মৃগয়া
© বিমলেন্দু সোম, ১৯৬৭ স্থাপত্য বিভাগ
স্থান : মাইথন জলাধার
কাল : নভেম্বর, ১৯৬৮
পাত্র : বরুণ-পর্ণা-সৌম্য
নভেম্বরের মাসের মাঝামাঝি। মাইথন রিজার্ভারের জলে অস্তগামী সূর্যাস্তের লালিমা ছড়িয়ে পড়েছে। আর অপরূপ মোহময়ী হয়ে উঠেছে গোধূলি লগ্নের এই স্বপ্নময় পরিবেশ। বাঁ দিকে ফরেস্ট বাংলো, শাল-শিমুল ও পলাশের জঙ্গল, দিনের শেষে ঘরে ফেরা পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে আশপাশ মুখরিত।
এই পরিবেশে হাল্কা শীতের হিমেল হাওয়ার স্পর্শ সৌম্য-পর্ণার জলবিহার, সাহেবি কেতায় বলি বোটিংয়ের ক্লান্তি অনেকটাই দূর করে দিয়েছে। নৌবিহারের অন্তিম লগ্নে এসে এবার যে যার নিজের কুলায় ফিরে যাবে, তাই আসন্ন বিচ্ছেদ বেদনার ছাপ ফোটে সৌম্যর চোখে মুখে। অথচ, অপরিচিতা পর্ণার সাথে ওর বোটিংয়ের কথাই ছিল না, নেহাৎ … …
আর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্বপ্নময়, মিষ্টি মধুর একটি বিকেল হারিয়ে যাবে! ওরা দু’জন ফিরে যাবে নিজেদের ছকবাঁধা গন্ডির আবর্তে! এই রঙ-রূপ-হাসি, অন্তরঙ্গ মুহূর্ত, সবই স্মৃতি হয়ে যাবে! তারপর একদিন হয়তো একান্ত অগোচরে মধুর স্মৃতিটুকুও মুছে যাবে!
অজান্তে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে সৌম্যর। পর্ণার দৃষ্টি এড়ায় না, কারণটাও বুঝতে পারে। দয়িতের মুখে হাসি ফেরাবার জন্য আরও অন্তরঙ্গ হয়ে বসে পর্ণা, মাথা রাখে সৌম্যর কাঁধে। তারপর গাছ-গাছালির ফাঁকে উঁকি-ঝুঁকি মারতে থাকা শুক্লপক্ষের একফালি চাঁদের দিকে তাকিয়ে সুরেলা কণ্ঠে গান ধরে: “এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায় এ কী বন্ধনে জড়ালে গো বন্ধু! … কোন রক্তিম পলাশের স্বপ্ন মোর অন্তরে ছড়ালে গো বন্ধু …”! পর্ণার সুললিত কন্ঠের গান শুনে মন্ত্রমুগ্ধ সৌম্য ভালো লাগার স্বীকৃতি স্বরূপ এক অনুরাগ-চুম্বন এঁকে দেয় ওর ললাটে।
সামনেই দেখা যায় আলো-ঝলমল মাইথন ড্যাম। কানে ভেসে আসে নিখিলেশ ও বরুণের উদ্বিগ্ন কণ্ঠস্বর: ”সৌম্য” …”পর্ণা” ! … …
সৌম্যর মনে অপরাধ বোধ জাগে – ওদের দেরি করে ফেরার কারণে বরুণদের ট্রিপটা ক্যান্সেল করা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। বাড়তি উদ্যমে ওরা দু’জন প্যাডেল বোটের দাঁড় বেয়ে গন্তব্যস্থলের দিকে এগিয়ে যায়।
********
ওরা কলকাতা নিবাসী তিন গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার – নিখিলেশ, বরুণ আর সৌম্য। ভিন্ন ভিন্ন কলেজ থেকে পাস-আউট, কর্মসূত্রে সবাই আসানসোলে। বরুণ বিশ্বাস, সৌম্য ঘোষ একই ব্যাচের এবং একই সরকারি অফিসে সহকর্মী বন্ধু। আপার চেলিডাঙ্গা স্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স মেসে অন্য দু’জন ইঞ্জিনিয়ারের সাথে মেস শেয়ার করে থাকে। নিখিলেশ গাঙ্গুলী ওদের দুজনের থেকে দু’বছরে সিনিয়র, অফিস-কাম-রেসিডেন্স বরুণদের মেসের খুব কাছেই। নিখিলেশের দয়িতা, পরমাসুন্দরী তমালিকা ব্যানার্জী আসানসোল গার্লস কলেজের ফাইন্যাল ইয়ারের ছাত্রী। দু’জনে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হতে চলেছে আসছে বছর এপ্রিলে।
তিন বন্ধুর অত্যন্ত প্রিয় আড্ডাস্থল হ’ল পোলো গ্রাউন্ড সন্নিকটস্থ পি ডব্লিউ ডি বাংলো। আই আই টি খড়গপুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিপুল মিত্র ও উনার স্ত্রী অনন্যা মিত্রের সঙ্গে প্রায় প্রতিটি সন্ধে গানে-গল্পে-হাসি-ঠাট্টায় কেটে যায়। বরুণ খুব আড্ডাবাজ ও হুল্লোড়ে ছেলে। দরাজ গলায় গান গাইতে পারে বলে বন্ধু-বান্ধব এবং পরিচিত মহলেও বেশ জনপ্রিয়। তুলনায় সৌম্য কিছুটা অন্তর্মুখী, খুব একটা হুল্লোড়ে না হলেও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব এবং সর্বোপরি প্রকৃতি প্রেমী।
গতকালই সন্ধের আড্ডায় ঠিক হয়: শনিবার, অর্থাৎ আজ, লাঞ্চের পর সবাই মিলে মাইথন ড্যাম বেড়াতে যাবে। সঙ্গে যাবে তমালিকা এবং ওর অন্তরঙ্গ দুই বান্ধবী। অ্যাজেন্ডা থাকবে রিজার্ভারের জলে নৌবিহার করা ছাড়াও গান, খোশগল্প, আড্ডায় বিকেলটা উপভোগ করা। নিখিলেশ, বরুণ এবং সৌম্য নিজেদের জুটির সাথে পালাক্রমে বোটিং করবে।
*******
দুপুরের দিকে বরুণ-সৌম্য পি ডব্লিউ ডি বাংলো পৌঁছে তো অবাক! হোস্ট বিপুল মিত্র- অনন্যা মিত্র ছাড়াও নিখিলেশ এবং অরিত্র বসু বসে আছেন! বি ই কলেজ পাস-আউট সিভিল ইঞ্জিনিয়ার অরিত্র বসু বিপুল মিত্রের অন্তরঙ্গ বন্ধু, এখনও ব্যাচেলর, খুব হুল্লোড়ে লোক। ওঁর কর্মস্থল আরামবাগ, প্রায় প্রতিটি সপ্তাহান্তে বন্ধুর কাছে আসানসোলে চলে আসেন। তার উপস্থিতিতে সৌম্য দারুণ আনন্দিত, দু’জনেই বি ই কলেজের কী না!
:’এই যে, জগাই-মাধাই এসে গেছো! … দেরি হ’ল কেন ভাইরা? তোমাদের জন্য তাসের সেসনটাই হতে পারল না’।
:’স্যরি অরিত্রদা, আমরা কাছেই থাকি কি না – তাই দেরি হয়ে গেল’!
সৌম্যর গুরুগম্ভীর জবাবে উপস্থিত সবাই একযোগে হেসে ওঠেন। আর ঠিক তখনই দুই বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে তমালিকার প্রবেশ। সৌম্যর কেন জানিনা, মনে হ’ল যে ওদের মধ্যে একজন ওর খুবই চেনা, যদিও নাম জানা নেই। চাকরিতে জয়েন করতে এসে প্রথম দিকে পরিচিত এক দাদার সঙ্গে ওর হাউসিংয়ের ফ্ল্যাটে ছিল, সম্ভবত সেই ব্লকেই অন্য একটি ফ্ল্যাটে এই নাম না জানা মেয়েটি থাকত। তমালিকা বান্ধবীদের পরিচয় করিয়ে দেয়: ‘আমার দুই প্রিয় বান্ধবী – এ হচ্ছে পর্ণা চক্রবর্তী আর ও দেবস্মিতা সরকার। ওরা দু’জন আমারই ক্লাসমেট ‘।
এই ব্যাপার! মুখ চেনা এই সুন্দরী, ঈষৎ শ্যামবর্ণা ও সুঠাম দেহবল্লরীর অধিকারিণীর নাম তাহলে পর্ণা – ভাবে সৌম্য! নিখিলেশ ও তমালিকা বরুণকে বলে: ‘কী বরুণ, তুমি খুশি তো? আজকের নৌবিহার প্রোগ্রাম কিন্তু স্পেশালি তোমাদের জন্য’!
বরুণকে অভিনন্দন জানিয়ে ফিশফিশ করে সৌম্য বলে: ‘কংগ্র্যাটস ফ্রেন্ড, পর্ণা ইজ রিয়ালি বিউটিফুল, অ্যান্ড স্মার্ট অ্যাজ ওয়েল! উইশ ইউ আ হ্যাপি রোমান্টিক বোটিং ট্রিপ’!
বরুণ লজ্জার বোকা বোকা হাসি হেসে সৌম্যর দিকে ভ্রূ কুঁচকে তাকায়।
লাঞ্চের পর দুটো গাড়িতে নয়জনের দল মাইথন ড্যাম উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে মিনিট তিরিশের মধ্যেই ইয়্যুথ হোস্টেলের সামনে, রাস্তার ওপারে নৌবিহার স্টার্টিং পয়েন্টে পৌঁছে যায়। শতরঞ্চি বিছিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিখিলেশ-বরুণ খবর নিয়ে জানতে পারে মোটর চালিত বোট সবই বুকিং হয়ে গেছে। একটি মাত্র প্যাডেল বোট ভাড়া নেওয়া যেতে পারে, এবং অগত্যা তাই করতে হলো। কুড়ি মিনিট করে তিনটি ট্রিপের রোস্টার তৈরি করা হলো। প্রথম ট্রিপে রয়েছে নিখিলেশ-তমালিকা, তারপর যাবে ‘কাপল্ অব দ্য ডে’: বরুণ-পর্ণা। আর সব শেষে সৌম্য ও দেবস্মিতা।
প্রথম ট্রিপে নিখিলেশ-তমালিকা নৌবিহার শেষে হই হই করে ফিরে এলো। এবার ট্রিপে যাবে দিনের বড় আকর্ষণ: নায়ক-নায়িকা বরুণ-পর্ণা! আর ঠিক তখনই ঘটনায় এল এক বড় টুইস্ট; বরুণ জেদ ধরল যে ও শেষ ট্রিপে যাবে! সৌম্যর কানে ফিশফিশ করে বলে: ‘তুই চলে যা, আমি পরের ট্রিপটাতে যাব, তাহলে পর্ণার সাথে অনেকক্ষণ বোটিং করতে পারব’! বিপুল মিত্র এই প্রস্তাবের পক্ষে সম্মতি জানালেন। সৌম্যকে তবু দ্বিধাগ্রস্থ দেখে অরিত্র বসু প্রায় ঠেলেই পাঠিয়ে দিলেন নিচে বোটের দিকে, বললেন: ‘দেখিস, কলেজের নাম ডোবাবি না’।
‘ভরসা রেখো অরিত্রদা’ – বলে জল কাদা এড়াতে লাফ দিয়ে বোটে ওঠে সৌম্য।
আড্ডায় মেতে ওঠা পার্টির মধ্যে যেন হঠাৎ রাত দুপুরের নিস্তব্ধতা নেমে আসে! পেছনে তাকিয়ে দেখে, আর নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারে না সৌম্য! ওর নৌবিহার সঙ্গিনী হতে আসছে দেবস্মিতা নয়, পর্ণা! এই আকস্মিক ঘটনার জন্য যে কেউই প্রস্তুত ছিল না, সেটা এই নিস্তব্ধতাই বুঝিয়ে দিল। পর্ণা জল কাদার জন্য বোটে উঠতে পারছিল না, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় সৌম্য। পর্ণা’র হাত ধরে, অদ্ভুত এক শিহরণ লাগে সৌম্যর! সঙ্গিনীকে অত্যন্ত সাবধানে বোটে টেনে তোলে, আর তখনই টলমলিয়ে ওঠে প্যাডেল বোট। সন্ত্রস্ত পর্ণা ভয়ে সৌম্যকে জড়িয়ে ধরে সামলে নেবার চেষ্টা করে; মুহূর্তের সংকোচ কাটিয়ে সৌম্যও তাই করে — প্যাডেল বোটের দুলুনি বন্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকে। ওদিকে কানে ভেসে আসছে অরিত্র বসুর চিৎকার: ‘সাবাস ছেলে, বি ই কলেজের নাম তুই রাখবি’!
পর্ণার সঙ্গে সৌম্যর দৃষ্টি বিনিময় হতেই লজ্জার হাসি হেসে বলে: ‘সরি’, তারপর স্বাভাবিক সৌজন্যে সঙ্গিনীকে বোটের পাটাতনে বসিয়ে তারপর নিজে বসে।
বোটের দাঁড় বেয়ে ওরা দু’জন চললো অনেক দূরে, ফরেস্ট বাংলো আর পাহাড় টিলার আঁকিবুকি ছাড়িয়ে একান্ত নির্জনতার খোঁজে। এক সময় সমস্ত হাসি হুল্লোড় পেছনে ফেলে ওরা মিলিয়ে গেল সকলের দৃষ্টির আড়ালে!
:’কী এত ভাবছেন বলুন তো’? পর্ণার প্রশ্নে তন্ময়তা ভাঙ্গে সৌম্যর।
:’আপনার কথা’! … হাসিমুখে পর্ণার দিকে তাকায় সে। ‘আমাকে এই অপূর্ব সুন্দর একটি বিকেল উপহার দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে অপমান করতে মন চায় না’ … সুন্দর করে গুছিয়ে বলার চেষ্টা করে সৌম্য।
:’ও মা, তাই না কি! … আপনি খুব সুন্দর করে কথা বলতে পারেন তো! আর আমি আবার সুন্দর বিশেষণ জুড়ে কোন কথাই বলতে জানি না’ … পর্ণা হেসে বলে!
:’আপনি তো এমনিতেই অপূর্ব সুন্দরী! কথা বলার সময় আলাদা করে কোন সুন্দর বিশেষণ লাগাবার প্রয়োজনই নেই’ — হাসছে সৌম্য!
:’বাঃ! … ফ্ল্যাটারীটাও দেখছি বেশ ভালোই রপ্ত করেছেন! জানতে পারি কি, এই ফ্ল্যাটারীটা এর আগে কত জন বান্ধবীর সঙ্গে করেছেন’? – কপট রাগ ওর কণ্ঠে। ‘তবে মিথ্যে হ’লেও প্রশংসাটুকু আমার খুবই ভালো লেগেছে’ … পর্ণা হাসছে!

এক সময় দূরের গাছ গাছালির দিকে তাকিয়ে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত স্বরেই সৌম্যকে বলে: ‘আচ্ছা, একটা কথা জিজ্ঞেস করছি, কিছু মনে করবেন না তো’?
:’উঁহু, কিছু মনে করব না; অবশ্যই জিজ্ঞেস করতে পারেন’ — সৌম্য হেসে নির্ভরতা দেয়।
:’আমাকে নিয়ে আপনাদের দুই বন্ধুর মধ্যে আবার ভুল বোঝাবুঝি হবে না তো’? — পর্ণার গলায় কুণ্ঠাবোধ।
:’হ্যাঁ, হতেও পারে। … সে আমি ম্যানেজ করে নেব, আপনাকে ভাবতে হবে না। দোষ বরুণের, ও নিজেই তো সেকেন্ড ট্রিপে যেতে চাইলো না, আমার সাথে বদলে নিল। … … কিন্তু পর্ণা, আপনি তো জানতেন বরুণের সঙ্গে আপনার নৌবিহারে যাওয়ার কথা। তবু আপনি আমার বোটিং-সঙ্গিনী হতে চলে এলেন কেন’? – হালকা মেজাজে জানতে চায় সৌম্য।
:’এই ব্যাপারটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত’ — পর্ণার কণ্ঠস্বরে হালকা চাপল্য আর নেই। … আপনার বন্ধুর যে আমার ওপর দুর্বলতা আছে, সে আমি তমালিকার কাছেই শুনেছি। কিন্তু আমি কি চাই সেটা যেমন তমালিকা জানার চেষ্টা করে নি, তেমনি আমিও বলতে পারিনি ও দু্ঃখ পাবে বলে। আসলে যে আমি অন্য একজনকে মন দিয়ে বসে আছি — মাস দুয়েক আমাদেরই বিল্ডিংয়ে থাকতো। বাবার কাছে শুনেছিলাম, ছেলেটি নাকি উনারই কলেজ থেকে পাশ করা। বোটিং অর্ডার চেঞ্জ তো আমার কাছে না চাইতেই ভগবানের দেওয়া আশীর্বাদ! হয়তো আপনি বিশ্বাস করবেন না। আমি কিন্তু মনে মনে এমনিই একটা অঘটনের স্বপ্ন দেখছিলাম’ — পর্ণার মুখে মোহিনী হাসি!
… সৌম্যর চোখে চোখ রেখে বলে: ‘কী স্যার, মাথায় ঢুকলো কিছু’? হাসির ঢেউ তুলে হাত বাড়িয়ে সৌম্যর মাথার চুল এলোমেলো করে দেয় পর্ণা!
:’পর্ণা’! … সৌম্য আলগোছে সঙ্গিনীর হাত তুলে নেয় নিজের হাতে; ঘামে ভেজা হাত কাঁপছে তিরিতিরি! পর্ণার চোখে চোখ রাখে সে, দেখতে পায় দুটি গভীর কালো হ্রদ খুশির তরঙ্গে চিকচিক করছে! এক জোড়া সুন্দর ভুরু, ঈষৎ টিকোলো নাক, পাতলা ঠোঁট, সুগঠিত চিবুক! — সবকিছু মিলিয়ে এক অপূর্ব সুন্দর মুখ! শেষ বিকেলের সূর্য রশ্মির মায়াবী লালিমা ছড়িয়ে পড়েছে পর্ণার দেহবল্লরীতে — ওকে আরো মোহময়ী দেখাচ্ছে! ঠোঁটের উপরে জমে আছে বিন্দু বিন্দু ঘাম; সৌম্যর ইচ্ছে করছে এক চুমুতে সবটুকু শুঁষে নেয়! বাঁ হাতটা পর্ণার কাঁধে রেখে অন্য হাতে চিবুকটা তুলে ধরে, পর্ণা নিজেকে যেন পুরোপুরি সমর্পণ করে দেয় সৌম্যর কাছে – নিঃশ্বাসে ঝরে অনাস্বাদিত মাদকতা! …
প্যাডেল বোটের দাঁড় বাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে! বোটে বসে থাকা দুই অভিসারি দয়িত-দয়িতা রিজার্ভারের জলে দোলা খেতে থাকে …
অশ্বক্ষুরের ধুলো উড়িয়ে রাজপুত্রের ঘরে ফেরা নয়, মৃগয়া শেষে প্যাডেল বোটের দাঁড়ে ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ উঠিয়ে ইয়্যুথ হোস্টেলের দিকে এগিয়ে চলে সৌম্য!

******
আমার কথা:
নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত “বাংলা সাহিত্য সম্মেলন”-এ, ছোটগল্প প্রতিযোগিতায় “মৃগয়া” প্রথম পুরস্কার বিজয়ী গল্প। ষাটের দশকের “রোমান্টিক ফ্লে(ই)ভার” বজায় রেখে গল্পটির কিছু পরিবর্ধন করা হয়েছে। আশা করি, ডিজিটাল যুগের পাঠক বন্ধুদের কাছে “মৃগয়া” গল্পটি গ্রহণ যোগ্য হবে।






Add comment