পুনর্মিলন উৎসব, বিক্কলেজে একটি দিন।
© শঙ্খ কর ভৌমিক, ১৯৯৭ মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং
গত ক’বছর কলেজ যাওয়া হয়নি, নানান কারনে, অবশ্য অধিকাংশই অকারণে। এবার দু হাজার পঁচিশে সেটা পুষিয়ে দিলাম। আমাদের পরের পরের পরের ব্যাচের রিইউনিয়ন ছিল, সমসাময়িক বন্ধুরাও আমন্ত্রিত ছিলাম। আর ছিল Alumni Day
প্রতিবছর শিপ্পুর বিক্কলেজীয় জমায়েতে যেসব কথা ঘনঘন শোনা যায় তার একটা আংশিক তালিকা করলাম।
“ইয়ে খাবি?”
“ইয়ে খাবি?”
“ইয়ে খাবি?”
…
“কিরে ল্যামি, তুইও মোটা হয়ে গেলি? জলটল খাচ্ছিস নাকি আজকাল?”
“কত বুড়ো হয়ে গেছিস রে! চাপে আছিস নাকি?”
“আরে বাঃ ল্যামিদা, তুমি তো সেই এখনো কচিটি আছো। কোন সাবান মাখো?”
“ও ধেনো‘দা, তোমায় সেকেন্ড গেটের বাবলু খুজছে, বিড়ির পয়সা এখনও ধার আছে।“
“শোন, হয় আমাকে দৈত্য বলে ডাকবি, নয়তো প্রণব’দা। কায়দা মেরে দৈত্য’দা ডকবি না।“
“হ্যাঁরে, ব্যাতাইতলায় গার্ডেন বারটা এখনও আছে?”
“কিরে? কলির কেষ্ট সেজে এদিক ওদিক ঘুরছিস? দিদিদের তো ভুলেই গেলি।”
“ওঃ লামি? মানে তুইই সেই অঙ্কে তিনবার ফেল করা ছেলেটা না?”
“হ্যাঁরে, তরুন শীলের দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে?”
“We do differently in USA, no such jilipi ya ya … “
“সিংজির ঠেক উঠে গেছে?”
“ভাবীজি দেশে চলে গেছে শুনলাম?”
“স্যর, একটা কথা, আপনিই কি ল্যামিদা?”
“দানেশ শেখ লেনের কাতিল বৌদিকে দেখলাম। খুব বুড়ো হয়ে গেছেন”
“কোথায় আছো আজকাল? চাকরিটা আছে না গেছে?”
“বিয়ে কি সেই মেয়েটাকেই করেছিলি?”
“কিগো ল্যামিদা, বৌদি কেমন আছে?”
“দাদাকে স্যর ডাকতে লজ্জা করে না?”
“বইয়ের রয়্যালটি ঠিকঠাক পাচ্ছিস?”
“ঠিক ধরেছিস, আমিই যমদূতদা। এই নে, বিড়ি খা।”
…
…
…
“*@$ চলবে?”
“(&% খাবি?”
“*^* ছেড়ে দিয়েছিস?”
আরও আছে, অনেক অনেক অনেক।
সেই পঞ্চাশ ষাট দশকের প্রাক্তনীদের থেকে শুরু হয়ে আজকালের প্রাক্তনীদের এত এত ইতিহাস, সবকিছু এই একটি দিনেই সকলের মনে আসে। আসলে আমাদের সকলের মনের মাঝে বিই কলেজ যে একটুখানি স্থান করে নিয়েছে, এগুলির বহিঃপ্রকাশ হয় আমাদের সেই পুনর্মিলন ইভেন্টেই।

*******






Add comment