বকুলতলার পিকনিক
© শান্তনু দে, ১৯৮৯ মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
© শঙ্খ করভৌমিক, ১৯৯৭ মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং
শঙ্খ করভৌমিকের কলমেঃ
আমাদের বি ই কলেজ এক বৃহৎ পরিবার। সার্ধশতবর্ষাধিক যুগ ধরে
আমরা দাদা দিদি ভাই বোন- ছাত্র শিক্ষক, প্রাক্তন বর্তমান সবাই মিলে পরস্পরের হাত ধরে রয়েছি ‘উৎসবে ব্যসনে চৈব দুর্ভিক্ষে রাষ্ট্রবিপ্লবে রাজদ্বারে শ্মশানে চ’। আমাদের যারা শিক্ষক ছিলেন, তাঁরাও অনেকে বি ই কলেজের প্রাক্তনী। আজকের সমাজমাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের দৌলতে কলেজের অনেক হারিয়ে যাওয়া বন্ধু, শিক্ষক, বা জুনিয়র বা সিনিয়রকে খুঁজে পাচ্ছি। কিংবা বি ই কলেজের প্রাক্তনীদের পিকনিকে।
‘বকুলতলার আড্ডা’ সেরকমই এক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। ২০১৯ এর ৩১শে জানুয়ারি এই গ্রুপ বানিয়েছিল ১৯৯৮ সিভিলের ধীমান চক্রবর্তী, আজ যার সদস্য সংখ্যা প্রায় তিনশো। প্রবীণতম সদস্য ১৯৮৬ ব্যাচের, নবীনতম সম্ভবত ২০০৫ এর, মানে তিন জেনারেশনের গ্রুপ। এই গ্রুপের সদস্যরা পুরনো সেই কলেজবেলার মতই গল্প, আড্ডা, প্যারোডি গান, পরস্পরের পিছনে কাঠি দেওয়া, কখনো বা মৃদু ‘বাওয়ালি’ নিয়ে ফেলে আসা সেই জীবন বেঁচে চলেছে আজও। এই তো ৮ই ফেব্ররুয়ারি ২০২৬ নিউটাউনে হয়ে গেল বকুলতলা গ্রুপের পিকনিক। ছিল আড্ডা, গল্প, গানবাজনা, খাদ্য (ও পানীয়), কুইজ, ডাম্ব শ্যারাড- আরও কত কি! ঠিক ফেলে আসা কলেজ জীবনের মতই। আমরা বি ই কলেজের জনতা যেন চিরকাল এমনই থেকতে পারি।

শান্তনু দে’র কলমেঃ
গত রবিবার প্রধানতঃ ১৯৯৫ ব্যাচ, তার সঙ্গে আরও অনেক সামান্য সিনিয়র / জুনিয়র ব্যাচের এক পিকনিক কাম পার্টি ছিল। সব থেকে বাচ্চা ছেলেমেয়েরা ছিল বোধ হয় ২০০৫ ব্যাচের। আর বেশ বুড়ো ষাঁড়, আমি শিং ভেঙ্গে বাছুরের দলে ভিড়ে গিয়েছিলাম। কথা ছিল আমিই হবো বৃদ্ধতম। কিন্তু কেউই কথা রাখে না…দেখলাম অতিবৃদ্ধ জালিদা (৮৬ মেকানিক্যাল) হাজির।
এই ব্যাচ দেখলাম দেখলাম অন্য ধাতুতে গড়া… সকালে ম্যারাথন না হাফ ম্যারাথন কিছু একটা দৌড়াদৌড়ি করে, দুটো থেকে ক্রিকেট খেলে, তারপর অতি কঠিন টাইপের একটা কুইজ সামলে নিয়ে গান বাজনাও করলো। এরা পৃথিবীতে না জন্মে ক্রিপ্টন গ্রহে জন্মালেও বেশ মানিয়ে যেত। তবে কেউ কেউ বলছে শুনলাম, ম্যারাথনটা নাকি খালি ফটো শুট। যাই হোক, এই এনার্জি লেভেল সব ভারতীয়র থাকলে আমরা কোথায় যেতাম ভাবা যায় না।

জালিদাকে বললাম তোমার একটা হার্ট এট্যাক হয়েছে, তাও চেইন এ স্মোকিং করে যাচ্ছ? খানিকক্ষণ আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে বললো “এটা যে সিগারেট, কে বললো তোকে?” জালিদা’র ব্যাপার, কথা আর বাড়ালাম না।
পার্টি তখন বেশ জমে উঠেছে, একটি ছেলে আমার খুব পছন্দের দুটো ব্যান্ড পরশ পাথর আর মহিনের গান পরপর গাইছে, বেশ ভালোই গাইছে, একজন বেশ জুনিয়র ছেলে আমাকে পাকড়াও করলো। সোজা সাপ্টা প্রশ্ন, “আপনি, মানে তুমি যে রবিবার রবিবার প্রচুর ভাট ফেসবুকে লেখো। তোমার বাড়ির লোক জানে?”
আমি তাড়াতাড়ি জবাব দিলাম, “না, জানে না। আমার ছেলে ফেসবুকে নেই। থাকলেও ওর বাংলাটা ঠিক আসে না, তবে স্ত্রীর একসময় ছিল। আমি ট্যাগ করি বলে, প্রথমে আমাকেই ব্লক করেছে। তারপর অন্যরাও আমার লেখায় ট্যাগ করে বলে একাউন্টটাই ডিএক্টিভেট করে দিয়েছে।”
ছেলেটা বেশ সৎ দেখলাম, বললো, “তাই বলো, বাড়ির লোক জানে না। আমরা নয় ভদ্রতাবশত: ভালো হয়েছে লিখি বা লাইক টাইক দি। বাড়ির লোক কী করে তোমার এত ভাট সহ্য করে?”
*******




Add comment