সত্যদাস স্মরণে’
সুদীপ রায়, ১৯৭০ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
অজয় দেবনাথ, ১৯৭০ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

সুদীপ রায়ের স্মৃতিচারণ
‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।’
সত্যদাস চলে গেল … আগাম নোটিশ না দিয়েই। কোন সত্যদাস? সত্যদাস চক্রবর্তী … ১৯৭০ মেকানিক্যাল। গতকাল, চব্বিশে জুলাই শুক্রবারের সকাল সেই দুঃসংবাদ নিয়ে এল। সত্যদাস আর নেই।
তেমন কিছু অসুস্থ ছিল না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেবেলায়ও আমাদের আর এক বন্ধুর সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলেছে। সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে শরীরে অস্বস্তি বোধ, মুহূর্তে সব শেষ।
সত্যদাস .. চেতলা বয়েজ স্কুলের কৃতী ছাত্র। বুদ্ধিদীপ্ত চোখ, রসিক মন, আড্ডায় সহাস্য উপস্থিতি, ক্যুইজ মাস্টার, আবৃত্তি তে অসাধারণ, বন্ধুবৎসল … এই সব মিলিয়ে মিশিয়ে ছিল সত্যদাস। আর ছিল ডাই-হার্ড উত্তমকুমার ফ্যান। হোস্টেলে উত্তম-সৌমিত্র বাগযুদ্ধে গলা ফাটিয়ে উত্তমকুমারের পক্ষে অংশ নিত। সেইসময় উত্তম-সুপ্রিয়ার ‘চৌরঙ্গী’ রিলিজ করেছিল। উত্তমের অভিনীত চরিত্র সত্যসুন্দর বোসের নিক-নেম ‘স্যাটা বোসের’ অনুকরণে সত্যদাসেরও নিক-নেম হয়ে গেছিল ‘স্যাটা’ চক্রবর্তী।
সত্যদাস সস্ত্রীক থাকত আনোয়ার শা রোডে মেকন এপার্টমেন্টে। একমাত্র পুত্র, বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত প্রকৌশলী এবং শখের ইউ টিউবার। পিতার মতই একনিষ্ঠ উত্তম ফ্যান। বাবার অনুপ্রেরণায় উত্তমকুমারের ওপর অনেক তথ্যপূর্ণ রীল বানিয়েছে। সত্যদাস সগর্বে সেগুলো আমাদের দেখিয়েছে।
সত্যদাস মাঝেমধ্যে অবশ্য এটা সেটা রোগে ভুগেছে। সেটা এ বয়সে অস্বাভাবিক কিছু নয়। হালে শরীর ভালোই ছিল। কলকাতা মেকনে চাকরি করেছে বহুদিন। ওর সহকর্মীদের কাছে ওর কাজের আর কর্মক্ষমতার উচ্ছসিত প্রশংসা শুনেছি। সে সবই এখন ইতিহাস হয়ে গেলো।
‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে?’
একদিন সকলেই চিরতরে চলে যায়। এটাই অমোঘ নিয়ম। বিচ্ছেদের আছে বেদনা।
রবি কবি কিন্ত লিখেছেন …. ‘তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে।’
লিখেছেন ….
‘মৃত্যু আলো নিভিয়ে দেয় না; বরং ভোর হওয়ার সাথে সাথে এটি প্রদীপ নিভিয়ে দেয়।”
সেই নতুন ভোরে অনন্ত আনন্দে তুই ভালো থাকিস সত্যদাস।
কেউ কেউ চলে যায় আগাম জানান দিয়ে,
কেউ কেউ যায় … সহসা, হঠাৎ।
পড়ে থাকে কিছু পুরাতন স্মৃতি
বিধুর বিষাদে মন ভরে অকস্মাৎ।
যে যাওয়ার সে তো চলে গেল,
কীবা আর এল গেল তার?
যে জন রইল পিছে পড়ে,
বয়ে যেতে হবে তাকে চিরদিন,
অসহ সে বিচ্ছেদের ভার।
মৃত্যু .. সে তো সত্য নিদারুণ
যদিও তা জানে বিশ্বলোক,
তবু তাই বজ্রশেল হানে,
উথলি ওঠে সে কত শোক।
যাও বন্ধু যাও সেই পথে,
যাত্রা শুভ হোক হে তোমার।
পাও তুমি অমৃত সে জীবন,
পার হও শান্তি পারাবার।
********
অজয় দেবনাথের স্মৃতিচারণ

হারিয়ে ফেললাম কলেজ জীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সত্যদাস চক্রাবর্তীকে (১৯৭০ মেকানিক্যাল) । একই ডাউনিং হোষ্টেলে কলেজ জীবনের শুরু, জিম-এ সেই আলাপ আরো জমে উঠেছিল। তারপর পাশ করে যে যার কর্ম আর পারিবারিক পরিসরে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। নতুন করে আবার যোগাযোগ শুরু হল ই-মেইল আর ইন্টারনেটের দৌলতে। ১৯৭০ বিক্কলেজ প্রাক্তনীদের একটা ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মধ্যে আমরা ঢুকে পড়লাম।
সত্যদাসের স্বর ক্ষেপন ও বাচন ভঙ্গিটি ছিল ভারী গম্ভীর ও সুন্দর। অসংখ্য ভালো কবিতা ও লেখা সত্যদাস আমাদের বিভিন্ন সময়ে শুনিয়ে আনন্দ দিয়েছে ও সমৃদ্ধ করেছে। আড্ডা জমাতে ওর জুড়ি ছিলো না, আর কথার পিঠে কথা আর স্বতঃস্ফূর্ত মজার মজার রস সিক্ত প্রত্যুত্তরে ও মধ্যমনী হয়ে উঠতে পারতো।
বছর ছ সাত আগে সত্যদাস মারণ রোগে আক্রান্ত হয়, কিন্তু প্রবল মনের জোর ও জীবনীশক্তির মাধ্যমে সেই রোগের ছোবল এড়িয়ে ও আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে কিন্তু ও এবার আর সেই ধাক্কা সামলাতে পারলো না। গত শুক্রবার (২৪/০৭/২০২৬) ভোরে ও স্ত্রী জয়শ্রী, এক ছেলে, বৌমা ও নাতিকে রেখে সকলের মায়া কাটিয়ে রওনা দিল মহাপ্রস্থানের পথে। সত্যদাস যেখানেই যাস ভালো থাকিস, আমাদের ও টিকিট কাটা আছে …. যে কোন দিন দেখা হয়ে যেতে পারে।
Shocking news .. I knew him so much .. one year senior in BE College, close colleague in Mecon, few visit in his Mecon Tower flat and many more communique .. can’t believe .. everlasting memories of you Satya da .. seeing, hearing and sensing you
– Bhuboneswar Ghosh
I can’t believe that my most adorable Satya Da is no more with us. Worked together for many years at 50 Chowringhee office. May his departed soul rest in peace for ever wherever he is!
– Pradip Kumar Mukhopadhyay
So sorry to hear the sad news that Satya passed away. May his soul Rest in Peace. I will remember for the rest of my life a piece of dialogue… “তুমি কে? আমি সত্য, চিনতে পারছো না?”
– Asok Das

********






Add comment