Alumni Get-together 1970 Batch
@সুদীপ রায়, ১৯৭০ মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং
স্কুলের গন্ডি ছাড়িয়ে শিবপুর বি ই কলেজে ঢুকেছিলাম 1965 সালে। আবশ্যিক হোস্টেল জীবনে পেলাম একদল বুদ্ধিদীপ্ত সহপাঠী বন্ধু। গত পরশু আমরা সেই সহপাঠীদের একাংশ (পরিবার সহ সংখ্যায় প্রায় নব্বইজন) আমাদের স্মৃতি-বিজড়িত সেই কলেজে মিলিত হলাম আমাদের বন্ধুত্বের ষাট বছর উদযাপন করতে। দিনভর সেখানে চলল তুমুল আড্ডা, নাচ, গান, খাওয়া দাওয়া। টোটৌ চড়ে ঘুরে দেখলাম আমাদের প্রথম যৌবনের বর্ণাশ্রম। বহিরঙ্গে চেহারা বদলেছে অনেকটাই, কিন্তু বদলায়নি তার অন্তরের ঘ্রাণ। চোখে মায়াকাজল লাগিয়ে, বুক ভরে অতীতের সেই গন্ধ নিয়ে ফিরে এলাম দিনের শেষে বর্তমানের দুনিয়ায়, যেখানে পঁচাত্তর পেরিয়ে আমরা জীবন দৌড়ে লাস্ট ল্যাপে দৌড়ুচ্ছি।
সহপাঠীদের তিনজন … ধীমান, শম্ভু, সোমনাথের উৎসাহে, পরিকল্পনায় এবং বাস্তবায়নে আমরা এমন একটা আনন্দমুখর দিন উপহার পেলাম।
দিনের শেষে বিদায় বেলায় বলে এলাম …
আবার দেখা হবে বন্ধুরা, আবার দেখা হবে।
ষাট বছরের পরিচিতি, তাই না সবাই মিলে,
বন্ধুরা কাল বি ই কলেজ গ্রাউন্ডে এসেছিলে।
গুনে গুনে, আশির ওপর আমরা সবাই এসে,
পৌঁছে গেলাম ফ্ল্যাগ গ্রাউন্ডে নানানরকম বেশে।
মিলনমেলা লাগল কেমন? সারাটা দিন ধরে,
আড্ডা হল, খাওয়া দাওয়া চলল পেটটি ভরে।
আরো ছিল, গান বাজনা, আবৃত্তি আর নাচ,
সেই সেখানে, কাটিয়েছিলাম যেথায় বছর পাঁচ।
খুশির হাওয়া ছুটল দেদার, উস্কে দিল স্মৃতি,
সদ্য যুবক আমরা তখন, বুক ভরা প্রেম, প্রীতি।
পাঁচটা বছর কাটিয়েছিলাম আমরা দিনে রাতে,
পড়াশোনা, খেলাধুলা সবকিছু একসাথে।
বিকেল বেলায় টোটো চড়ে, ক্যাম্পাসেতে ঘুরে,
পাখি হয়ে অতীত দিনে আমরা গেলাম উড়ে।
প্রবীণ সবাই, তবুও জানিয়ে দিলাম দিব্যি আছি,
যদিও বয়েস ছুটছে এখন আশির কাছাকাছি।
সে সব নিয়ে ভেবে কে আর তল পেয়েছে কবে?
তার ‘চে বরং বলি সবাই ‘আবার দেখা হবে’।
সোমনাথ আর শম্ভু, ধীমান … জিও গুরু জিও।
বন্ধুরা সব এদের নামে তিনটে ‘হুয়ো’ দিও।
Add comment