আজ দুপুরের পদ্য … নবকলেবরে (কলকাতা বইমেলা)
© শঙ্খ কর ভৌমিক, ১৯৯৭ মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং
গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণেতে প্রবেশিলা যবে
সাহিত্যিক, স্মিতহাস্যে, ভক্তপরিবৃত-
ধন্যধন্য আরম্ভিলা সুধীজন সবে,
দুন্দুভি, শঙ্খ, ঘন্টা হইল ধ্বনিত।
কহিলা পাঠক লাজে করি অধোমুখ,
“প্রণমি তোমারে, ওগো সাহিত্যসাধক।
গদ্যপদ্য নাহি বুঝি- চিত্তে মম দুখ।
হংসযূথমধ্যমণি অধম এ বক।
ক্রয় করি গ্রন্থ তব কিসের কারণে?
বঞ্চিত সাহিত্যরসে, ক্ষুদ্র মূঢ়মতি।
বুঝাইয়া কৃপা করো- ইচ্ছা মোর মনে।”
এত বলি পাঠক সে, বাক্যে দিলা যতি।
লেখক, কহিলা রোষে, “বটে, এই কথা?
“সহস্র ভক্ত মম পূত বঙ্গভূমে।
সাহিত্যপুরস্কার এত লভিয়াছি বৃথা?
বলুক তাহারা সবে, পশুক মরমে।”
ভক্তগণ কহে লাজে, “সমাজমাধ্যমে
লাইক, তথা শেয়ারাদি সতত স্বীকৃত।
গ্রন্থতরে অর্থব্যয়, যুগধর্মক্রমে,
অধুনা, অপব্যয়জ্ঞানে অতীব ধিক্কৃত।”
শঙ্খবাবু ছিল তথা, ভয়লেশহীন,
কহিলা, “করিব ক্রয়, দেন যদি আশা-
পাইলে ভর্জিত মৎস্য (কণ্টকবিহীন)
ক্রয় করি গ্রন্থ তব, মৎস্য খেতে খাসা।
সাহিত্যিক শুনি কহে (কল্পতরু যথা)
“ভর্জিত মৎস্য পাবে, মদ্য তার সাথে।”
এত শুনি শঙ্খবাবু, ভুলি যত ব্যথা,
এক কপি ক্রয় করি, লহে তুলি হাতে।
মাইকেল অমৃত সনে সুকুমার সুধা,
মিশ্রিত করিয়া হেথা সমপরিমাণে
পাঠকজনের আজি মিটাইবে ক্ষুধা-
শঙ্খ করভৌমিকের ক্ষুদ্র আশা প্রাণে।
“উড়ো খই গোবিন্দায় নমহ” বলিয়া,
হৃত যদি নাহি হয় ‘সংগৃহীত’ নামে-
(এত বলি সবিনয়ে যেতেছি চলিয়া)
বিফল সাহিত্যসৃষ্টি সমাজমাধ্যমে।
২২ জানুয়ারি, ২০২৬

******






Add comment