পর্দানসীন যুগের নক্ষত্র (ধারাবাহিক) দ্বিতীয় পর্ব
@চন্দন গুহ, ১৯৭৭ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
দ্বিতীয় পর্ব – রোকেয়া সকাওয়াত হোসেন
উনিশ শতকের শেষ ভাগে এক বঙ্গললনা সমাজের বেড়াজাল উপেক্ষা করে শিক্ষাজগতে নারীমুক্তি এনেছিলেন। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় মেয়েদের গৃহের অর্গলমুক্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের কোনো সুযোগ ছিল না। আর বড় হয়ে শিক্ষাজগতে পরিবর্তন আনার প্রয়াস সমসাময়িক নারীর চাইতেও তার কাজ আরও কঠিন ছিল, কারন তিনি ছিলেন মুসলমান। সেই কালে মুসলমান সমাজে নারী শিক্ষার কথা কেউ কল্পনাই করতো না, স্কুলেও কেউ যেতো না। কিছু সম্ভ্রান্ত মুসলমান পরিবারের মেয়েদের অবশ্য ঘরে বসে লেখাপড়া করার অনুমতি ছিল।
পাঁচ বছর বয়সে রোকেয়া মায়ের সঙ্গে কলকাতায় বসবাস করার সময় একজন মেম শিক্ষয়িত্রীর নিকট তিনি কিছুদিন লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সমাজ ও আত্মীয়স্বজনদের ভ্রুকুটির জন্য তাও বন্ধ করে দিতে হয়। তবু রোকেয়ার অদম্য ইচ্ছায় ও বড় ভাইবোনদের সমর্থন ও সহায়তায় তিনি বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, ফার্সি ও আরবী এই পাঁচটি ভাষা আয়ত্ত করেন।
১৮৮০ সালে বৃটিশ ইন্ডিয়ার রংপুরে (এখন বাংলাদেশ) এমনই এক ধনী জমিদার পরিবারে রোকেয়ার জন্ম হয়। পিতা গোঁড়া মুসলমান হলেও রোকেয়ার এক বড় দাদা ইব্রাহিম সাবির ও দিদি কারিমুন্নেসা তাঁদের ছোট বোনের লেখাপড়ায় গোপনে সাহায্য করতেন। দাদা তাঁকে ইংরেজি পড়াতেন ও আর দিদি পড়াতেন বাংলা। ঘরের চার দেওয়ালের সীমানায় দাদা-দিদির যত্নে লেখাপড়া শিখতে শিখতেই তাঁর মনে একটা স্বাধীন চেতনার উন্মেষ হয় যা পরবর্তী জীবন তাঁর সমাজ সংস্কার সংগ্রামে কার্যকর হয়েছিল।
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত বঙ্গের মহিলা কবি গ্রন্থে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সম্পর্কে লিখেছেন,
বঙ্গের মহিলা কবিদের মধ্যে মিসেস আর এস হোসায়েনের নাম স্মরণীয়। বাঙ্গালাদেশের মুসলমান-নারী-প্রগতির ইতিহাস-লেখক এই নামটিকে কখনো ভুলিতে পারিবেন না। রোকেয়ার জ্ঞানপিপাসা ছিল অসীম। গভীর রাত্রিতে সকলে ঘুমাইলে চুপি চুপি বিছানা ছাড়িয়া বালিকা মোমবাতির আলোকে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার কাছে ইংরাজী ও বাংলায় পাঠ গ্রহণ করিতেন। পদে পদে গঞ্জনা সহিয়াও এভাবে দিনের পর দিন তাঁহার শিক্ষার দ্রুত উন্নতি হইতে লাগিল। কতখানি আগ্রহ ও একাগ্রতা থাকিলে মানুষ শিক্ষার জন্য এরূপ কঠোর সাধনা করিতে পারে তাহা ভাবিবার বিষয়।
লেখিকা হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯০২ সালে। কলকাতা থেকে তৎকালীন প্রকাশিত ‘নভপ্রভা’ পত্রিকায় ছাপা হয়”পিপাসা”। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার কিছু কিছু রচনা নানা পত্রিকায় ছাপা হতে থাকে।
১৯০৫ সালে তাঁর প্রথম ইংরেজি রচনা “সুলতানাজ ড্রিম” একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তিনি সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
In 1905, “Sultana’s Dream”, a science fiction short story of feminist utopia, appeared in the pages of The Indian Ladies’ Magazine. As the first magazine in India established and edited by a woman for women, the periodical was an ideal fit for Rokeya Sakhawat Hossain’s “Sultana’s Dream,” one of the earliest science fiction stories written by a woman. In Rokeya’s feminist utopia, women rule the world as society lives peacefully and prospers through their inventions of solar ovens, flying cars, and cloud condenser, which offer abundant, clean water to the population of “Ladyland.” And the men, who are deemed “fit for nothing,” are shut inside their homes.
রোকেয়ার ষোল বছর বয়সে তার দাদা সাবির রোকেয়ার বিয়ে দেন প্রায় চল্লিশ বছর বয়সী খান বাহাদুর সৈয়দ সকাওয়াত হোসেনের সাথে। সৈয়দ সকাওয়াত তখন ছিলেন ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। রোকেয়ার সেই দাম্পত্য জীবন যে শুধুই সুখের ছিল তাই নয়, সৈয়দ সকাওয়াতের উৎসাহে শিক্ষার সাথে সাথে রোকেয়ার লেখার চর্চাও শুরু হয়েছিল। তাঁর লেখা পড়লে বোঝা যায় পুরুষ শাসিত সেই সমাজে নারীর বঞ্চনা বা বঞ্চনার সমর্থনে পুরুষদের দেওয়া নির্লজ্জ যুক্তি তাঁর মনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। সেই পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ১৯০৫ সালে রোকেয়া সুলতানাস ড্রীম নামের যে ব্যাঙ্গার্থক গল্পটি লেখেন, সেটি ছিল যুগের তুলনায় অত্যন্ত ব্যাতিক্রমী। এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড ধাঁচে লেখা সব কাল্পনিক চরিত্রে রোকেয়া দেখিয়েছিলেন যে মেয়েরাও সুযোগ পেলে সমাজ, রাজ্য, শিক্ষাব্যাবস্থায় সুন্দর পরিচালনার ক্ষমতা রাখে।
১৯০৫ সালে এলবার্ট আইনস্টাইন যখন ফটো ইলেকট্রিক এফেক্ট আবিস্কার করে নোবল পুরস্কার অর্জন করেন, সেই সময় রোকেয়া নিজের গল্পে সোলার সেলের উল্লেখ তার কল্পনাপ্রবণ বৈজ্ঞানিক চিন্তার পরিচয় দেন। এই বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ইন্ডিয়ান লেডিস ম্যাগাজিনে মাদ্রাজ (এখন চেন্নাই) থেকে, যার সহ সম্পাদিকা ছিলেন শ্রীমতি সরোজিনী নাইডু। হাল্কা চালে লেখা সুলতানাস ড্রীম বই আজও সকলের পড়তে ভাল লাগে।
রোকেয়ার লেখা স্বল্প পরিচিত অন্য একটি বই, পদ্মরাগ। এই বইতে রোকেয়ার জীবন সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। বাংলার বদলে পদ্মরাগ বইটি ইংরেজীতে লেখা হলে আরও অনেক পাঠক হয়তো বইটি পড়ার সুযোগ পেতেন। পদ্মরাগ বইয়ে উল্লেখিত দীনা – তারিনী সেন আর সৌদামিনী এই দু’টি চরিত্র আর কেউ নয়, স্বয়ং রোকেয়া নিজে! রোকেয়ার ঘরে বসে লেখাপড়া শেখার জন্য নিজের দাদা সাবির ও দিদি কারিমুন্নেসার অসীম অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করে পদ্মরাগ ও সুলতানাস ড্রীম বই দু’খানা দাদা ও দিদির নামে উৎসর্গ করেছিলেন।
রোকেয়ার দাম্পত্য জীবন ছিল সুখের, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সৈয়দ সকাওয়াত প্রথমে ডায়বিটিস রোগে নিজের চোখের দৃষ্টি হারান, এবং তাঁর মৃত্যুতে তাঁদের ষোল বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি হয়। সৎ মেয়ে ও জামাতার সঙ্গে রোকেয়ার সম্পর্কের অবনতি হবার পরে তাঁর ভাগলপুরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। নারী শিক্ষার আগ্রহ দেখে সৈয়দ মৃত্যুর আগে রোকেয়াকে স্কুল নির্মানের জন্য দশ হাজার টাকা দিয়েছিলেন, সেই স্কুলও রোকেয়াকে ছেড়ে দিতে হয়।
স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর স্বামীর প্রদত্ত অর্থে পাঁচটি ছাত্রী নিয়ে তিনি ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস’ স্কুল স্থাপন করেন। কিন্তু পারিবারিক কারণে রোকেয়া ভাগলপুর ছেড়ে কলকাতায় এসে বসবাস শুরু করেন। ১৯১১ সালের ১৬ মার্চ কলকাতার ১৩ নং ওয়ালিউল্লাহ লেনের একটি বাড়িতে মাত্র আটজন ছাত্রী নিয়ে তিনি নবপর্যায়ে ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৬ সালের মধ্যেই স্কুলের ছাত্রীসংখ্যা ১০০ অতিক্রম করে। স্কুল পরিচালনা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রোকেয়া নিজেকে নানান সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজত রাখেন। ১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম বাঙালি নারীদের সংগঠন আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৬ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বাংলার নারী শিক্ষা বিষয়ক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। ১৯৩০ সালে বঙ্গীয় মুসলিম সম্মেলনে রোকেয়া বাংলা ভাষার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন, যা সে যুগের পরিপ্রেক্ষিতে ছিলো এক দুঃসাহসিক সামাজিক পদক্ষেপ।
পরের বছর রোকেয়া কলকাতায় এসে সকাওয়াত মেমোরিয়াল নামে এক মেয়েদের স্কুল স্থাপন করেন ও সেই স্কুল অচিরেই জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৩২ সালে রোকেয়ার মৃত্যুর সময় সেই স্কুল এক ম্যাট্রিকুলেশন স্কুলে পরিণত হয়েছিল,সেই স্কুলের পঁচাত্তর শতাংশ ছাত্রী পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছিল। আজ এই স্কুল দক্ষিণ কোলকাতার নামজাদা সরকারী স্কুল হিসেবে গণ্য হয়। লর্ড সিনহা রোডের এই স্কুলে ছুটির বেল বাজলে যখন সুন্দর ইউনিফর্ম পরা উজ্জ্বল মুখের ছাত্রীরা কলবর করতে করতে বাইরে আসে তখন যেন আমরা বিস্মৃত হয়ে না যাই যে এই স্কুল স্থাপনার পিছনে ছিলেন রোকেয়ার মতো একজন উচ্চাকাঙ্খী শিক্ষাবিদ, বাস্তববাদী, দূরদর্শী সংবেদনশীল ও মানবদরদী মহিলা।
রোকেয়া ও তাঁর নারীবাদী চিন্তাভাবনার পরিচয় আমরা পাই মতিচূর প্রবন্ধসংগ্রহের লেখনীতে। সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৫), পদ্মরাগ (১৯২৪), অবরোধবাসিনী, (১৯৩১) ইত্যাদি প্রতিটি গ্রন্থই তাঁর সৃজনশীল রচনার ফসল। সুলতানার স্বপ্ন কাহিনীটিকে সেই যুগের বিশ্বের নারীবাদী সাহিত্যের একটি মাইলফলক ধরা হয়। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হবার আগে তাঁর অন্যান্য লেখা নবনূর, সওগাত, মোহাম্মদী, ইত্যাদি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে যেখানে তাঁর প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আর ধর্মের নামে নারীর প্রতি অবিচার রোধ করতে চেয়েছেন। এ ছাড়াও রোকেয়া অলঙ্কারকে দাসত্বের প্রতীক বিবেচনা করেছেন এবং নারীদের অলঙ্কার ত্যাগ করে আত্মসম্মানবোধে উজ্জীবিত হয়ে আর্থরাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনে সচেষ্ট হতে আহ্বান জানিয়েছেন:
আমরা বহুকাল হইতে দাসীপনা করিতে করিতে দাসীত্বে অভ্যস্ত হইয়া পড়িয়াছি। ক্রমে পুরুষরা আমাদের মনকে পর্য্যন্ত দাস করিয়া ফেলিয়াছে।… তাহারা ভূস্বামী গৃহস্বামী প্রভৃতি হইতে হইতে আমাদের “স্বামী” হইয়া উঠিয়াছেন।… আর এই যে আমাদের অলঙ্কারগুলি– এগুলি দাসত্বের নিদর্শন। … কারাগারে বন্দিগণ লৌহনির্ম্মিত বেড়ী পরে, আমরা স্বর্ণ রৌপ্যের বেড়ী পরিয়া বলি “মল পরিয়াছি। উহাদের হাতকড়ী লৌহনির্ম্মিত, আমাদের হাতকড়ী স্বর্ণ বা রৌপ্যনির্ম্মিত “চুড়ি!”… অশ্ব হস্তী প্রভৃতি পশু লৌহশৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকে, সেইরূপ আমরা স্বর্ণশৃঙ্খলে কণ্ঠ শোভিত করিয়া বলি “হার পরিয়াছি!” গো-স্বামী বলদের নাসিকা বিদ্ধ করিয়া “নাকা দড়ী” পরায়, আমাদের স্বামী আমাদের নাকে “নোলক” পরাইয়াছেন। অতএব দেখিলে ভগিনি, আমাদের ঐ বহুমূল্য অলঙ্কারগুলি দাসত্বের নিদর্শন ব্যতীত আর কিছুই নহে! … অভ্যাসের কি অপার মহিমা! দাসত্বে অভ্যাস হইয়াছে বলিয়া দাসত্বসূচক গহনাও ভালো লাগে। অহিফেন তিক্ত হইলেও আফিংচির অতি প্রিয় সামগ্রী। মাদক দ্রব্যে যতই সর্বনাশ হউক না কেন, মাতাল তাহা ছাড়িতে চাহে না। সেইরূপ আমরা অঙ্গে দাসত্বের নিদর্শন ধারণ করিয়াও আপনাকে গৌরবান্বিতা মনে করি। … হিন্দুমতে সধবা স্ত্রীলোকের কেশকর্ত্তন নিষিদ্ধ কেন? সধবানারীর স্বামী ক্রুদ্ধ হইলে স্ত্রীর সুদীর্ঘ কুম্ভলদাম হস্তে জড়াইয়া ধরিয়া উত্তম মধ্যম দিতে পারিবে। … ধিক আমাদিগকে! আমরা আশৈশব এই চুলের কত যত্ন করি! কি চমৎকার সৌন্দর্য্যজ্ঞান!
বেগম রোকেয়ার সুলতানার স্বপ্ন অবলম্বনে স্প্যানিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা ইসাবেল হারগুয়েরা তৈরি করেছিলেন স্প্যানিশ ভাষায় অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘এল সুয়েনো দে লা সুলতানা’
“পুরুষের সমকক্ষতা লাভের জন্য আমাদিগকে যাহা করিতে হয়, তাহাই করিব। যদি এখন স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জ্জন করিলে স্বাধীনতা লাভ হয়, তবে তাহাই করিব। আবশ্যক হইলে আমরা লেডীকেরাণী হইতে আরম্ভ করিয়া লেডীমাজিস্ট্রেট, লেডীব্যারিস্টার, লেডীজজ — সবই হইব!… উপার্জ্জন করিব না কেন?… যে পরিশ্রম আমরা “স্বামী”র গৃহকার্য্যে ব্যয় করি, সেই পরিশ্রম দ্বারা কি স্বাধীন ব্যবসায় করিতে পারিব না?… আমরা বুদ্ধিবৃত্তির অনুশীলন করি না বলিয়া তাহা হীনতেজ হইয়াছে। এখন অনুশীলন দ্বারা বুদ্ধিবৃত্তিকে সতেজ করিব। যে বাহুলতা পরিশ্রম না করায় হীনবল হইয়াছে, তাহাকে খাটাইয়া সবল করিলে হয় না?”
২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে বিবিসি বাংলার ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ জরিপে বেগম রোকেয়া ষষ্ঠ স্থানে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
• বাংলাদেশের ৭ম বিভাগ রংপুর বিভাগের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ ৮ অক্টোবর ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০৯ সালে ‘নারী জাগরণের অগ্রদূত’ সন্মানে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরন হয় বেগল রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। উল্লেখ্য, কোন নারীর নামে বাংলাদেশে এটিই প্রথম এক বিশ্ববিদ্যালয়।
• বেগম রোকেয়ার নামে সর্বপ্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬০-এর দশকে ছাত্রীনিবাস ‘রোকেয়া হল’ খোলা হয় যার নাম আগে ছিলো ‘উইমেন্স হল’ তবে ব্রিটিশ আমলে ১৯৩৮ সালে চামেলি হাউজ নামে প্রথমে হলটি চালু হয়েছিলো।
• খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিস্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীনিবাসের নামকরন হয় “রোকেয়া হল”।
• প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর তাঁর জন্মদিনে বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা হয় এবং নারী উন্নয়নে অবদানের জন্য বিশিষ্ট নারীদের বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়।
• ১৯৮০ সালে বেগম রোকেয়ার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ দুটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে।
• তার ১৩৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গুগল তাদের হোমপেজে বেগম রোকেয়ার গুগল ডুডল প্রদর্শন করে তার জন্মদিন উদ্যাপন করে। গুগল ডুডলটিতে দেখা যায় সাদা পোশাকে চশমা পরা বেগম রোকেয়া বই হাতে হেঁটে যাচ্ছেন।
*******
আমি অধ্যাপনার সাথে যুক্ত, তাই রোকেয়া সোকাওয়াত হোসেন নিয়ে আমার কিছু পড়াশোনা আছে।
স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে উনার অবদান সাধারণ মানুষ জানে না।
সাহিত্যিকা পত্রিকা ও লেখককে আমার অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
কঠিন পরিস্থিতিতেও যে জীবনে সাফল্য আসে তার জ্বলন্ত নিদর্শন এই রুকিয়া সকাওয়াত।অবশ্য সেই সাফল্যের জন্য একাগ্রতা,কঠোর পরিশ্রম আর দরকার হলে আত্মত্যাগ করতে হতে পারে।