আমার কবিতা
© রামু দত্ত, ১৯৮১ ইলেকট্রনিকস ও টেলি কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং
কাছে নেই বড়ো ঢেউয়ের নীলসমুদ্র,
সমুদ্র নেই, নেই তাই বালির বিশাল তট।
সমুদ্র ছাড়ো, সেরকম নদী কই এ গাঁয়ে
যা আছে তাতে ভাসে না নৌকো
শুনি না ভেসে আসা ক্লান্ত ভাটিয়ালি
ওড়ে না গাঙচিলের দল।
নেই কাছে কোনো বরফ ঢাকা পাহাড়।
চলে যেতো মাটির ছোটোখাটো
সবুজ বা ধূসর উঁচু ঢিবি হলেও।
নেই ঘন জঙ্গল, বাঘ ভাল্লুক অনেকদুর
কই বনমুরগী বনশিয়াল বুনো খরগোশ।
দেবীর একটা ক্ষুদ্র অঙ্গ পড়লেও
হতো মন্দির, এখানে নামতো ভক্তদের ঢল।
তবু তুমি এসো –
বরণ করে নেবে যা আছে তাই দিয়ে।
কিছুদিনতো কেটে যাবে ভালো ভাবে।
১৮ এপ্রিল, ২০২৬
*******
ইচ্ছে করে সারাদিন হোক সূর্যোদয়ের মতো।
সামনে শুয়ে ছোট শান্ত ঢেউয়ের নদী
আকাশে ধূসর গেঞ্জি পরা টুকরো টুকরো মেঘ
ঘুরে বেড়ায় ভেড়ার পাল মতো দিকভ্রান্ত
হাওয়া ভিজিয়ে দেয় কারো উড়ন্ত চুল।
নৌকা ভাসায় মাঝিরা একে একে জলে
কেউ আসে দৌড়ে, চুপচাপ বসে
নৌকো পাটাতনে অচেনা লোকের পাশে
যাবে ওপাড়ে, হয়তো আরো দূরে
আমার কোনো তাড়া নেই ,
না মাছধরার না ওপাড়ে যাওয়ার।পাড়ে থাকি বসে, শিশুর মতো
কাদা মাটি নিয়ে ভাঙাগড়া খেলা।
কোনো কাজ নেই –
তাই নেই কারো অপছন্দের ভুলচুক।
আজকাল ভোরে উড়ন্ত বিমান দেখলেই
আমার খুব দুরে যেতে ইচ্ছে করে।
দেখতে ইচ্ছে করে থমকে থাকা সূর্যোদয়।
২৪ মার্চ, ২০২৬
******
চত্তিরের কাঠফাটা রোদ্দুরে খলিল লাঙ্গল দিয়ে চলেছে।
রোগা কালো পিঠ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে ঘাম
তোয়াক্কা নেই পারিপার্শ্বিক পৃথিবীর।
একটা ছোটো কঞ্চি দিয়ে সামনের
গোরু দুটোকে একহাতে শাসন করে চলে, ‘হেই হ্যাট হ্যাট হ্যাট..”
আর এক মুঠো ধরেছে লাঙলের বাঁট
লাঙলের ফাল দিয়ে চিরে দেয় খেত।
পেটে তেমন ভাত না পড়লে হাতে আসে না জোর
ফাল মাটির তেমন ভেতরে যায় কই?
দশটার বাস ধুলো উড়িয় যখন শহর পানে যায়
মেয়ে আমিনা আসে গামছায় মুড়ি বেঁধে
সাথে দুটো ছাঁচি পিঁয়াজ এট্টু গুড়।
সামনে মাঠপুকুরের টলটলে জল।
বুড়ো বটের নীচে বসে জলপান।
এখন কতকিছুই গেছে পাল্টে –
সগ্গে গেছে বুড়ো বট মাঠ পুকুর
গিলে নিয়েছে রায় বাবুর জমি।
সগ্গে গেছে এ গাঁয়ের সব লাঙল ঢেঁকি।
২০ মার্চ, ২০২৬
*******






Add comment