তিনটি ছোট গল্প
© শক্তিব্রত ভট্টাচার্য, ১৯৮৯ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং
(১) দেওয়াল
অফিস থেকে ফিরে এসে দেখি বড়দা এসেছে। আমি একটু অবাকই হলাম, কতদিন পর এলো, মাঝে সাঝে ফোনে কথা হয় যদিও। বড়দা নিজেই জানালো, একবার ভাবলাম ঘুরে যাই, অনেকদিন আসা হয়নি তো।
বড়দা অবশ্য বেশীক্ষণ বসল না।
পরদিন বাজারে অমিদার সঙ্গে দেখা, বড়দার বন্ধু।
– কি ব্যাপার রে, পিলু নাকি এখানে আসবে?
– তোমাকে বলেছে?
– হ্যাঁ, কাল এসেছিলো তো! ফেরার পথে।
– আমাকে তো সেসব বলেনি, তবে ওর ঘরের চাবিটা নিয়ে গেছে!
বাড়িতে এসে মিলুকে বলতেই সে রেগে কাই। ‘উনি আসবেন, আর উনার ঘরে থাকবেন কিন্তু আমাদের যেন বিরক্ত না করেন!’
আমি জানি মিলুর রাগের কারন। মা যখন অসুস্থ, বড়দা কিংবা বৌদি কেউ উঁকি মেরে দেখেনি। সব কিছু মিলুকেই করতে হয়েছে। আমিও অফিস নিয়ে ব্যস্ত, আর মিলু স্কুলে পড়ায়, তাই ওরও প্রচুর চাপ! তারই মধ্যে আয়া না আসলে রাত জাগতে হত। মার পেনশন থাকলেও, আয়া, ওষুধ এসবের খরচ সামলাতেও হিমশিম অবস্থা।
– বড়দার ঘর, আমরা কি বলব? সে নিজের মতন থাকবে।
বাবা বড়দার জন্য আলাদা করে ঘর তৈরী করেছিল, সাথে মর্ডান বাথরুম, যাতে বড়দা বৌদি এসে থাকতে পারে, কোন অসুবিধা না হয়। কিন্তু বড়দা থাকতো না। বিয়ের পর বড়দা মাঝে মাঝে আসলেও বৌদি বলা চলে আসতোই না। বাবাকে বলেছিলাম, সবচেয়ে ভালো ঘরটা তো বন্ধই থাকে।
বাবা বলেছিল, পিলু আসলে তো ওখানেই থাকবে।
ভেবেছিলাম বিয়ের পর হয়তো ঘরটা আমাকেই দেবে কিন্তু সেই আমার পুরানো থাকার ঘরটাই রঙ করে আমাদের থাকার ব্যবস্থা হল।
মা বাবা চলে যাওয়ার পর মার ঘরটা বিল্টু ব্যবহার করত। বিল্টুও এখন চাকরি নিয়ে বিদেশে।
এখন এই তিনটে ঘর যেন গিলতে আসে। আমরা যে যার কাজে বেড়িয়ে যাই, ফিরে আসি। কথা বলার কোন লোক নেই, মাঝের হলঘরে বসে আমি ফেসবুক দেখি, টিভি দেখি! মিলু ঘরে বসে খাতা দেখে। বিল্টু মাঝে মাঝে ফোন করে, তখন কথা হয়।
আজও টিভি দেখতে দেখতে ভাবছিলাম বড়দা যদি সত্যি চলে আসে, তো ভালোই হয়। ও নাহয় নিজের মতো থাকবে, ওর তো টাকা পয়সার অভাব নেই, লোক রেখে দেবে। বৌদি তো চলে গেছে কিছুদিন হল, আর ছেলেরাও বিদেশে। হয়তো সেজন্যই ওদের আলিপুরের ফ্ল্যাটে মন টিকছে না। জানি মিলু হয়তো রাগ করবে কিন্তু ওর যা নরম মন, নিশ্চ্য় মেনে নেবে।
বড়দা সত্যি সত্যি একদিন ফিরে এলো। তার আগে কদিন যাতায়াত করছিল, মিস্ত্রি লাগিয়ে ঘর মেরামত হলো। নতুন রঙ হলো। আমার বেশ অদ্ভুত লাগছিল। সারা জীবন বাবা আশা করে থাকল, যে তার বড়ছেলে আসবে, আর ওই ঘরটায় থাকবে। প্রতিবার দাদা কলকাতায় আসবে শুনলে মা বাবা আশায় বুক বাধঁত যে ছেলে আর বৌমা এসে কিছুদিন কাটিয়ে যাবে। দাদা দুদিন এবাড়ি ছুঁয়ে যেত আর বৌদি আসবে বলেও শেষ মুহূর্তে আসতো না! হয় বৌদির বাবা তখন অসুস্থ হয়ে পড়ত কিংবা অন্য কোন কারনে।
দাদা একটা সুটকেশ নিয়ে এসেছিলো। বড়দাকে দেখলাম কিরকম অন্যমনস্ক হয়ে গেছে। সেই সৌখিনতা নেই। ড্রাইভার ছেলেটা সব গুছিয়ে দিয়ে গেল, বললো কিছু দরকার হলেই ওকে ফোন করতে!
বড়দা পড়াশুনোয় খুব ভালো ছিল। ভালো ছেলে বলে নামও ছিল। প্রথমবারেই জয়েন্ট পায়, যাদবপুর মেকানিক্যাল! পাস করেই ঝকঝকে চাকরি। বড়দা আমাদের কাজিনদের মধ্যে প্রথম সন্তান, তার জন্য কাকা পিসি মামারা চোখে হারাত কিন্তু এখন তাদের সঙ্গেও দাদার সম্পর্ক নেই বলা চলে। আমাদের ছোটবেলায় এই বাড়িতে দাদু ঠাকুমা, কাকারা থাকতো, সব মিলিয়ে প্রায় গোটা দশেক লোক। কাকারা চাকরি পেয়ে চলে গেল, বিয়ে করল কিন্তু মাঝে মাঝে তাদের বাড়িতে দাদাকে নিয়ে যেত। ঠাকুমা মাঝে মাঝে কাকাদের বলত, বাড়িতে তো আরেকটা ছেলেও আছে, তাকেও তো মাঝে মাঝে নিয়ে যেতে পারিস।
আমার অবশ্য তাতে কিছু এসে যেত না, কারন বিল্লু, কালু, বিশুদের মতো পাড়ার ছেলেদের সঙ্গেই আমার যত ভাব, যত বন্ধুত্ব। আমরা চুটিয়ে খেলা ধুলো করতাম, পাড়া ছেড়ে যেতে হলেই মন খারাপ হত। পড়াশুনো তে মোটামুটি ভালো করলেও দাদার মতো হতে পারিনি। স্কুলে রেজাল্ট খারাপ হলেই স্যাররা বলতেন, তুই প্রলয়ের ভাই, সেটাই মনে হয় না!
যা হোক দাদা আমার চাইতে বছর চারেকের বড় ছিল। আমি কলেজে যেতে যেতে ও চাকরি পেয়ে গেল। সত্যি কথা বলতে দাদা যেদিন বাড়ি থেকে চলে গেল, আমার খুব আনন্দ হয়েছিল। আমি যেন স্বাধীন হলাম।
এখন দাদা পাকাপাকি থাকতে শুরু করার পর সমস্যা হল খাবার নিয়ে। দাদা যদিও একটা হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা করেছিল, তাতেও কিছু সমস্যা হচ্ছিল। ড্রাইভারকে ফোন করলে সে দোকান থেকে খাবার নিয়ে আসতো।
দাদার সঙ্গে আমার মাঝে মাঝে কথা হত ঠিকই কিন্তু সেসব কেজো কথা। ড্রাইভার ছেলেটার নাম বাবু, সে মাঝে মাঝে এসে গল্প করত। শুনতাম দাদার নাকি অনেক রকম সমস্যা, খাওয়া দাওয়া খুব হিসেব করে করতে হয়। বৌদি থাকাকালীনই দাদা খুব ক্লাবে যেত, প্রচুর ড্রিংক করে ফিরত, এই নিয়ে স্বামী স্ত্রীতে অশান্তি। ওদিকে বৌদি নাকি সুযোগ পেলেই বাপের বাড়িতে গিয়ে বসে থাকতো। দাদার সেটা পছন্দ ছিল না। মিলুকে এসব কথা বলাতে বলল, দাদাকে বলো আমাদের এখানেই খাওয়া দাওয়া করতে।
দাদাকে বললাম। দাদা কিছুক্ষন চুপ করে থাকল। তারপর বলল, নারে থাক!
-আমাদের কিছু অসুবিধা হবে না।
-দেখি, দরকার হলে তো বলবই।
একদিন গভীর রাতে গাড়ির আওয়াজে ঘুম ভাঙলো। দেখি বাবু গাড়ি নিয়ে হাজির। আমি ঘুম চোখে বাইরে আসলাম।
– কি ব্যাপার!
– বাবু ফোন করেছিল, শরীর খারাপ লাগছে।
আমি আর ড্রাইভার দাদাকে নিয়ে এক পরিচিত নার্সিং হোমে গেলাম। দুদিন পরে দাদাকে আই সি ইউ তে দিয়ে দিলো। বাবুকে বললাম, দাদার ছেলেদের খবর দিয়েছ?
-হু!
আমরা নিয়মিত বাইরে অপেক্ষা করলেও বেশিদিন অপেক্ষা করতে হল না। বাবু বললো, দাদাদের সঙ্গে আপনিই কথা বলুন। আমিই খবর দিলাম। দুজনেই জানালো, তোমরা যা ভালো বোঝো করো। তখন আমিই আমার বন্ধুদের ফোন করলাম। কাকার ছেলে তনুকে ফোন করলাম, পিসির মেয়েকে ফোন করলাম! যারা কলকাতায় থাকে
রওনা হতে হতে রাত হয়ে গেল। রাস্তা ফাঁকা। আমি ড্রাইভারের পাশে বসে আছি। পিছনে শুয়ে আছে দাদা, আমার অগ্রজ! দাদার ছেলেরা কেউ আসেনি, তাদের যে কিছুই এসে যায় নি, ফোনে তাদের কন্ঠস্বরে তাও বোঝা গেল! আজকাল কত ব্যবস্থা হয়েছে! বাপকে শেষ দেখা দেখতেও চায় না এরা!
আজ দাদার এই শেষ যাত্রায় আমাদের সঙ্গে যারা আছে, দাদা তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে নি!
ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে দিল। আমরা এসে গেছি। তনু বলল, ছোড়দা আমরা অফিসে গিয়ে ব্যবস্থা করছি, তুমি বডির সঙ্গে থাকো।
আমি বসে রইলাম। আমি আর দাদা, আমার মায়ের পেটের ভাই!দাদা চলে যাচ্ছে, আর কোনদিন দেখা হবে না!
আমি দাদার দিকে তাকিয়ে থাকলাম! আমাদের দুজনের দুজনকে হয়তো অনেক কিছুই বলার ছিল কিন্তু কিছুই বলা হল না! সেই ছোটবেলায় কারা যেন একটা পাঁচিল তুলেছিল সেটা আর ভাঙা হল না!
২০ এপ্রিল, ২০২৪
******
(২) একদিন
নিজের নাম বলতে গেলে লজ্জা পায় লাজু, ওর নাম আসলে লাজবতী! ওরা ইউ পি র লোক, ক’পুরুষ আগে বঙ্গাল মূলুকে চলে আসলেও, জন্মভিটের সাথে একটা ক্ষীণ সম্পর্ক ছিল। লাজু জন্মানোর পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মোরদাবাদে, সেখানে লাজবতীর দিদিমার মা তখনও জীবিত! তা তিনিই মোক্ষম নামটি দিয়ে যান! জ্ঞান হওয়ার পর তাকে চোখে না দেখলেও তার নাম বহন করে যেতে হচ্ছে।লাজবতী বিয়ের পর লাজবতী দত্ত হয়! কিন্তু ইদানীং ওর নাম শুধুই লাজবতী! অন্তত সবাইকেই সেটাই বলে থাকে! অনেকে বিয়ের পর বাপের পদবী এবং স্বামীর পদবী দুটোই ব্যবহার করে, ডিভোর্স হলে বাপের পদবীতে ফিরে যায়।
গত বছর লাজুর ডিভোর্স হয়েছে। এখন ওর বয়েস ছেচল্লিশ। খুব কম বয়সেই বিয়ে হয়েছিল, আর বছর না ঘুরতে ঘুরতেই মা হয়। ছেলে রুনু এখন বিদেশে চাকরী করে।
লাজুর স্বামী আর তার এক মহিলা কলীগের অনেকদিনের সম্পর্ক ছিল! ছেলে চলে যেতেই স্বামী লাজুকে ঝেড়ে ফেলে। আর পাঁচটা বাঙালী মধ্যবিত্তের মতো,স্বা মী স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক বিশেষ ছিল না। সত্যি কথা বলতে লাজুই অনেক সময় উপযাচক হয়ে মিলনের ইচ্ছে প্রকাশ করত কিন্ত স্বামী এড়িয়ে যেত।
লাজুর স্বামী ফ্ল্যট ছেড়ে চলে যায়। ফ্ল্যাটটা ছিল দুজনের নামে, হয়তো করুণাবশত তার স্বামী কিছু দাবী করে নি। আর এককালীন কিছু টাকা আর মাসিক কিছু খোরপোষ জোটে লাজুর ভাগ্যে। কিন্তু সময় কি রকম করে কাটবে? কাগজ দেখে বিজ্ঞাপন দিয়ে একটা ইনস্যুরেন্সের কোমপানীতে কাজ জোটে, সামান্য মাইনে কিন্তু অনেক রকম কাজ সামলাতে হয়।
হুগলী থেকে অনল নামের একটা ছেলে আসে। ছেলেটা এজেন্ট, মালিকের সুনজরে আছে। মফস্বল অঞ্চলে ওর একটা কাস্টমার বেস আছে, তাই প্রতিদিন আসে না। যেদিন আসে একটু বেলা করেই আসে, আর সব কাগজপত্র তৈরি করতে করতে অফিস বন্ধের টাইম হয়ে যায়। ওদিকে লাজুর আরেক সহকর্মী বিজুলি, সাতটা বেজে গেলে এক মিনিটও থাকবে না, ওর হাসব্যন্ড নীচে বাইক নিয়ে অপেক্ষা করে!
অতএব লাজুর উপর ভার পড়ল অনলের কাগজপত্র বুঝে নেওয়ার। আজকাল সবই কম্পিউটার নির্ভর, লাজু এখনও সড়গড় হয় নি। তারমধ্যে সেদিন আবার সার্ভার স্লো। অনেকটা রাত হয়ে গেল।
অনলের মুখ থমথমে।
– সরি, অনল!
– না,না,আপনি কি করবেন। আসলে, এক বন্ধু মেসেজ করল যে আজ ট্রেনের গন্ডগোল হয়েছে, কোথায় একটা মালগাড়ি — এত রাতে — মনে হয় সারারাত আমাকে স্টেশনেই থাকতে হবে!
লাজু একটু চিন্তিত হয়।একটা ছেলে বিপদে পড়েছে। ওর ফ্ল্যাট ফাঁকা
অনলের জায়গায় যদি কোন মেয়ে থাকত,তবে তাকে নিশ্চয়ই থেকে যেতে বলত!
অনল বয়সে অনেক ছোট! তবু বাধো বাধো ঠেকছে।
– যদি,কিছু মনে না করো তবে, আজ রাতটা—
– ছাড়ুন না! আমি স্টেশনেই থেকে যাবো!
– না না, সে কি করে হয়!
লাজুই জোর করে নিয়ে আসে ফ্ল্যটে।
অদ্ভুত লাগছিল লাজুর। এই প্রথম লাজু কোন সম্পূর্ণ অজানা এক পুরুষের সঙ্গে একই ফ্ল্যটে রাতটুকু থাকবে।
লাজুর ফ্ল্যাট তিনতলায়। অন্য সময় হলে লিফটে করে উঠত। কিন্তু আজ হেঁটেই উঠল! ওঠার সময় ফ্ল্যটের কেয়ার টেকার খুব অবাক হল! কিন্তু লাজুর মজা লাগছিল। এই ম্যডামকে ও তো ভাল মানুষ বলেই জানত! দাদাবাবু ছেড়ে চলে গিয়েছে দিয়েছে জানে, কিন্তু –
দোতলার ফ্ল্যটে দরজা খোলা, বোস বাবু আর গিন্নী টিভি দেখছেন, বোসবাবুর ফ্ল্যট ক্রশ করে ওঠার পর বুঝতে পারল, বোস গিন্নী দরজার সামনে উঠে এসেছেন! আর শ্যমল বাবু লাজুর এক্স হাজবেন্ডের কলিগ! কালকে নিশ্চয় বোসবাবুদের কাছ থেকে সব খবর পাবে।
দরজাটা খুলে ওরা দুজনে সোফায় বসল!
– চা না ড্রিংক্স? মানে আমি মাঝে মাঝে সুফল, অর্থাৎ এক্স হাসব্যন্ডের একটা হুইস্কির বোতল রয়েছে। তুমি,ফ্রেশ হয়ে নাও অনল! আমি ততক্ষণ কাবাবের অর্ডার করি!
অনল বাথরুমে ঢোকে!
বারান্দার শাটার খোলে অনেকদিন পর। একটু ফ্রেশ এয়ার আসুক!
২৫ মার্চ, ২০২৪
*******
(৩) ফ্লেভার
মিতালি চা নিয়ে বসে এই সময়টা। নিজের সঙ্গেই সময় কাটানো, রঞ্জন, কুশল এরা অফিসে চলে যায়। সরো ভাত ঢাকা দিয়ে বেরিয়ে যায়। ফ্ল্যাটে একা, এসময় বন্ধু বান্ধব কিংবা বোন চৈও ফোন করে না। আসলে মিতালির সারাদিন একলাই থাকতে হয়, ছেলে, স্বামী ফিরতে ফিরতে রাত আটটা।
মিতালি আসলে চিন্তা করছে ছেলেকে নিয়ে। কুশল তো এই মে মাসে পচিশ এ পড়বে। নয় নয় করে তিন বছর তার চাকরি হয়ে গেল। বিয়ে থাওয়ার কথা কিছু বলে না। আজকালকার ছেলে, জোরও করা যায় না! ইদানিং অর্ক বলে এক কলীগের বাড়ি খুব যায়, উইকেন্ড কাটায়। ভয়টা সেখানেই! ওর সঙ্গে কি অর্কর কোন সম্পর্ক আছে? আজকাল গে ফে কিসব বলে। মেজমাসির নাতনি, খৈরি নাকি কোন একটা মেয়ের সঙ্গে –আচ্ছা ছেলেতে ছেলেতে, মেয়েতে মেয়েতে নাকি ওসব হয়! মেজমাসি নাকি বলেছে মাকে নাতনির সঙ্গে এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে! ওরা নাকি স্বামী স্ত্রীর মতো!
ইমা, যদি কুশল এরকম অর্কর সঙ্গে থাকা শুরু করে!
দু একবার রঞ্জনকেও আশঙ্কার কথা বলেছে, কিন্তু পাত্তা পায়নি।যত দিন যাচ্ছে তত ভয় পাচ্ছে!
মোবাইলটা বেজে উঠল। কুশলের ফোন।
-মা, একটা কাজ করতে পারবে?
-বল।
-শোনো না! আমার ঘরে ঢুকে ড্রয়ারটা খুলবে। দেখবে একটা লেদার ফোল্ডারের মধ্যে আমার প্যান কার্ডটা আছে! চট করে হোয়াটস্যাপ করো তো!
ঠিক মতোই কাজটা করে মিতালি। তারপর জায়গার জিনিস জায়গায় রাখার সময় ফোল্ডারটা তুলতে গিয়ে কি রকম একটা গন্ধ নাকে আসে। বাচ্চাদের লজেন্স থেকে যেরকম বেরোয়!
একটু নাড়ানাড়ি করতেই উৎস বোঝা যায়। টিভিতে খুব বিজ্ঞাপন দেয় আজকাল, অনেক ফ্লেভারের জিনিস পাওয়া যায় আজকাল। বহুদিন এসবের দরকার হয়না মিতালি রঞ্জনের! ছোট্ট একটা অপারেশনের পর গাইনি বলেছিল, সাবধানতার আর দরকার নেই।
ড্রয়ারটা বন্ধ করে বারান্দায় এসে দাঁড়ায়।
যাক, অহেতুক এত চিন্তা করছিল এতদিন। সঙ্গে সঙ্গে কেমন যেন মনখারাপও হয়, ছেলেটা তাহলে সত্যি সত্যি বড় হয়ে গেল!
১৯ মার্চ, ২০২৪
*******






Add comment