সাহিত্যিকা

আমার কয়েকটি কবিতা

আমার কয়েকটি কবিতা
@রামু দত্ত, ১৯৭৯ ইলেকট্রনিকস ও টেলি কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং

‘একটু রঙ দিই, তোমায়?’
প্রতি ভোরেই –
পৃথিবী নানান রঙ পায় ফিরে।
রঙ হারায় কালো রাতে
কাল পূর্ণিমার চাঁদের চেষ্টা কিন্তু কম ছিল না।
তবু সব রঙ পুরো ফুটলো কই?
এখন দেখি পাতায় লেগেছে ‘সবুজ’
সুদুরে জ্বালিয়েছে ‘লাল’ আগুন শিমুল
‘নীল’ খুঁজে পেলাম সাগরের জলে
আর খেত ভরা সরষের গায়ে ‘হলুদ’।

তবু কেন জানি না –
সবাই আঁকড়ে ধরে একটাই রঙ
তার পরিচয় হয় রঙ দিয়ে
সেই রঙেই রাঙাতে চায় সারা পৃথিবী।
অন্তরের রঙ মেশে না অন্য রঙে
নানা রঙ নিয়ে খেলা,
খেলাই যায় থেকে।

নীল দিগন্ত খুঁজে না পেয়ে – ঝরে যাওয়া
শেষমেষ পথে শুয়ে থাকার আগে
পলাশ শিমুলের দল নিশ্চয়ই ভেবেছিলো
এ শহর তুলবে রাঙিয়ে।
ভেবেছিলো মুক্তি পাবে তোমার
একঘেয়ে সিমেন্ট পাথরের জঙ্গল থেকে
শত শত পুষ্করিণী, কবরের মতো মাটি চাপা
প্রাণ হারিয়ে চিতায় উঠেছে লক্ষ গাছ।
সবাই দেখবে প্রাণ – কতো উজ্জ্বল প্রাণ।

কিন্তু এ শহরে বসন্তের এটাই পরিণতি
বসন্ত খুঁজতে সবাই চলে –
পুরুলিয়া ঝালদা পালামৌ বা দুমকায়।
শুধু নানা রঙের আবির মাখা
সলাজ গাল নিয়ে এক শিশু বলে
‘একটু রঙ দিই, তোমায়?’

বেশ আছি গাঁয়ের এককোণে পথের ধারে –
লোক যায় এ গাঁ থেকে সে গাঁ
এ পাড়া হতে সে পাড়া।
পেন্নাম পাড়ে দুর হতেই।
আছে একটা হাতি কটা ঘোড়া
তারা মাটির, চুপচাপ !

ভোর হলে মোড়ল বৌ চাতাল ধুয়ে
ফুল সাজিয়ে ধূপ জ্বেলে যায়।
দুপুররোদে ছাগলছানারা এসে শোয়
আর পচিম আকাশে সাঁঝতারা উঠলে
পরাণের বৌ পিদিম জ্বালে।
যেতে যেতে কেউ পয়সা ছোঁড়ে
কেউ নিয়ে যায় কুড়িয়ে।

আমায় মানত করেছিলো শীতল পালের ছেলে।
পঞ্চায়েতে চাকরি –
মানতে বরাত খোলে আমার
দিলে চারধার বাঁধিয়ে – রঙ করে।
ঈশ্বরের বৌ যেদিন ওর ছেলেকে নে গেলো হাসপাতালে
পাঁচ টাকা দিয়ে যায়।
এখন দুর থেকে দেখে আর
আগুন ঝরে চোখে।।
আর মোড়ল গিন্নি একটা ছেলের আশায়
রোজ ভোরে চাতাল ধোয়
ফুল সাজায় ধূপ জ্বালে।

Sahityika Admin

Add comment