দুটি কবিতা
বয়স তো বাড়বেই
@প্রবীর কুমার সেনগুপ্ত, ১৯৬৯ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
ভালো থাকার উপায়
@সুদীপ রায়, ১৯৭০ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
বয়স তো বাড়বেই
@প্রবীর কুমার সেনগুপ্ত, ১৯৬৯ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
ভীমরতি নেই ক্ষতি বয়স তো বাড়বেই,
পেট জ্বালা সেরে যাবে সোডিয়াম কার্বেই।
সাতাত্তরের পর সাত মাস সাত দিন –
শ্রবণ কমের দিকে, দৃষ্টিও হবে ক্ষীণ।
লাঠি নিয়ে হাটাচলা দৌড় ঝাপ বন্ধ,
জিভে কোন স্বাদ নেই, নাকে নেই গন্ধ।
সারাদিন খুঁজে ফিরি চশমাটা গেলো কই?
গিন্নি চেঁচিয়ে বলে – “এতো বলি পই পই –
নিজেকে সামলে রাখো বাকি কিছু চাইনা,
এটা চাই, ওটা চাই – শুধু করো বায়না”।
গিন্নি সামনে আসে – আয়নাটা দেখিয়ে
নিজেই অবাক হই – কী যে দেখি একি এ?
কান ধরে ঝুলে আছে চশমাটা নাকেতে –
আলমারি বাড়ি ঘর তোলপাড় তা পেতে।
সেদিন ঘুমিয়ে পরি – চোখে ছিলো চশমা
গিন্নি ভীষন রাগী – সবেতেই উষ্মা ।
আমি বলি – ঘুমে দেখি স্বপ্ন কি মোহময়,
চশমা বিহীন চোখে ভুত দেখে পাই ভয়।
ভুলে যাই সব কিছু কখন কী করবার –
বাজারে না ব্যাঙ্কে? শুধু করি ঘর বার।
জানালায় খিল আটি দরজাটা খোলা রয়,
গ্রীষ্মের রাত্তিরে শীত শীত হাওয়া বয়।
চা-র সাথে চার ফোঁটা আই ড্রপ মিশিয়ে –
খেতে যাবো – গিন্নীটা মন দিলো বিষিয়ে,
“এ কি, এ কি করছো কী, চায়ে ঢালো আই ড্রপ?
ভেবেছো কী এই ভাবে বানাবে ঢপের চপ”।
“ভুলে যাওয়া” রোগ নয়, সে হলো আশীর্বাদ।
অপ্রিয় যত কিছু – মন থেকে দাও বাদ ।
খারাপ অভিজ্ঞতা মনে রেখে লাভ নেই,
ভালো যাহা সব কিছু এনে রাখো সামনেই।
কত ভাবি বয়সটা আর কতো বাড়বে?
সাতাত্তরের গেরো কবে পিছু ছাড়বে।
ভালো থাকার উপায়
@সুদীপ রায়, ১৯৭০ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
দন দনাদন দন …
বিন্দাস লাইফ বাঁচতে .. ভাবো তুমিই জনার্দন।
ভাববে তুমিই ক্যাসানোভা, লেডি কীলার হিরো,
কল্পনাতে সুন্দরীদের সঙ্গে ঘুরো ফিরো।
যদিও এখন শরীর তোমার নানান রোগের বাসা,
ভাববে তবুও যুবক তুমি, দিব্যি আছ খাসা।
হাঁটতে বেদম, বুক ধড়ফড় আজ ভালো. কাল কাৎ,
হাবেভাবে দেখাও তবু, করছ জগত মাত।
পঁচাত্তর তো পেরিয়ে এলে, দুদিন পরে আশি,
মনের বয়েস পঁচিশ তিরিশ রেখো পাশাপাশি।
এই বয়েসে না হয় খানিক করলে অভিনয়
দাদু হয়ে ছোকরা সাজো, কিসের লজ্জা ভয়?
দন দনাদন দন …
এটাই মন্ত্র জিন্দা থাকার, বাঁচার সারাক্ষণ।
এবারের লেখাটি আমার সমবয়সী (পঁচাত্তরোর্ধ্ব) বন্ধুদের জন্যে লেখা।
পরপর কজন বন্ধুর আকস্মিক প্রয়াণে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে এটি লেখা।
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ:
এতে কিছু অপ্রিয় কটু সত্য লিখেছিl পড়লে মুড খারাপ হতে পারে। তবুও না লিখে পারলাম না। তার জন্যে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিলাম।
‘সত্যভাষণ’
বেশ তো ছিলে বন্ধু তুমি দিব্যি হেসে খেলে,
এমন কী আর তাড়া ছিল, হঠাৎ চলে গেলে?
যদিও এখন বয়েস সবার একটু নড়বড়,
তবুও তোমার কোন কারণে ঠাট্টা এমনতরো?
মানছি পাকা ফলের মতো ঝুলছি গাছের ডালে,
কেউ জানি না টুপুস করে পড়ব কে কোন কালে।
এমন যদি হয় …
আজকে আমি জিন্দা সুদীপ, কাল আমি তা নয়।
হতেই পারে তা,
‘হঠাৎ চলে যেতেই পারি জানিয়ে অলবিদা।
ফেসবুকেতে হোয়াটসএপেতে লিখবি অনেক কথা,
দোষ গুলো সব সরিয়ে রেখে গুণের কথকতা।
চলবে সেসব শোকের লেখন শুধু দুদিন ধরে,
তার পরে সব চলবে সবই আগের মতোন করে।
কোথায় তখন থাকবে সুদীপ এই তো জীবন শালা,
ফটো হয়ে ঝুলবো কোথাও দুলবে শুকনো মালা।
এটাই এখন সার,
পা বাড়িয়ে আছি সবাই কেউ জানে না কার
আসবে রে ডাক ওপার থেকে কখন এবং কবে.
এ টুক জানি সে ডাক এলে চলে যেতেই হবে।
যাচ্ছে যেমন বন্ধুরা সব হঠাৎ একেক করে,
হাতে গোনাই থাকবে ক’জন বছর দশেক পরে।
মানছি আমি এসব কথা ভাল্লাগে না কারো,
থামলাম তাই যদিও আমার লেখার ছিল আরো।
সত্য যখন অপ্রিয় হয় তখন তাকে নিয়ে
সত্যবাদী হয়ে কী লাভ সত্যভাষণ দিয়ে?
বন্ধুরা সব এই লেখাটার জন্যে ক্ষমা চেয়ে
নতুন চোখে জীবন তরী চলব আমি বেয়ে।
যে কটা দিন আছে আরো আমার তোমার হাতে
উটপাখি এক হয়েই না হয় বাঁচব দিনে রাতে।
Add comment