সাহিত্যিকা

স্মৃতির দিনগুলি

স্মৃতির দিনগুলি
© স্নিগ্ধা বাসু বিশ্বাস, ১৯৬৮ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

ছোটবেলার স্কুলের দিন থেকেই নিজের মতন করে কত কিছু না লিখতে হয়েছে। বাংলাতে রচনা, বা ইংলিশ essay, তারপর কলেজে, হায়ার স্টাডিজের সময় ল্যাব বা প্রজেক্ট রিপোর্ট, এইসব নিজের মতন করে নিজের ভাষায় লিখেছি। কিন্তু আজ এই বয়সে কেউ যদি আমাকে নিজের বিষয়ে রচনা লিখতে বলে, তাহলে যা অবস্থা হয়!!!! আমি অসাধারণ নই, অতি সাধারণ, তাই নিজের ব্যান্ড বাজানোর প্রশ্নই ওঠে না। তাও ভাবলাম একটি মেয়ের সাধারণ জীবনের কিছু কথা লেখার চেষ্টা করা যাক্।

রক্ষণশীল পরিবারে আমার জন্ম, দাদু ছিলেন জজ, কিন্তু বড়ই কনজারভেটিভ। সেই তুলনায় আমার ঠাকুমা ছিলেন প্রগ্রেসিভ। দাদু দক্ষিণ কোলকাতার অভিজাত পাড়ায় বাড়ি করেছিলেন। আমাদের একান্নবর্তী পরিবারে বাবা-কাকারা একসঙ্গে থাকতেন। বাড়িতে ছিল খুব সুন্দর একটা বাগান, অনেক বড় ছাত, বড় বড় দালান ও বারান্দা ছিল। ছোটদের বাইরে যাবার অনুমতি ছিলো না, বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে ডেকে খেলাধূলা করতাম।

আমরা পাঁচ ভাইবোন – দিদি বড় তারপর আমি, আমার দুই ভাই ও তারপর ছোটবোন। পিসিরা মাসিরা ও খুব কাছাকাছি থাকতেন, আসা যাওয়া লেগেই থাকতো। ভাইবোনদের সঙ্গে হুল্লোড় করে ছোটবেলা খুব আনন্দেই কেটেছে আমাদের। এখন ওখানে আমার ভাইরা থাকে। মজার ব‍্যাপার হলো যে এত বছর পর কোলকাতায় এসে আমি ওই বাড়িরই খুব কাছে আমার ফ্ল্যাট কিনেছি।

বাংলা, অঙ্ক,‍ ইংরাজীর প্রাথমিক শিক্ষা আমার মায়ের কাছে। যখন পাঁচ বছর বয়স, তখন বাড়ির কাছে, কমলা গার্লস্ স্কুলে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হলাম। তখনও নার্সারি বা কেজি ক্লাসের চল ছিল না। কমলা গার্লস তখনকার দিনে, মানে পঞ্চাশের দশকের কথা বলছি, বেশ নামী স্কুল। সবচেয়ে ভাল লাগত স্কুলের পরিবেশ। আমার পিসি কাকিমা ওনারা ওই স্কুলেই পড়েছিলেন। স্কুলে এত ভাল করে পড়ানো হতো যে বাড়িতে এসে ক্লাসের পড়া বা হোম টাস্ক নিজে নিজেই করে নিতাম। একদম নিচু ক্লাস থেকেই আমাদের স্বাবলম্বী করে দেওয়ার চেষ্টা করা হতো।

আমি ছোটবেলা থেকেই স্কুলের নানান কার্যকলাপের সাথে জড়িত ছিলাম। আমাদের স্কুলে নাচ শেখাতেন অনাদি শংকর আর মণি শংকর। রবীন্দ্রসঙ্গীত, রবীন্দ্রনাটকও শেখানো হতো। দেবব্রত বিশ্বাস, সাগর সেন, নীলিমাদি গান শেখাতেন। আমার নাচ শেখার খুব ইচ্ছে ছিল, কিন্তু গুরুজনদের আপত্তি থাকায় গান শিখতে হলো। আমার এক দাদা একদিন আমাকে “শান্তিনিকেতন আশ্রমিক সংঘে” নিয়ে যান, ওখানে অনেক গুণিজনের সান্নিধ‍্যে আসি। পরে আমি অশোকতরু বন্দোপাধ‍্যায় ও প্রসাদ সেনের কাছে গান শিখেছিলাম। স্কুলে প্রেয়ার লীডার ছিলাম।

একটু উঁচু ক্লাসে আমি হয়ে গেলাম ক্লাসের মনিটর, পরে স্কুলের প্রিফেক্ট। স্কুলে অনেক মনিটর ছিলো কিন্তু একজনই মাত্র্র প্রিফেক্ট হতো, খুবই সম্মানের পদ। স্কুলের কর্তৃপক্ষ মেয়েদের মধ্যে থেকে মনিটর আর প্রিফেক্ট বেছে নিতেন। প্রিফেক্ট লেখা একটা ব‍্যাজ আমাকে দেওয়া হয়েছিল, মা সেটা অনেকদিন রেখে দিয়েছিলেন।

আগেই বলেছি, লেখাপড়ার পাশাপাশি অন‍্যান‍্য কার্যকলাপেও আমাদের উৎসাহ দেওয়া হত, আর সেরকমই ছিল প‍্যারেড কম্পিটিশন। ১৫ই আগষ্ট সারা কলকাতা থেকে ৩৫-৪০টি স্কুল ব্রিগেড প‍্যারেড গ্রাউন্ডে এই প্রতিযোগিতায় ভাগ নিতো। ব্রিগেড গ্রাউন্ডে অন্তত সাত আটবার আমাদের স্কুলের প্যারেডে আমি গিয়েছি। সেরার প্রাইজও অর্জন করেছি। আর লম্বা বলে সবার শুরুতে স্কুলের ব্যানার থাকতো আমারই হাতে।

প্রতি বছর স্কুল থেকে আমাদের অনেক জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়া হতো। চিড়িয়াখানার বাঁদরের খাঁচাতে আমাদের অতিরিক্ত উৎসাহ ছিলো। স্কুল থেকে নিয়মিত ভালো ভালো সিনেমায় নিয়ে গেছে। এত বছর পরে সব সিনেমার নাম মনে না থাকলেও কয়েকটা নাম মনে আছে, যেমন “বেন হার, পথের পাঁচালী, টেন কমান্ডমেন্টস। স্পোর্টসেও আমি বেশ ভালো ছিলাম। ব্যাডমিন্টন খেলতাম। আাথলেটিক্স খুব ভাল লাগত। আর চু কিত কিত খেলতে গিয়ে হাত ভেঙে বসে রইলাম।

এরপর একটা ইন্টারেস্টিং ঘটনা ঘটে গেলো —- একটু আগেই বলেছি, স্কুল থেকে আমাদের অনেকরকম এক্সকার্শনে নিয়ে যেতো। ক্লাস এইটে পড়ার সময় স্কুল বাসে করে বি ই কলেজের রি-ইউনিয়নের একজিবিশনে গেলাম। প্রথম দেখেই কলেজটাকে খুব ভালো লেগে গেলো। বিরাট মাঠে তাঁবু খাটিয়েছে, আর মাঠের তিনদিকে চলছে সায়েন্স, টেকনোলজি, আর ইন্ডাস্ট্রিয়াল একজিবিশন। বি ই কলেজের ছাত্রদেরও প্যাভিলিয়ন আছে। কলেজের অনেক উৎসাহী ছাত্র নিজেদের প্যাভিলিয়নে আমাদের আমন্ত্রণ জানালো। এক জায়গায় দেখলাম, সেই প্রথম ভিডিও কনসেপ্ট নিয়ে ওয়ার্কিং মডেল। ভাবো একবার, প্রায় সত্তর বছর আগে একটি কলেজের একজিবিশনে ভিডিও প্রদর্শন। আমি সত্যি কথা বলছি, এতটাই অভিভূত হয়েছিলাম যে তিন বন্ধু মিলে ঠিক করলাম আমরা বি ই কলেজেই ইঞ্জিনীয়ারিং পড়ব। শুধু আমি নই, আমাদের স্কুলের আরও দু’টি মেয়ে বাড়িতে একই কথা বললো। আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বো। আমার কথা শুনে বাড়িতে রীতিমত অভিভাবকদের সভা বসে গেলো। মেয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চায়? বাড়িতে খবর আছে, বিই কলেজে পড়তে হলে হস্টেলে থাকতে হবে। তাহলে কি উপায়? তবে, ঠাকুর’মা আমাকে সাপোর্ট করলেন, শুরুতেই বলেছি তিনি ছিলেন যুগের অনুযায়ী অনেকটাই প্রগ্রেসিভ। এরপর আমার কলেজের ভর্তির ফর্মে বাবা সই করে দিলেন।

যথাসময়ে ক্লাস ইলেভেনের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হবার পর বি ই কলেজে ভর্তির পরীক্ষা দিলাম, চান্সও পেলাম। এবার বাড়িতে আবার অভিভাবকদের সভা বসে গেলো। মেয়েকে হষ্টেলে থাকতে হবে। ঠাকুমা আবার আমাকে সাপোর্ট করলেন। ইন্টারভিউএর ডাক এলো। মনে আছে, বোর্ডে ছিলেন ডক্টর বড়াল, শুধু একটাই প্রশ্ন করেছিলেন, কেন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চাই। বললাম, মনের কথা। ব্যাস আমার নাম লিস্টে উঠে গেলো। কলেজে ভর্তি হয়ে গেলাম।

যে আমি, স্কুলে খেলাধূলায় এতটাই জড়িত ছিলাম, সেই আমি বি ই কলেজে গিয়ে সেই সুযোগটাই পেলাম না। দু হাজার ছাত্রের মাঝে মাত্র গোটা দশেক মেয়ে ষ্টুডেন্ট। সুতরাং ক্যাম্পাস লাইফে পড়াশোনার বাইরে যা কিছু সুযোগ সুবিধা, সবই ছেলেদের জন্য। কলেজের অ‍্যানুয়াল স্পোর্টসের দিনে ব্যালেন্স রেসে মুখে চামচের ডগায় লজেন্স বা মাথায় হাঁড়ি নিয়ে দৌড় অথবা মিউজিক্যাল চেয়ার, এই ছিলো সেই সময়ে কলেজের মেয়েদের খেলাধূলা। কলেজে রিইউনিয়নের সময় চারদিন ধরে ফাংশন হতো, আর শেষ দিনে হতো ক্লাসিকাল প্রোগ্রাম। এমনিতে আমাদের নটার মধ‍্যে হষ্টেলে ফিরতে হতো, তবে ওই সময় ছাড় পেতাম। একবার খুব ভোরে ওস্তাদ বিলায়েত খান এসেছিলেন, চার ঘন্টা ধরে বাজিয়েছিলেন, সবশেষে গানের সঙ্গে ধূন – সেই দিনটা খুব মনে আছে। আমি তো সেদিন ঠিকই করে ফেলেছিলাম, ওনার কাছে আমাকে সেতার শিখতেই হবে, বন্ধুরাই আটকালো।

আমাদের হস্টেলে, মানে একটা স্টাফ কোয়ার্টার ব্লকের তিনতলা আর চারতলার সবকটা ঘর মিলিয়ে জনা দশেক মেয়ে ছিলাম। প্রথম দিনের ক্লাসে যাওয়ার কথা মনে আছে। আয়নার সামনে হাতে চিরুনি নিয়ে বসে আছি। এতদিন স্কুলে যাওয়ার আগে মা কাকিমা চুল আঁচড়ে বিনুনি বেঁধে দিতেন সেই বিনুনি বাঁধা আমার শেখা হয় নি। আমার সিনিয়র দিদি খেয়াল করলেন, আমি বোধহয় কিছু সমস্যায় পড়েছি। সব বললাম। শুনে ওঁদের কি হাসি। যাই হোক, সেদিন নতুন পাতানো দিদিই আমার চুল বেঁধে দিলেন -ব‍্যাপার হয়তো সামান্য, কিন্তু সেই যে বাড়ি থেকে অনেক দূরে, একে অন্যের খেয়াল রাখা, সেটা উপলব্ধি করেছিলাম। বি ই কলেজের সেই কয়েকটি বছরে যে কয়জন বন্ধুদের সঙ্গে দিনরাত একসাথে সুখে কাটিয়েছিলাম, পরবর্তী জীবনে তাঁদের সাথে হৃদয়ের গভীর যোগাযোগ এখনও রয়ে গেছে।

বছর খানেক পরে সিনিয়র হয়েছি। ছবি’দি এসে বললো, এবারের নতুন মেয়েদের বেসুরো গান শেখাতে হবে। এটাই নাকি র‍্যাগিং। এই দ্যাখো!! যে আমি গান শিখেছি, সেই আমাকেই বেসুরো গান গাইতে হবে? আর সেটা আবার অন্য একজনকে শেখাতেও হবে? কিছু করার নেই। দিদির আদেশ মেনে অতি কষ্টে বেসুরো গান শেখালাম। গোলমাল বাধলো ঠিক তার পরেই। বাথরুমে স্নান করার সময়, আমার গান শুনে মেয়েটি বললো, দিদি, তুমি তো ভালোই গান গাইতে পারো, তবে তখন কেন এরকম বেসুরো গান গাইলে?

মাঝে মাঝে টেবিল বাজিয়ে আমাদের গান হতো। আর নিচের তলার প্রফেসর থাকতেন তাঁদের অসুবিধা হত,তার জন‍্যে সুপারের কাছে বকুনিও খেতাম। আমাদের প্যারডি গান ছিলো, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের “বেকরার করকে হামে ইঁউ না যাইয়ে”র সুরে
“বেকরার কেন পড়া ইঞ্জিনীয়ারিং,
সেই তো বাবা ঠেলবে হাঁড়ি দিনের পরে দিন।
সবসময় গেঁড়েমি তো ভালো নয়,
তাই বলে কি বট্সে যাওয়াও চলবে না,
সামনে চেয়ে আস্তে পায়ে চলবে টিপটিপ,
সবসময়ে মনে রেখো সুপার আছে ঠিক।“

এরপর এক দোলের দিনের রাতে প্রফেসর একেসির (প্রফেসর অনিল কুমার চৌধুরী) বাড়িতে নিমন্ত্রণ, আমাকে গান গাইতে হবে। কিছু গান গাইবার পরে গাইলাম সেই “বেকরার কেন পড়া …….” হস্টেলে টেবিল বাজিয়ে আমাদের গান হতো। আর নিচের তলার প্রফেসর রত্নেশর বোস বিরক্ত হতেন।

একবার আমাদের নিশুতি রাতের এডভেঞ্চারের শখ হলো। কয়েকজন মিলে রাতের অন্ধকারে সেইসময়ের প্রিন্সিপাল প্রফেসর এসি রয়ের বাড়ির বাগানে হানা দিলাম। ওদিকে পাহারা চলছে। আমরা কয়েকজন মিলে বড় একটা কলার কাঁদি চুরি করে তারপর সমস্যায় পড়লাম এটা নিয়ে এখন কি করি? আগে তো এই নিয়ে চিন্তাই করিনি। হস্টেলে নিয়ে গেলে আর লোক জানাজানি হয়ে কেলেঙ্কারি, এমনকি শাস্তিও হতে পারে। ঐটুকু সময়ের মধ্যেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে গোটা কলার কাঁদিটাকে ওভালের পাশের ঝিলের জলে ফেলে দিলাম। এখন হাসি পায়, কেন যে সেদিন রাতের অন্ধকারে দলবেঁধে চুরি করতে গেলাম, আর কেনই বা চোরাই মাল ঝিলের জলে ফেলে দিলাম। আসলে ঐ বয়সে নিছক আনন্দের বশে আমরা কত কিই না করে ফেলি!! আরেকবার পান্ডিয়া হস্টেলের বাইরের বাগানে দেখি টোপা কুল গাছ। কটা’ই বা কুল, সামান্য কিছু। কিন্তু চোরাই মালের উত্তেজনা আর আনন্দই অন্যরকম। সেই সামান্য কয়েকটা কুল পেড়ে ক্লাসে গিয়ে সকলের মাঝে বিতরন করছি, স্যার ক্লাসে ঢুকলেন। স্যার মানে, ডঃ শংকর সেন। আর পালাই কোথায়? আমাদের স্বাধীনতা ছিলো সীমিত, আমাদের স্যারেরা সত্যি লোকাল গার্জিয়ানদের মত করে আমাদের খেয়াল রাখতেন।

এবার আমাদের সিনেমা দেখার গল্পও বলতে হয়—-
ক্লাশ হতো সকাল ৭টা থেকে ১১টা, দু ঘন্টার লাঞ্চ ব্রেক তার পর আবার ১টা থেকে ৪টে , এদিকে সিনেমা শো এর সময় ৩টে, ৬টা, ৯টা, – সব চেয়ে কাছে মায়াপুরী, ৩টের শোয়ে যাওয়া যাবে না কারণ ক্লাস আছে, আবার ৯টার মধ‍্যেই হষ্টেলেও ফিরতে হবে, তাই ৬টার শোয়ে গেলে পুরোটা দেখা যাবে না, আগেই উঠে আসতে হবে। অনেকবার আমরা ৫টার সময় গিয়ে আগে সিনেমার সেকেণ্ড হাফটা দেখে ৬টার শোতে প্রথম ভাগ দেখতাম তারপর ৮টার মধ‍্যে হষ্টেলে ফিরে আসতাম। ঐ সিনেমা হলের কর্তৃপক্ষরা আমাদের সাথে খুব সহযোগিতা করতেন।

হস্টেলের খাওয়া নিয়ে দু’একটা কথা না বললেই নয়। আমাদের কিচেন ছিলো না, অন্য হস্টেল থেকে দু’বেলাই খাবার আসতো। মোটা মোটা রুটি খেতে অসুবিধে হত। মাছ মাংস অবশ্য ছিল। ১১টার ক্লাশে প্রায়ই ছেলেদের বলতে শুনতাম “তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিন স‍্যার, মাছ ফুরিয়ে যাবে”। এই সমস্যা আমাদের ছিল না। মাসে দু’দিন স্পেশাল ডায়েট আর ফিস্টের দিন বিশেষ খাবার আসতো। অনেক সময়ে বছরের শেষে মেস ফিতে সারপ্লাস বলে ছ টাকা চার আনা ফেরৎ পেয়ে কী আনন্দ। সকলে মিলে জ‍্যাঠামশাই এর দোকানে পার্টি হতো।

কলেজে অনেক অসুবিধেও ছিলো। ক্লাসের ব্রেকে কোথায় গিয়ে বসবো? ক্যান্টিন তো পুরোটাই ছেলেদের দখলে। ইলেকট্রিকাল আর মেকানিকাল ডিপার্টমেন্টের মাঝখানে সিমেন্ট বাঁধানো জায়গাটায় আমরা ক্লাসের ব্রেকে বসতাম। সেটাও অনেকের অপছন্দ ছিলো।

এবার আমাদের মাষ্টারমশাইদের নিয়ে কিছু কথা বলি। শুরুতেই বলি, অনেক অনেক ভাগ‍্য করে এত গুণী, পন্ডিত, আর স্নেহশীল স‍্যারেদের সান্নিধ্যে আসতে পেরেছিলাম, নীচে সকলের নাম নেওয়া হল না কিন্তু আমার বক্তব্য প্রত‍্যেকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ‍্য। প্রফেসর বড়াল, প্রফেসর একেসি, প্রফেসর শঙ্কর সেন এর বাড়িতে আমাদের অবাধ যাতায়াত ছিলো। প্রফেসর একেসির মেয়ে পুপু, মিসেস বড়াল ও ওনার ছেলেমেয়েদের সাথে আমার খুব ভালো যোগাযোগ রয়ে গেছে। ম্যাথ্সের HOD প্রফেসর এস্ চক্রবর্তীকে খুব ভয় পেতাম। উনি ছিলেন খুব রাগী, আর খুব কমই ওনাকে হাসতে দেখেছি। ছিলেন প্রিন্সিপ্যাল এসি রয়। ওভারকোট পড়ে গটমট করে হস্টেলে চলে আসতেন। প্রফেসর বরদা চ‍্যাটার্জীর কথাও মনে পড়ে, উনি আমাদের সুপার ছিলেন।

কলেজ থেকে পাশ করে এইচ এম ভি-তে চাকরী পেয়ে গেলাম। কোম্পানিতে এই প্রথম একজন মেয়ে ইঞ্জিনীয়ার আসছে। সেইরকম ব্যবস্থাই (আজকের দিনে বলে ইনফ্রাস্ট্রাকচার) তো নেই। নতুন একটা ঘর আর একটা মেয়েদের টয়লেট (আজকের দিনে ওয়াশ রুম) তৈরি হয়ে গেলো। কিন্তু এতকিছুর পরেও আমার ওখানে চাকরী করা হলো না। আমার প্রগ্রেসিভ ঠাকুমা বলে দিলেন, তোমার আবদারে ইঞ্জিনীয়ারিং পড়তে দেওয়া হয়েছে কিন্তু আমাদের বাড়ির মেয়ে বউরা চাকরি করে না, যা করবে বিয়ের পরে। আর হবি তো হ, আমার হবু হাজব্যান্ড শ্রীযুক্ত রণেনবাবু ঠিক তখনই আমেরিকা থেকে ফিরে কানপুর আই আই টি তে জয়েন করেছেন। রণেন বি ই কলেজের নয় বলে একদম শুরুতে আমি একটু খুঁতখুঁত করছিলাম — ডক্টর বড়ালের কানে কথাটা গেলো। উনি আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। ডেকে ধমক দিলেন, বি ই কলেজের বাইরে কি কিছুই বোঝো না? রণেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র, সায়েন্স কলেজের স্কলার, বার্কলের ডক্টরেট। যথেষ্ট উপযুক্ত আর ভালো ছেলে। চুপচাপ বিয়েটা করে ফেলো। …… বিয়েটা হয়ে গেলো। আর অচেনা লোকটি আস্তে আস্তে চেনা হয়ে গেল। আমার এক পিসি ডক্টর নবনীতা দেব সেন সম্বন্ধ করে ছিলেন, বার্কলেতে থাকার সময় ওদের চেনাশোনা। দু’বাড়িতে যোগাযোগ করে পাকা কথাও হয়ে গেলো। বিয়ের নেমন্তন্ন করতে গিয়ে দেখি ডক্টর বড়াল, ডক্টর জয়ন্ত সেন, ডক্টর প্রভাত সিনহা রায় এনারা সকলেই রণেনকে খুব ভাল করে চেনেন। 

এবার কানপুর আই আই টি। শীতকাল, উত্তর ভারতের ঠাণ্ডার সঙ্গে আগে পরিচয় ছিলো না। চারিদিকে লনে ঘেরা খুব বড় বাংলো, যতক্ষণ সূর্য‍ থাকতো লনেই বসে থাকতাম তারপর ভেতরে এসে হীটার জ্বেলে নিতাম। বিরাট বড় ক্যাম্পাস, মানে পায়ে হেঁটে হস্টেল বা কোয়ার্টার থেকে ইন্সটিটিউট যাওয়া আসা করা বেশ পরিশ্রমের। ক‍্যাম্পাসের সবাই একলাই বা পেছনে ফ‍্যামিলি নিয়ে সাইকেলে যাতায়াত করতো। তখন আমাদের গাড়ী ছিল না, রণেন আমাকে সাইকেলের পিছনে বসতে বলায় আমি তাতে ঘোর আপত্তি জানাই। রণেন আমাকে সাইক্লিং শিখতে বললো, শাড়ী পরে সাইকেল চালাতে শিখলাম। কিছুদিন পরে ওখানে খুব বড় সুইমিং পুল হলো, বাড়ির সকলের উৎসাহে সুইমিং শিখলাম। আই আই টি তে যতদিন ছিলাম, সাইক্লিং ও সুইমিং দুটোই খুব উপভোগ করেছি, এখনো কল্পনায় করি।

বিয়ের পর প্রথমে আমি চাকরি করতাম না। আর বাড়িতে দু’জন কাজের লোক থাকাতে কোন কাজও আমাকে করতে হতো না, একটু একঘেয়ে লাগতো। একদিন রণেন বললো শহরে একটা বড় মিউজিক কলেজ আছে। গিয়ে দেখি বিরাট কলেজ, প্রিন্সিপালের কাছে বললাম গান শিখতে চাই, উনি বললেন একটা গান করুন, আওয়াজ শুনবো, বাংলা গান করলাম, উনি বললেন ভর্তি হয়ে যান। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত বলে প্রথমে একটু ভয় করতো তারপর ভালো লাগলো।

এই সময় আই আই টি তে প্রজেক্ট আসতে লাগলো। আমি প্রজেক্ট ইঞ্জিনীয়ার হয়ে কাজে জয়েন করলাম। বেশ কয়েক বছর কাজ করার পর আই আই টি তেই ইউ এন ডি পি থেকে খুব বড় “ক‍্যাড” প্রজেক্ট এলো। সেখানে রিসার্চ ইঞ্জিনীয়ার হয়ে দশ বছর কাজ করার পর, ইন্সটিটিউট ইঞ্জিনীয়ার হলাম। ইন্ডাস্ট্রির লোকেদের জন‍্যে আই আই টি থেকে প্রায়ই শর্ট টার্ম কোর্স অফার করা হতো – তাতে পড়াতাম, ল‍্যাব নিতাম। সেই সঙ্গে গুরুজিদের স্নেহ ও যত্নে – “অখিল ভারতীয় গন্ধর্ব মহামণ্ডল” থেকে সঙ্গীত বিশারদ (বি মিউজ) ও সঙ্গীত অলংকার (এম মিউজ) করলাম। গুরুজিরা আমাকে ওই কলেজে শিক্ষকতা করতে বললেন, একসঙ্গে দুটো চাকরি করা সম্ভব নয় তাই বাধ্য হয়েই ওনাদের না বলতে হলো। তবে আই আই টি ক‍্যাম্পাসে বাচ্চাদের গান বাজনা নাচ শেখার সুবিধের জন‍্য একটা মিউজিক স্কুল খোলা হলো, প্রায় ১০০-১৫০ বাচ্চা শিখতো। প্রথমে ওখানে গান শেখাতাম। দুবছর পরে প্রিন্সিপাল হলাম, গান শেখানোর সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ানো, নানা রকমের প্রোগ্রাম করানোর দায়িত্বটাও বেড়ে গেলো।

আই আই টি তে আমাদের একটা নাটকের দলও ছিল, বছরে একটা তো নিশ্চয়ই, কখনো দুটো বা তিনটে নাটকও করেছি। আই আই টি এক কসমোপলিটান ক্যাম্পাস, ওখানে নানা রাজ‍্যের নানা ধর্মের লোক এক সাথে থাকতাম বলে কালীপূজো, সরস্বতীপূজো, হোলি, দিওয়ালি, গণেশ চতুর্থী, গুরু নানকের জন্মদিন, পোঙ্গল, ইদ, ক্রিসমাস সমান উৎসাহে পালন করা হতো। কালীপূজোয় তুবড়ি বানাতাম। হোলির দিন সকাল থেকে রং খেলে সন্ধেবেলা খোলা আকাশের নীচে পূ্র্ণিমার আলোয় নাচ গান খাওয়া দাওয়া চলতো। নানকের জন্মদিনে গান গাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করসেবা ও করেছি। তাছাড়া সাই ভজন, গীতা চর্চা গ্রুপেও ছিলাম। এরকম করে চাকরি, গান, নাটক ও নানা রকম মজা করে কখন যে আই আই টি তে চব্বিশ বছর কেটে গেল বুঝতেই পারিনি।

এই সময় একটা ঘটনা আমাদের জীবন বদলে দিলো –
আগেই বলেছি আমাদের পরিবার খুব ছোট, রণেনের নিজের কোন ভাইবোন নেই। পরিবার বলতে শাশুড়িমা, রণেন, আমাদের ছেলে ও আমি। আমার শাশুড়িমা অল্প কয়েকদিন অসুস্থতার পর চলে গেলেন। আমাদের ছেলেও হষ্টেলে, বাড়িটা খুব ফাঁকা লাগতো, জায়গা বদলের দরকার ছিলো। এই সময় রণেনের কাছে CSIR এর “Central Electronics Engineering Research Institute (CEERI), পিলানীতে ডাইরেক্টর হিসাবে জয়েন করার অফার এল, আগেও এসেছিল,তখন ন‍েননি এবার নিলেন। ২৫ বছর পর আই আই টি ক‍্যাম্পাস ছাড়লাম, কিন্তু আই আই টি কানপুরের সঙ্গে এখনো গভীর যোগাযোগ আছে, কোন না কোন কারণে ঘন ঘন ওখানে যাওয়া হয়েই থাকে। রণেন পিলানী গেল, আমিও BITS Pilani তে ইলেকট্রনিক্স ডিপার্টমেন্ট এ লেকচারার হিসাবে জয়েন করলাম। কিছুদিন পড়ানোর পর মনে হলো আরও পড়াশুনা করার দরকার। মাষ্টার্স প্রোগ্রামে জয়েন করলাম। পড়ানো ও পড়া একসঙ্গে চললো – Software Systems এ মাষ্টার্স করলাম। এখানেও একটা মিউজিক স্কুল করেছিলাম, দুটো স্কুলই এখনো চলছে। ইতিমধ‍্যে রণেনের আগ্রহে জয়পুর রেডিওতে অডিশন দিয়ে নিয়মিত গাইতে লাগলাম। পড়ানো, গান শেখানো, গান গাওয়া নিয়ে সময় কেটে গেলো।

রণেন CEERI থেকে আই আই টি তে ফিরে গিয়ে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিলো, আর তারপর IIT Madras এর সহযোগিতায় একটা বেসরকারি টেলিকম ট্রেনিং একাডেমি তৈরি করার দায়িত্ব নিয়ে চেন্নাই গেলো। আর আমি চেন্নাইতে এক ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজে অ‍্যাসিসটেন্ট প্রোফেসরের চাকরি নিলাম, কর্তৃপক্ষ আমাকে CSE, IT, MCA – তিন ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব দিলেন। ৭০০ ছাত্রছাত্রী ও ৪০ জন ফ‍্যাকালটি মেম্বারের ভালো মন্দের ভার, প্রথমে একটু ভয় করলেও পরে ঠিক হয়ে গেলো।

তিন বছর দক্ষিণ ভারতে কাটানোর পর হঠাৎই আমাদের কাছে ডাক এলো গুজরাটে Reliance এর উদ‍্যোগে সদ‍্য গড়ে ওঠা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় DAIICT থেকে। সেখানে কম্পিউটার সায়েন্স কোর্সের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শেখানোর সুযোগ পেলাম। এখানে পাঁচ বছর কাজ করার পর, পারিবারিক কারণে কলকাতায় এলাম। এরপর তিনবছর কোলকাতা ও দিল্লীর নানা বেসরকারি সংস্থায় কম্পিউটার সায়েন্স পড়ালাম।

ভারতের উত্তর, দক্ষিণ,পূর্ব পশ্চিমে বিভিন্ন রাজ‍্যের ছটি বিশ্ববিদ‍্যালয়ে কাজ করে কত রকমের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হল, কত কিছু শিখলাম আর কত কিছু শেখালাম, সবচেয়ে ভাল লাগত ছাত্রছাত্রীদের। সব শেষে ২০১৪ সালে আমরা যোগ দিলাম শিব নাডার বিশ্ববিদ‍্যালয়ে। ওখানেও আমি কম্পিউটার সায়েন্স ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত দুটোই শেখাতাম। বেশ ভালই চলছিল,হঠাৎ ২০২০তে করোনা’র কামড়—অন লাইন টীচিং শুরু, তিন সেমিষ্টার পড়ালাম – ভাল লাগছিল না – ২০২১ এর মে মাসের শেষে ছেড়ে দিলাম। বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো। উত্তর প্রদেশে চাকরি জীবন শুরু করেছিলাম, নানান জায়গা ঘুরে আবার সেখানেই চাকরি জীবন শেষ করলাম। জীবনের সায়াহ্নে এসে মনে হয় জীবনে যা দিয়েছি তার থেকে অনেক বেশী ফেরৎ পেয়েছি। গুরু পূর্ণিমার দিন অথবা টীচার্স ডে তে যখন ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে ফোন বা ইমেল আসে ওরা বলে তোমার লেকচারের ওই অংশ অথবা প্রজেক্টে ওই সাজেশন কীভাবে কাজে লেগেছে অথবা তোমার শেখানো গানগুলো গাই, তখন আমার চারিপাশের জগৎটা রূপে রসে গন্ধে বর্ণে ভরে যায়। এখন কোলকাতায় আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আনন্দে অবসর জীবন কাটাচ্ছি।

বলি, সকলের ভালো হোক।

*******

 

 

Sahityika Admin

4 comments

Leave a Reply to Sarbaniprasad Chaudhuri Cancel reply

  • Snigdha di was the most dignified personality of our campus. With her beauty and nature, she was liked by everyone and never had any controversy. We saw her as a campus student. Now after 55+ years I could read a very short profile of her journey, from childhood to post retirement days.
    A great article from a great lady.
    Courtesy Sahityika. Thanks.

  • ৬০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে কয়েকটি কিশোরী কন্যা প্রিন্সিপাল এ সি রায়ের বাংলোতে নিশুতি রাতের অভিযান চালিয়ে কলা চুরি করেছিল? সেই সময় কলেজের দুরন্ত কিশোরের দলও হয়তো এই সাহস পেতো না।
    স্নিগ্ধাদি, আপনাকে কুর্নিশ না জানিয়ে পারছি না।
    আপনি চিরকাল মনের দিক দিয়ে তারুণ্যে থাকুন, প্রার্থনা করি।

  • স্নিগ্ধা, আমি একবছর তোমার ক্লাসমেট ও ব্যাচমেট ছিলাম মনে হয়। আমি ১৯৬৬ যে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পাস করে পরে ওখান থেকেই মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছি। ঐ সময়ে নারী সহপাঠীদের সঙ্গে আজকের যুগের মতো সহজ বাক্যালাপ ও আড্ডা দেবার প্রচলন ছিল না। তবে আমাদের এক সহপাঠী ও কলেজের শিক্ষক স্থানীয়ের পুত্র ও আমাদের সহপাঠী সজল সেনগুপ্ত (?) খুব স্বাভাবিক ভাবে সহপাঠীনীদের সঙ্গে কথা বলতো এবং সেই সূত্রে তোমার সঙ্গেও পরিচয় হয়েছিল। এম ই পড়ার সময়ে ল্যাঙ্গস্ডর্ফের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যানালাইসিস নামের বই আমার আর প্রয়োজন না থাকায় মনে হয় তোমাকে দিয়েছিলাম। গানের জগতে তোমার সহজ বিচরণ সম্পর্কে আমরা বিন্দুমাত্র অবহিত ছিলাম না। তবে উস্তাদ বিলায়েৎ খানের সম্পর্কে কলেজের রিইউনিয়নের অনুষ্ঠানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ আমার স্মৃতিতে চিত্রায়িত আছে- আমাদের সহপাঠী ৺তরুণ গুপ্তের পরিচালনায় বোধহয় ১৯৬৫ অথবা ১৯৬৬ সালের রিইউনিয়ন অনুষ্ঠানের সারারাত্রব্যাপী উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধেয় বিলায়েৎ খাঁ সাহেব বিনা পারিশ্রমিকে সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন শুধু একটি শর্ত ছিল- ওঁর ভ্রাতা বিখ্যাত সুরবাহার শিল্পী ইমরাৎ খাঁ কে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দিতে হবে কিন্তু নামমাত্র ১২০০ টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। অথচ তখন বিলায়েৎ খাঁ সাহেবের পারিশ্রমিক ১০০০০ টাকার মতো। ওঁর আগে বিখ্যাত খেয়ালশিল্পী তারাপদ চক্রবর্তী মহাশয় সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন তার পরে দীর্ঘ দুঘন্টা অতিবাহিত হয়ে গেলেও ট্যাক্সি করে বিলায়েৎ খাঁ সাহেবকে নিয়ে নির্দিষ্ট সহপাঠী এসে পৌঁছায় নি। পরে যখন রাত্রি শেষে ঊষার আভাস দেখা দিল তখন উনি উপস্থিত হলেন- আর উনি মোটামুটি ঘন্টা দুয়েক বাজিয়েছিলেন, তার পরে সেতারে ধুন ও পল্লীগীতির সুর ও অসামান্য প্রাপ্তি সেতারের সঙ্গে ওঁর গাম্ভীর্যপূর্ণ স্বরে গায়কী- জীবনের এক পরম আনন্দময় স্মৃতি – তোমাকে অজস্র ধন্যবাদ তোমার কলেজ জীবনের ও পরবর্তীকালের অনন্য স্মৃতি এই সুলিখিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমাদের স্মৃতিকে আন্দোলিত করার জন্য।