প্রয়াগ কুম্ভ ২০১৯ (ধারাবাহিক) (দ্বিতীয় পর্ব)
@তিলক ঘোষাল, ১৯৭২ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
আগের পর্ব পড়তে হলে, লিংক
১০/০২/২০১৯:
খুব ভোরেই ঘুম ভাঙ্গল। সাহস করে শাল মুড়ে বেরিয়ে এলাম তাঁবু থেকে। পুবের আকাশে তখন সবে লালচে ভাব ধরতে শুরু করেছে। চেক করে দেখলাম তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি। চারিদিক শান্ত – শুধু ও’পার থেকে হাল্কা হাল্কা ভেসে আসছে কোলাহল আর মন্ত্রোচ্চারণের শব্দ। শাহি স্নানের দিনগুলোতে স্নানের প্রথম অধিকার সব সাধু সন্তদের। ভোর ৪ টা নাগাদ আরম্ভ হয় সে’ অনুষ্ঠান। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে একে একে করে জলে নামেন বিভিন্ন আখাড়া, গোষ্ঠী, সম্প্রদায়ের মহামণ্ডলেশ্বর এবং অন্যান্য বরিষ্ঠ সাধুরা – শিশ্য/ভক্তরা নিজেদের গুরু/সন্তদের পিছু পিছু। এদের স্নান শেষ হলে তবেই সাধারণ জনতার জন্যে অনুমতি…….শান্ত পরিবেশটা বেশ কিছুক্ষণ উপভোগ করে চায়ের টানে তাঁবুতে ঢুকে এলাম। ঐ ঠাণ্ডায় বালাপোশের তলায় সেই গরম গরম চায়ে চুমুক দিতে যে কি লাগছিল তা ভাষায় বোঝানো সম্ভব না!
তৈরি হয়ে, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভরা ব্যাকপ্যাক ব্যাকে ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। লাইন দিয়ে ব্রেকফাস্টে সময় নষ্ট না করে রওনা দিলাম একটা ব্রিজের ওপর দিয়ে – ওপারে ত্রিবেণী সঙ্গমের পথে – শাহী স্নানের জমজমাট আর আড়ম্বর দেখতে। এত সকাল, অথচ ব্রিজের ওপর তিল ধারণের ঠাই নেই। শুধু মাথা আর মাথা – সকলেই শাহী স্নানার্থী। ঢিকির ঢিকির করে এগোনো ছাড়া উপায় নেই। দু’ একটা স্পেশাল পাসওয়ালা গাড়ি রয়েছে বটে, তবে তারাও মানুষ জনের পিছু পিছুই। এরই মধ্যে দেখলাম এক মজার ঘটনা। এক করিতকর্মা অধৈর্য ড্রাইভার কায়দা করে একজন নাগা সাধুকে সাদরে আমন্ত্রণ করে বসিয়ে নিল তার গাড়িতে। আর সাধু মহারাজ তাঁর হাতের বিশাল দণ্ডীটা জানালার বাইরে মুগুরের মত ঘোরাতে ঘোরাতে হুঙ্কার করতে থাকলেন ‘বাজু…বাজু’। খানিক ভয়ে, খানিক সম্ভ্রমে লোকেরা জায়গা করে দিতে থাকল, আর গাড়িও এগিয়ে চলল গড়গড় করে। অন্য গাড়িগুলো তখনও জনতার পিছু পিছু, জনতার স্পীডেই চলছে। সুতরাং কুম্ভেও সুযোগসন্ধানী, বৈষয়িক বুদ্ধির এক অনন্য নজির!
এই প্রসঙ্গে একটা কথা মনে পড়ে গেল। প্রথম দিন বেরনোর সময় আমাদের তাঁবু ক্লাস্টারের ঝাড়পোঁছ করার দায়িত্বে থাকা মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে কোন রকম চুরি টুরির ভয় নেই তো। সে অবাক হয়ে বলেছিল ‘নহি আঙ্কলজী, ইস তিরথস্থান মে চোরি কৌন করি ?’…… একটু লজ্জায় পড়ে গিয়েছিলাম। তারপর রাস্তায় ঘাটে আলাপ হ’ল, কথা হ’ল কত জনের সঙ্গে – স্থানীয় মানুষ, দূরদূরান্তের গ্রাম গঞ্জের লোকজন থেকে শহুরে বাবু। কিন্তু কারুর মধ্যে সেই চিরপরিচিত ওপর চালাকি, কপটতা বা ধূর্ততার ভাব নজরে পড়ে নি। সবাই বেশ সহজ সরল ভাবেই মিশেছে, কথাবার্তা বলেছে, সব কিছুতেই এক আন্তরিকতার ছোঁয়া। তারা হয়ত নিজের নিজের যায়গায় ফিরে আমার মতই স্বরূপ ধরবে, কিন্তু যতক্ষণ এখানে, ততক্ষণ সবাই অন্য মানুষ। স্থান মাহাত্ম্য হয় তো একেই বলে।
যাক, এ পাশের ও পাশের লোকজনের সঙ্গে বকর বকর করতে করতে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পর পৌঁছলাম ও পারে। কিছু খাওয়া হয় নি সকাল থেকে তাই খিদে পেয়েছে। খানিক দূরে একটা ছোট্ট টিলার ওপর দেখি একটা ঝুপড়ি। সেখান থেকে মুখে জল আনা তেলেভাজার গন্ধ ভেসে আসছে। উঠে পড়লাম – আর হতাশ হলাম। ভেবেছিলাম গরম গরম আলুর চপ – তা’ না দেখি আমার দু’ চক্ষের বিষ সেই ব্রেড-পকোড়া ! কি আর করা – অগত্যা – এক কাপ চায়ের সঙ্গে। নজরে পড়ল খানিক দূরে মাটিতে বসা এক বয়স্ক মানুষ। কি মনে হল, জিজ্ঞেস করলাম – ‘বাবা, চায় পিয়েঙ্গে?’ সে হাত জোড় করে বলল – ‘নহি, নহি বাবুজি পিয়ে হ্যাঁয়’। আমার কিন্তু তা’ মনে হল না। বললাম – ‘ইস সর্দি মে আউর এক কপ মে বুরাই ক্যা হ্যায়?’ এ’বার হাল্কা হেসে সম্মতি। পশ্চাৎদেশ জমিয়ে দেওয়া পাথরের ঠাণ্ডা বেঞ্চটায় এসে পাশে বসল পাশে। ব্রেড-পকোড়া, চা সহযোগে কিছু গপ্পো হ’ল। পরিচয় দিলঃ “রাজেন আমার নাম, এম.পিতে মোর ধাম, জিলা রাজগড়” ! ‘একা’?…………‘না, না নিজের আর পাশের গ্রামের জনাকয়েকের সঙ্গে এসেছিলাম। কাল সন্ধ্যে বেলায় ভিড়ে দলছুট হয়ে গেছে”। এবার আমি পড়ে গেলাম চিন্তায় – এই জনসমুদ্রে আর শীতের মধ্যে একা কি করবে লোকটা, কোথায় থাকবে………….কিন্তু তার বিন্দুমাত্র বিকার নেই। পাশে রাখা নিজের পুঁটলি/বিছানার দিকে ইঙ্গিত করে বলল, ‘বাবুজি, উও দেখিয়ে হজারো লোগ কৈসে রাস্তে কে বাজু মে হি বালবচ্চে লে কর আরাম সে রাত বিতা রহে হ্যাঁয়। সোনে কে লিয়ে ব্যস ইতনি সি জগহ হি তো চাহিয়ে। লেট জায়েঙ্গে কহিন বিস্তর লগা কে’। দো দিন কি হি তো বাত হ্যায়। ওয়াপসী কে দিন স্টেশন মে মিল ভি জায়েঙ্গে সব সাথী লোগ’………অপ্রস্তুত হয়ে ঘাড় নাড়লাম – তা বটে! ভাবলাম, আমি পারতাম এমন নির্বিকার থাকতে? তারপর নজরে পড়ল পা খালি। বললাম, এই শীতে পায়ে একটা কিছু হ’লে ভালো হ’ত না? বুড়ো অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। জানলাম আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে সে দেখে তার চটির একটা পাটি উধাও। জিজ্ঞেস করলাম – ‘চুরি?’… ’আরে, না, না, চুরি কেন হবে। যে নিয়েছে সেও তো জানে না তার দু পায়ে দুটো আলাদা চটি। যখন দেখবে তখন তার কি রকম লাগবে ভাবুন তো” – সে দৃশ্য কল্পনা করে বুড়ো হেসেই চলল। শুধু আমিই বুঝতে পারলাম না হাসবো না কাঁদবো !!
বুড়োর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এগিয়ে চললাম সঙ্গমের ঘাটের দিকে। রোদ এবার চড়া হচ্ছে। হেঁটেই চলেছি…ধীরে ধীরে…লক্ষ লক্ষ মানুষের পিছু পিছু। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পর পৌঁছলাম ঘাটের সীমানায়। কিন্তু ভিড় দেখে মনটা একেবারে দমে গেল – আমার কম্ম নয় ঐ জনসমুদ্র পেরিয়ে ঘাট অবধি পৌছনো…আমার দ্বারা হবে না বুঝে গেলাম। কিন্তু তারপরই যখন মনে পড়ল সেই বুড়োর নিশ্চিন্ত, নির্বিকার ভাবটা, সাহস পেলাম।
কিছুটা এগোতেই বুঝলাম তেমন কোন মারাত্মক কঠিন কাজ নয়। আসলে ঘাটে যাওয়ার আর ফেরার পথ দু’টো আলাদা, যা দূর থেকে এক মনে হচ্ছিল – আর ট্যাট্যাই জেগেছিল শঙ্কা। ধীরে ধীরে লোকের পিছু পিছু এগোতেই খানিক পরে পৌঁছে গেলাম একেবারে ঘাটের মুখে ! ওপারের যমুনার সেই ঘাটের মত এখানেও বালির ওপর খড় বিছোন এ’ প্রান্ত থেকে ও’ প্রান্তে। ওপারের মহাড় জমিয়ে দিয়েই তই এখানেও জলে নামার মুখে ধাপি করা আছে বালির ব্যাগ দিয়ে। পাড়ের যতদূর দেখা যাচ্ছে এ’ মাথা থেকে ও’ মাথা অবধি সারি সারি ধুপকাঠি জ্বলছে আর ছড়িয়ে আছে রংবেরঙের নানান ফুল – স্নানার্থীদের পুজোর অর্ঘ্য। রকমারি ফুল আর ধুপের মিষ্টি গন্ধে ম’ ম’ করছে সঙ্গমের কুল। জলে শ’য়ে শ’য়ে আবালবৃদ্ধবনিতার স্নান, জল ছোড়াছুড়ি, হাসি ঠাট্টার কল্লোলে পুরো এলাকা জুড়ে এক অদ্ভুত আনন্দময় পরিবেশ।
এক পরিবারের কাছে নিজের ব্যাগটা গচ্ছিত রেখে, অত লোকজনের মধ্যেই বিন্দুমাত্র সঙ্কোচ না অন্য সবার মত জামাকাপড় ছেড়ে, শর্টস পরে, তোয়ালে কোমরে বেঁধে নেমে পড়লাম জলে। আগের দিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঠাণ্ডার ভয় কাটাতে দেরী না করে প্রথম ডুবকিটা মেরে দিলাম একেবারে ধাঁ করে। ক্ষণিকের জন্যে হাড় জমিয়ে দিয়েই শীত কোথায় যেন হাওয়া হয়ে গেল। তারপর খানিক এগিয়ে গেলাম – যতটা গভীরে পৌছনো যায়। রঙ্গিন ভাসমান বয়াগুলো অবধি পৌছিয়েও জল পাঁজরার একটু ওপর (বয়ার ওদিকে যাওয়া নিষেধ)…তারপর আর কি – শুধু ডুব, ডুব আর ডুব। জলের টানে যেখানেই ডুব দিচ্ছি, তারপর উঠছি গিয়ে তার থেকে খানিক আগে। এত ভিড়ে বাগওয়ালা পরিবারকেই হয়ত হারিয়েই ফেলব ভেবে পুরনো যায়গায় ফিরে এসে আবার বয়ার দড়ি ধরে ডুব আরম্ভ হল। মাঝে মাঝে হাত তুলে জিজ্ঞেস করছি তা’রা আরও খানিকক্ষণ কি না। উত্তরে তা’রাও সঙ্কেত দিতে থাকল – ‘চালিয়ে যাও” ! কি অদ্ভুত ভালো যে লাগছিল তা’ বলে বোঝাতে পারব না। কত নদী, পুকুর, কত লেক আর জলপ্রপাতে চান তো করেছি – কিন্তু এত আনন্দ হয়েছে বলে মনে পড়ে না। কারণটা হয়ত খানিকটা উপলক্ষ, বাকিটা এত মানুষের গভীর আস্থা আর বিশ্বাসের প্রতীকি এই স্নান বলেই হয় তো……আরও খানিক ডুব দিয়ে, আসার সময়ে নানান লোকের অনুরোধ রাখতে একটা ছোট জেরিক্যানে ভরে নিলাম ত্রিবেণী সঙ্গমের জল……তারপর ধীর পদে মনকে জোর করে টেনে হিঁচড়ে এগোলাম পাড়ের দিকে। গিয়ে বুঝলাম ব্যাগের দায়িত্বে থাকা পরিবারের সবার স্নান অনেক আগেই সারা হয়ে গেছে – তারা শুধু অপেক্ষা করছিল আমার জন্যেই ! একটু লজ্জা লজ্জা মুখ করে ‘সরি, সরি’ বলতেই তাদের প্রতিবাদ – ‘আরে, সরি কিস বাত কি? আনন্দ আয়া কি নহি ব্যস ওহ বোলিয়ে’ ! হেসে ‘বহুত, বহুত’ বলায় আমাকে আমার ব্যাগ ধরিয়ে ফিরে চলল তা’রা………জলে নামার আগে শুকনো বালি/খড়ের ওপর দাঁড়িয়ে পাতলুন ছাড়া এক জিনিষ – আর ভিজে পায়ে, ভিজে অসমতল বালির ব্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে এক পা এক পা তুলে প্যান্ট পরা তো এক সংঘর্ষ। এ’দিক ও’দিক দেখছি ধরার কিছু পাই কি না – এমন সময়ে এক বয়স্ক ভদ্রলোক এগিয়ে এসে বোললেন – ‘আপ মেরা কন্ধা পকড়িয়ে’……প্রব্লেম সল্ভড! আচ্ছা, কি প্রয়োজন ছিল তা’র যে একটা অচেনা অজানা এক লোককে নিজের ‘কন্ধা’ দেওয়ার?……এইটাই হ’ল সেই তাৎক্ষনিক ‘বনহমি’ যা কেবল আসে যখন সবাই একসঙ্গে মিলে বিরাট একটা কিছু সমবেত ভাবে ‘অ্যাচিভ’ করেছে বলে বিশ্বাস করে। আর এই কুম্ভে ত্রিবেণী সঙ্গমে ডুবকি দিতে পারা তো কোটী কোটী মানুষের জীবনে একটা বিরাট ‘অ্যাচিভমেন্ট’ বটেই !

এবার ফেরার পালা। ভিজে শর্টস পলিথিন ব্যাগে ভরে বাকপাকে পুরে, ভিজে তোয়ালেটা মাথায় জড়িয়ে হাঁটা দিলাম ফেরার ব্রিজের পথে। মনটা বেশ ফুরফুরে লাগছে – যেন কোন যুদ্ধ জয় করে ফিরছি এমনি এক রাজসিক ভাব! খানিক দুরে লক্ষ্য করলাম জনতার একটা ছোটখাটো ভিড়। কৌতূহল নিবারণে কাছে এগিয়ে গেলাম (কলকাতায় রাস্তায় এমন হুজুগে ভিড়ের ধারে কাছেও যাই না আমি, কিন্তু – ঐ যে বললাম এ স্থান আর ‘anonymity’ আমাকে নিজের ছোটবেলায় নিয়ে গিয়ে ছিল!!)…..দেখি ধনুকের মত বাঁকা এক ৮০-৮৫ বছরের বৃদ্ধা স্নান সেরে ফেরার পথে রাস্তায় বসে পড়ে পুরো জিভটা বার করে জোরে জোরে হাঁপাচ্ছে – না, সঠিক বললে, খাবি খাচ্ছে। তিন অল্পবয়সী সঙ্গীরা (হয়ত নাতী হ’বে) বুঝে উঠতে পারছে না কি করবে। কাছেই প্যারামেডিকদের তাঁবু থেকে কয়েকজন বেরিয়ে আম্বুলেন্স নিয়ে এলো। বুড়ি কিন্তু হাসপাতাল যেতে নারাজ। হাঁসপাঁস করতে করতে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিল স্ট্রেচারওলাদের। নাতীরা বোঝাবার চেষ্টা করল – তাদের কথাতেও কোন কর্ণপাত না করে একজনের হাত ধরে উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করল। দু’/তিনটে চেষ্টার পর কোন রকমে নড়বড় করে দাঁড়িয়েও পড়ল। এক ঢোক জল খেয়ে একই রকম ভাবে খাবি খেতে খেতে এক নাতির হাত ধরে আবার এগিয়ে চলল। কে একজন বলল ‘বাঁচবে না’। আমি ভাবলাম হয়ত ‘মোক্ষ স্নান’ হয়ে যাবার পর বুড়ি আর তোয়াক্কাই করে না বাঁচবে না মরবে !!
ফেরার পথে এবার শারীরিক ক্লান্তি জানান দিচ্ছে – খিদেও পেয়েছে দারুণ। ভাবলাম এতো বেলা যখন হয়ে গেছে রিক্সা চলাচল হয়তো শুরু হয়েছে। ওহ বাবা, কোথায় কি, কিসসু নেই। অগত্যা ব্রিজ পেরিয়ে ওপারের ৭-৮ কিমি পথ নিজের ’১১ নং বাসে’ যাওয়া ছাড়া গতি নেই। এগিয়ে চললাম। ঠিক করলাম আজ ফুডকোর্ট বাদ দিয়ে ওপরের পাকা রাস্তার কোন ধাবায় গিয়ে খাবো। ঢালের ওপর দিয়ে হেঁটে এসে উঠলাম অর্য্যাল রোডে। ন্যনী DPS কম্পউণ্ডের কাছেই একটা ছোট ধাবা – বেশী ভিড় নেই। বেঞ্চে বসতেই কাঁচপাকা দাড়িওয়ালা মালিক এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল – “দাদাজি, আপ ক্যা লোগে?” ! সম্বোধন শুনে তো চক্ষু (আর তারপর মেজাজ) চড়কগাছে – একেবারে মগডালে! ছোটবেলা থেকে পদে পদে খোকা, ভাই, দাদা থেকে ধীরে ধীরে কাকা, মামা করে প্রগ্রেসন হয়েছে। একটা ছোট্ট মেয়ের দাদুও হয়েছি এখন – তবু বাইরের লোকের কাছে কাকু/মেসো/আঙ্কলের ওপর উঠতে হয় নি এখনও। আর এই ব্যাটা সাদাকালো দাড়ি বলে কি না ‘দাদাজি’! কোলকাতায় ফিরে কি এবার থেকে ফেসিয়াল টেসিয়াল আরম্ভ করতে হবে না কি?…….খিচড়ে যাওয়া মেজাজ নিয়েই গোটা চারেক চপাতী, ডাল আর আলু-গোবীর সব্জি সাবড়ে বেরিয়ে গেলাম। ‘দাদাজির’ ক্ষার তুলতে এক পয়সাও টিপ করলাম না দূরদেশে পাওয়া কাঁচাপাকা দাড়িওলা ব্রান্ড নিউ নাতীকে !
হাইওয়ে, তাই তাঁবুর পথে অটোরিকশাও পাওয়া গেল। এসে থেকে এই প্রথম ঘুরে ফিরে নিজের ‘ঘরে’ বেশ আরামেই পৌঁছে গেলাম। কিঞ্চিত দিবানিদ্রার পর ঝাড়পোঁছ করার মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম ফ্লাস্কে ভরে দু’ কাপ চা অ্যানতে পারে কি না – এক কাপ তার এক কাপ আমার। সানন্দে…… চা খেয়ে গরম কাপড়ের ধড়াচূড়া পরে আবার পথে। সকালে ও’পার থেকে শুধু সঙ্গমে ডুবকি লাগিয়েই ফিরেছি – ওদিকের বাকি আখাডা গুলো দেখা হয় নি। এবার তা দেখতে বেরনো। সময় কম আর এত কিছু দেখার, শোনার……সময় নষ্ট করার সময় কৈ? আমাদের টেন্ট ক্লাস্টারের গেটের মুখে সিকিউরিটির ছেলেটির সঙ্গে দেখা। বছর ৩০-৩৫ বয়েস। আলীগড় জেলায় বাড়ি – কুম্ভতে এসেছে এই টেম্পোরারি কাজে – কিছু এক্সট্রা আয়। চাষবাসের কথা উঠলো। জানালাম বেনারাস থেকে আসার পথে চারিদিকের খেতে ‘লহরাতি’ ঝলমলে হলুদ সরষের ফসল দেখে দিল কত খুস হয়ে গিয়েছিল। জিজ্ঞেস করলাম – ‘বলতে পারো বাংলা আর ইউ.পির মধ্যে সব থেকে জবরদস্ত মিল কি? প্রশ্নভরা মুখে তাকাতে বিজ্ঞ বিজ্ঞ ভাব করে বললাম – ‘সরষের তেল। এটা ছাড়া অন্য সব তেল আমাদের কাছে ফিকে’। হেসে সজোরে ঘাড় নেড়ে বলল – ‘ঠিক, ঠিক ! সরষের তেল ছাড়া আবার রান্না হয় না কি’ ! এ খাবার, সে খাবারের কথার মধ্যে সে আচমকা জিজ্ঞেস করে বসল – ‘আপনি, বাজরার ভাত খেয়েছেন’! এবার আমার মুখ বন্ধ। বললাম ‘বাজরার রুটি খেয়েছি। ভাত আবার কি?’…এবার তার বিজ্ঞ সাজার পালা। বলল – ‘খেয়ে দেখবেন স্যার, একবার মুখে দিলে আর জীবনে ভুলতে পারবেন না’ ! সুযোগ পেলেই খেয়ে দেখব বলে মানে মানে কেটে পড়লাম।
সন্ধ্যে বেলায় ওপার থেকে ঘুরে ঘারে অলস মন্থর গতিতে ব্রিজ পেরিয়ে যখন আমাদের পাড়ে পৌঁছলাম তখন প্রায় রাত ১০টা। সুদূরে ফুড কোর্টের হাতছানি। খিদে বেশ চনমনে। কিন্তু পা যেন আর চলে না। এমন সময় হটাতই এক আলোআঁধারি যায়গায় কণ্ঠস্বর – ‘বাবুজি, প্রসাদ লেতে যাইয়ে’……প্রথমেই মনে এলো ধুলো ভরা রাস্তার ধারে কি প্রসাদ, কে দিচ্ছে – সচরাচর যা ভাবি তা নিয়ে যখন কিঞ্চিত ইতস্তত করছি, আবার আকুতি ভরা সেই অনুরোধ – ‘প্রসাদ হ্যায়’। এত আন্তরিক উপরোধ পায়ে ঠেলে যেতে পারলাম না। যাব কি যাব না করতে করে তার পিছু যেতে যেতে শুধু ভাবছি কবেকার কাটা ফলমূল ধরিয়ে দিলে তা’ নিয়ে কি করব (শহুরে, হাইজিন কনশাস মানুষ আমি!)। অল্প যেতেই, একটু আলো যেখানে, সেখানে দেখি জনা ২০ ক্লান্ত গরীব মানুষ (স্ত্রী, পুরুষ মিলে) মাটিতেই বসে পড়েছে প্রসাদ পেতে। আমি এগিয়ে যেতেই একটা পাতার প্লেট ধরিয়ে দিলে কেউ আর একজন হাঁড়ি থেকে বার করে ঢেলে দিল দু’ দলা খিচুড়ি – ধোঁয়া উঠছে এত গরম! সাদা মাটা খিচুড়ি, কেবল ফুলকপি তাতে – আর কিচ্ছু নয়। কিন্তু কি যে তার অভাবনীয় স্বাদ তা’ কি করে বোঝাই? নিঃসঙ্কোচে বলতে পারি যে এমন তৃপ্তি করে বহুদিন কিছু খাইনি। খিদের মুখে ঠিকই, কিন্তু যে আন্তরিকতা দিয়ে তা’ পরিবেশন করা হ’ল, তাই যেন স্বাদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। খানিক ইতস্তত করে লজ্জার মাথা খেয়ে আবার গেলাম, আর একই আন্তরিকতার সঙ্গে আরও দু’ দলা ঢেলে দিল। পেট, প্রাণ, মন সব জুড়িয়ে গেল। যারা পরিবেশন করছিল তাদের হয়ত এই দরিদ্র নারায়ণ সেবার পিছনে আধ্যাত্মিক বা ধার্মিক উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু আমার (এবং অন্য যারা খাচ্ছিল) মত ক্লান্ত শ্রান্ত পথিকের কাছে এ ‘প্রসাদ’ ছিল সত্যিই সোজা ঈশ্বরের হেঁসেল থেকে !!…. খেয়ে দেয়ে তৃপ্ত হয়ে যে মানুষটি আপ্যায়ন করে এনেছিল, তাকে বললাম – ‘পেট অৌর দিল, দোনো ভর গয়া’……দু’ হাত জড়িয়ে ধরে সে বললে – ‘ভরনা তো থা হি বাবু’জি। প্রসাদ জো ঠহরা। অওর আপনে জো পায়া উসকে হর দানে পে উপরওয়ালে নে আপ হি কা নাম তো পহলে সে হি লিখকে ভেজা থা না। অওর কোই ওহ ক্যসে পাতা’ ! প্রায়স শোনা এই সহজ, সাধারণ কথাটা যেন নতুন করে সত্যি হয়ে মনে বাজল……কৃতজ্ঞ চিত্তে নিজের তাঁবুর পথ ধরলাম। মাঝে শুধু সেই গরম দুধ খাওয়া আর ফ্লাস্কে চা ভরা।
১১/০২/২০১৯:
ভোরে উঠে চা খেতে খেতে মনে পড়ল আজ চতুর্থ দিন – ‘অদ্যই শেষ রজনী’ – কাল কোলকাতার পথে রওনা। ওপারটা মোটামুটি চষা হয়ে গিয়েছে গত দু’ দিনে। আজ এ পারেই থাকব ঠিক করলাম – একটু রিলাক্সড কুম্ভ হ’ক আজ। ফুডকোর্টে গরম গরম পুরি-সব্জি আর চা খেয়ে বেরোলাম আবার সেই সোমেশ্বর ঘাটের দিকে। শাহি স্নানের পর দিন হওয়ায় আজ ভিড় একটু হাল্কা নদীর ঘাটে। শর্টস পরে, খালি গায়ে, চোখে কালো চশমা লাগিয়ে শুয়ে পড়লাম ঘাটের ধারে বেছানো খড়ের ওপর। গড়িমসি চলতে থাকল। একবার সুজ্জি দেবের দিকে মুখ করে একবার পিঠ করে ঘণ্টা খানেক ধরে সম্বচ্ছরের বরাদ্দ ভিটামিন বি তৈরি করে নিলাম শরীরে। তারপর যখন আকাশে এক টুকরো মেঘ সূর্যদেবকে ঢেকে দেবার প্লান করছে, উঠে পড়লাম। তুলনামূলক ভাবে খানিক নির্জন একটা যায়গা বেছে নিলাম – অনেকটা প্রাইভেট বীচ বীচ ভাব!! কাছের নৌকোয় বসা বয়স্ক মাঝিকে ধরিয়ে দিলাম ব্যাকপ্যাকটা। কিঞ্চিত নিরিবিলি যায়গা বলে NDRF এর বোটের দিকে হাত নাড়িয়ে জওয়ানদের আমার উপস্থিতি জানিয়েই সটান জলে। অন্যদের বোঝান কঠিন সেই মজা। মিনিট পনেরো ধরে চলল সেই সোলো জলকেলি। দেহ, মন ধুয়ে উঠে এলাম। কিন্তু নদীর দু’ হাত যেন তখনও বাড়ানো। আবার জলে। আরেক বুড়োর ছেলেমানুষি দেখে নৌকোর মাল্লা তখন মিচকি মিচকি হাসছে! আরও বেশ কিছুক্ষণ ‘ডুব, ডুব’ খেলে তারপর উঠে এলাম শেষমেশ…জামা কাপড় বদলে, তোয়ালেতে লাগা বালিগুলো ধুতে তোয়ালেটা ডোবালাম জলে। আচমকা ‘চুক, চুক’ শুনে দেখি পাশে দাঁড়ান বছর তিরিশের এক ছেলে। বললে – ‘ঐসা নহি করতে বাবুজি, মৈয়া হ্যাঁ’! লজ্জিত হয়ে ক্ষমা চাইলাম (মায়ের কাছেও)। সে হেসে জবাব দিল – ‘কোই বাত নহি। আপকো মালুম নহি থা না”
চড়া রোদে দুপুরে খেতে যাওয়ার পথে খানিক জিরিয়ে নেবার জন্যে একটা চায়ের দোকানের সামনে ছায়ায় পাতা দু’টো প্লাস্টিক চেয়ারে দেখতে পেয়ে এগুলাম সে দিকে। অন্য চেয়ারে বসা ঘর্মাক্ত কলেবর এক পুলিস কনস্টেবল খানিকটা যেন সম্ভ্রমে উঠে গিয়ে একটু দূরে রোদের মধ্যেই একটা চেয়ারে বসল। আমার চেহারায় শহুরে ছাপ এত? পাশেরটা দেখিয়ে বললাম – ‘ক্যা হুয়া ভাই, ধুপ মে কাহে কো চলে গায়ে? ইধর বৈঠিয়ে না’। হাসিমুখে উঠে এসে বসল – যেন আমার অনুমতির অপেক্ষায়! মনটা খুব বিষণ্ণ হ’ল। যাক, তারপর চলল গপ্পো। জানলাম বাড়ি কোথায়, কে কে আছে বাড়িতে, পোস্টিং কোথায় ইত্যাদি ইত্যাদি। কথায় কথায় বললাম যে এখানে এসে বুঝেছি অচেনা অজানা মানুষও কেমন করে আপনা আপনি আপন হয়ে যেতে পারে। সে বলল – ‘তাই তো স্যার। লোকে ভাবে কুম্ভ দর্শন মানে তিনটে নদীর সঙ্গমে যাওয়া। আসল সঙ্গম তো মানুষের মনের’! আমি অবাক এক অতি সাধারণ পুলিস কনস্টেবলের এই চিন্তাধারার প্রসারতা দেখে। তারপর সে আরো বলল – ‘এই যে আপনি, আমি – একে অপরকে চিনতামও না মিনিট কয়েক আগে অবধি। অথছ দেখুন কেমন কথা বলছি – যেন বহুদিনের পরিচয়। এটাও আপনার, আমার জন্ম মুহূর্তে ঈশ্বর লিখে দিয়েছিলেন কোথায় আর কবে আমাদের দেখা হ’বে, কথা হ’বে। এর কোন ব্যতিক্রম হ’তেই পারে না”!! ব্যকরুদ্ধ হয়ে দেখলাম, শুনলাম গ্রামাঞ্চলের এক অতি সাধারণ মানুষের মনের উদারতা আর বিশ্বাস। এই তো আসল ভারতবর্ষ! উঠতে গেলাম। সে হাত ধরে বলল – ‘অন্তত এক কাপ চা খেয়ে যান আমার সঙ্গে’। চায়ের দামটা পর্যন্ত দিতে দিল না……কোলকাতা ফিরে চোখটা দেখাতে হবে – মাঝে মাঝে বড় জল কাটে!!
বিশ্রামের জন্যে ফিরে দেখি আমার উল্টো দিকের তাঁবুতে এক চাইনিজ ছোকরা চেক-ইন করেছে আর টেন্ট বন্ধ করার জিপার নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। হেল্প করে জিজ্ঞেস করলাম – ‘কি ব্যাপার, এখানে?’……’এত বছর ধরে শুনে আসছি পৃথিবীর বৃহত্তম জনসমাগমের কথা – না দেখে থাকা যায়? তাই’……..’বিশেষ কিছু দেখার প্লান?’………’নাহ, শুধুই লোকে। কোন দিকে গেলে বেশ ভালো করে দেখতে পাবো বলুন তো?” ……তারপর আমাকে জিজ্ঞেস করল আমি কোথা থেকে। কোলকাতা বা ক্যালকাটা কোনটাই তার মগজে ঢুকল না। শেষমেশ ভারতের পূব দিক বলে ক্ষান্ত দিলাম! এও কম অবাক করা নয়। এক চিনে ছোকরা কুম্ভ মেলার কথা শুনেছে – কিন্তু কোলকাতা নামটাই শোনে নি! প্রডাক্টটা যে বেশ কার্যকারী ভাবেই প্রমোট করা হয়েছে তা’তে আর সন্দেহ রইল না।
রাতে শুয়ে গত চারদিনের স্মৃতি চারণা করছিলাম। হটাতই একটা ধাক্কা খেলাম। আরে, আমি তো এখানে এসেছিলাম ভিড়ের মধ্যে একাকীত্বের সন্ধানে – আর আমি এ কি করে চললাম ক’ দিন ধরে? নিরন্তর যেচে যেচে অচেনা অজানা মানুষের সঙ্গে প্রগল্ভের মত বকর বকর – ব্রিজের ওপর সেই বুড়ি….এম.পির সেই বুড়ো…..ফুড কোর্টে দিল্লীর পরিবার …..প্রসাদ পরিবেশক…..সিকিউরিটির ছেলেটি…….নৌকোর মাল্লা…….পুলিস কনস্টেবলে…এমন কত কত – কাউকে নিষ্কৃতি দিই নি! যে আমি কি না কোলকাতায় যত কম কথা বলে দিন চালানো যায় তার নিরন্তর চেষ্টায় থাকি, তার এ কি মেটামরফসিস! যুগপৎ বিস্মিত এবং পুলকিত হ’লাম নিজের এই অজানা দিকটা দেখে। ভাগ্যিস….এখানে মূক বধির হয়ে থাকলে যে দেখা, শোনা, অনুভব করা সবই ভীষণ ভাবে অসম্পূর্ণ থাকত। এ রসাস্বাদন তো হ’ত না……ভাগ্যিস!!
ভোরে উঠে বাইরে এলাম। তখন অন্ধকার। পূবদিকে আলো ফোটার একটা ক্ষীণ আভা মাত্র। হাল্কা হাল্কা করে ওপার থেকে ভেসে আসছে সেই মন্ত্রোচ্চারণ আর ভজনের সুর। অপূর্ব, মনকাড়া, অপরূপ এক অনৈসর্গিক পরিবেশ। আর তখুনি ফোনে এয়ারলাইনের মেসেজের টুং মনে করিয়ে দিল এ পরিবেশে আমি ক্ষণিকের অতিথি মাত্র। আমার প্রকৃত নিবাস এক অন্য দুনিয়ায় – আজ সে’খানে ফেরার পথ ধরতে হবে! হ’ব।
দেশ বিদেশের অনেক যায়গাই দেখার সৌভাগ্য হয়েছে জীবনে। অনেক কিছু খুব ভালোও লেগেছে। কিন্তু একমাত্র আফ্রিকার গহন অরণ্য ছাড়া আর কোথাও মনে হয় নি যে সে’খানে আবার না গেলে বিরাট কোন আক্ষেপ থেকে যাবে। এই বার সেই লিস্টে দ্বিতীয় সংযোজন হ’ল – প্রয়াগ কুম্ভ যা আমার ঝুলি ভরে দিয়েছে আশাতীত ভাবে। এত যে পাবো তা কল্পনাও করতে পারি নি।
ফেরার পথে অর্য্যাল রোডে ধরে যখন গাড়ি ছুটছে তখন মনে পড়ে গেল আমার প্রিয় সে’ গানের লাইন দুটো – ‘আমি শুনেছি হে তৃষাহারী, তুমি এনে দাও তারে প্রেম অমৃত তৃষিত যে চাহে বারী” ! আমার ক্ষেত্রে সত্যি, সত্যিই তাই হয়েছে। ঈশ্বর উজাড় করে দিয়েছেন। যেখানে অল্প ‘বারী’ পেলেই বরতে যেতাম, সে’খানে পেলাম অমৃত……..অমৃত কুম্ভ!!
*******
যা লিখে রাখলাম তা’ সব মনের কথা, ভাবের কথা। আর, ভাবের ঘরে তো চুরি নেই। তাই যা দেখেছি, শুনেছি – আর, বিশেষত যা অনুভব করেছি এখানে গত ৪ দিনে – ঠিক তাই তুলে রাখলাম। আসলে সব কিছুর ওপর এ’টা তো আসলে আমার “Notes to myself’! তাই ভবিষ্যতে পড়তে পড়তে যদি সেই একই আনন্দময় অনুভূতির আস্বাদন করতে চাই তা’ হ’লে নিজের মনের…প্রানের…অনুভুতির ভাষায় লিখে না রাখলে চলবে কেন?
আরও একটা বিষয়ে আমি নিজের ওপর ভারি খুশি – যে ঐ চার দিন নিজের বুদ্ধির দোরে তালা দিয়ে রেখেছিলাম! ভাগ্যিস!…… যুক্তি তর্ক দিয়ে যদি সব কিছু দেখার বা বোঝার চেষ্টা করতাম এই অনুভূতির অর্ধেকও যে কপালে জুটতো না তা আমি বেশ বুঝি……….ভাগ্যিস!!
কুম্ভমেলার সনাতন ও প্রকৃত চিত্র লেখক খুব সুন্দর লিখেছেন। ছবিগুলোও উপযুক্ত হয়েছে।