Assam Open Bridge Team ইভেন্ট (৪ জনের টীম)
• ১৯৯৩ থেকে ২০০৩, পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন, PSPB Team ইভেন্ট (৬ জনের টীম)
• ২০০৩, সেকেন্ড রানার্স আপ, Summer National ইভেন্ট (৬ জনের টীম)। Petroleum Sports Control Board-র আওতায় আমি EIL এর হয়ে খেলেছিলাম। 
• ২০১৮, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ২৫, Annual Ranking, Master pairs ইভেন্ট, পার্টনার অশোক সিনহা
• ২০২২, র‍্যাঙ্ক ১৩, HCL International IMP Pairs ইভেন্ট, পার্টনার অমরজিত ওয়াধান 
• ২০২৩, র‍্যাঙ্ক ৮, Holkar Pairs IMP National ইভেন্ট, পার্টনার পারিমল ভাহলিয়া
• ২০২৩, র‍্যাঙ্ক ১২, Behuria (Bhubaneshwar) National Team ইভেন্ট (৫ জনের টীম)
উপরের তালিকা দেখলেই বোঝা যাবে যে ২০১৮ সালেই আমি আমার সেরা র‍্যাংক অর্জন করি। ২৫ তম, আমার পার্টনার অশোক সিংহকে সাথে নিয়ে। Bridge Federation of India (BFI), ভারতের ব্রিজ খেলার নিয়ামক সংস্থা ২৪ র‍্যংক পর্যন্ত সিলেকশন ট্রায়ালে ডেকেছিল। আমরা মিস করলাম। বর্তমানে আমার ব্রিজের লেভেল Senior Master, আশা রাখি খুব শীঘ্রই Life Master হবো।
** উপরে যতগুলি টুর্নামেন্টের উল্লেখ করেছি, তার প্রতিটিই BFI স্বীকৃত টুর্নামেন্ট।
*** ১৯৭৮ আমার বিয়ের পরে স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রী-পুত্র নিয়ে সংসারের অনেক কাজে ব্যাস্ত হয়ে যাই। তাই প্রায় বছর দশেকের জন্য টুর্নামেন্টে আমার খেলা কমে যায়।
ব্রিজের জগতে এখন আমি অনেকটাই প্রাক্তনী, তবু আমার ব্রিজ খেলা অব্যাহত।
আজকাল ব্রিজ খেলায় প্রচুর প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হয়। বিডিং বক্স, ব্রিজ মেট, কনভেনশন অনেক পরিনত এবং নিয়ম হয়েছে, প্রতিপক্ষও যেন বিডিং বুঝতে পারে। ফাইন্যালে এখন স্ক্রীন ব্যাবহার করা হয়। সব মিলিয়ে চালাকি, অসদুপায় আর ভাগ্যের উপর নির্ভরতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তার সাথে Ministry of Education প্লেয়ারদের র‍্যাঙ্কিং নির্ণয় করে, ট্র্যাক রাখে। এতে ভালো খেলোয়ারদের তালিকা তৈরি হয়। আর সেরা খেলোয়াড়রাই এখন দেশের প্রতিনিধিত্ব করে।
এখন ইন্টারনেটে দুটো অনলাইন ব্রিজ খেলার সাইট  আছে।  বিবিও  তে সারাদিন খেলা হয়। আর Bridge From Home এ শুধুই টুর্নামেন্ট হয়।
*********
চতুরঙ্গ
আধুনিক কালে যা দাবা বা CHESS নামে পরিচিত – তার জন্ম হয় ভারতে, অনুমানিক ষষ্ঠ শতাব্দীতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়। নাম ছিল চতুরঙ্গ, ৮x৮—মোট ৬৪ বর্গের একটি বোর্ড থাকত এবং দুই প্রতিপক্ষ ১৬+১৬=৩২ টি গুটি নিয়ে খেলতেন। রাজাকে রক্ষা করতেন তার এক মন্ত্রী, ২টি গজ, ২টি ঘোড়া, ২টি রথ (বিদেশে এটিকেই বলে নৌকা), এবং ৮ জন পেয়াদা। এই ছিলো এক এক পক্ষের সামগ্রিক বল। বোর্ডের দুই বিপরীত প্রান্তে বসতেন দুই খেলোয়াড়। অর্থ—বা ক্ষুদ্র রাজ্যাংশ বাজি থাকতো।
মতান্তরে, চতুরঙ্গ মহাভারতের সময়ও প্রচলিত ছিল, তবে এর স্বপক্ষে যুক্তি বিশেষ নেই। একশো বৎসর পরে পারস্যর বণিকদল খেলাটিকে নিজেদের দেশে নিয়ে যায়, ও নাম দেয় শতরঞ্জ। তারপর পারস্য ঘুরে এটি স্পেনে পৌঁছে যায়, এবং নাম পালটে হয় CHESS.
তারপর খেলাটির কিছু রূপান্তর ঘটে। নতুন নতুন নিয়মকানুন তৈরী হয়। Chess theories were started getting studied and developed.
মোটামুটি আঠারো শতকের পর থেকেই বিশ্বে দাবা বর্তমান রূপ গ্রহণ করে। খেলাটির, ও নিয়ম-কানুনের, এরপর, সামান্যই রদ-বদল হয়েছে। দাবার বিভিন্ন গুটির নতুন নাম হয়ে গেলো রাজা(King), মন্ত্রী (Queen), নৌকা/রথ (Rook), গজ (Bishop), ঘোড়া (Knight) ও বোড়ে (Pawn)। মানে অধিকাংশই রাজদরবারের লোকজন। এখানে বলে রাখতে হয়, এই খেলায় সবথেকে শক্তিধর হলেন মন্ত্রী (Queen)।
নতুন, বলা ভালো আধুনিক নিয়মকানুন তৈরি হয়ে গেলো –
১। বিশদ বিবরণের জন্যে এই লেখার শেষে URL LINK দেওয়া হলো।
২। টস প্রথার মাধ্যমে জয়ী প্রথম চাল দেবেন, সাদা গুটি দিয়ে।
৩। বোর্ড এমন ভাবে রাখতে হবে যাতে ডানদিকের কোনে সাদা ঘর থাকে। মন্ত্রী সাদা বা কালো, রঙ মিলিয়ে বসে। প্রতিটি ঘরের জ্যামিতিক (co-ordinate geometry) নাম আছে—যেমন A1, D3, ইত্যাদি। ওপরের ছবিতে যেরকম দেওয়া আছে।
৪। প্রতিযোগীতায় লীগ বা নক আউট, উদ্যোক্তারাই ঠিক করেন, এবং দু’ পদ্ধতিতে খেলাই সারা বিশ্বে স্বীকৃত।
৫। খেলোয়ারদের নিজেদের পছন্দ ও স্কিল অনুযায়ী দাবা খেলার তিনটি স্তর আছে। Opening, Mid Game, আর End Game. Opening-এ বোর্ডের মাঝের ঘরগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তারের, মানে কৌশলগত জমি দখলের প্রতিযোগিতা চলে। Mid Game, ইংরেজিতে সহজে বোঝানো যাবে is contested by combination of pieces, for Tactical Attacks, and defense. End Game মানে খেলার অন্তিম পর্যায়ে যখন উভয় পক্ষই বিপক্ষের আক্রমণে নিজেদের কিছু শক্তিক্ষয় করেছেন, এবং বিপক্ষের মন্ত্রীকে (Queen) ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছেন। মন্ত্রীকে নির্মূল করতে পারলেই জয়ের পথ অনেকটা সুগম হয়ে যায়।
৬। সবশেষে রাজার পালানোর পথ বন্ধ হলেই খেলা শেষ, দাবার ভাষায় কিস্তি মাত (Check Mate)।
আমার নিজের কথা বলি –
আমার দাবাখড়ি ১২ বৎসর বয়সে, গুরুদেব ছিলেন আমার জেঠু। জেঠুর সঙ্গেই খেলতে খেলতে দাবা খেলাটার কৌশলগুলো আয়ত্ত করে ফেলি। কিছু স্থানীয় ক্লাব ট্যুর্নামেন্ট জিততে শুরু করি। এরপর বি,ই,কলেজে এসে প্রায়ই হোস্টেল চ্যাম্পিয়ন হতাম। সেকেন্ড ইয়ারে ওঠার পর স্বপন’দা (তখনের থার্ড ইয়ার) দাবায় আমার প্রশিক্ষক হলেন। ততদিনে দাবা খেলাটাকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি। আমি ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে দাবার বই এনে পড়াশোনা শুরু করি। বই থেকে নোট বানাই; গ্রান্ড মাস্টারদের খেলা বুঝবার, বিশ্লেষণ করবার (study) চেষ্টা শুরু করি, ফলে নিজেই বুঝতে পারি যে আমার খেলার উন্নতি হয়েছে, এখন অনেকটাই পরিণত। সেই সুবাদে বিই কলেজের হস্টেলে হস্টেলে এত এত দাবাড়ুর ভীড়ে ফোর্থ ইয়ারে আমি কলেজ টীমে নিজের জায়গা করে নিলাম।
আমার দাবা খেলার কিছু খতিয়ান নীচে দিলামঃ-
• ১৯৬৯-১৯৭১- কলেজ টীমের প্লেয়ার। স্বপনদা, কনকদা, আমি…, আমরা ’৬৯ ইন্টার ইঞ্জিনিয়ারিং উইন্টার মিটের দাবায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। 
• ১৯৭১—১৯৭৩ সালে ২৪ পরগনা ডিস্ট্রিক্ট চ্যাম্পিয়ন.
• ১৯৭২—ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ নম্বর স্থানে। প্রতি জেলার চ্যাম্পিয়নরা এসেছিলেন, কয়েকটি জেলা থেকে দুজনও এসেছিলেন। 
• ১৯৭৪-১৯৭৮ সালে দাবা (এবং ব্রিজে) দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার প্রতিনিধি হয়ে বিভিন্ন ইন্টার স্টীল প্রতিযোগীতায় খেলেছি। সাধারণত র‍্যাঙ্কে তিন নম্বরেই থাকতাম। এই টুর্নামেন্টে কয়েকজন নামী ইন্টারন্যাশনাল মাস্টারসদের বিরুদ্ধেও আমি খেলেছি। 
• ১৯৮২-১৯৮৮ সালে EIL অফিস চ্যাম্পিয়ন, আর কয়েকবার রানার্স আপ। EIL এর হয়ে PSPB (Petroleum Sports Control Board) চ্যাম্পিয়নশিপে খেলে টিম ইভেন্টে সেকেন্ড রানার্স আপ। PSPB টুর্নামেন্টেও প্রতি কোম্পানির হয়ে খেলেছিলেন কয়েকজন ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার্স। 
• ১৯৮৭ সালে দিল্লী স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে র‍্যাঙ্ক ৫।
এরপর আমার নিজের পারিবারিক কারণে, ও অফিসের কাজের চাপে প্রতিযোগিতামূলক দাবা খেলা থেকে কিছুদিনের জন্য বিরত হতে হয়, যার জন্য দীর্ঘ দিনের ছুটির প্রয়োজন।
• ২০২৩ সালে Ashiana Jasn-9 দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ ফর সিনিয়র সিটিজেনস এর চ্যাম্পিয়ন। ৫ টি রাজ্য থেকে ৫৬ জন এই টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছিলেন। 
পৃথিবীর সর্বকালের সেয়া দশ জন দাবাড়ুঃ-
Rank / Rating / Player / Year Of Championship
1 2895 Bobby Fischer 1972
2 2886 Garry Kasparov 1985 -2000
3 2885 Mikhail Botvinnik 1948-1957;1958-1960;1961-1963
4 2878 Emanuel Lasker 1894-1921
5 2877 José Capablanca 1921-1927
6 2860 Alexander Alekhine 1927-1935; 1937-1946
7 2848 Anatoly Karpov 1975-1985
8 2833 Viswanathan Anand 2000-2002 (FIDE); 2007-2013
9 2826 Vladimir Kramnik 2006-2007
10 2826 Wilhelm Steinitz 1886-1894
র‍্যাংকের এর জন্য কিছু বড়ো বড়ো প্রতিযোগীতায় ELO পয়েন্ট দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী র‍্যাংক ঠিক হয়। উপরের র‍্যাংক নির্ধারনের জন্য ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটির (IOA) দ্বারা স্বীকৃত দাবার আন্তর্জাতিক সংস্থা FIDE নিজেদের Jeff Sonas’ রেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে এটি করেন, দাবার ভাষায় Chessmetrics, যাকে ELO র থেকেও বেশি এবং দীর্ঘদিনের জন্য মান্যতা দেওয়া হয়।
২০০ বছরের তথ্যের ভিত্তিতে উপরের র‍্যাংক তৈরি হয়েছে। যেমন ২০১৩ সাল থেকে এখনের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নরওয়ের Magnus Carlsen এখনও পর্যন্ত ২৮৫৯ ELO পয়েন্ট অর্জন করেছেন, বর্তমানের দিনে সর্বাধিক, কিন্তু উপরের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় নেই।
ভারত ও দাবা খেলা: –
ভারতে চিরকালই দাবা খেলার প্রচলন ছিল, তবে তার নিয়ম ছিল কিছুটা আলাদা।
গত ২০২২ সাল পর্যন্ত ভারতের ৭৫ জন গ্রান্ডমাস্টারসের (GM) মধ্যে এখনের সেরা পাঁচজন হলেন
Name & ELO Rating
Viswanathan Anand, 2754
Gukesh D –JUNIOR Level, 2744
Vidit Santosh Gujrathi, 2719
Koneru Humpy, 2574
Harika Dronavalli, 2507
উপরের তালিকায় শেষোক্ত দুইজন মহিলা GM
কিন্তু ভারতের সর্বকালীন সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মালিক মীর সুলতান খাঁ (১৯০৩-১৯৬৬) কে ধরা হয়, যদিও পয়েন্ট সিস্টেমের প্রাপ্য সন্মান উনি পান নি। তখন ব্রিটিশ আমল, আন্তর্জাতিক দাবায় প্রথম ভারতীয় প্রতিনিধি ছিলেন মালিক মীর সুলতান খাঁ। তিনি পরপর তিনবার অল ইংল্যান্ড খেতাব জয় করেন, সেই সময়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে জয়ী, এবং দাবা অলিম্পিকে (Chess Olympiad) গ্রেট ব্রিটেনের প্রতিনিধি ছিলেন। দুর্ভাগ্য এই যে তিনি তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা কোথায়ও কোনও দিন পেলেন না। দেশভাগের পরে তিনি পাকিস্তানে চলে যান। দাবা থেকে অবশ্য তিনি আগেই অবসর নেন। আমার পড়াশোনায় ১৯৩০-৩৩ সময়ে তিনি ছিলেন বিশ্বের সেরা দাবাড়ু। এবং সেই সময়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, সর্বকালের সেরাদের একজন Capablanca র সাথে উনাকে তুলনা করা হতো। Arpad Elo র থিয়োরি অনুযায়ী মীর সুলতান খাঁ’র ELO রেটিং ছিলো ২৫৩০, যদিও একই থিয়োরি অনুযায়ী আমার হিসাবে উনার ELO রেটিং কম দেওয়া হয়েছে, অন্তত ২৭৫০ হওয়া উচিৎ।
The chess games of Arpad Elo. * Overall winning percentage = (wins + draws)/2) / total games. PRONUNCIATION: Arpad Emrick Elo, born in Hungary in 1903, emigrated to the US and became a professor of physics at Marquette University in Milwaukee, Wisconsin
আমাদের ভারতের দাবায় সুলতান খাঁ ডিফেন্সিভ সিস্টেমের উদ্ভাবন করেন “QUEEN INDIA DEFENSE” এবং এটি এখন বিশ্বের অনেক সেরা খেলোয়ারেরা প্রয়োগ করেন। এরপর রাশিয়ান জিএম NIMZOWITCH উদ্ভাবন করেন NIMZO-INDIAN ডিফেন্স, সেটিও এখন বেশ জনপ্রিয়। David Hooper আর Kenneth Whild বলেন “perhaps the greatest natural player of modern times.” সেই একই সময়ে ১৯৩৩ সালে ফতিমা খাতুন অল ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হন, তিন পয়েন্টের ব্যাবধানে, দশটি জয়, একটি ড্র, আর কোন হার নেই।
১৯৭২ সালে ববি ফিশার আর বরিস স্প্যাস্কির সেই সাড়া জাগানো বিশ্বখেতাবের লড়াইর পর থেকেই ভারতে দাবার চর্চায় জোয়ার আসে। বিশ্বনাথন আনন্দ ভারতের প্রথম গ্র্যান্ড মাস্টার (G.M)। গত ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত ভারতে ৭৫ জন G.M ছিলেন, বর্তমানে ৮১ জন; তার মধ্যে ১৮ জন মহিলা (W.G.M.); ১২৪ জন ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার (I.M.), এবং ৪২ জন WIM আছেন। তামিলনাড়ুতেই বেশী সংখ্যক G.M (২৪ জন)।
সারা বিশ্বে এখন গ্র্যান্ড মাস্টারের সংখ্যা ২,০০০/- এর কাছাকাছি, এর মধ্যে রাশিয়াতেই ২৫০ জনের অধিক গ্র্যান্ড মাস্টার খেতাবধারী আছেন। রাশিয়ায় আমি সমস্ত পার্কে টেবিল, দাবার বোর্ড, ও দাবার গুটি সাজানো থাকতে দেখেছি। ইয়োরোপেও প্রায় প্রতি কাফেতেও এই ব্যবস্থা আছে।
মাইন্ড গেম হিসাবে দাবা শ্রেষ্ঠ দুটি খেলার অন্যতম। পাঠ্যপুস্তকের বাইরে মেধার বিকাশে সব স্কুলেই এর প্রশিক্ষণ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
প্রসঙ্গত — দাবাড়ুদের সাধারণত: ALZEIMERS হয় না।
1.0 https://www.chess.com/lessons/skill-level/beginner

Sahityika Admin

Add comment