মণি খনির হীরাকুচি
@সুদীপ্ত চক্রবর্তী স্থাপত্যের অপত্য ‘৮২
সব কলেজ এক ধারে বিক্কলেজ বারে বারে !
সেই কবে কোন কোমলদাড়ি পাতলাগোঁপের আবছাবেলায় রঙচটা এক তোরঙ্গের সঙ্গে গস্ত
হয়েছিলুম এক এলেবেলে আবাসে যার এক ধারে বিপুলনদী আর দিকে গহীনপুকুর। ডাউনিং এর রাজকীয় ভূতুড়েমি আর স্লেটারের কচি গরিমার মধ্যিখানে ছিলো আমাদের বাক্সোপানা তেরো নম্বর হোস্টেল। তার খোপে খোপে বিভিন্ন বিচিত্র চরিত্রের নানারকম বকোবকোম।
সে গুহা থেকে ক্রমসাহসে ছড়িয়েছিলাম সারাক্যাম্পাস, বেরিয়ে বাড়িয়ে সীমা বিগার্ডেনে, জমি দখল চলেছে মায়াপুরী হয়ে কল্পতরু জড়িয়ে ধর্মতলার বায়স্কোপের ঠান্ডিঘরে নিজামের রোলে, মায় ব্যাঁটরা থেকে ব্যাতাইতলা, আর ক্লাসে গোলি মার – চলো শালিমার অবধি। মানস রাজ্য প্রসার পেল নানান জনের অনেক মনের সোনার কাঠির ছোঁয়ায়, আড্ডা গল্প পড়া পরীক্ষা মেলা মেশা জানা শোনা খেলাধূলা আসা যাওয়া বলা কওয়া নাচা গাওয়া খাওয়া দাওয়া ঘোরা ফেরা এই সবের অবিরল অনাবিল লেনাদেনায়।
এ ছাড়াও মনের দুনিয়ায় আরেক সম্পদ। জানা অজানা চেনা অচেনা সজীব নির্জীব মরা আধমরা এমনকি ভবিষ্য গর্ভের আজো অজন্মা যত বিক্কলেজী আছে, সবাই যেন এক সুতোয় গাঁথা এক ধাঁচে ঢালা এক সুরে বাঁধা। বিক্কলেজের কৃষ্টিতে বলে, আগত সমাগতের সমকালীন দরবারে এক চিরকালীন স্বাগত সব বিগত আর অনাগতের। সেই কারণেই, যখনি সভা বসে যেকোনো মওকায়, নানা ইয়ারের নানা পদের নানা জায়গার চেনা অচেনা বিক্কলেজীরা অনায়াসে একলপ্তা ইয়ার বনে গিয়ে, বয়েস ভুলে, মুখোশ খুলে, ঢাকনা তুলে, কলেজ জীবনের সেই সব মশল্লাদার পুরাকাহিনী বলে শুনে খ্যাঁক খ্যেঁকিয়ে হেসে অস্থির হয়।
এই তো কদিন আগেই মমনিবাসে মিলতে আসে দুই ধুরন্ধর। একটি আমার একনিষ্ঠ প্রাচীন ঘনিষ্ঠ, আর অন্যটি জীবনে প্রথমবার দেখা এক বহুনবীন খলবলিয়া চাপাহাসিওলা বিক্কলেজী, যে শুরুতে প্রবল প্রচেষ্টায় কিছু গাম্ভীর্য, কিছু প্রাথমিক সম্মান আর কিছু দূরত্ব রাখতে চাইছিল। অবিলম্বে আমাদের গালিপূর্ণ প্রেমের আদানে ও প্রদানে তার দূরত্ব ধূলিসাৎ হবার পরে বোঝা যায়, সে এক হীরাবিশেষ। তার ছাত্রজীবনের উদ্ভুতুড়ে দুষ্টুমির আর বদমায়েশির বেশ কটি রোমাঞ্চকর গপ্পো হাসিল করা গেল, তার থেকে আপাতত দুটি বলাই যথেষ্ট।
যত মত তত পথ, খাদকের মনোরথ
মর্মভেদী দ্রষ্টা কবি নজ্রুলের গানে আছে “আমার হরিনামে রুচি কারণ পরিণামে লুচি।।“ এই সুমহান আপ্তবাক্যের অজানা বীজ নাজেনে নিজ হৃদয়ে বহন করেছিলো সে। গ্রামের ছেলে, এক দিকে অঙ্কে মাথা সাফ, অন্য দিকে পেটে সদাই দহনখিদে, কিছুই সে জানে না – রাজনীতি গানগীতি ব্যায়াম বা খেলা। আর প্রেমপীরিতি তার কাছে অন্য দুনিয়ার কারখানা। সে জানে শুধু পড়তে আর ঘুমোতে। আবার ঠিকঠাক এক আয়েসী তাজাকারী অঘোরঘুমের জন্য লাগে জাগরকালে ঘন ঘন বকরাক্ষুসে খাদ্যখাবারের জোগান। ওদিকে ক্ষুদ্রচাষি বাবামহাশয় পেরে ওঠেন না বিশদে হাতখরচ দিতে, তিনি ভেবেছিলেন ডাঙর খোকা খড় বইবে ধান রুইবে মই টানবে, আর বাপকে কিছু আরাম দেবে। তা না করে সে গেল নাকি ইঞ্জিনার হবে যা তিনকূলে কেউ শোনেনিকো। কাজেই সে রেস্তহীন ধেড়ে খোকা শুধু দুই বেলা মেসের খাবার খেতো, তার বাইরে কিছুই নয়। ভাতের গামলায় ডালের গামলাটা ঢেলে নিয়ে তিন খাবলা তরকারি দিয়ে অথবা দেড় গ্রুস রুটি ডালে ডুবিয়ে তা খাওয়া তার মন্দ হত না দুইবেলা।
তবু হায়, খিদে পায়, পেটেতে চুহা লাফায়! কাজেই ম্রিয়মাণ সে জোয়ান সদা স্বপ্ন দেখত রাশি রাশি সুখাদ্যের। আইডি বা জি এফ এর রাতে সে একাই টেনে দিত বিপুল মোরগামাস আর প্রভূত পোলাও। ক্রমে ক্রমে ছাত্রমহলে এ গুঞ্জনও ওঠে যে এ জীবটি দানবের খোরাক খাওয়ায় বাড়ন্ত হচ্ছে অন্যদের পথ্য। কাজেই সে দিকেও আরেক ভয়ানক চ্যালেঞ্জ খাড়া। মেস ম্যানেজার সদলবলে এসে একদিন বলে গেল ‘তোর ভালোর জন্যেই বলছি, এত খেলে অসুস্থ হয়ে পড়বি’। কে ওদের বোঝাবে, সকাল দশটা থেকেই খিদেয় দুনিয়া অন্ধকার লাগে, মনে হয় কুয়াশার মধ্যে দিয়ে টলোমলে স্যারেরা কী কী সব দুর্বোধ্য গমগমে বলে যাচ্ছেন।
চিন্তার অন্ত খোলে দিগন্ত
তা একদিন রোববার খালি মেসে সক্কাল সক্কাল সে বান্দা দিবাস্বপ্ন দেখছে, সাড়ে দশটা বাজলেই নিশ্চিন্তে মেসে গিয়ে তাজা আলুপোস্ত ছুঁইয়ে মোটামুটি এগারো জনের গরমভাত মেরে দেবে। মুচকি হাসছে সে আপনমনেই। স্বপ্ন দেখার পরিশ্রমে একটু জিরোচ্ছে তিনতলার রেলিঙে হেলে। হঠাত দেখে মেঘালয়ের নন্দন ‘চেক্লুঙ্গি সরুথাই’ ঘাড়ে পাউডার দিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছে। আসলে ওর নাম চোক্লুং শ্রুপ্তাই, থাই সরু নয় মোটেও, বেশ গুরু উরু, খেঁটো মুশকো চেহারা, গোঁপদাড়িশূন্য, পরে জানা গিয়েছিলো ওই ৩৪ বছর বয়েসেই তিনটে বিয়া করে দেশে রেখে এখেনে পড়তে এসেছে, আরো জানা গেল র্যাগিং এর সময় নাকি র্যাগারদের বলেছিল, ‘তোদের মত ছেলেপুলে আমার বাড়িতে ছেড়ে এসেছি কয়টা’। কিন্তু এই বদমাশের আখড়ায় সে নাম এ রূপ ধরিল অবিলম্বে। এর আবার অনেক গপ্পো তা সে হয়ত পরে আবার। যাই হোক, সরুথাই এর চলনে এক আজবগজব হরিণফূর্তি নজর করে আমাদের গম্পু এটুকু বুঝলো যে সে কোনো মস্তির কাজ ব্যপদেশেই ধেয়ে চলেছে।
বিকেলেই সরুথাইকে নিভৃতে ঠেসে জেরা করায় জানা গেল, সে যায় হর রোববার খিদিরপুরে তাদের প্রেসবাইটেরিয়ান চার্চে প্রেয়ার করতে। আরো জেরায় জানা গেলো যে সেথায় প্রভুকে ঘন্টাখানেক ডাকলে পরে পুরস্কারে বাঁধনহারা ভোজ, কোনোদিন লুচি লাবড়া। কভু প্রভুর কৃপায় গাঢ় খিচুড়ি ড্রাম ড্রাম, বেগুণভাজা কাঁড়ি কাঁড়ি দিয়ে বেদম খাও। আবার কখনো বা গোদা গোদা গরম গরম পাঁউরুটি দিয়ে থাবা থাবা বোঁদে। পরিমানের কোনো রোকথাম নেই, যে যা পারো খাও। বাকি নাকি কাঙ্গালী সেবায় যায়। চেক্লুঙ্গি নাকি ওসব খায় না, সে তো ব্যারাক থেকে ডবল ডিমের পোচ, মোটামাখম আর ঘনজেলি মাখা কড়াসেঁকা স্লাইস ব্রেড আর দু কাপ সোনালী দুধচা খেয়ে দেয়ে যায়। আবার নাকি হোথা উচ্চরোলে মিহি গলায় প্রভুর স্তবগান মিনিট কুড়ি গাইতে পারলে পাবে অতিরিক্ত এক সন্দেশ, এক আপেল আর এক কলা। বিদেশি চালান এলে ক্কচিতপাবে গোটা গোটা অমৃতের নাহান কন্ডেন্স মিল্কের টিন, এক ফুটো মেরে চুষে খানিক খেলেই যেন স্বর্গ হাতেনাতে। ভাগ্য খুলে গেলে পাবে এর উপরি বিদেশি গুঁড়ো দুধের ঠোঙ্গা, নাকি রাখা যায় না বেশিদিন তাই দিয়ে দেয় বাড়তি হলে। একবার নাকি দানবখেজুর দিয়েছিল। শুনেটুনে তো গম্পুর চোখ কপালে, চোয়াল মেঝেয়, লালাঝোলায় পাশের গঙ্গামার অঢেলজল হার মানে-মানে অবস্থা।
পরের রোববার দেখা গেল চার্চ যাত্রী দুই জন।
জাতপাত মর গে, খাদ্যের স্বর্গে
সেই যুগে সেই কালে সেই ট্রামচলা চমৎকার কলকাতায় এক গম্ভীর সুন্দর উঁচু হলে প্রভুর পূজাবেদী। গম্পুর চোখে খানিক আজব ধরণের দেখাল কড়া মাড় দেওয়া সারা গা ঢাকা বিশাল এক সাদা ফ্রক, তাতে আবার রেশমী রশির কোমরবন্ধ বাঁধা প্রসন্নমুখী বিশালদেহী বিলিতি সন্ন্যাসী যাকে ফাদার বলে ডাকতে হবে। আরো ঘুরছিলেন কয় দেশি ওধর্মী রোগাসাধু এমনকি তিন নান যাঁরা নাকি মাদার আর সিস্টার। এই সব দ্রুত শিখে নিলো সে, পেটে খিদের শুরুয়াতী পাক শুরু কারণ বেলা প্রায় নটা।
ফাদার কিছু খালি হলে সরুথাই তাকে নিয়ে গেল সমীপে, কথোপকথন এই রকমঃ
সায়েব বড়ফাদারঃ ‘এই টি কে টি আনিলে, প্রিয় চোকু’ (বেলজিয়ান বুলির টানে)
চোকথাংঃ ‘ফাডাড় ই আমার বোন্দু কোলেজের হয়’ (গড়গড়ে একটানা জিভনাড়া আওয়াজে)
ফাদারঃ ‘ই কি ঈশ্বরের শরণে আসিবে’
চোকথাংঃ ‘হঁ ফাডাড়’
তারপরে তৎপর চেলারা নিয়ে এলো এক চেনেবাঁধা ঝুলন্ত বিলিতি অগুরুদানি আর এক রূপোর গড়া বিলিতি প্রাচীন কোশাকুশি। একজনে গম্পুর ঠ্যাং এর পিছনদিকে অদ্ভুত কায়দায় হালকা ঠুকে দিতেই সে দিব্যি হাঁটু মুড়ে বসে পড়লো। ব্যস আর কি, অই ছিড়িক ছিড়িক পূত জলে না শিউরে আর প্লব ধোঁয়ায় না কেশে মিনিট পাঁচেক থাকতেই, সে দিব্যি অই খিদিরপুরে বসেই নাকি এক পবিত্র ধর্মের আঙ্গিনায় পৌঁছে মুক্ত এক অনন্ত স্বর্গের আওতায় এসে গেল! ওর শুধু একটু অসোয়াস্তি লেগেছিল, একটা যেন গলাবন্ধ সারাদেহী মখমলের সায়ার মতন দেহটোপর ওকে সেই দীক্ষাকালে পরিয়ে দেয়া হয়েছিল, গরম লাগছিল বেশ আর পাশের শেড থেকে এক তীব্র হালুয়া রান্নার গন্ধ আর গোছা গোছা পরোটা ভাজার থপাথপ শব্দ যেন মনে হচ্ছিল গ্রামের হরিসভার উচ্চন্ড কীর্তন আর দোর্দন্ড খোলবাদ্যির যুগলবন্দী। অহো প্রভু তব মহিমা অপার!
প্রেয়ারে শুধু চোখ এড়ো করে অন্যরা কী করে দেখে দেখে চুপ থাকা আর নিঃশব্দে মাঝে মাঝে হাঁ করে মুখ নাড়া ব্যস! ওহোহো তার পরেই বিলিতি পাম তেলে ভাজা অগুন্তি ডাঁসা পরোটা আর কেঁদো এক ভান্ড কিশমিশ-তাকানো কাজু-ভাসানো মিছরি-কচমচে হালুয়া, সঙ্গে দুই গ্যালাক্সি সাইজের জিলিপি আবার উরিব্বাস! গম্পুর ধর্মছলাং সাড়ে বত্তিরিশ আনা সাকসেস! তার পরে আর কী, প্রতি রোববার যাওয়া, প্রথমে কিছুক্ষণ নিঃশব্দে মুখ নাড়া, তার পিঠোপিঠি অনেক্ষণ ধরে সশব্দে মুখ নাড়া। গম্পুর ভুঁড়ি বেরিয়ে গেল।
খেতে দিলে শুতে চায়, চিঠি নিয়ে ঘুরতে যায়
কিছুদিন পর দেখা গেল গম্পু ফাদারের বেশ প্রিয় হয়ে উঠেছে বা সেরকমই একটা ভাব। একদিন তার প্রবল জন্মগত প্রতিভার বলে আর বিক্কলেজী বীজাণুর প্ররোচনায় সে খাদ্যের পরে আরো এক পা এগোলো, মওকা বুঝে সে এক প্রস্তাব পাড়লো।
গম্পুঃ ‘ফাদার আই ওয়ান্ট টু গো রাঁচি’
ফাদারঃ ‘বাট হোয়াই মাই সন’
গম্পুঃ ‘টেল লর্ড নেম টু মামার ফেমিলি, দে অলসো গো চার্চ’
ফাদারঃ ‘উত্তম প্রোপোজাল হয় ই’
ব্যস ফাদারের থেকে রাঁচির চার্চের গেস্ট হাউসে মাগনায় খাওয়া থাকার পরোয়ানা আর এমনকি কিছু হাতখরচ আর রাহাখরচ পেয়ে নাচতে নাচতে বিনটিকিটে চললো ব্যাটা রাঁচি জলোপ্পোপাত অবলোকনে। ধীরে ধীরে এমনি করে আরো নানান জায়গায়। তৎকালীন বিহার মধ্যপ্রদেশ এমনকি দক্ষিণ ভারতের বহু জায়গায় ঘুরে নিলো সে আরামসে। এই মিশনে শুধু কিন্তু ‘একলা চলো রে’, অন্য কাউকে এ স্বর্গে সে ঢোকাতে রাজী নয়। মাঝে মাঝে ফাদার বলতেন বটে ‘তব বন্ধু বান্ধব আরো লইয়া আইসো না কেন, সবে প্রভুর কৃপা পাইবে’। কিন্তু সেকেন্ড আর থার্ড এই দুই ইয়ার খুব তাড়াতাড়িই কেটে গেল।
কিন্তু এ তো গেল কেবল রবিবারের ব্যবস্থা। বাস ট্রামের ভাড়াটাও প্রায় সব বারেই দিতো অই শ্রুপ্তাই, একটু মোলেম ব্যাভার রাখলেই। এমনকি ফেরার পথে একটা করে ‘গোলফ্লেক’ ও দিতো আহা। ধীরে ধীরে লোভ বাড়ে, নানা দিকে ঠ্যাং নাড়ে, মাঝে একটা সময় এমন হলো, গম্পু যেন এক মাগনা খানার বিশেষজ্ঞ দাঁড়ালো। হাওড়া কলকাতা ঘুরে সে ফোকটের ভোজ খেয়ে বেড়াতো। শনিবারে মাথায় রুমাল বেঁধে গুরুদোয়ারার বহতা লপ্সি, মঙ্গলে সাদা গামছা ঘাড়ে জৈন মন্দিরের সুস্বাদু নিরিমিষ পংক্তিভোজ, বুধে ইস্কনের মারবেলের মেঝেয় থেবড়ে বসে অসাধারণ খাঁটি ঘিয়ের কুমড়োর ছক্কা আর সাদা সাদা ফুলকো ফুলকো লুচি, পরব বুঝে গাজী বাবার থানে মোটা চালের পোলাও আর ফিরনি, গম্পুর জেবনটাই যেন এক স্বপ্নমধুর ফোকোটের ভোজে পরিনত হোল আরকি। তবে ফাউল ও হয়েছিল। মাদার টেরিজার হাউসে বহুক্ষণ দাঁড়াবার পর একটা শুষ্ক ট্যারা গজা পেয়ে আর ওমুখো হয়নি আহিন্দা। মল্লিক বাড়ির বাসন্তী পূজায় কাঙ্গালীভোজে মাছভাজা দিচ্ছিল, আরেকটা চাইতে পেতলের হাতার একখানা জব্বর বাড়ি খেতে হয়েছিল। আরেকবার খোদ নিজ গির্জায় গুড ফ্রাইডের কেক একাই প্রায় গোটা সাবড়ে দেওয়ায় শান্তমিঠে ফাদার খানিক গোঁসাপরবশ হয়ে দাবড়ে ছিলেন। তাছাড়াও কোল্যাটারাল ড্যামেজ, কলেজে বহু সাবজেক্টে নিরঙ্কুশ গাড্ডু। স্কলারশিপ যায় যায়, রিপিট হয় হয়। ফলে ফাইনাল ইয়ারে সব অভিসারের ইতি, ততোদিনে হাতখরচা কিছু ডাগর হয়েছিল।
তাই বলি, গম্পু গোপন-রাখা গরিমায় সেযুগের এক পায়োনীয়ার, সর্বধর্ম সমন্বয়ের এক প্রামাণ্য প্রতিভূ, খিদের দৌড় যে সব পগার পেরিয়ে বাঁইবাঁই করে সব ধর্মের গন্ডি টপকে ভোজের পাতে আসন পাতে, তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ। সাথে এটাও মনে হয়, বিক্কলেজের টিপিক্যাল বীজাণুর প্রতিভাবান প্রভাব আর প্রতাপ ছাড়া এ দরের বলিষ্ঠ অথচ সরল সাহসিক বেপরোয়া নিশ্চুপ ক্যাওতালি আদপেই সম্ভবে না। যতদূর মনে পড়ে প্রাতঃস্মরণীয় প্রেমাঙ্কুর আতর্থী মশায়ের ‘মহাস্থবির জাতক’ এই পড়েছি, নাকি ভুল হচ্ছে, না না পরম রসিক তপন রায়চৌধুরী মশায়ের ‘ভীমরতিপ্রাপ্তের পরচরিতচর্চা’তে পড়েছি, দেশি খ্রীষ্টান পাড়ায় কালীপূজো দেখে লেখক পরম বিস্ময়ে শুধোন ‘সে কি তোমরা না খ্রীষ্টান হয়েছ?’ ততোধিক বিস্ময়ে তারা পালটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন –‘তা কেরেস্তান হইচি বুল্যে কি বাপ-পিতেমোর ধম্ম ছেড়িচি নিকি গা?’
** এই দ্যাখো দুটো গপ্পের একটা গপ্পোই টেনেবুনে আড়েবহরে এদ্দূর এসে গেল অনেক জায়গা নিয়ে নিলো। বাকি আবার পরে হবে, মাননীয় সম্পাদকের মানদন্ডে উৎরোলে পরে তবেই আবার উতরোল হবে এ লেখনী।
Add comment